ঈদুল ফিতর ঘিরে বেড়েছে নিত্যপণ্যের মূল্য
১৭ মার্চ ২০২৬ ১০:৩১
স্টাফ রিপোর্টার : ঈদ সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আগের চেয়ে বেড়েছে। গরিব মানুষের অতি দরকারি সবজি হিসেবে ব্যবহৃত গোল আলু ১০০ টাকায় ৬ কেজি পাওয়া যেত এক সপ্তাহ আগেও। কিন্তু ১৫ মার্চ ঢাকার বাজারে দাম বেড়ে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৫ কেজি। পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, এখন সেই পেঁয়াজের মূল্য ৩০ থেকে (মানভেদে) ৪০ টাকা। অন্য পণ্যের মধ্যে মাছের মূল্য আকাশছোঁয়া, ব্রয়লারসহ সব জাতের মুরগির মূল্য বেড়েছে। গরুর গোশত ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা কেজি। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জন্য ভালো কোনো খবর নেই। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
রাজধানীর বাজারগুলোর খবর নিয়ে দেখা যায়, বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগির দাম। এই জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ৩৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ টাকা। মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া দেশি টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি; আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করেই গত সপ্তাহ থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তলানিতে নেমেছে। বরাবরের মতো সরবরাহের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটতে ভুলছেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা। কোম্পানি, ডিলার কিংবা খুচরা বিক্রেতা সবাই সংকট দেখিয়ে লুটে নিচ্ছে জনগণের পকেটের টাকা। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় খবর নিয়ে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো দোকানে তেল পাওয়া গেলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।