জেনারেল মাসুদ, মামুন খালেদ গ্রেফতার : এরপর কে?


২৬ মার্চ ২০২৬ ২১:১৯

স্টাফ রিপোর্টার : ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। পর্দার আড়ালে থেকে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে বড় ভূমিকায় ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সে সময় শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে কথিত দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়। গ্রেফতারের পর তারেক রহমানসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে মাসুদের বিরুদ্ধে। এক-এগারোর সময় আলোচিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নিয়েও নাম আসে তার। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে থাকলেও গত ২৩ মার্চ সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির এ সমন্বয়ক। রাজধানীর বারিধারার ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। আদালত তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
এদিকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর রিমান্ডের মধ্যেই সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে আয়নাঘরের হোতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আটকের খবর বের হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ২৫ মার্চ বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে মিন্টোরোডে ডিবি কার্যালয়ে আনে। আটক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২২ মে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, তার স্ত্রী নিগার সুলতানা খালেদ, কর কমিশনার আবু সাঈদ মো. মুস্তাক এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টি. এম. জোবায়েরের ভায়রাভাই খন্দকার আবুল কাইয়ুমের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব ওই আদেশ দেন।
শেখ হাসিনার আশীর্বাদে ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিষয়ে গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫টিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তাকে আপাতত পল্টন থানার একটি মানবপাচার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ডিবি বলছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা ও অর্থ কেলেঙ্কারি ও জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক ও সিআইডি এদিকে তার সব সম্পদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। ওই সময় দুদক তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল। ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শেখ মামুন খালেদকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, এক-এগারোর সময় তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শেখ মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আত্মগোপনে থাকা ওয়ান-ইলেভেনের নেপথ্যের কারিগরদের মধ্যে দুই প্রভাবশালী সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতারের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন এরপর কাকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যাবে?