স্পেন বিজয়ী মহাবীর সেনাপতি তারিকের জাহাজ পুড়িয়ে দেয়ার অসত্য কাহিনী প্রসঙ্গে
১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৮
॥ আবদুল হালীম খাঁ ॥
আজো অনেক শিক্ষক ইতিহাস পড়াতে ছাত্রদের কাছে গল্প করেন যে, মহাবীর সেনাপতি তারিক সৈন্য-সামন্ত নিয়ে যে জাহাজে চড়ে জিব্রালটার প্রণালী পার হয়ে স্পেন পৌঁছেছিলেন, সেখানে পৌঁছেই তিনি জাহাজটিতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলে সৈনিকদের উদ্দেশে দীপ্তকণ্ঠে ভাষণ দেন, বীর সৈনিক ভাইয়েরা, এবার শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রাণপণ যুদ্ধ করে দেশ দখল করুন, এদেশে আল্লাহর দীন ইসলাম প্রচার করুন। এদেশ অধিকার করতে না পারলে এখানে শত্রুদের হাতে মৃত্যুবরণ করতে হবে, পেছনে ফিরে যাবার আর উপায় নেই। জাহাজ তো নিজ হাতেই পুড়ে ফেলেছি।
সেনাপতি তারিকের ভাষণ শুনে সৈনিকরা প্রাণপণ যুদ্ধ করে স্পেন দখল করেন। সেনাপতি তারিকের জাহাজ পুড়ে ফেলা এ কাহিনী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটা এক কল্পকাহিনী। কোনো কোনো লেখক আজো এ কাহিনী বইপত্রে লিখে তরুণদের সাহস ও উৎসাহ দেবার চেষ্টা করছেন। একবার বইপত্রে কোনো বিষয় ছাপা হয়ে গেলে সাধারণ পাঠক তো সহজেই বিশ্বাস করেন।
ইংরেজ আমলে অনেক হিন্দু লেখক মুসলমানদের গৌরবের কাহিনী এবং মুসলিম নর-নারীদের পবিত্র জীবনে হিংসাবশত কলঙ্ক কালিমা লেপন করেছেন। তারা মিথ্যা-বানোয়াট কাহিনী তৈরি করে বইপত্রে প্রচার করেছেন। তারা গল্প-উপন্যাস, নাটক এবং কবিতা রচনা করে ছড়িয়েছেন। নীচমতি বঙ্কিম চন্দ্রও রঙ্গলাল ছিলেন ভীষণ উৎসাহিত অগ্রসর, মুসলমানদের মধ্যে দু-একজন বিবেকহীন লেখক তখন হিন্দুদের অনুসরণ করেছেন দেখা যায়। কিন্তু সেনাপতি তারিক স্পেনে গিয়ে জাহাজ পোড়ানো কল্পকাহিনীকে কখন রটিয়েছে, তার কোনো সূত্র পাওয়া যায় না।
মুসলমানরা পৃথিবীতে যত দেশ যেভাবে এ পরিস্থিতিতে আক্রমণ করে দখল করেছেন, স্পেন আক্রমণ করে দখল করার প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। মুসলমানদের তখন সমুদ্র পার হবার মতো কোনো জাহাজই ছিল না। তাই সমুদ্রের ওপারে গিয়ে স্পেন আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছেও ছিল না।
তখন ওয়ালিদ ছিলেন মুসলিম সাম্রাজ্যের খলিফা। মুসা ছিলেন উত্তর আফ্রিকার গভর্নর। আর তারিক ছিলেন উত্তর আফ্রিকার মুসলিম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যেই সময়ে স্পেনের নির্বাচিত রাজা ছিলেন রডারিক। রাজ্যের শাসনক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে রডারিকের প্রতি কিউটার গভর্নর কাউন্ট জুলিয়ান ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। এছাড়া জুলিয়ানের কন্যা কোরার সঙ্গে রডারিক অশোভন আচরণ করেন। এর ফলে জুলিয়ানের ক্রোধের আর সীমা থাকে না। তখন তিনি রাজা রডারিকের পতন ঘটানোর চিন্তায় বিভোর হয়ে পড়েন।
সে সময় মুসলমানরাই ছিলেন পৃথিবীতে একমাত্র শক্তিশালী। জুলিয়ান মুসাকে স্পেন আক্রমণের জন্য অনুরোধ করেন। মুসা প্রথম জুলিয়ানের এ প্রস্তাব প্রতারণামূলক মনে করেন এবং মনে করেন মুসলিম বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য তার এ এক ষড়যন্ত্র। মুসা খলিফা ওয়ালিদের সঙ্গে আলাপ করেন। ওয়ালিদ মুসাকে পরিবেশ বুঝে কাজ করার পরামর্শ দেন। মুসা জুলিয়ানকে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করার পরামর্শ দেন। মুসা ধরে নিয়ে ছিলেন যে, এতে করে রডারিকের সঙ্গে জুলিয়ানের যে বিবাদ বাধবে, তা আর কখনো মিটমাট হবার নয়। আবু আরিফ নামের একজন আরব গোত্রপ্রধানকে গোটা ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণের জন্য স্পেনে পাঠিয়ে দিলেন।
আটলান্টিক সাগরপাড়ের স্পেন ছিল ফল-ফসলে উন্নত এক দেশ। বারবার জাতির মেয়েরা সন্তানদের স্পেন সম্পর্কে ছড়া কেটে ঘুম পাড়াতো :
খালের ওপারে একটা স্বর্গ আছে
সেখানে মিষ্টি ফল ঝুলে থাকে গাছে গাছে।
মাঠে মাঠে সারা বছর নানা শস্য ফলে
পরীরা নেমে এসে গোসল করে স্বচ্ছ জলে।
বসে বসে তারা সবুজ বৃক্ষের ছায়
হেসে হেসে ভালোবাসার গান গায়।
এই সেই সমুদ্রপাড়ের স্পেন, যে সমুদ্রে মহাবীর উকবা আফ্রিকার পশ্চিমে অভিযান চালিয়ে খ্রিস্টানদের সব কয়টি দুর্গ অধিকার করে ছুটতে ছুটতে আটলান্টিক মহাসগরে ঘোড়া নামিয়ে যতদূর অগ্রসর হওয়া যায়, ততদূর পৌঁছে দুই হাত ঊর্ধ্বে তুলে বলেছিলেন, হে প্রভু! তোমার দরিয়া যদি বাধা না দিতো, তোমার নামের মহিমা প্রচার করতে করতে আরো দূরে হতাম অগ্রসর। সেই স্পেনের প্রতি মুসলমানদের দৃষ্টি ছিল।
মুসা সব দিক জেনেশুনে স্পেনে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। মুসলমানদের তখন সমুদ্রপাড়ের জাহাজ না থাকলেও এবং এত তাড়াতাড়ি জাহাজ তৈরি সম্ভব নয়। তাই জুলিয়ানের যে চারটি জাহাজ দিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী পার করতে চেয়েছিলেন, সেই চারটি জাহাজই ছিল মুসলমানদের একমাত্র সম্বল। সেই জাহাজে তারিক সর্বপ্রথম ৭ হাজার বারবার ও ৩ হাজার আরব অশ্বারোহী সেনা নিয়ে ৭১১ খ্রিস্টাব্দের কিউটার ঠিক অপর প্রান্তে একটি পাহাড়ে অবতরণ করেন। সেনাপতি তারিকের নাম অনুসারে এই পাহাড়ের নাম করা হয় জাবাল আত তারিক। অর্থাৎ তারিকের পাহাড়। এক নাগাড়ে সাত দিন ধরে পারাপারের কাজ চলল। ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, এই চারটি জাহাজ দিয়ে একসময় এক হাজার পদাতিক সৈন্য জিব্রালটার পার হতে পারত এবং একবার পারাপারের জন্য সময় লাগতো ২৪ ঘণ্টার মতো। ৭ হাজার মুসলমান সৈন্যের পারের জন্য ৭টি ট্রিপ দরকার হয়। এ কাজে সময় লাগতো ৭ দিন। এছাড়া মুসার সঙ্গে সবসময় তারিকের এবং তারিকের সঙ্গে মুসার সব সময়ই যোগাযোগ করতে হতো লোক মারফত। তারিক যদি স্পেনে পৌঁছে জাহাজ পুড়িয়ে ফেলতেন, তবে তারা যোগাযোগ করতেন কীভাবে। তারিক মুসাকে অবিলম্বে অতিরিক্ত বাহিনী প্রেরণের অনুরোধ করে ছিলেন। তিনি যদি প্রথমেই জাহাজ পুড়িয়ে ফেলতেন, তবে কীভাবে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর অনুরোধ তিনি করতেন? হতে পারে মহাবীর তারিক উদ্যম এবং উৎসাহে কল্পনার সংমিশ্রণ ছিল। কিন্তু এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, তিনি ছিলেন এক দক্ষ এবং অভিজ্ঞ সমরনায়ক।
তারিকের সঙ্গে সর্বমোট সৈন্য সংখ্যা ছিল ১২ হাজার। আর রডারিকের সৈন্য সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার। রডারিকের বয়স ছিল ৮০ বছর। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়ম করার ফলে বৃদ্ধ বয়সেও তিনি ছিলেন সুঠাম দেহ এবং সতর্ক খনের অধিকারী। একজন প্রবীণ অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল বৈচিত্র্যময়। তিনি যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। বিভিন্ন জায়গায় বহন উপযোগী একটি সিংহাসনে বসেই তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। তার সিংহাসনটি ছিল ব্রোঞ্জ ও রুপা দিয়ে কারুকাজ করা এবং নানা বর্ণের সিল্কের চাঁদোয়ায় ঢাকা। সিংহাসন দামি তো বটেই, দেখতে ছিল ভারি চমৎকার। তিনি বারবেট নদী অতিক্রম করে নানা বর্ণখচিত চাঁদোয়ার নিচে সিংহাসনটি স্থাপন করেন। তার মাথায় ছিল রাজ মুকুট। সেনাপতি রডারিকের তুলনায় তারিকের অবস্থা ছিল খুবই নিষ্প্রভ। তার বয়স তখন ২৭ বছর। গায়ের রং ফর্সা, মাথার চুল লালচে ধরনের- মোটের ওপর তিনি ছিলেন বেশ সুদর্শন। মুসার সেনাপতি হিসেবে অনেক যুদ্ধ দেখেছেন, অনেক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাস, দুর্বার সাহস এবং অদম্য উদ্দীপনাই ছিল তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘদিনের লালিত একটি স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়ার প্রত্যাশা নিয়েই স্পেনের মাটিতে পা রাখেন। রডারিকের বিরাট বাহিনী দেখে তিনি প্রথম খানিকটা অস্বস্তিবোধ করতে থাকেন। এক হাজার সৈন্যের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল তারিকের বাহিনী। তন্মধ্যে ৩০০ ছিল আরব এবং ৭০০ ছিল বারবার। অল্পসংখ্যক ঘোড়সওয়ার বাদ দিয়ে বাকিরা ছিল পদাতিক। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত যে বাহিনী প্রেরণা করা হয়, তন্মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ছিল অশ্বারোহী। ঐতিহাসিকদের মতানুসারে স্পেনে মুসলিম বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ হাজার। রডারিকের ৯০ হাজার সৈন্যের বিরাট বাহিনী থাকলেও রডারিকের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ছিল না। কাজেই তারা সবাই ছিল নির্যাতিত ও নিপীড়িত। দেশের প্রতি এবং সরকারের প্রতি সামান্যই মমত্ববোধ ছিল।
ইসলামের ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি ছিল ৭১১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই। এ দিন স্পেনীয় এবং মুসলিম বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি হয়। এ যুদ্ধে জুলিয়ানের ছেলে এবং ইউটিজারের এক ছেলে মুসলিম বাহিনীর পক্ষে তারিকের দলে যোগ দিয়েছিলেন।
বারবেট নদীর তীর। জীবন-মরণ আর জয়-পরাজয়ের যুদ্ধ শুরু হলো। সেনাপতি তারিক সেনা অধিনায়কদের উদ্দেশে তেজদীপ্ত ও উদ্দীপনাময় এক ভাষণ দিলেন। তারিকের বক্তৃতার বিষয়বস্তু অধিনায়করা পৌঁছে দিলেন সৈনিকের নিকট। এরপরই তারিক শত্রুশিবির আক্রমণ করলেন।
যুদ্ধের শুরুতে মুসলিম বাহিনীর বাম প্রান্তের অশ্বারোহী দল সবল হয়ে ওঠে। সেনাপতি নির্দেশ পেয়েই তারা বীরবিক্রমে স্পেনীয় বাহিনীর ডান প্রান্তের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথম আঘাতে ভেঙে যায় খ্রিস্টানদের প্রতি রক্ষা ব্যূহ। তারিক এবার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন সরাসরি রডারিকের প্রতি। রডারিক সিংহাসনে বসে যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। তারিক নিজে তার বাহিনী নিয়ে রডারিকে আক্রমণ করলেন। রডারিকের দেহরক্ষীরা সাধ্যমতো মুসলিম বাহিনীর ওপর অবিরাম তীর নিক্ষেপ করতে লাগল। মুসলিম বাহিনীর অনেক ক্ষতি হলো। কিন্তু মুসলিম বাহিনীর উন্মত্ত এবং দুঃসাহসিক আক্রমণের গুরুত্ব উপলব্ধি করার পূর্বেই রডারিকের দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে ধুলায় গড়িয়ে পড়ে।
রাজা রডারিকের মৃত্যুর পর স্পেনীয় বাহিনীর সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে কোনো বাধা-প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই শহরের পর শহর মুসলিম বাহিনীর পদানত হলো। ইতোমধ্যে তারিকের বিজয় সংবাদ আফ্রিকায় পৌঁছে গেছে। প্রতিদিনই অসংখ্য লোক জিব্রালটার প্রণালী পার হয়ে স্বেচ্ছায় মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়।
তারিক এবার গোটা স্পেন একযোগে আক্রমণ করার পরিকল্পনা নিলেন। তিনি মুগিথকে পাঠালেন কর্ডোভায়? জাহিদ বিন কাসাভা গেলেন মালাগা এবং গ্রানাডায়। জুলিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রওনা হলেন টলেডোর পথে। স্পেনের মাটিতে পা রাখার এক বছরের মধ্যে তারিক গোটা মধ্য এবং পূর্ব স্পেন দখল করে নিলেন। আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, মুসা স্পেনে আসার পূর্বেই এই দখলের কাজ সম্পন্ন হলো।
সামরিক ইতিহাসে তারিকের আবির্ভাব একটি ছুটন্ত তারকার মতো। তার সামরিক জীবন ছিল খুবই উজ্জ্বল এবং চাকচিক্যময়। তার বাহিনী ছিল খুবই ছোট। তৎকালে স্পেন ছিল ঘনবসতিপূর্ণ এবং তারা ছিল ভালো যোদ্ধা। তারিক ক্ষুদ্র বাহিনী দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে রাজা রডারিককে নিহত ও পরাজিত করে যে কৃতিত্ব অর্জন করেন, তা ইতিহাসে আর নেই বললেই চলে। তারিককে বিশ্বের ইতিহাসে একজন শ্রেষ্ঠ সমরনায়কের মর্যাদা দান করেছে?
বিজিত অঞ্চলের সংহতি বিধান এবং শাসনভার আবদুল আজিজ বিন মুসার ওপর ন্যস্ত করে তারিক এবং মুসা সামনের দিকে এগিয়ে যান। এবার তারা মনোযোগ দেন আইবেরিয়ান উপদ্বীপের অবশিষ্ট অঞ্চল দখলের প্রতি। এই অভিযানে তারা নিরঙ্কুশ সফলতা অর্জন করেন। এরপর দক্ষিণ ইউরোপ দখলের পরিকল্পনা করেন এবং সাফল্যের ব্যাপারে আস্থাবান ছিলেন। কিন্তু ঠিক এ সময় খলিফা ওয়ালিদ মুসা এবং তারিককে রাজধানী দামেস্কে ডেকে পাঠান।
উল্লেখিত আলোচনা থেকে পরিষ্কারভাবে জানা যায়, সেনাপতি তারিক সৈন্য-সামন্ত নিয়ে স্পেনে পৌঁছে জাহাজ পুড়িয়ে ফেলেছিলেন- এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। কারণ মুসলমানদের তখন কোনো জাহাজই ছিল না। জুলিয়ানের চারটি জাহাজই ছিল মুসলমানদের একমাত্র সম্বল আর সেই চারটি জাহাজেই মুসলমানরা এপার-ওপারের যাতায়াত, খাদ্য প্রেরণ ও খবরবার্তা আদান-প্রদান চলত। যুদ্ধ শেষ হলেও ওই চারটি জাহাজে মুসলমানগণ জিব্রালটার প্রণালী পারাপার হতো।
গ্রন্থসূত্র
১. লে. কর্নেল এম. এস. কোরেশী : গৌরবদীপ্ত জিহাদ।
২. এম. হামিদুল্লাহ : মুসলিম কনডাক্ট অব স্টেট।
৩. এস.পি স্কট : হিস্টরি অব দ্য মুরিস ইমপায়ার ইন ইউরোপ?
৪. ইবনে সাদ : কিতাব আল তাবাকাত আল কবির।