‘ইসলামী রাজনীতি’ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পরাভূত হচ্ছে


২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪

॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
প্রায় শতাব্দীকালজুড়ে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ উপমহাদেশে ইসলামী রাজনীতির প্রতি একটি নেতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছিল। কিন্তু সময়ের প্রবাহে; বিশেষত বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এ সময়ের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থন বাড়ছে। একদিকে কওমি-দেওবন্দী ঘরানার আলেমদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে। এর সঙ্গে পীর-খানকাকেন্দ্রিক ধারাও যুক্ত হচ্ছে। অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের লোকজনও জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে ইসলামী রাজনীতির প্রতি যে নেতিবাচক মনোভাব বিরাজমান ছিল, সেটি দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে আসছে এবং সেগুলো পরাভূত হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।
ইসলামে ‘রাজনীতি’ থাকা না থাকা নিয়ে বহুকাল যাবত বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ছিল। যদিও এর প্রধান কুশীলব ছিল বাম ও ধর্মনিরপেক্ষবাদী মহল। তবে বিস্ময়করভাবে ‘ইসলামপন্থি’ মহলের একটি অংশও এতে সায় দিয়ে আসছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ‘ইসলামে রাজনীতি’ থাকা না থাকা নিয়ে খুব জোরালো বিতর্ক হতে দেখা যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর এ নিয়ে বক্তব্য জোরালো হয়ে ওঠে এবং একে স্রেফ ‘পাকিস্তানপন্থা’ বলে চিহ্নিত করার মাধ্যমে এর প্রতি ঘৃণা উৎপাদন করার প্রবণতা জোরদার হতে থাকে। মোটাদাগে এই দুটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল যে, ‘ইসলামে কোনো রাজনীতি নেই’ এবং ‘ইসলামপন্থি রাজনীতি’ মানেই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি। ইসলামী রাজনীতির বিরোধিতা করে কুলিয়ে উঠতে না পেরে চিহ্নিত মহলটি লক্ষ্যবস্তু বানালো একটি বহুল পরিচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত ইসলামী দলকে। ক্ষুদ্রাকারে হলেও আজো এ বিরোধিতার ধারা অব্যাহত রয়েছে। মহলটি ইসলামী আন্দোলনকে বরাবরই ধর্ম ব্যবসায় বলে ঘৃণা উৎপাদনের চেষ্টা করে এসেছে। অথচ মাজার পূজারি ও বিকৃত কালচারের লোকদের বিরুদ্ধে একটি বাক্য উচ্চারণ করতেও দেখা যায় না এদেরকে।
কওমি-দেওবন্দী ঘরানার অবস্থান
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে রাজনীতিতে সক্রিয় দলগুলোর মধ্যে অগ্রবর্তী ছিল জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুটি গ্রুপ, খেলাফতে রব্বানী পার্টি প্রভৃতি। এর মধ্যে জামায়াত ছিল বৃহত্তর দল। সে সময় ইসলামপন্থি দল ও নেতৃবর্গের রাজনৈতিক সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যায় আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে মিস ফাতেমা জিন্নাহর প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের প্রাক্কালে। নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষ নিয়ে এসব আলেমদের অভিমত প্রচার ছিল আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। সেসময় অভিমত প্রকাশ করে বক্তব্য দেন মাওলানা আশরাফ আলী থানভী, মাওলানা সৈয়দ সোলায়মান নদভী, মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ শফী, মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী, মাওলানা আতাহার আলী, মাওলানা শামছুল হক (ফরিদপুরী), মাওলানা নূর মোহাম্মদ আযমী, মাওলানা তাজুল ইসলাম, শর্ষিনার পীর শাহ মাওলানা মোহাম্মদ ছিদ্দিক, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম প্রমুখ।
পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নেতিবাচকতা আবারো জোরদার হয়। আর এতে জ¦ালানি সরবরাহ করে বামপন্থি ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা। তবে বাংলাদেশের কওমি ঘরানার প্রভাবশালী আলেমগণ এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে অবতীর্ণ হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন পর্যায়ের জাতীয় নির্বাচনসমূহে এরা অংশগ্রহণ করতে শুরু করলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রচারণা চালাতে গিয়ে ইসলামপন্থি রাজনীতি মাঠপর্যায়ে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। ১৯৮০-এর দশকের শেষ এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে নতুন কয়েকটি ইসলামী দলের অভ্যুদয় ঘটে, যে দলগুলো বাংলাদেশের পরবর্তী ইসলামী রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রার্থী ছিলেন ৩৯ জন। এর মধ্যে ১ কোটি ৪২ লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিএনপি প্রার্থী বিচারপতি আবদুস সাত্তার। দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. কামাল হোসেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৬ লাখ ৬৩ হাজার। তৃতীয় হন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ (হাফেজ্জী হুজুর)। তিনি পান ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪১ ভোট। বিচ্ছিন্নভাবে প্রার্থী হন আইডিএলের মাওলানা আবদুর রহীম। এ নির্বাচনে হাফেজ্জী হুজুর ব্যতীত মূল ধারার ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দেয়নি। বরং মূলগতভাবে তারা বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সমর্থন প্রদান করে। এ নির্বাচনে হাফেজ্জী হুজুরের নির্বাচনে অবতীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে কওমি ঘরানার ‘রাজনীতিবিরোধী’ কট্টর মনোভাব ও অবস্থানে ভাঙন ধরে।
১৯৮৭ সালে চরমোনাই পীর মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম বাংলাদেশে একটি পূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন’ গঠন করেন। পরবর্তীকালে দলটি ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮৯ সালে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বে খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠা লাভ করে। একই বছরে আটরশী পীর মাওলানা হাসমতুল্লাহ ফরিদপুরী জাকের পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯০ সালে বেরলভী ধারার আলেমগণ সুফি তরীকাভিত্তিক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট গঠন করেন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে কওমি মাদরাসাভিত্তিক উলামা ও ইসলামী দলগুলো ইসলামী ঐক্যজোট গঠন করে। শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, চরমোনাই পীর মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান প্রমুখ এই জোট গঠন করেন। ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদরাসায় শিক্ষিত উলামা দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। বাস্তবে হাফেজী হুজুরের ঘোষিত তওবার রাজনীতির পথ ধরে বাংলাদেশের কওমি ধারার ঐতিহ্যবাদী ওলামা ক্রমশ সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে থাকেন। এভাবে দেখা যায়, কী কওমি ধারা আর কী আলীয়া- প্রায় সকল ধারার শীর্ষ আলেমগণ রাজনীতির ময়দান গরম করতে থাকেন। ফলে ইসলামী রাজনীতির বিরুদ্ধে থাকা শক্তি আর হালে পানি পায়নি। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ইসলামপন্থিদের ওপর প্রবল জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে তাদের কোণঠাসা করতে চেষ্টা করে। এ সরকারের পতনে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো মাঠপর্যায়ে কমবেশি ভূমিকা রাখে। যার ফলাফল দাঁড়ায় হাসিনা সরকারের পতন। অতঃপর এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়, তাতে কওমি ধারার অনেকেই অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে ইসলামী রাজনীতি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃত হয়ে যায় এবং বিরোধিতার জায়গাগুলো একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়ে। দেশের শীর্ষ ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঐতিহ্যগতভাবেই ইসলামপন্থি দলগুলোকে নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরকম একটি জোট গড়ে উঠেছিল এবং এতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ইতিবাচক অর্জন ঘটে। পরবর্তীকালেও এ ধরনের উদ্যোগ লক্ষ করা যায়।
এবারে শুধু জোট নয়, নেতৃস্থানীয় কওমি আলেমদের অনেকেই জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানও করেন। গত ১৭ জানুয়ারি খ্যাতিমান কওমি আলেম শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আলী হাসান উসামা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তিনি ছড়িয়ে থাকা ভুল প্রবণতাগুলোর বিষয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক বক্তব্য প্রদান করে চলেছেন। এছাড়া গত ৩১ জানুয়ারি বিশিষ্ট কওমি আলেম মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এদিন তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কার্যালয়ে এসে সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তবে এ কথা সত্য যে, এ ধরনের আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের ঘটনা প্রচারিত হলেও জামায়াতে ইসলামীতে কওমি ঘরানার অনেক আলেম বিদ্যমান। তাঁরা জামায়াতের মধ্যে থেকে ইসলামের একজন খাদেম হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এভাবে একদা আলেম সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের রাজনীতিবিমুখতা এবং ইসলামকে বিরাজনীতিকরণের নেতিবাচক অবস্থার অবসান ঘটে চলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এর মধ্য দিয়ে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে বাস্তবায়নের দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টার পথে বিশেষ অগ্রগতি অর্জন বলে মনে করা যায়।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে ইসলামপন্থি রাজনীতিকে জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ফায়দা লুটে চলেছিল বাম-ধর্মনিরপেক্ষবাদী মহল। ইসলামপন্থি রাজনীতির প্রতিপক্ষ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করা ছিল এই মহলটির অন্যতম একটি কৌশল। কিন্তু এটি ইসলামপন্থি রাজনীতিকে আটকে রাখতে সফল হয়নি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের বিদায়ের পর আশা করা হয়েছিল যে, মুক্তিযুদ্ধকে আর ব্যবসার পণ্য এবং এর চেতনাকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ নতুন করে উদ্গীরণ হতে থাকে। তবে এটি যে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেনি, তা নির্বাচনী ফলাফলে বোঝা যায়। এর আগেও যখন এনিয়ে অপপ্রচার ছড়াতে দেখা যায় তখনো জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সুনির্দিষ্টভাবে এর প্রতিবাদ করতে শোনা যায়। যেমন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ জামায়াতের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ভূমিকা নিয়ে দেশে অনেক অপপ্রচার রয়েছে। অথচ অপপ্রচারকারীরা জানে না, পাঁচ হাজার মুক্তিযোদ্ধা জামায়াতের সদস্য। এর মধ্যে সাতজন সাব-সেক্টর কমান্ডারও রয়েছেন।’
রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় জামায়াতে ইসলামীই ছিল এবারের নির্বাচনে বিএনপির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, একটা দীর্ঘসময় ধরে এই দুই দল জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের বিরোধিতা করার জন্য এখন মুক্তিযুদ্ধ সামনে আনার পেছনে বিএনপির কৌশল ছিল নিছকই রাজনৈতিক। তবে একে আওয়ামী স্টাইলে ব্যবহার করা ছিল স্থুল ও বাজে কৌশল। বিএনপির অন্তত এ কথা মনে রাখা উচিত ছিল যে, আওয়ামী লীগ কখনোই বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের দল বলে স্বীকার করেনি। বরং তাদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ এবং জিয়াউর রহমানকে ‘পাকিস্তানের চর’ বলে প্রচার করেছিল ব্যাপকভাবে।
জামায়াতে মুক্তিযোদ্ধাদের যোগদান
এবারের নির্বাচনের প্রাক্কালে মুক্তিযোদ্ধাদের জামায়াতে যোগদান বিশেষ গুরুত্ব পায়। গত ১৩ ডিসেম্বর সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান জামায়াতে যোগদান করলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ যোগদানকাজ সম্পন্ন করেন। এসময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও আদর্শ, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতের অবিচল অবস্থানের প্রতি গভীর আস্থা ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংগঠনের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার পর তিনি রাজনীতি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিবেদিত রাখেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দুবার কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও ন্যায্য স্বীকৃতি আদায়ে আজো সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। জামায়াতে আরো যোগদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক জিএস আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম। গত বছর ২৬ ডিসেম্বর জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংগঠনের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তিনি ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ, দেশের স্বার্থ এবং স্বাধীনতা-সাার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিয়মনীতি, আদর্শ, দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের প্রতি সর্বদা অনুগত থাকার অঙ্গীকার করেন।
এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর বীর মুক্তিযোদ্ধা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে যোগদানের ঘোষণা দেন। সে মোতাবেক গত নির্বাচনে জামায়াত, এলডিপি এনসিপি প্রভৃতি দল জোটবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
সার কথা
এটা তো চিরন্তন সত্য যে, ইসলামী আন্দোলনের সামনে যত প্রকারের বাধা-প্রতিবন্ধকতা আসে, অন্য কোনো আদর্শ প্রতিষ্ঠার বেলায় ততটা নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেটি আরো কঠিন এ কারণে যে, এর প্রতিবেশী দেশটি প্রায় চতুর্দিকে একে ঘেরাও দিয়ে রেখেছে। তারা প্রকাশ্যে এখানকার ইসলামী আন্দোলনকে তাদের কাছে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা দিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় এটি মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশটির অনুকম্পা লাভের আশায় কোনো কোনো রাজনৈতিক মহল এই ইস্যুকে ব্যবহার করে থাকে। তবে সময় যত যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল ভুয়া স্লোগান মাঠে মারা যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেসব স্লোগান ও ইস্যুর মৃত্যু ঘটেছে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।