ছি ছি ছি বিজেপি!
২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০০
সোনার বাংলা ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য বাংলাদেশের খুলনা ও যশোর অঞ্চলকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে যুক্ত করার যে উসকানিমূলক বক্তব্যের পর নিন্দার ঝড় থামার আগেই শুরু হয়েছে যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ছি ছি ছি! ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে যৌনতার বিনিময়ে নারীদের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী বানানোর অভিযোগ তুলেছেন খোদ বিজেপি নেতা ও সংসদ সদস্য সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অভিযোগ করেন, কিছু নারী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে রাজনীতিতে উন্নতি করেছেন এবং সাংসদ ও মন্ত্রী হয়েছেন। এদিকে সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর অভিযোগ সমর্থন করে এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেন কট্টর হিন্দুত্ববাদী, মোদির প্রশস্তি করে বই লেখা এবং মোদিকে গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করা লেখিকা মধু পূর্ণিমা কিশ্বর। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘এ ঘটনাই প্রমাণ করে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকে কেন আমি মোদি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতাম।’ এসব অভিযোগ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আওয়াজ তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপি ও মোদি বিরোধীরা সোচ্চার।
যৌন কেলেঙ্কারির ভূমিকম্পের মধ্যে ২০১৮ সালের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও পুনরায় সামনে এসেছে। ভিডিওটিতে ‘ববি’ নামের এক নারী- যিনি নিজেকে বিজেপির একজন কর্মী হিসেবে দাবি করছেন, দলের বলিষ্ঠ নেতা বিজয় গোয়েল এবং নীতিন গড়করির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ওই ভিডিও ক্লিপটিতে তিনি কথিত আপত্তিকর বার্তা আদান-প্রদান এবং দলের অভ্যন্তরীণ শোষণের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। এই পুরনো ফুটেজটিকে বিজেপি একসময় বিরোধী পক্ষের অপপ্রচার হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিল; কিন্তু বর্তমানে এটি ভারতীয় রাজনীতির আঙিনায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিজেপি নেতাদের ও নরেন্দ্র মোদির যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে জ্যোতিষী আশোক খারাট, সুব্রহ্মণ্যম স্বামী ও মোদির জীবনীকার মধু পূর্ণিমা কিশ্বর মুখ খোলার পর ভারতীয় রাজনীতিতে প্যান্ডোরার বাক্স খুলতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক নারী নেত্রী ও বিভিন্ন মহল থেকে বিজেপি নেতাদের যৌন কেলেঙ্কারির নানা খবর প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। কিন্তু ভারতীয় মূল গণমাধ্যমে এর সামান্যই প্রকাশিত হচ্ছে। এ নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে বিজেপিবিরোধী মহল থেকে। কংগ্রেস নেতারা মুখ খুলে বলছেন, আজ যদি কংগ্রেসের কোনো নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের সমালোচনা হতো, তাহলে গণমাধ্যম ও বিজেপি বিষয়টি নিয়ে ভারতজুড়ে শোরগোল ফেলে দিত।
এই চাপান উতোরের মধ্যে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে সীমা গোবিন্দ নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ও মহিলা নেত্রীর ভিডিও। তিনি বলেছেন, নারীদের রাজনীতিতে আসার ৯০ শতাংশ পথই রাজনীতিবিদদের শয্যার মধ্য দিয়ে যায়, এটা একেবারে সত্যি। তার দাবি ‘রাজনীতিতে মহিলাদের রাজনীতিবিদদের শয্যাসঙ্গী হতে হয়।’
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সীমা গোবিন্দ বলেন, যখন আমি স্কুল বা কলেজের শিক্ষিকা ছিলাম, তখন একটি অনুষ্ঠানে একজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমি একটি বক্তৃতা দিই, যার পরে মন্ত্রী আমার সাথে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে তিনি আমাকে রাজনীতিতে আনতে চান। তিনি আমাকে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছিলেন, কিন্তু আমি মাত্র এক বছর টিকেছিলাম, তবে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আমাকে বের করে দেয়। এক বছরের মধ্যে, আমার সাথে দেখা হওয়া সমস্ত নেতাদের মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় ছিল, আমাকে টাকা দাও।
এ সময় তিনি বলেন, আমি দেখেছি বিজেপিতে ৯০% মহিলা রাজনীতিবিদের ওপরে ওঠার একটাই রাস্তা। ১০% যাদের বিশাল রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা বিপুল জনপ্রিয়তা আছে তাদের কথা ভিন্ন। সর্বত্র একই কথা, গিভ অ্যান্ড টেক।
তিনি বলেন, মহিলা পার্টি অফিসে একবার দুই মহিলার আলাপ আলোচনা শুনেছিলাম। যাদের একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এবং অন্যজনকে দেয়া হয়নি। যাকে দেয়া হয়নি তিনি বলছিলেন, আমি কাপড় খোলা থেকে সবকিছু দিয়েছি। তবুও পেলাম না। আর কী দেবো? সর্বত্র একই দাবি। যত বড় ধর্ম অধিকারী তত বড় ব্যভিচারী। এমন পরিস্থিতি দেখে ১ বছর পর রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। নিজের এক বছরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সীমা গোবিন্দ আরো বলেন, তার কলেজের কাজের জন্য সাবেক গভর্নর কল্যাণ সিং-এর সাথে একবার দেখা করতে হয়েছিল। বিজেপি নেতা কল্যাণ সিং সরাসরি তাকে গিভ অ্যান্ড টেক প্রস্তাব দেন, যা সীমা গোবিন্দ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। ফলস্বরূপ কাজটি সম্পন্ন হয় না এবং সীমা গোবিন্দকে তার কলেজ বন্ধ করে দিতে হয়।
দিল্লি সরকারের মন্ত্রী কপিল মিশ্র। তার কাছে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের একটি সিডি ছিল, যা দিল্লি বিধানসভায় বাজানো হয়েছিল। এই সিডিটি ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এর তদন্ত ১০ বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে।
কপিল মিশ্র দিল্লি বিধানসভায় অন রেকর্ড রাখার জন্য হলফনামা হিসেবে জানান যে, নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি সরকারি গাড়িতে করে একটি মেয়েকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে নিয়ে যেতেন, তাকে পাশের ঘরে রাখতেন, এবং এরপর কী হতো? এ সবকিছুই ওই সিডিতে রয়েছে।
কেবল কপিল মিশ্র নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে যৌনতার বিনিময়ে নারীদের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী বানানোর অভিযোগ তুলেছেন খোদ বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এপস্টিন ফাইলস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে, সাবেক বিজেপি সংসদ সদস্য দাবি করেন, তিনি ৩-৪ জন মহিলার নাম বলতে পারেন, যাদের সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মোদির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রাখতে হয়েছিল।
এদিকে সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর অভিযোগ সমর্থন করে এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেন কট্টর হিন্দুত্ববাদী, মোদির প্রশস্তি করে বই লেখা এবং মোদীকে গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করা লেখিকা মধু পূর্ণিমা কিশ্বর। নিজের ভেরিফাইড এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘এ ঘটনাই প্রমাণ করে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকে কেন আমি মোদী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতাম।’
তার পোস্টটির বঙ্গানুবাদ নিম্নরূপ- এ কারণেই ২০১৪ সালের মে মাসে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমি তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিলাম। তাকে নিয়ে লেখা আমার বইয়ের একটি কপি উপহার দিতেও আমি যাইনি। শুধু তার প্রিয় আমলা ভরত লালের মাধ্যমে একটি সইবিহীন কপি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম!
একেবারে শুরু থেকেই সঙ্গী ক্ষমতার বলয়গুলোর মধ্যে সেইসব মহিলাদের নাম বেশ জোরেই ফিসফিস করে বলা হচ্ছিল, যারা মোদির ঘনিষ্ঠতার কারণে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছিলেন। সেই কারণেই আমি খুব তাড়াতাড়ি সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম। হরদীপ ও জয়শঙ্কর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই হরদীপ পুরীর মতো যারা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাকে বিশেষ পরিষেবা দিয়েছিলেন, তাদের নামও চাপা গলায় বলা হতে লাগল!
২০১৪ সালে, যখন আমি আমেরিকায় বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলাম, সেখানেও তার আয়াদের গল্প প্রচলিত ছিল। দ্বাদশ শ্রেণি পাস স্মৃতি ইরানিকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় অন্যান্য কেলেঙ্কারিগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছিল, যা এতদিন পর্যন্ত জনসমক্ষে গোপন ছিল। মানসী সোনিকে নিয়ে কেলেঙ্কারিটি ইতোমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। মোদির ঘনিষ্ঠ কেউ আমাকে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা একগুচ্ছ কাগজপত্র দিয়েছিলেন, যা দাখিল করেছিলেন সেই কারাবন্দী আইএএস অফিসার, যিনিও সোনির সঙ্গে ফুর্তিবাজ সময় কাটাচ্ছিলেন।
মোদিনামার লেখিকা মধু পূর্ণিমা কিশ্বর বলেন, এছাড়া, গুজরাটের লোকজন, যাদের মধ্যে মোদির ঘনিষ্ঠ কয়েকজনও ছিলেন, আমাকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মহিলাদের সঙ্গে তার অসুস্থ প্রেমলীলার জঘন্য সব কাহিনী শুনিয়েছিলেন এবং তারও আগে, যখন তিনি প্রচারক ও বিজেপির পদাধিকারী ছিলেন! সেইসব কাহিনী শুনে তার উপস্থিতির প্রতি আমার এতটাই বিতৃষ্ণা জন্মেছিল যে, আমি বিয়ের সংবর্ধনাসহ সেইসব অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলতাম, যেখানে মোদির আসার সম্ভাবনা ছিল! সেসব বীভৎস বিবরণ শুনে আমি এতটাই মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছিলাম যে, ২০১৪ সালে আমি গভীর বিষণ্নতায় ডুবে যাই, যা আমার স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। একাধিক মানসিক আঘাত থেকে সেরে ওঠার আশায় ২০১৫ সালে কোয়েম্বাটুরের একটি আয়ুর্বেদিক নিরাময় কেন্দ্রে ২১ দিনের জন্য গিয়েছিলাম।
মোদির জীবনীকার মধু পূর্ণিমা কিশ্বর বলেন, আমার মনে আছে, আমি যে খবরগুলো শুনছিলাম তাতে আমার দুঃখের কথা যখন আরএসএস-এর একজন খুব সিনিয়র বুদ্ধিজীবীর কাছে বলেছিলাম, তিনি কাঁধ ঝাঁকিয়ে ব্যাপারটা উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি এত অবাক হচ্ছেন কেন? তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমাদের কারোরই বা মাথাব্যথা থাকবে কেন?’
পর্নো বিক্রেতা অমিত মালভিয়াকে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দেওয়াটা ছিল বিজেপির শীর্ষ কর্তাদের ঝোঁকের আরও একটি প্রমাণ! অন্যান্য ক্ষেত্রে সে যদি ভালো করত, তাহলে হয়তো আমি তার এই শিকারীসুলভ যৌন আচরণ উপেক্ষা করতাম। কিন্তু তার আগ্রাসীভাবে গণহত্যামূলক টিকা বিক্রি, হিন্দু সমাজকে দমন করার নির্লজ্জ প্রচেষ্টা এবং হিন্দু ধর্মকে শয়তান হিসেবে চিত্রিত করা, হিন্দুদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানোর জন্য ভীমতা ও মীমতাদের প্রতি তার জঘন্য পৃষ্ঠপোষকতা, বিশ্বায়নবাদী মাফিয়াদের প্রতি তার দাসসুলভ আচরণ, কাঠুয়া কাণ্ডের সময় হিন্দুদের ওপর তার পৈশাচিক নির্যাতন (যা আমার বই ‘দ্য গার্ল ফ্রম কাঠুয়া, এ স্যাক্রিফিশিয়াল ভিকটিম অব গাজওয়া-ই-হিন্দ’-এ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত) এবং আরও অনেক কিছু, আমাকে প্রথম মেয়াদেই উপলব্ধি করিয়েছিল যে, আমরা এক শয়তানি শাসকের পাল্লায় পড়েছি; সিআইএ-র এক চর, যাকে ভারতকে ধ্বংস করতে এবং হিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করতে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে!
মোদির ব্যক্তিত্বের বিকার আমাকে এই বিশ্বাসে উপনীত করেছে যে, আমাদের নেতাদের যৌন দুর্নীতির দিকে আরও অনেক বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। যারা এই ক্ষেত্রে আপস করে, তারা আর্থিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্তদের চেয়ে ভারতের শত্রুদের ব্ল্যাকমেইলের কাছে অনেক সহজে নতিস্বীকার করে! প্রথম দিন থেকেই কীভাবে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে, তার প্রমাণ শিগগিরই দেব। আর তাই ওই অশ্লীল ৫৬ ইঞ্চির দম্ভোক্তি!
এদিকে মধু পূর্ণিমা কিশ্বরের এই পোস্ট ভারতজুড়ে তোলপাড় হওয়ায় মোদি ভক্ত ও বিজেপি সমর্থকরা তাকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছে বলে তিনি জানান। এছাড়া তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু মধু পূর্ণিমা কিশ্বর এতে দমে যাননি। তিনি একের পর এক পোস্ট দিয়ে ও বিভিন্ন পডকাস্টে নিজের বক্তব্যের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরছেন। একই সাথে তিনি অচিরেই আরো তথ্য-প্রমাণ নিয়ে মোদি ও বিজেপির ঘরের অন্তরালের নানা খবর প্রকাশ করে দেবেন বলেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
ভারতের বিজেপির বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক যৌন কেলেঙ্কারি অভিযোগ। কেবল অভিযোগ বললে হয়তো কম বলা হয়। কেননা একেবারে তথ্য-প্রমাণসহ একটার পর একটা করে অসংখ্য ঘটনা সামনে আসছে। ঘটনা শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী জ্যোতিষী ও ধর্মগুরু অশোক খারাটকে দিয়ে। বিজেপির রাজনৈতিক অন্দরমহলের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই জ্যোতিষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মহিলাদের হিপনোটাইজ করে ও নিকটাত্মীয়ের বিপদের ভয় দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন। পুলিশ তার ডেরায় অভিযান চালিয়ে এরকম ৫০ জন মহিলার সাথে যৌন সম্পর্কের ভিডিও উদ্ধার করেছে এবং তাকে আটক করেছে।
একই সময়ে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনমন্ত্রী নরহরি জিরওয়ালের সাথে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীর যৌন সম্পর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে তোলপাড় চলছে।
অন্যদিকে গোয়াতে নাবালিকাদের সঙ্গে যৌন সংসর্গ এবং তার ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক বিজেপি নেতার ছেলেকে। ধৃতের নাম সোহম সুশান্ত নায়েক। কুরচোরেম পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার সুশান্ত নায়েকের ছেলে তিনি। অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নাবালিকা তার লালসার শিকার হয়েছে। যৌন সংসর্গের সময়কার ভিডিও তুলে রাখত ২০ বছরের সোহম। নির্যাতিতাদের মুখ বন্ধ রাখতে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখানো হত।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নির্ভরযোগ্য হ্যান্ডেলে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে স্বঘোষিত ধর্মগুরু ও জ্যোতিষী অশোক খারাটকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ‘ক্যাপ্টেন’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে ঘিরে ৫৮ মহিলার সাথে যৌন সম্পর্কের ভিডিও প্রকাশসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় ভারতজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬৭ বছর বয়সী খারাট একসময় মার্চেন্ট নেভির কর্মকর্তা ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি সংখ্যাতত্ত্ব ও জ্যোতিষচর্চার মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। নাসিকের মিরগাঁও এলাকায় ‘শ্রী শিবনিকা সংস্থান ট্রাস্ট’ গড়ে তুলে তিনি একটি বিস্তৃত আধ্যাত্মিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, যা ধীরে ধীরে তার কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ বছরে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। জমি, ফার্মহাউস ও আবাসন মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ধনী ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য তিনি একেকবারে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এই ‘আধ্যাত্মিক’ কর্মকাণ্ডের আড়ালেই গুরুতর অপরাধ চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, স্বামীর প্রাণ সংশয়ের ভুয়ো আশঙ্কা দেখিয়ে খারাত তাকে নিজের দফতরে ডেকে নিতেন। সেখানে নেশাজাতীয় পদার্থ মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে তাকে বারবার ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নির্যাতন চলেছে। তদন্তে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। একটি পেনড্রাইভ থেকে ৫৮টি ভিডিও উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে মহিলাদের ওপর যৌন নির্যাতনের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ফলে আরও একাধিক মহিলা এই চক্রের শিকার হয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মহারাষ্ট্র সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুণে রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের কমান্ড্যান্ট তেজস্বী সাতপুতে। অশোক খারাটের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, পাশাপাশি ব্ল্যাকম্যাজিকবিরোধী আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে খারাতের সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন রূপালী চাকনকরের নামও আলোচনায় এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে চাকনকরকে খারাতকে ‘গুরু’ হিসেবে সম্মান জানাতে দেখা গেছে। ঘটনার পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরব হয়েছে এবং রূপালী চাকনকরের পদত্যাগের দাবি তুললে তিনি দায়িত্ব থেকে পর ত্যাগ করেন। পুরো ঘটনাকে ঘিরে অন্ধবিশ্বাস, ক্ষমতার প্রভাব এবং সমাজে তথাকথিত আধ্যাত্মিক গুরুর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম বর্তমান জানিয়েছে, নাবালিকাদের সঙ্গে যৌন সংসর্গ এবং তার ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো এক বিজেপি নেতার ছেলেকে। ধৃতের নাম সোহম সুশান্ত নায়েক। কুরচোরেম পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার সুশান্ত নায়েকের ছেলে তিনি। অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নাবালিকা তার লালসার শিকার হয়েছে। যৌন সংসর্গের সময়কার ভিডিও তুলে রাখত ২০ বছরের সোহম। নির্যাতিতাদের মুখ বন্ধ রাখতে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখানো হতো। এতদিন সোহমের কুকীর্তি নিয়ে কানাঘুষো ছিল। গত সপ্তাহে এক পার্টিতে আকণ্ঠ মদ পান করে মত্ত অবস্থায় বন্ধুদের সেই ভিডিওগুলো দেখিয়ে দেয় সে। এরপরেই আগুনে ঘি পড়ে।
গত লোকসভা ভোটের আগেই মহিলাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছিল এনডিএ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। জেডিএস-এর বিদায়ী সংসদ সদস্য প্রোজ্জ্বল রেভান্নার লালসার শিকার হয়েছিলেন কয়েকশ’ মহিলা। তাদের যৌন নির্যাতনের ভিডিও পর্যন্ত রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইল করতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার নাতি। কংগ্রেস গোয়ার ঘটনাকে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি বলে দাবি করেছে। যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ওই নেতা প্রজওয়াল রেভান্না। তিনি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার নাতি ও সংসদ সদস্য। রেভান্না দক্ষিণ কর্ণাটক রাজ্যের জনতা দল (ধর্মনিরপেক্ষ) বা জেডি (এস)-এর নেতা।