দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতীয় হেজিমনি আবার চেপে বসার আতঙ্ক


২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৪

কূটনৈতিক রিপোর্টার : দুদিনের সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মরিশাসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে (ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন) যোগ দেওয়ার আগে ৭ এপ্রিল ভারতের রাজধানীতে যাবেন তিনি। ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন ১০-১২ এপ্রিল মরিশাসের পোর্ট লুইসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি সফরের প্রথম দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে। জয়শঙ্কর ছাড়াও আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা আছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির যাবেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ সফর নিয়ে সংশয় কাটাতে জনগণকে ইতিবাচক বার্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হলে ভারতীয় হিজিমনি আবার চেপে বসার আতঙ্ক দেখা দিবে।
জনগণকে ইতিবাচক বার্তা দিতে হবে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো মন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন। কূটনৈতিক মহল গুরুত্বের সঙ্গে এই সফরকে দেখছে। এই দুই দেশ ছাড়াও পাকিস্তান সফরের কথা শোনা গেলেও তিনি এখন সেখানে যাচ্ছেন না। এমন খবর প্রকাশের পর অনেক পর্যবেক্ষক ইন্ডিয়ান হিজিমনি আবার চেপে বসার আশঙ্কা করছেন। তাদের এমন আশঙ্কার কারণ মইন উ আহমদের সেনাশসন এবং হাসিনার ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনে ভারতের অব্যাহত সমর্থন; অন্যদিকে জনগণের আন্দোলনে প্রতিষ্ঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সাথে অসহযোগিতা। গণআন্দোলনে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করে বন্দিবিনিময় চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভারতের চাকণ্যনীতি। তাই পর্যবেক্ষকের অভিমত, আঞ্চলিক সম্পর্কের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান সরকার সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের কাছে সম্পর্ক রাখার কূটনীতির অংশ হিসেবে এ সফরে যাচ্ছে- জনগণকে এমন বার্তা দিতে পাকিস্তান সফর বাতিল করা ঠিক হবে না।
মনে রাখতে হবে
ভারত দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের সুপ্রতিবেশী নয়। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি সফরের প্রথম দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ভারত সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সফরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখা শুভ ইঙ্গিত, কিন্তু ভারত সুপ্রতিবেশী হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তাই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মাথায় রাখা জরুরি।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিঠি পাঠান। নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দনবার্তা তুলে দেন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ভারত সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে থাকা স্থবির সম্পর্ক সচল করার উদ্যোগ নেয়। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত ২০ মার্চ দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতকে আরও জোরালো করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের মে মাসে দিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। কিন্তু অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দিল্লির টানাপড়েনের জেরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষায় থাকতে হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরপরই সফর চূড়ান্ত হয়। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১৪ মার্চ তুরস্কে যান, সেখান থেকে জাতিসংঘে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণার কাজে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।