বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমানের শাহাদাত বরণ
১২ মার্চ ২০২৬ ১০:০০
সোনার বাংলা ডেস্ক : গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং তার আপন ভাই জবীননগরের বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মফিজুর রহমান গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঢাকাস্থ কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার বিকাল ৩:১৫ মিনিটে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ মফিজুর রহমানের জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। এছাড়া জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর এডভোকেট রুহুল আমিন ও ঢাকা-৪ আসনের এমপি মো. জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মফিজুর রহমানের হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ১০ মার্চ এক বিবৃতি দিয়েছেন। প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে হত্যা করে এবং তার আপন ভাই জবীননগরের বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমানকে গুরুতরভাবে আহত করে। দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিএনপি সন্ত্রাসীদের এই পৈশাচিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের পর বিএনপি সন্ত্রাসীদের এমন নারকীয় ও কাপুরুষোচিত বর্বর হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই নৃশংস হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বিএনপির সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আমরা সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারকে অবশ্যই দেশে আইনের শাসন এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তবে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়ে হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হবে এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। তখন উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে। আমরা নিহত মফিজুর রহমানের রূহের মাগফিরাত ও তাঁর শাহাদাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।