মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : দেশে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা


১২ মার্চ ২০২৬ ১০:১৯

সংকটের চেয়ে শঙ্কাই বেশি
বাংলাদেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে বাধা দেবে না ইরান

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানের ওপর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোয়ও। ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি আসার একমাত্র নৌরুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিতকরণ করা হয়েছে। অনেকেই হামলার ভয়ে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। অবশ্য ইরান স্পষ্ট করেই বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সব দেশের জাহাজ নিরাপদ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজের ঠিকানা হবে সাগরের তলদেশে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে সংকটে থাকা জ্বালানি খাতে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে পর্যাপ্ত মজুদ আছে বারবার এমনটা জানানোর পরই মানুষ অজানা শঙ্কায় ফিলিং স্টেশনগুলোয় অযথা ভিড় করছেন। প্রয়োজনের চাইতে বেশি জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কারো কারো বিরুদ্ধে সংরক্ষণ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্নভাবে জ্বালানি মজুদ করে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অভিযানে ইতোমধ্যে বেশকিছু অবৈধ মজুদ ধরাও পড়েছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ আছে, যুদ্ধ চলতে থাকলে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা হবে, কোনো সংকট হবে না, আপাতত মূল্যও বাড়বে না।
গত ৯ মার্চ সোমবার ঢাকার মালিবাগ শান্তিবাগ এলাকায় একটি পেট্রল পাম্পের সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল বা অকটেন নেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেলের লাইন হবে প্রায় আধাকিলোমিটার। রাত ১১টার দিকে পাম্পের কর্মীরা জানিয়েছেন, ইফতারির পর এই লাইন শুরু হয়েছে, কখন শেষ হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। একই রাতে নিজের ফেজবুক পেজে এক সাংবাদিক পোস্ট দিয়েছেন, আল্লাহর নামে লাইনে দাঁড়িয়েছি। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কখন তেল পাওয়া যাবে, তার কোনো নিশ্চিয়তা নেই। ৬ মার্চ বিকেলে ঢাকার মাতুয়াইল ‘রাজধানী ফিলিং স্টেশন’-এ অকটেন ও পেট্রল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। জ্বালানি তেল নিতে আসা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তাদের কেউ কেউ আধাঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার কথা জানান। ঢাকার প্রায় সব ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র একই।
যুদ্ধ চলমান থাকলে শেষ পর্যন্ত তেল পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হওয়ায় শঙ্কার কারণেই মানুষ জ্বালানি তেল বা গ্যাস নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর ‘আনুদিপ মটরস লিমিটেড’ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান তপনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, তারা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি এবং Compressed Natural Gas বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) বিক্রি করেন। তার ভাষ্য হচ্ছে, এলপিজি বা সিএনজির কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, কিন্তু মানুষ শঙ্কা থেকেই চাপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ক্রেতাদের প্রচুর চাপ রয়েছে, কিন্তু সরবরাহে কোনো সংকট নেই তাদের এই স্টেশনে।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ সংলগ্ন অতিথি ফিলিং স্টেশনের চেয়ারম্যান ‘তাবাচ্ছুম জাবিন’-এর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, পেট্রোবাংলার অধীনস্থ কোম্পানি ‘পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড’-এর কাছ থেকে সরাসরি লাইন নিয়ে তারা সিএনজি বিক্রি করেন। নিজেদের খরচে আনা এই লাইনে সিএনজির কোনো সংকট নেই। তবে ডিজেল ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং অকটেন ও পেট্রল ৫ মার্চ থেকে নেই। তারা চাহিদা দিয়েছে, এখনো পাননি। তাবাচ্ছুম জাবিন জানান, তাদের মূল ব্যবসাই হচ্ছে সিএনজি, সেটাতে কোনো সংকট নেই।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, ৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে ১৩ থেকে ৭১ দিনের। বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। আগামী মাস পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী আমদানি নিশ্চিত হয়েছে। ৯ মার্চও জ্বালানিসহ একাধিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মাসে যে ১৪টি কার্গো আসার কথা তার বেশিরভাগই চলে এসেছে। আর কয়েকটা পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে। এরপরও সংকট দেখা দিলে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌরুট হরমুজ প্রণালীর ব্যবহারে চীনা জাহাজ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকায় সেখানেও কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান বিপিসির কর্মকর্তারা। সরকারি তথ্যানুয়ায়ী, আগামী মাস পর্যন্ত ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভারত, ব্রুনাইসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে এই ডিজেল আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিপিসির ৮ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুয়ায়ী সর্বশেষ তথ্যমতে, ডিজেলের মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ১৩ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। অকটেনের মজুদ রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ২৫ দিন সরবরাহ দেওয়া যাবে। পেট্রলের মজুদ রয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ১৭ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ৪৫ দিন সরবরাহ চালানো যাবে। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ৪২ দিন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। কেরোসিনের মজুদ রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ৭১ দিন চাহিদা পূরণ করা যাবে। অন্যদিকে মেরিন ফুয়েলের মজুদ রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ১৯ দিন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব বলে বিপিসির তথ্য বলছে। বিপিসি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন ডিপো ও সংরক্ষণাগারে থাকা মজুদ এবং দৈনিক গড় বিক্রির হিসাব অনুযায়ী এসব জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সরবরাহ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বাংলা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উপব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ার গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, জ¦ালানি নিয়ে কোনো সংকট নেই। এক ধরনের প্যানিক (অস্বাভাবিক অস্থিরতা) কাজ করছে মানুষের মধ্যে। দেশের পর্যন্ত জ্বালানি রয়েছে, কোনো সংকট নেই।
দেশে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) অকটেন বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। সে হিসাবে দিনে অকটেনের চাহিদা গড়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। যদিও ‘আতঙ্কের কেনাকাটা’ বা প্যানিক বায়িংয়ের কারণে দৈনিক চাহিদা ২ হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে (১ থেকে ৪ মার্চের হিসাব)। জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, এই বাড়তি চাহিদার যৌক্তিকতা নেই। এত বেশি হারে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলে মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। লাভবান হবে মজুদকারীরা। এ কারণে তারা ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেল সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার (রেশনিং) সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর এই সময়ে যে ফিলিং স্টেশন যতটা তেল নিয়েছে, এবার তার চেয়ে ২৫ শতাংশ কম পাবে।
এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান মনে করেন, নতুন করে সংকট বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। জ্বালানির এই শঙ্কার মধ্যে অনেকেই অবৈধভাবে তেল মজুদ করে রেখেছেন। অভিযানে বেশ কয়েক স্থানে মজুদ পাওয়া গেছে। অনেকে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ডক্টর এম শামসুল আলম মনে করেন, একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই এলপিজি খাত নিজেদের দখলে রাখতে চায়। মাত্র কয়েকটি কোম্পানি এই খাত দখলে নিতে চায়। পুরো বাজার তারা দখল করে নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বর্গিদের মতো এলপিজি দখলে রাখতে সংকট তৈরি করে। আর জনগণ অসহায় হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রকে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নতুন ব্যবসায়ী তৈরি করতে হবে। যাতে এককভাবে দু’চারজন মাফিয়া হয়ে উঠতে না পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ নির্ভর করে ওই অঞ্চলের ওপর। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ক্ষেত্রে কাতার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। এই এলএনজি পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী হয়ে বাংলাদেশে আসে। একইভাবে বাংলাদেশ যে ক্রুড অয়েল আমদানি করে তার বড় অংশ আসে সৌদি আরামকোর মাধ্যমে, যা একই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক নেই। ফলে জ্বালানি সরবরাহে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমাদের অনেক জ্বালানিবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে পথে ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলে সেগুলো স্বাভাবিকভাবে দেশে পৌঁছাত এবং সরবরাহ প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকত। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশই জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক বাজারে সেই ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এদিকে অস্থিরতা তৈরির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে জ্বালানি সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে আশার খবর হচ্ছে- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের অনুরোধে ইরান জানায়, বাংলাদেশের জন্য তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌপথ হরমুজ প্রণালী ঝুঁকির মুখে পড়ায় বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এর জবাবে ইরান জানায়, বাংলাদেশের জ্বালানির্বাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের আগে তাদের অবহিত করা হলে সেগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।