আইএমএফের ঋণের ফাঁদে সরকার


২৬ মার্চ ২০২৬ ২১:২৭

আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বিএনপি
॥ উসমান ফারুক ॥
লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে রিজার্ভ নিচে নামতে থাকলে কঠিন শর্তে পতিত বেসামাল আওয়ামী লীগ সরকার বৈদেশিক মুদ্রা পেতে ঋণ নেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে। কঠিন শর্তে নেওয়া এসব ঋণের কারণে অনেক খাতেই ভর্তুকি কমিয়ে দিতে হয়। আমদানি ও রপ্তানিতে কঠোর হতে হয় বাংলাদেশকে। তার প্রভাবে গত কয়েক বছর ধরেই কমছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। রাজস্ব আদায় এখনো ঘাটতিতে রয়েছে। দুর্বল কর রাজস্ব কাঠামো, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ রয়েছে অর্থনীতিতে। এখনো সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে অর্থনীতিকে। ইরান যুদ্ধের দোহাই দিয়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নজর না দিয়ে আওয়ামী লীগের দেখানো পথ ধরে আইএমএফের কাছ থেকে কঠিন শর্তে ঋণ নিতে যাচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি।
এর ফলে অর্থনীতি ফের দাতা সংস্থার প্রেসক্রিপশনে বন্দী হয়ে যাবে। থমকে যাবে বিনিয়োগ, বাড়বে না কর্মসংস্থান ও নেতিবাচক রপ্তানি খাত আরো সমস্যায় পড়বে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপবে আরো নতুন শর্তের বোঝা। অথচ কয়েক মাস আগেও আইএমএফের কঠিন শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তারা কিস্তি ছাড় আটকে দিলেও রিজার্ভ বেড়েছে বাংলাদেশের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চহারের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অর্থনীতিতে ভারসাম্য নীতি অবলম্বন করার সময়। একদিকে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ; অন্যদিকে পণ্যের সরবরাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎস হিসেবে নরওয়ে, মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে পারলে কম দামেই জ্বালানি তেল মিলবে। বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক রাখতে কয়লাচালিত কেন্দ্র সচল রাখতে হবে। কঠিন শর্তে আইএমএফের ঋণ না নিয়ে উচ্চাভিলাষী খরচ কমানোর সঙ্গে আবশ্যক খাত ছাড়া জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস ও তেল কূপ থেকে উৎপাদন বাড়াতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। বাড়তি দামে তেল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষয় হতে শুরু করলে ফের খাদে পড়বে অর্থনীতি।
ব্যয় না বাড়িয়ে খরচে কৃচ্ছ্রসাধন করার পরামর্শ দিয়ে তারা বলছেন, অনেক দেশ জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনতে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাস চালু করেছে। সরকারি দপ্তরে উপস্থিতি কমিয়ে এনেছে। সেখানে উল্টোপথে হাঁটছে বাংলাদেশের সরকার।
কেন ঋণ নিতে যাচ্ছে সরকার
ক্ষমতা নিয়েই বিএনপি সরকার উচ্চ ব্যয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। অর্থনীতিতে চলা নীরব মন্দার কারণে রাজস্ব আদায়ে এখনো ঘাটতি রয়েছে। সর্বশেষ চলতি অর্থবছরের আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। সরকারের বাজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজস্ব জোগাতে এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। এখন বিশাল এই ঘাটতির অর্থ না পেলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) থাকা বিভিন্ন প্রকল্প আটকে যাবে। ঋণ করে এসব প্রকল্প চালাতে হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে আয় না করে নতুন খরচ বাড়িয়েছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষি কার্ডের খরচ আগামী বাজেটে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। নতুন খরচ ও বর্তমানে ঘাটতিতে চলা অর্থনীতিতে প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকার চাপে পড়েছে সরকার। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরান যুদ্ধ। তেলের ব্যবহার না কমিয়ে উল্টো উচ্চ ব্যয়ে আমদানির সিদ্ধান্তে রিজার্ভ ক্ষয় হতে শুরু করবে। এই তিন চাপে বেসামাল হওয়া বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের পথ ধরে আইএমএফের কাছে ঋণ নিতে যাচ্ছে। তাতে অর্থনীতি ফের দাতা সংস্থার প্রেসক্রিপশনে বন্দী হয়ে যাবে। থমকে যাবে বিনিয়োগ, বাড়বে না কর্মসংস্থান ও নেতিবাচক রপ্তানি খাত আরো সমস্যায় পড়বে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপবে আরো নতুন শর্তের বোঝা। আগামী এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হবে।
একই পরিস্থিতি করেছিল আওয়ামী লীগ
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত লুটপাট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনায় রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নামলে বাংলাদেশের ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে বিদেশি রপ্তানিকারকরা। একদিকে অর্থ সংকট; অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি ব্যয় পরিশোধ করায় খরচ বেড়ে যায় পণ্য আনতে। তাতেই বেসামাল হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে ঋণ নেয় আইএমএফের কাছ থেকে। কঠিন শর্তে নেওয়া এসব ঋণ এখন পরিশোধের সময় চলে আসছে। আইএমএফের কারণে দেশের অনেক খাতেই ভর্তুকি কমিয়ে আনতে হয়। যার পরোক্ষ প্রভাব পড়ে বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে।
ঋণের বিকল্প কী?
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর এখন পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। এক মাসের এই যুদ্ধে এখন কৌশলগত দিক দিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে মুসলিম বিশ্বের দেশ ইরান। বিশ্বের ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনে ব্যবহার হওয়া হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে। সেই প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশ ও চীন ছাড়া অন্য কোনো দেশের জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে না ইরান। তাতেই মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলের ব্যবসায় ধস নেমেছে।
এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তেল সরবরাহেও। পেট্রোলপাম্পে তেল নিতে কয়েক কিলোমিটার লাইন দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যাচ্ছে তেল নিতে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল এলেও যুদ্ধের কারণে যথেষ্ট তেল আসতে পারছে না। এতেই সংকট দেখা দিয়েছে। এখন তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে হলে বর্ধিত দাম পরিশোধ করতে হবে। তাতে খরচ বেড়ে যাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি)। বাড়তি এই খরচ জোগাতে রিজার্ভ থেকে চলে যাবে বৈদেশিক মুদ্রা। একপর্যায়ে ফের সংকটে পড়ে যাবে রিজার্ভ। তখন তেলের বাইরে শিল্পের কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানিতে ডলার পাওয়া যাবে না। তাতেই মূল্যস্ফীতির পারদ ফের লাগাম ছাড়া হয়ে যাবে।
একদিকে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে, অন্যদিকে কাঁচামাল সংকটে পড়ে শিল্প অচল হয়ে যাবে। চাকরি হারিয়ে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। এমন সময়ে বেশি তেল আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরে তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, এখন ভারসাম্য রক্ষাটাই মূল লক্ষ্য। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে আবার মূল্যস্ফীতি যেন বেড়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এ দুটি করতে গিয়ে রিজার্ভ যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে পড়তে দেওয়া যাবে না। এজন্য আগে খরচ সামাল দিতে হবে। তেলের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। অনেক দেশই আগাম সতর্কতা হিসেবে তাই করেছে।
যুদ্ধ বেশিদিন দীর্ঘ হলে বাড়তি দাম দিয়েও তেল পাওয়া যাবে- এটা নিশ্চিত না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনার কাছে ডলার থাকতে পারে। এর মানে এই না যে আপনি তেল পাবেন। এখনই জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে সবচেয়ে বেশি। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার বাড়াতে হবে। আপনি যতটুকু তেল পাবেন, ততটুকুই ব্যবহার করতে হবে। শিল্প, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্যান্য খাতে জ্বালানি তেলকে রেশনিংয়ে নিয়ে যেতে হবে। এতে রিজার্ভ বেঁচে যাবে।
রিজার্ভ যদি টালমাটাল হয়, তাহলে কেউ আপনার সঙ্গে বাণিজ্য করতে চাইবে না। যেটা কয়েক বছর আগেও হয়েছিল। এলসি খুলতে বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টার লেগেছিল। এটি বিশ্বের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে বলে মনে করেন তিনি।
অন্তত দুই মাসের জন্য সরকারকে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপে যাওয়া উচিত মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়রা রহমান বলেন, মিয়ানমার থেকেও আমরা তেল নিয়ে আসতে পারি। তাদের মজুদ সক্ষমতা অনেক বেশি। চীনের সহযোগিতা নিয়ে এখান থেকে সহজেই তেল আনতে পারি। এটি সরকার করতে পারে।
সরকার তেল ব্যবস্থাপনায় এখনো পিছিয়ে দাবি করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে কুয়েত যুদ্ধের কারণেও বিশ্ব জ্বালানি তেলের সংকটে পড়েছিল। তখন বাংলাদেশও এক ধরনের ব্যবস্থাপনায় গিয়েছিল। জনগণকে সাথে নিয়ে এই তেল ব্যবস্থাপনায় যেতে হবে। স্থানীয় পর্যটকদের চলাচলে সীমিত করতে হবে। নরওয়েতে তেলের মজুদ আছে অনেক। টেলিনরের মাধ্যমে সেখান থেকে তেল আনা যেতে পারে। টেলিনরের ব্যবসা তো বাংলাদেশেও আছে। তাদের সহযোগিতা করবে।
জ্বালানি তেলের ব্যবহারের আরেক উৎস হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয়। বাংলাদেশে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পুরোমাত্রায় সচল রাখা। এটি করতে পারলে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমে যাবে। তাতে বিদ্যুতের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে এই পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে সাময়িক সময়ের জন্য। আর স্থানীয়ভাবে গ্যাসক্ষেত্র থেকে আরো বেশি উত্তোলন করা বাড়াতে হবে সাময়িক সময়ের জন্য।
নতুন শর্ত দেবে আইএমএফ
এক মাস আগেও অন্তর্বর্তী সরকার আইএমএফের কঠিন শর্তের সবগুলো মানতে নারাজ হয়নি। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অর্থনীতি এখনো পুরোটা সুস্থ হয়নি। মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। এমন অবস্থায় কঠিন শর্তের সবগুলো মানা সম্ভব না। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে। খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে যাবে। টাকার মান আরো পড়ে গেলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। সরকারের এই কথায় ঋণ কিস্তির অর্থ ছাড় বন্ধ করে দেয় আইএমএফ।
তারপরও কিন্তু সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, আইএমএফের ঋণ ছাড়াই বাংলাদেশ চলতে পারবে। হয়েছেও তাই। দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ঋণ ছাড়াই বাড়তে থাকে রিজার্ভ। সেই রিজার্ভ এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
২০২৩ সালে আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে রপ্তানিসহ কয়েকটি খাতে প্রণোদনা কাটছাট করতে হয় বাংলাদেশকে। ২০২৪ সাল থেকে যার প্রভাব পড়তে শুরু করলে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে চরম আকার ধারণ করে। গত আট মাস ধরেই রপ্তানি নেতিবাচক চলে যায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতির ৮০ শতাংশই বেসরকারি খাত নির্ভর। আর রপ্তানির ৮৪ শতাংশই পোশাক খাতের। রপ্তানি নেতিবাচক হওয়ায় এখাতে বিনিয়োগও কমে যায়। তাতে বেকারত্ব বেড়ে গিয়ে সবাই হঠাৎ করেই ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নেমে পড়ে। এ কারণে ব্যাটারি রিকশার ব্যবহারও বেড়ে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ নিতে হলে নতুন শর্ত আসবে- এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বরে সংস্থাটি বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। সেখানে দুর্বল কর রাজস্ব, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বলা হয়। আমাদের অর্থনীতি এখনো সেই দুর্বলতা নিয়ে চলছে। গত কয়েক মাসে কোনো উন্নতি হয়নি।
এই তিন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নতুন কী কী শর্ত আসতে পারে, তার একটি ধারণা নেওয়া যেতে পারে। সব তো আলোচনার পরই বোঝা যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে, এটিতে আপত্তি জানাতে পারে সংস্থাটি। এছাড়া বিনিময় হার পুরোপুরি এখনো বাজারমুখী হয়নি। ডলারের দাম ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনে নেয়, সেটিও বন্ধ করার পরামর্শ আসতে পারে। সরকার খাদ্য সহায়তা দিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। এসব ভর্তুকি বন্ধ করে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরামর্শ আসতে পারে।
আর দ্রুত রাজস্ব আদায় বাড়াতে করহার বাড়িয়ে দিতে পারে সরকার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাতে সার্বিকভাবেই খরচ বেড়ে যাবে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। এখন সুযোগ এসেছে সেই হারানো সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না ইরান। এখন প্রয়োজনে বেশিসংখ্যক জাহাজ লিজ নিয়ে এই প্রণালী দিয়ে তেল সংগ্রহ করা। দেশেই তেল মজুদ করার সক্ষমতা ছয় মাসে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশেও রপ্তানি করার মতো সুযোগ চলে এসেছে। এজন্য প্রয়োজন সরকারের নীতি ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।