আলোর ফেরিওয়ালা
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০০
আমার কাজ হলো আলো ফেরি করা।
যাকে বলে ফেরিওয়ালা।
বহু পথ অতিক্রম করার পর
খুব ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে একটু বসেছি।
কখন যে অবচেতনে অবসন্ন চোখে ঘুমিয়ে পড়েছি, মনে নেই।
আসহাবে কাহাফের মতো কতোকাল
কতো শত বছর ঘুমিয়ে ছিলাম,
সেটাও জানি না।
যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি অন্ধকার!
চারদিকেই অন্ধকার ,কেবলই ঘুটঘুটে অন্ধকার!
আমি ঘোরতর অন্ধকারে হাতড়িয়ে
আমার আলোর সামগ্রী নিয়ে
এক গভীরতর অন্ধকার পথে হাঁটা শুরু করলাম ।
হঠাৎ থমকে গেলাম।
চারপাশে শুনতে পেলাম শিয়াল, সারমেয় ও বরাহের চিৎকার।
বানরের কোলাহল।
ঠিক বুঝতে পারছি না কোথায় এলাম!
আফ্রিকার ভয়ঙ্কর জঙ্গলে
নাকি অন্য কোনো হায়েনার অভয় অরণ্যে!
একজন, হ্যাঁ একজনের মৃদু পদধ্বনি শুনতে পেলাম।
তিনি আমার বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে
কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন,
এ তুমি কোথায় এসেছো?
জানো না এটা অন্ধ ও মূর্খদের অন্ধকার পৃথিবী!
এখানে আলোর ব্যাসাতি চলে না।
গোটা পৃথিবী এখন অন্ধ ও মূর্খদের দখলে!
তার কথা শুনে ঝিম ধরে হিম হয়ে
একটি ছায়াদার বৃক্ষের তালাশ করছি।
না, নেই!…
কোথাও নেই বৃক্ষ কিংবা সবুজ অরণ্য!
কোথাও নেই হরিৎ শস্যভূমি!
‘মানুষ’ শূন্য, বৃক্ষ শূন্য , পাখি শূন্য,
নদী শূন্য, সাগর শূন্য!
এরই নাম কি পৃথিবী!
তাহলে কি সত্যিই
পৃথিবী এখন অন্ধ ও মূর্খদের দখলে!
স্তব্ধতার মুহূর্তে
আমার দীর্ঘশ্বাসও অসমাপ্ত রয়ে গেল!
আশাবাদী ‘মানুষ’পূর্ণ নতুন কোনো পৃথিবীর খোঁজে
আবারও হাঁটা শুরু করলাম।
হাঁটছি তো হাঁটছিই।
ক্রমাগত হেঁটেই চলেছি
আলোর ফেরিওয়ালা…!