নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ চান সাধারণ ভোটাররা


১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নির্বাচনে কিছু প্রার্থী পেশিশক্তি ব্যবহার করতে চায় বলে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী-অপরাধীদের গ্রেফতার কাক্সিক্ষত পরিমাণে ছিল না। ফলে সাধারণ মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চাইলেও কিছুটা আশঙ্কা ও ভীতি থেকেই যাচ্ছে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বাসিন্দা জসিম উদ্দন সরকার চাকরি করেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনের ভোটার। তার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের আলাপকালে তিনি জানান, আমরা সাধারণ মানুষ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে চাই। প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন ইতিহাসের সেরা ভোট তিনি উপহার দেবেন। আমরা তার সেউ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চাই। এর কোনো ব্যত্যয় চাই না। ভোটের মাঠে গিয়ে কেউ হেনস্তার শিকার হোক, হামলার শিকার হোক- এটা শোনতে চাই না। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুক- এটাই কাম্য। যাতে রাষ্ট্র সত্যিকারার্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার পায়।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ‘ভোটার হলেও এর আগে কখনো ভোট দিতে পারেননি অনেকে। এবারই প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই আনন্দ-উচ্ছ্বাস তো আছেই। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে এখনো শঙ্কাও আছে।’ আশঙ্কা হচ্ছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ছড়াতে পারে। বিজয়ী দল অন্যদের ওপর আক্রমণ করতে পারে। মানুষের মনে প্রশ্ন তোলেন, সরকার গঠনের পর মানুষের বাকস্বাধীনতা থাকবে তো? নাকি আবার ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ফিরে আসবে? দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, মানুষের আস্থার জায়গা সেনাবাহিনী। তবে সেনাবাহিনী যেন নির্বাচনকে প্রভাবিত না করে, বরং নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থানে থাকে এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
রাজধানীর মলিবাগের আবু তাহের চৌধুরী বলেন, ‘পছন্দের ব্যক্তিকেই ভোট দিতে চাই। কিন্তু যে দল ক্ষমতায় যাবে, তারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে তো? তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী দল গণভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে গণভোটের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে কি না, সেটা নিয়েই তিনি শঙ্কিত। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকারকেই এসব বাস্তবায়ন করে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ দলীয় সরকারের স্বাভাবিকভাবেই এটা না মানার আশঙ্কা বেশি। তাই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে সেই সময়টুকু দেওয়া উচিত।