বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮ এনসিপি ৬ আসন
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৩
স্টাফ রিপোর্টার : গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২টি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭টি আসন। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি ও স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ২৯০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ ভোটের মধ্যে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৭১ ভোট পেয়েছে। দলটি পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ২৯০ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। উল্লেখ্য, দাঁড়িপাল্লা ধানের শীষের চেয়ে ৬৬টি কম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। এ ৬৬ আসনের ভোট যোগ হলে বিএনপির ভোটের কাছাকাছি হতো জামায়াতে ইসলামী হতো বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্টিং ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার ছিলেন মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন । নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৮ জন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যানুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। ৩০০টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে। সেখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-২ আসনে। এ আসনে ভোটার ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে ১০টি দল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে ১০টি রাজনৈতিক দল। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) দলগত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইসলামী ঐক্য জোটের দুজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মিনার প্রতীক নিয়ে তারা শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কবুতর প্রতীক নিয়ে একটি আসনে নির্বাচন করা গণতন্ত্রী পার্টি শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে। একইভাবে গণফ্রন্ট পাঁচটি আসনে মাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) একটি আসনে চশমা প্রতীক নিয়ে, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) সিংহ প্রতীক নিয়ে ৮ আসনে, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি হাতঘড়ি প্রতীকে দুটি আসনে, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি কাঁঠাল প্রতীকে ৬ আসনে, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) টেলিভিশন প্রতীকে ৮ আসনে, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএনএল হাত (পাঞ্জা) প্রতীকে তিন আসনে, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি-বিইপি দোয়াত কলম প্রতীকে একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোট পেয়েছে শূন্য শতাংশ।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট জারি করেছেন। গেজেটের তথ্যানুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন। অন্যদিকে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। গণভোটে বাতিল করা ব্যালট পেপারের সংখ্যাও বিপুল- ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, গণভোটে মোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি এবং বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি ভোট। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের লক্ষ্যেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়। এ সনদে বর্ণিত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত ও সম্মতি যাচাইয়ে এ গণভোটের আয়োজন করা হয়। নির্বাচন কমিশন ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর ১৬ ধারার (৩) উপ-ধারা অনুযায়ী এ ফলাফল সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত করে প্রকাশ করেছে।