শাহজাদপুরের রাউতারার জমিদার নেই, আছে স্মৃতিচিহ্ন
১২ মার্চ ২০২৬ ১১:০০
এম এ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের একসময়কার প্রতাপশালী জমিদার রুধেষ বাবু নেই, কিন্তু কালের সাক্ষী হয়ে আছে তার জমিদারির নানা স্মৃতিচিহ্ন। উপমহাদেশের শাসনামলে যে কয়েকজন জমিদার শাহজাদপুরের ইতিহাস দখল করে আছে, তার মধ্যে রুধেষ বাবু অন্যতম।
শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের বড়াল নদীর তীরে এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তৎকালীণ সময়ের অত্যাচারী জমিদার রুধেষ বাবু। প্রায় ১০ একর জায়গা নিয়ে তিনি এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটির অবস্থান বড়াল নদীর তীরে হওয়ায় অত্যাচারী জমিদার রুধেষ বাবুকে কুমিরের অত্যাচার সহ্য করতে হতো। একপর্যায়ে কুমিরের অত্যাচার এত বেশি হয় যে কুমিরের ভয়ে জমিদার বাড়ির চারপাশে ১০ ফুট উঁচু করে দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল। এখনো যে দেয়ালের চিহ্নের দেখা মেলে বাড়ির দক্ষিণ-পূর্বাংশে। সে সময়ে জমিদার রুধেষ বাবু বর্জ্র নৌকায় বড়াল নদী হয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।
বড়াল নদীর কোলঘেঁষে বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বে বড় বড় সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছিল, যা এখনো লক্ষ করা গেছে। জমিদার রুধেষ বাবু ছিলেন একজন অত্যাচারী জমিদার। তার সামনে প্রজা সাধারণ কথা বলতে হিম্মত পেত না। ঠুনকো অপরাধে প্রজাসাধারণদের নানারকম শাস্তি প্রদান করতো, যা এখনো এই এলাকার লোকমুখে প্রচারিত আছে। ১৯৫৭ সালের জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির মধ্য দিয়েই এই রুধেষ বাবুর জমিদারিরও সমাপ্তি ঘটে। আর তখনই জমিদার রুধেষ বাবু তার বংশধরদের নিয়ে বিলাসবহুল জমিদার বাড়ি ফেলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যান।
রাউতারা বড়াল নদীর তীরে এখানে এখনো একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট বাসভবনের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। যেখানে ২৫টিরও বেশি কক্ষ রয়েছে। এছাড়া রুধেষ বাবুর স্মৃতিবিজড়িত ভবনে রয়েছে জলসাঘর, কাচারিঘর, সুড়ঙ্গপথ ও নদীর তীরে গোসল করতে যাওয়ার জন্য একটি সুন্দর নকশার সিঁড়ি রয়েছে। প্রজাসাধারণের অত্যাচার-নির্যাতনের সাক্ষী হয়ে আজও জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলার কারণে রুধেষ বাবুর জমিদার বাড়িটির প্রায় প্রত্যেকটি স্থাপনাই এখন ধ্বংসের মুখে। সবগুলো স্থাপনাতেই এখন গাছগাছালি ও লতাপাতায় জরাজীর্ণ হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয়রা এ জমিদার বাড়িটিকে গরু-ছাগলের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করছে। এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের আওতায় এনে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা এখন সময়ে দাবি।