সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১২ মার্চ ২০২৬ ১০:২৭

মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মুফতি তাকি উসমানির
ইরানে সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার ও পাকিস্তানের বরেণ্য আলেম মুফতি তাকি উসমানি। তিনি বলেন, শিয়া-সুন্নি মতভেদ উসকে না দিয়ে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে মুসলমানদের একসঙ্গে দাঁড়ানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচি-তে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের অধিকাংশ মানুষ শিয়া মতের অনুসারী হলেও এই মুহূর্তে মতপার্থক্য সামনে আনা উচিত নয়। তার মতে, ‘কোন সময়ে কোন কথা বলা উচিত, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এখন কি সেই সময়, যখন শিয়া-সুন্নি বিরোধ উসকে দেওয়া হবে?’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা করেছে আকিদাগত মতভেদের কারণে নয়; বরং ইরানের নেতা মুসলিম বিশ্বের একজন প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ কারণে ইরানের জনগণ যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা বিবেচনায় তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুফতি তাকি উসমানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, বর্তমানে এমন এক ধরনের ‘বৈশ্বিক গুণ্ডামি’ শুরু হয়েছে যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো যখন ইচ্ছা তখন অন্য দেশের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন বা নৈতিকতার তোয়াক্কা করছে না। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এর ফলে মুসলিম বিশ্ব একটি ভয়াবহ ফিতনার মুখোমুখি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়েও বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দোয়া ও ঐক্য। মুসলমানরা যদি এক হয়ে যায়, তাহলে কোনো শক্তিই তাদের ক্ষতি করতে পারবে না।’ শেষে তিনি মুসলিম বিশ্বকে বেশি বেশি দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহর রহমতের মাধ্যমেই বর্তমান সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে। ডন।

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের অপারেশন ‘গজব লিল-হক’
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। আফগান তালেবানের উসকানিমূলক হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘গজব লিল-হক’ (অপারেশন রাইটাস ফিউরি) নামে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। অভিযানটির মূল লক্ষ্য সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আফগান সীমান্ত থেকে বিনা প্ররোচনায় গুলিবর্ষণের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই পাল্টা অভিযান শুরু করে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা হামলা এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’-এর কার্যক্রম বন্ধ করাই মূল উদ্দেশ্য। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপারেশন ‘গজব লিল-হক’ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগান তালিবানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮৩ জন আফগান তালিবান নিহত এবং ৭৯৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২৪২টি তালেবান চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের শাওয়াল সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ তালেবান পোস্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিস্ফোরক ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। এতে আফগান তালেবান ও ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ সদস্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, সেনাবাহিনী অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের এই শক্তিশালী অভিযান চালানোর পরে আফগান তালেবান আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ-কে জানিয়েছেন, তিনি সীমান্তে যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করতে এবং শান্তি স্থাপনে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। পাকিস্তানের কঠোর সামরিক অবস্থান সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং বন্ধু রাষ্ট্রদের মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর। দ্য ডন।

ভারতে সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় মুসলিম বৃদ্ধকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
ভারতের বিহার রাজ্যের দ্বারভাঙা জেলায় সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় ৬৫ বছর বয়সী এক মুসলিম বৃদ্ধকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১ মার্চ রোববার জেলার জামালপুর থানা এলাকার ঝগড়ুয়া গ্রামে। নিহত ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল সালাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝগড়ুয়া গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দা মনীশ কুমার রামের ইটের চুরি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। সেই সময় মনীশের মা বিমলা দেবী সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছিলেন বলে অভিযোগ। আব্দুল সালাম ঘটনাক্রমে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এই আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মনীশ কুমার রাম, তার ভাই রোশন কুমার রাম এবং তাদের মা বিমলা দেবী আব্দুল সালামের ওপর চড়াও হন। তারা তাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল সালাম ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কিরতপুর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দ্বারভাঙা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর ওই এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে দ্বারভাঙার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কৌশল কিশোর, সিনিয়র পুলিশ সুপার জগন্নাথ রেড্ডি, ডিআইজি মনোজ তিওয়ারি এবং বিরাউল এসডিপিও প্রভাকর তিওয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিরাউল এসডিপিও প্রভাকর তিওয়ারি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্ত মনীশ কুমার রামসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রামে শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডিআইজি মনোজ তিওয়ারি স্থানীয় বাসিন্দাদের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সিয়াসত ডেইলি।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করেছে। বিশেষ করে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম গত কয়েক দশকের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও বড় পতন ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচে ইতোমধ্যেই প্রভাব ফেলেছে। গত এক সপ্তাহে (১-৭ মার্চ) মার্কিন অপরিশোধিত তেলের বাজার ১৯৮৩ সালের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ভয়ে এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) একদিনেই মার্কিন তেলের দাম ১২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ ডলার ছাড়িয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত করে, যা যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। অর্থনীতি জার্নাল আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতির তীব্রতা এতটাই যে কুয়েত তাদের তেল খনিতে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, কারণ তাদের মজুদ তেলের জন্য পর্যাপ্ত স্থান নেই। অন্যদিকে কাতার এবং ইরাকও তাদের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন হ্রাস করেছে। জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসায় বাজারে হাহাকার তৈরি হয়েছে। সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে, যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র কয়েকদিনে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৩৫ সেন্ট বেড়ে ৩.৩২ ডলারে পৌঁছেছে। শেয়ারবাজারেও ধস লেগেছে। ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহের মুখোমুখি হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক সূচকও বড় পতনের শিকার হয়েছে। এই দরপতনের পেছনে শুধুই যুদ্ধ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দুর্বলতা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটিতে ৯২,০০০ মানুষের চাকরি হারানো অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ (উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব একসাথে) সৃষ্টি করছে। এনবিসি নিউজ।

চীন-রাশিয়া সম্পর্ক বহিরাগত চাপেও অটুট : ওয়াং ই
বাইরের চাপ থাকা সত্ত্বেও চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। গত ৮ মার্চ রোববার জাতীয় গণকংগ্রেসের ১৪তম অধিবেশনের চতুর্থ সেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ওয়াং ই বলেন, চীন-রাশিয়ার ‘নতুন যুগের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’ একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলভাবকে ধারণ করে এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশ কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখে, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থার উচ্চপর্যায় উপভোগ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোয় ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখে। ওয়াং ই আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ‘পিঠে-পিঠ মিলিয়ে কাজ করা’ নীতি। এই কৌশলগত দৃঢ়তাই চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে যেকোনো বাহ্যিক উসকানি বা চাপের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে সক্ষম করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৮০ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে অবদান রাখে। আট দশক পরেও দুটি দেশ বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিকাশে নতুন গতি সঞ্চারে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। তাস।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে কপাল পুড়ছে ইউক্রেনের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জেরে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তার দৌড়ে ইসরাইলের কাছে পিছিয়ে পড়ছে ইউক্রেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর মনোযোগ এখন কিয়েভ থেকে সরে তেল আবিবের দিকে নিবদ্ধ হওয়ায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে ইউক্রেনকে এখন বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত রদিওন মিরোশনিক এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো এখন ইউক্রেনকে সাফ জানিয়ে দিচ্ছে যে তাদের অগ্রাধিকার বদলে গেছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের সুরক্ষায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে জেলেনস্কি সরকারকে এখন তালিকার একেবারে শেষে গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে। মিরোশনিক আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় টিকে থাকতে ভলোদিমির জেলেনস্কি মরিয়া হয়ে আরব নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনমত এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু বদলে যাওয়ায় ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও এখন হিমাগারে চলে গেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্ত্র সরবরাহে এক বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আল-জাজিরা।

লেবাননে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরাইল : এইচআরডব্লিউ
দক্ষিণ লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গত ৯ মার্চ সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর শহরের আবাসিক এলাকায় এ ধরনের দাহ্য অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সংস্থাটির গবেষকরা অন্তত সাতটি ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছেন, যেখানে দেখা গেছে ইয়োহমোরের আকাশ থেকে সাদা ফসফরাস যুদ্ধাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে আবাসিক এলাকার ওপর ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে ইয়োহমোর শহরের অন্তত দুটি বাড়ি ও একটি গাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও নিশ্চিত করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। ইসরাইলি সেনাবাহিনী গ্রামটি খালি করার নির্দেশ দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। তবে সেই মুহূর্তে কোনো বেসামরিক লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস এ ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে বলেন, আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাসের প্রয়োগ বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। এই রাসায়নিক পদার্থ মানুষের শরীরকে হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলতে পারে ও এর ফলে অঙ্গহানি, শ্বাসকষ্ট; এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা প্রায়ই জীবন কষ্টদায়ক ক্ষত এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের মতো দাহ্য অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ, কারণ এটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। অতীতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, তারা কেবল ধোঁয়ার আড়াল তৈরির জন্য এই পদার্থ ব্যবহার করে, কোনো মানুষকে লক্ষ করে নয়। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আগেও একাধিকবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এই বিতর্কিত অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। আল-জাজিরা।

হোলির রং নিয়ে বিরোধের জেরে ভারতে মুসলিম বৃদ্ধকে গুলি করে হত্যা
ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে হোলির রং খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে আস মুহাম্মদ (৬০) নামে এক মুসলিম বৃদ্ধকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গাজিপুরের কারান্ডা থানার অন্তর্ভুক্ত ছাদিদপুর গ্রামে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সূত্রপাত প্রতিবেশী অরবিন্দ পাণ্ডে ওরফে টুইঙ্কেলের পরিবারের সাথে আস মুহাম্মদের সন্তানদের বাগবিতণ্ডা থেকে। জানা গেছে, হোলির দিন অরবিন্দ পাণ্ডের ছেলে এবং আস মুহাম্মদের সন্তানদের মধ্যে রং খেলা নিয়ে বচসা ও হাতাহাতি হয়। দুপক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং সেই সময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। পরিবারের দাবি, আস মুহাম্মদ ঘটনার সময় নিজেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনার পরের দিন তার ছেলে ও নাতিরা শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে পাণ্ডের বাড়িতে গিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু রবিবার আস মুহাম্মদ ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই পাণ্ডে তার লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাকে গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। নিহতের পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ মেহরাজ অভিযোগ করেছেন, ঘটনার দিন থেকেই পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। তিনি বলেন, ‘হোলির দিন টুইঙ্কেল, হনুমান ও গোল্ডেনরা আমাদের মারধর করে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। আমরা পুলিশের কাছে গেলেও তারা আমাদের কথা শোনেনি। বরং পুলিশের একাংশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাদের উল্টো হয়রানি করেছে। আস মুহাম্মদের ছেলেদের পরিবর্তে তাকেই থানায় আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।’ পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় গ্রাম প্রধানের ইন্ধনেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আস মুহাম্মদের নাতি শহীদ বলেছেন, ‘হোলির দিন ওরা তাকে মারধর করতে এসেছিল এবং আমরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পরের দিনই তাকে হত্যা করা হয়।’ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গ্রামে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রাম প্রধানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি করা হবে না এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সিয়াসত ডেইলি।

৭৭ কোটি ডলারে বিক্রি হলো ডেইলি টেলিগ্রাফ
৭৭ কোটি ডলারের বিনিময়ে ব্রিটেনের প্রভাবশালী ডেইলি টেলিগ্রাফ কিনে নিচ্ছে জার্মান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার। এরই মধ্যে এই চুক্তি করেছে দুই পক্ষ। এর মাধ্যমে ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী এই সংবাদমাধ্যমটি তাদের মিডিয়া সম্পদের তালিকায় যুক্ত হলো। বিতর্কিত বিক্রয় প্রক্রিয়ায় এই চুক্তি একটি অপ্রত্যাশিত মোড় এনে দেয়। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রস্তাবকে ছাড়িয়ে যায়। সেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবটি দিয়েছিল ডেইলি মেইল অ্যান্ড জেনারেল ট্রাস্ট। তারা ব্রিটেনের ডেইলি মেইল পত্রিকা এবং জনপ্রিয় মেইল অনলাইন সংবাদসাইটের মালিক। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটেনের গণমাধ্যমে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে চেয়েছে। এর আগে তারা ২০০৪ সালে টেলিগ্রাফের জন্য বিড করে। এছাড়া ২০১৫ সালে ফিন্যানশিয়াল টাইমস যখন জাপানের নিক্কেই-এর কাছে বিক্রি হয়, তখনো তারা রানার-আপ ছিল বিডে। ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের মধ্যে টেলিগ্রাফ খুবই জনপ্রিয় এবং পত্রিকাটি সাধারণত তুলনামূলক সচ্ছল পাঠকদের জন্য। এটি রুপার্ট মারডকের নিউজ কর্প-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। নিউজ কর্প টাইমস অব লন্ডন প্রকাশ করে এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মালিক। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাথিয়াস ডফনার বলেন, আমরা টেলিগ্রাফকে আরও বড় করতে চাই। তবে এর স্বতন্ত্র চরিত্র ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন থাকবে। যাতে এটি ইংরেজিভাষী বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পঠিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী মধ্য-ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়। ব্রিটেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ গ্রুপ আইএমআই-এর যৌথ উদ্যোগ রেডবার্ড আইএমআই ২০২৪ সাল থেকে টেলিগ্রাফের তত্ত্বাবধায়ক মালিক ছিল। কিন্তু আইএমআই রাষ্ট্রসমর্থিত হওয়ায় ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তাদের দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ডিএমজিটির একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা টেলিগ্রাফ অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধানে এই প্রতিষ্ঠানটি ভালোভাবেই এগিয়ে যেত। গত নভেম্বর মাসে রেডবার্ড আইএমআই ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডে, অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলারে, পত্রিকাটি ডেইলি মেইল অ্যান্ড জেনারেল ট্রাস্টের কাছে বিক্রি করার চুক্তি করে। তবে সেই চুক্তি সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এরপর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার প্রক্রিয়ায় ঢুকে ৫৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি প্রস্তাব দেয়। পলিটিকো এবং বিজনেস ইনসাইডারের মালিক অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার বলেছে, তারা ডেইলি টেলিগ্রাফের যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি ‘টার্বোচার্জ’ করবে এবং একে ইংরেজিভাষী বিশ্বের শীর্ষ মধ্য-ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ডফনার ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত, এর মধ্যে ইসরাইল-সমর্থক মতামতও রয়েছে। তবে টেলিগ্রাফ সেই ধরনের নতুন ডিজিটাল মিডিয়া সম্পদ নয়, যেগুলো কিনতে তিনি আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছিলেন তিনি আগ্রহী। ডপফনারের ব্যবসায়িক উচ্চাকাক্সক্ষার মধ্যে রয়েছে আগামী পাঁচ বছরে তার কোম্পানির ৪ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন দ্বিগুণ করা। এর একটি অংশ আসবে ইসরাইলি এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশেষ করে বিজ্ঞাপন, গল্প বলার কৌশল এবং সাবস্ক্রিপশন সেবার মতো খাতে। জার্নাল আগে এমনটাই জানিয়েছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ভারতে গো-রক্ষকদের হামলায় প্রাণ হারালেন আরো এক মুসলিম তরুণ
ভারতে আবারো সাম্প্রদায়িকতার শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন এক মুসলিম তরুণ। দেশটির কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের কয়েকজন সদস্য তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (৯ মার্চ) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই তরুণের নাম মো. আমির (২৮)। হরিয়ানার পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা ওই তরুণকে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি এলাকায় গরু পাচারের অভিযোগে হত্যা করা হয়। এ প্রসঙ্গে মো. আমিরের চাচা জুবাইর বলেন, ‘সে নিজের পিকআপ নিয়ে কাজে গিয়েছিল। বজরং দল ও গোরক্ষার নামে কয়েকজন সন্ত্রাসী তাদের গাড়ি দিয়ে তার পিকআপে ধাক্কা মারে। গাড়ি থামতেই কোনো কথা না বলেই তার মাথায় গুলি তাকে হত্যা করা হয়।’ গত ২ মার্চ রাতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানান জুবাইর। জুবাইর আরো বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা আরেকজন ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। হামলাকারীরা এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। জুবাইর দাবি করেন, আমির একজন পিকআপচালক। গরু পাচারের সাথে তার কোনো সম্পর্কই ছিল না। জুবাইর মনে করেন, আমিরকে শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই হত্যা করা হয়েছে এবং গরু পাচারের অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় মুসলিমদের প্রায়ই এ ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তিনি আরো বলেন, ‘বজরং দল বিনা কারণে মানুষকে হয়রানি করে। প্রশাসন তাদের কথাই শোনে, সরকারও তাই করে। আমাদের কাছে তো শুধু জীবনটাই আছে, তারা চাইলে সেটাও কেড়ে নিতে পারে।’ তবে পুলিশ বলছে, আমিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন এবং ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। উল্লেখ্য, এ এলাকায় গো-রক্ষার নামে সহিংসতার তালিকা দীর্ঘ। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বেছে বেছে সাধারণ মুসলিমদের হত্যা করে চলেছে দিনের পর দিন। সেই নিহত মুসলিমদের তালিকায় যোগ হলো মো. আমিরের নাম। ২০১৭ সালে এই জেলাতেই দুধ-বিক্রেতা পেহলু খানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালে একই এলাকায় গবাদি পশু পরিবহনের সময় রকবর খানকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হরিয়ানার নুহের বাসিন্দা জুনাইদ ও নাসিরের দেহ রাজস্থানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয়। সিয়াসত ডেইলি।

টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে শত শত মানুষের ইফতার
পবিত্র রমজান উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত টটেনহাম হটস্পার স্টেডিয়ামে শত শত মানুষ একত্র হয়ে ইফতার করেছেন। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ গণইফতারে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ অংশ নেন। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে সবাই একসঙ্গে রোজা ভেঙে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বার্তা দেন। আয়োজকরা জানান, এমন আয়োজনের মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য আরও জোরদার হয়। অনুষ্ঠানে মুসলিমদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও অংশ নেন। মেট্রো।

‘বিডে-গেট’ বিতর্কে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার তখন এক মাসও পূর্ণ করেননি। কিন্তু তারই মধ্যে তাকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এক বিতর্ক যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিডে-গেট’। বিষয়টি শুরু হয় কয়েক সপ্তাহ আগে এক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে এক সাংবাদিক জানতে চান, মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে তিনি কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান। জবাবে মামদানি হালকা হাসির সঙ্গে বলেন, সেখানে কয়েকটি বিডে বসানো হবে। এই একটি মন্তব্যই দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে। বিশেষ করে ডানপন্থী গণমাধ্যম ফক্স নিউজ বিষয়টিকে বড় করে তুলে ধরে। তাদের দাবি, বিডে বসানো ধনী মানুষের বিলাসিতা এবং একজন ‘সমাজতান্ত্রিক’ মেয়রের কাছ থেকে এমন সিদ্ধান্ত ভণ্ডামি। ফক্স নিউজ এমনকি এক ‘অজ্ঞাতনামা কিন্তু প্রভাবশালী’ নিউইয়র্ক ডেমোক্র্যাটের বক্তব্যও উদ্ধৃত করে, যেখানে বলা হয় ‘মেয়র হওয়ার পর মাত্র কয়েক মিনিট হয়েছে, আর এখনই এই সমাজতান্ত্রিক নেতা এত টাকা খরচ করতে চাইছেন যে বিডে কিনছেন।’ তবে মামদানি ও তার সমর্থকদের মতে, পুরো বিতর্কটি আসলে ভুল ধারণা ও অতিরঞ্জনের ফল। বিডে হলো টয়লেট ব্যবহারের পর পানির মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার একটি ব্যবস্থা। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে এটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত। মামদানি যে ধরনের বিডে বসানোর কথা বলেছেন, সেটি বিলাসবহুল কোনো যন্ত্র নয়। এটি একটি সাধারণ হ্যান্ড বিডে- টয়লেটের পাশে লাগানো ছোট পানির স্প্রে। অনলাইনে যার দাম প্রায় ২৫ ডলার। মামদানি বলেন, ‘এটা আসলে ২৫ ডলারের একটি ছোট পানির স্প্রে, যেটা টয়লেটের পাশে লাগানো থাকে। আমার বাড়িতেও কয়েকটা আছে, এবং অনেক ব্রাউন কমিউনিটির বাড়িতেও এখন এগুলো দেখা যায়।’ তার মতে, ফক্স নিউজ বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছে যেন তিনি কয়েক হাজার ডলারের বিলাসবহুল জাপানি টোটো টয়লেট কিনছেন।
সমালোচকরা বিষয়টিকে ডেমোক্র্যাটদের দ্বৈতনীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। কারণ অতীতে তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছিলেন। তবে মামদানি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পিত হোয়াইট হাউস বলরুম নির্মাণে যেখানে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, সেখানে ২৫ ডলারের একটি বাথরুম স্প্রে নিয়ে এত বিতর্ক কেন? তার মতে, এটি আসলে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরির একটি কৌশল। বিডে ব্যবহারের পক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত যুক্তিও তুলে ধরেছেন মামদানি। তার মতে, টয়লেট পেপার বা ভেজা ওয়াইপের চেয়ে পানি ব্যবহার করা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। নিউইয়র্ক সিটির পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগও বলেছে, বেশি বিডে ব্যবহার হলে ওয়েট ওয়াইপের ব্যবহার কমতে পারে। আর ওয়েট ওয়াইপ শহরের ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। মামদানির দাবি, এই বিতর্কের মাধ্যমে তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো আড়াল করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চাইল্ডকেয়ার কর্মসূচির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা ভবিষ্যতে পুরো শহরে সার্বজনীন শিশু যত্নব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ। এছাড়া তরুণদের জন্য নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু, উইলিয়ামসবার্গ ব্রিজের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা মেরামত এবং নিউইয়র্কের সাবওয়ে ও সড়কে পাবলিক বাথরুমের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। তবে এসব উদ্যোগের বদলে একটি ছোট বাথরুম যন্ত্র নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। মামদানির ভাষায়, ‘২৫ ডলারের একটি হোস নিয়ে এত হইচই এটাই প্রমাণ করে আমাদের মিডিয়ার একটি অংশ এখন কতটা হাস্যকর হয়ে উঠেছে।’ যে কারণে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে ‘বিডে-গেট’ এখন শুধু একটি বাথরুম যন্ত্রের গল্প নয় বরং এটি হয়ে উঠেছে মিডিয়া, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের একটি অদ্ভুত প্রতীক। এপি।

বিহারে রোজাদার মুসলিম নারীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা
ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও শেষ পর্যন্ত চরম নির্মমতার শিকার হতে হলো অসহায় এক মুসলিম নারীকে। রমজানের পবিত্রতা আর বিশ্বাসের আশ্রয়ে থাকা রওশন খাতুন জানতেন না, যে গ্রাম প্রধানের কাছে তিনি শান্তি ও সুরক্ষার আশা নিয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই জায়গা থেকেই তাকে ফিরতে হবে অমানবিক মৃত্যুর কোলে। একবিন্দু পানি চাওয়ার বদলে তাকে পান করানো হলো চরম অবমাননা। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই ভাঙেনি, বরং ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিকেই আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহারের মধুবনী জেলার ঘোগারডিহা ব্লকের আমহি গ্রামে। ভুক্তভোগী রওশন খাতুন ১ মার্চ মারা গেছেন। স্থানীয় গ্রাম প্রধানের সাথে একটি বিরোধ মেটাতে গিয়ে তিনি এক উন্মত্ত জনতার হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার পর ভুক্তভোগী রওশন খাতুনকে পটনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। গ্রামবাসীদের দেওয়া তথ্য মতে, রওশন খাতুন স্থানীয় গ্রাম প্রধান কুমারী দেবীর কাছে গিয়েছিলেন, আশা করেছিলেন যে তার স্বামীর সাথে জড়িত একটি স্থানীয় সমস্যা তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু সাহায্য পাওয়ার পরিবর্তে, গ্রাম প্রধানের ছেলে মনু সিং এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নেতৃত্বে একটি দল তার ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আক্রমণকারীরা রওশন খাতুনকে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। রওশন খাতুন তাদের থামার অনুরোধ করলেও তারা হামলা চালিয়ে যায় এবং তাকে অপমান করা হয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘তিনি ন্যায়বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ শোনার বদলে কয়েকজন তাকে মারধর শুরু করে। পুরো গ্রামবাসীর কাছেই এটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।’ অন্য একজন বাসিন্দা ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিচলিত করার মতো বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ দেখছিল কী ঘটছে, কিন্তু মারধর চললই। তিনি অসহায় ছিলেন এবং বারবার তাদের থামার অনুরোধ করছিলেন।’ রোজা রাখা ভুক্তভোগীকে জোর করে মদ ও প্রস্রাব মিশ্রিত পানীয় খাওয়ানো হয়। স্থানীয় ডিজিটাল প্রকাশনা ‘মিথিলা সমাচার’ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, হামলার সময় রওশন খাতুন রমজানের রোজা পালন করছিলেন। তিনি পানি চাইলে তাকে জোর করে মদ ও প্রস্রাব মেশানো এক মিশ্রণ পান করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তবে, পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই অভিযোগগুলো এখনো পুরোপুরি যাচাই করা বাকি। তদন্তকারী দলের একজন পুলিশ অফিসার বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীর রোজা রাখা এবং পানি চাওয়ার বিষয়ে কিছু প্রতিবেদন দেখেছি। এই পর্যায়ে আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। তদন্ত চলছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ রওশন খাতুনের স্বামী দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন। মনসুরি সম্প্রদায়ের রাজ্য সভাপতি অজয় মনসুরি অঙ্গীকার করেছেন যে, তার সম্প্রদায় প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করবে। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করব যে আমরা নিহত নারীর ন্যায়বিচারের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ব এবং আমরা চাই দোষীদের ফাঁসি দেওয়া হোক।’ এলাকার একজন প্রবীণ ব্যক্তি শোক প্রকাশ করে বলেন, “রওশন খাতুন একজন গরিব মহিলা ছিলেন, যিনি সাহায্যের আবেদন করতে গিয়েছিলেন। তার মৃত্যু সবাইকে গভীরভাবে আঘাত দিয়েছে। আমরা তার জন্য ন্যায়বিচার চাই এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, এটাই আমাদের চাওয়া।” সিয়াসত ডেইলি।

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ১২
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১২ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন; সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খারকিভ শহরে। রাশিয়া গত ৬ মার্চ শুক্রবার থেকে ৭ মার্চ শনিবার পর্যন্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ওই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১২ জন নিহত এবং শিশুসহ এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৮০টি ড্রোন ইউক্রেনের জ্বালানি খাত ও রেলওয়ে অবকাঠামো লক্ষ করে রাতভর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় আবাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচ তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস এবং ১০ জন নিহত হয়েছে। এএফপির সাংবাদিকরা বলেন, তারা উদ্ধারকারীদের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখেছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘গত রাত থেকে রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে খারকিভে একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়া একটি বেসামরিক নাগরিকদের উঁচু আবাসিক ভবনে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার হামলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং নয় বছর বয়সী এক কিশোরসহ কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া এখনো আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি মিত্রদেশগুলোর কাছে দ্রুত ও আরো বেশি সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ফোনে কথোপকথনের সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে হামলার পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন বলে জানান। ফোনালাপে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইইউর ৯০ বিলিয়ন ইউরোর (১০৫ বিলিয়ন ডলার) সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। হাঙ্গেরি কর্তৃক এই সহায়তা বর্তমানে আটকে আছে। জেলেনস্কি জানান, এই অর্থ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। রাশিয়া বলেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে। তবে মস্কো সাধারণত বেসামরিক এলাকা বা অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা বলে দাবি করেছে। এএফপি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান