পীরগাছায় নালার মুখ বন্ধ করে দেয়ায় নষ্টের পথে ৫শ’ একর জমির ফসল


১ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৭

মফিদুল ইসলাম সরকার, রংপুর : রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চকচকার ঢোলায় পানি বের হওয়ার একমাত্র নালার মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে গত ১৫ দিন পানি বের না হওয়ার কারণে পাঁচ শতাধিক একর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পথে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে।
এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগপত্রটি দিয়েছেন স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল মাজেদ মিয়া। ওই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন এলাকার আরও বাইশ’ কৃষক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুখানপুকুর, কিসামত সুখানপুকুর, কিসামত ঝিনিয়া ও ছোট ঝিনিয়া মৌজার বাসিন্দারা স্থানীয় চকচকার দোলায় বংশ পরম্পরায় চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এই সমস্ত এলাকার পানি (মাসুম-ইব্রাহিম) নামক নালা ও রাস্তার পূর্ব-উত্তর দিকে অবস্থিত জোড়া ব্রিজ দিয়ে ভাটি এলাকায় চলে যায়। কিন্তু এই নালার মুখে স্থানীয় (মৎস্য চাষি) মাসুদ রানা ও মো. মামুন মিয়া রাতারাতি পুকুর খনন করে নালার মুখ বন্ধ করে দেয়।
গত ১১ ও ১২ মার্চ দুদিনের বৃষ্টিতে চকচকার দোলার প্রায় ৫০০ একর জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার সমস্ত আবাদি ইরি ধান ডুবে নষ্ট হয়ে যাবে। চকচকার দোলার ভাটির উত্তর-পূর্ব দিকে রাস্তায় দুটি জোড়া ব্রিজের একটির সামনে ভরাট করে বসতবাড়ি করেছে অন্যটির সামনে পুকুর ও বাঁধ দিয়ে পানি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী আব্দুল মাজেদ মিয়া বলেন, অভিযোগ দেওয়ার ১৫ দিন হলেও অজ্ঞাত কারণে নালার মুখ খুলে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই।
এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর আমার কৃষককে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে এটা মেনে নেওয়া যায় না।
স্থায়ী একটি সমাধান হওয়া দরকার। তিনি বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান (আলহাজ মোন্তাফিজার রহমান) বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছে। এভাবে পানি বের হতে না দিলে আমার কৃষকরা পানি বের করবে কীভাবে? আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে স্থায়ী একটি সমাধান করা যায় কিনা বিষয়টি আমি দেখবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, আমি বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবো।