রোজায় অস্বাভাবিক পণ্যমূল্য, হিমশিম খাচ্ছেন স্বল্পআয়ের মানুষ


২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬

স্টাফ রিপোর্টার : স্বল্পআয়ের মানুষ চরম বিপাকে রয়েছেন। আয় দিয়ে স্বাভাবিকভাবে সংসার পরিচালনা করা দূরে থাক, কাটছাঁট করেও পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না তারা। কারণ একটাই নিত্যপণ্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, এমনিতেই স্বাভাবিক সময়ই সংসার চালাতে যারা হিমশিম খান, তারা রোজা এলে পড়েন চরম ভোগান্তিতে। কেননা রোজায় স্বাভাবিক সময়ের চাইতে পণ্যমূল্য অনেক বেশি বাড়িয়ে দেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। রোজার ১৫ দিন আগেও বাজারে বড় সাইজের এক হালি লেবুর দাম ছিল সর্বোচ্চ ত্রিশ টাকা। আর ছোট সাইজের এক ডজন লেবুর দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর রোজা আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই লেবুর হালি ২শ’ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এখন কমে হালি ১শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আগের দামে এখনো আসেনি। রোজার মধ্যে আসবে বলেও মনে করছেন না ব্যবসায়ীরা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাজধানীর ডেমরার সেকান্দর আলী মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক হালি বড় সাইজের লেবু এখনো ১শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার কয়েকদিন আগে প্রকৃত মূল্য ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। এভাবে রোজা ও ইফতার সংশ্লিষ্ট পণ্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অন্যদিকে রোজা আসার পর সব ধরনের ফলের দাম ব্যাপকহারে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা রোজার মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই মনে করছেন।
রাজধানীর বাজারগুলোর খবর নিয়ে জানা গেছে, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার আগে ছিল ৮০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৮০ টাকা এবং ধুন্দুল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৬০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, শিম ৬০-৮০ টাকা এবং শালগম ৪০-৫০ টাকায় মিলছে। মানভেদে ফুলকপি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা এবং ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লালশাকের আঁটি ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ডাঁটাশাক, কলমিশাক ও পালংশাক প্রতি আঁটি ১৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর লাউশাক ৪০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন। প্রতি কেজি কালো লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। আর লম্বা কালো চিকন বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কালো গোল বেগুন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের শুরু থেকেই বাজারে দেশি ও বিদেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রতি পিস আনারস ৫০ টাকা স্থলে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০-৬০ টাকার বরই ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ৯০-১০০ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। ড্রাগন ফলের দাম কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিদেশি ফলের মধ্যে প্রতি কেজি অস্ট্রেলিয়ান আপেল ৪২০ টাকা, মাল্টা ৩৫০ টাকা এবং আঙুর ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেদানা বা আনারের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে ৫৬০ থেকে ৫৮০ টাকায় ঠেকেছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখ পর্যন্ত আপেল ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা, মাল্টা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, বেদানা থেকে আনার ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া রমজানের এক সপ্তাহ আগেও দেশে উৎপাদিত পেয়ারা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরই ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তরমুজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ড্র্রাগন ফল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু রোজা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব ফলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যখনই কোনো পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়, তখনই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেন। লেবুর দাম নিয়ে যা ঘটেছে, তা ঠিক চাহিদা ও জোগানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ক্রেতাদের ঠকিয়ে বাড়তি মুনাফা অর্জনের প্রবণতা এক্ষেত্রে দেখা গেছে। এর মূল কারণ সমাজের সব জায়গায় নৈতিক অবক্ষয়।