সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৩

ভারত বৈশ্বিক শান্তির জন্য হুমকি : পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, ভারত বর্তমানে বৈশ্বিক শান্তির জন্য একটি হুমকিতে পরিণত হয়েছে। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সামা টিভি এ তথ্য জানিয়েছে। ইসলামাবাদে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট জারদারি সাম্প্রতিক এক সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়; এটি একটি যৌথ বৈশ্বিক দায়িত্ব। জারদারি আরও জানান, বিশ্বনেতা, বিভিন্ন সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পাওয়া সহানুভূতি ও সমর্থনের বার্তা পাকিস্তানের জনগণ এবং সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সাহস ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এসব বার্তা প্রমাণ করে যে সন্ত্রাসবাদও এর পেছনে থাকা সহিংস মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই একটি বৈশ্বিক সংগ্রাম। পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, একা কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে পারে না। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সীমান্তের বাইরে আশ্রয়, সহায়তা বা অবাধে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পায়, তখন এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হয় সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে। একই সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট জারদারি অভিযোগ করেন, কিছু প্রতিবেশী দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে। এমনকি কেউ কেউ আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তাও প্রদান করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, এসব বিষয় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ছাড়া এই হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। জারদারি দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে নিজের সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে সন্ত্রাস ও সহিংসতার মোকাবিলা করলে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা এবং শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। পৃথিবীজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক যৌথ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশকে নিজের ভূখণ্ড নিরাপদ রাখা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে হুমকি মোকাবিলায় ভূমিকা নিতে হবে। এই বক্তব্যে জারদারি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভারত এবং কিছু প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক সচেতনতা ও সমন্বয় অপরিহার্য। সামা টিভি।

সাদ্দাম হত্যার প্রতিশোধ, ইরানের হয়ে যুদ্ধে নাম লেখাচ্ছেন হাজার হাজার ইরাকি
যত সময় যাচ্ছে ততই বাড়ছে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার আশঙ্কা। সতর্ক রয়েছেন ইরানি সরকার। এর মধ্যেই ইরানের হয়ে যুদ্ধ করতে নাম লেখাচ্ছেন হাজার হাজার ইরাকি। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের হত্যার বদলা নিতেই হাজার হাজার ইরাকি একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। সূত্রের খবর, ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের প্রায় ৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়ে ঘোষণা করেছেন যে, ইরাক ও পূর্বদিকের প্রতিবেশী দেশ (ইরান), এবং তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’ বিনা পারিশ্রমিকে’ রক্ষা করতে তারা প্রস্তুত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং ইরানকে সাহায্য করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আমরা আমাদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করছি। সেইসঙ্গে আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’ যদিও আমেরিকা-ইসরাইল উভয়ই ইরানের ঘোর প্রতিপক্ষ, তবুও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে ইসরাইল তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং এ ধরনের আলোচনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ওমানে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা সত্ত্বেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। ট্রাম্পকে হত্যার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন তার যদি কিছু হয়, তাহলে ইরানকে পৃথিবী থেকে মুছে দেবে। এমনকি ইরানের উপকূলীয় জলসীমার কাছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো পৌঁছে গিয়েছে। ইসরাইলও জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত। তার মধ্যে ওয়াশিংটন শুক্রবার ইরানের তেল রপ্তানি রোধের লক্ষ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার মধ্যে তুরস্ক, ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলি রয়েছে। ইরনা।

জাপানের আগাম নির্বাচনে ভূমিধস জয় প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির
জাপানের আগাম সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দল। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন নিশ্চিত করেছে তার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি পেয়েছে ৩১৬টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসনের তুলনায় এটি অনেক বেশি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এলডিপির জয়ের কথা জানানো হয়েছে। জয়ের আভাস পাওয়ার পর তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে দায়িত্বশীল এবং সক্রিয় আর্থিক নীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছি। আমরা আর্থিক নীতির স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেবো। আমরা প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করব।’ যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা এখনো বাকি রয়েছে। সানায়ে তাকাইচি ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও দীর্ঘ সাত দশকের বেশিভাগ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তহবিল জালিয়াতি ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে চাপের মুখে পড়েছিল। দলের এই সঙ্কট কাটাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দেন। আল-জাজিরা।

ভারতে মসজিদ ভেঙে জমি দখলে নিলো হিন্দুত্ববাদী যোগী প্রশাসন
উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার পিপারিয়া গ্রামে একটি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। মসজিদ কমিটির দাবি, ইলাহাবাদ হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও মহকুমা শাসক (এসডিএম) আদালতের নির্দেশে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোজিপুরা থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানে দুটি বুলডোজার ব্যবহার করে ৩০০ বর্গগজ এলাকায় বিস্তৃত মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের পর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জমিটি খালি করে দেয় প্রশাসন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। উচ্ছেদ শেষে প্রশাসন জমিটি নিজেদের দখলে নেয়। বেরেলি সদরের এসডিএম প্রমোদ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মসজিদটি গ্রামসভার জমির ওপর অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। তদন্তের পর এসডিএম আদালত এটিকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মসজিদের মুতাওয়াল্লি মোহাম্মদ ইকবাল প্রশাসনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের বিবেচনাধীন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখও নির্ধারিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মামলাটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত শুনানির আগেই প্রশাসন মসজিদটি ভেঙে ফেলেছে।’ মসজিদ কমিটির আইনজীবী সগির আহমেদ জানান, ১৯৬৯ সালে তৎকালীন গ্রাম প্রধান নরেন্দ্র প্রধান এই জমিটি মুসলিম সম্প্রদায়কে মসজিদ তৈরির জন্য দিয়েছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ সালের সরকারি নথিতেও এর উল্লেখ রয়েছে। তাঁর দাবি, ১৯৭৩ সালের আগের জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই। মাকতুব মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রি থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী ‘জুনেদ আহমেদ বনাম চমন সিং’ মামলাটি বর্তমানে আদালতে অমীমাংসিত। গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬-এ হাইকোর্ট থেকে ইস্যু করা একটি তথ্য স্লিপেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, এই মসজিদের বিরোধ নিয়ে ১৯৯৬ সালে প্রথম মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি পথ পেরিয়ে ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার আপিল করা হয়। মসজিদ কমিটির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের অবমাননার দায়ে তাঁরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। এই উচ্ছেদের ফলে গ্রামের মুসলিম পরিবারগুলো নামাজ পড়ার জায়গা হারিয়ে সংকটে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সিয়াসত ডেইলি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার উসকানি’র অভিযোগে মামলা করলেন ওয়াইসি
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে ঘৃণাভাষণ এবং নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এআইএমআইএম প্রধান ও ভারতীয় সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। একটি সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। মাকতুব মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউস থানায় এই অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওয়াইসির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একটি ভিডিওতে যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা সরাসরি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ উসকানি দেওয়ার শামিল। ওয়াইসি তার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর ওই ভিডিও বার্তায় ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ বা সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। ওয়াইসি বলেন, একজন সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য কেবল দুর্ভাগ্যজনকই নয়, বরং এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সামাজিক মাধ্যমে এ খবর শেয়ার করে ওয়াইসি জানান, ‘আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যগুলো কেবল শব্দ নয়, এগুলো সহিংসতার আগাম সংকেত। তিনি প্রকাশ্যে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে টার্গেট করছেন। সুপ্রিম কোর্ট বারবার বলেছে যে ঘৃণাভাষণ রুখতে প্রশাসনকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই আমি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।’ ওয়াইসি তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৩ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, কোনো অভিযোগ জমা না পড়লেও ঘৃণাভাষণের ক্ষেত্রে পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করতে হবে। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এই নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করেছেন হায়দরাবাদের এই সাংসদ। এই অভিযোগের বিষয়ে আসাম সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী ফায়দা তুলতেই আসামের মুখ্যমন্ত্রী বারবার এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। অন্যদিকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এই অভিযোগের পর দিল্লি পুলিশ বিষয়টিকে খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি পথে এ লড়াই কতদূর গড়ায়। মাকতুব মিডিয়া।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা সফল করতে হলে ইরানের নিজ মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার তেহরানে এক নীতি নির্ধারণী সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনোই ‘জিরো এনরিচমেন্ট’ বা সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার শর্ত মেনে নেবে না। তবে আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা অর্জনের জন্য ইরান এমন কোনো ব্যবস্থায় সম্মত হতে পারে যা প্রমাণ করবে তাদের এ কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন গত শুক্রবার ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হওয়া এই সংলাপকে ইরান একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে। সম্মেলনে আরাগচি বলেন, “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর আমাদের জোর দেওয়ার বিষয়টি কেবল প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্ন। অন্য কোনো দেশ ইরানি জাতিকে বলে দিতে পারে না যে তারা কী করবে বা কী করবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান কেবল পারমাণবিক বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নীতি নিয়ে আলোচনার যে দাবি জানানো হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তার মতে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাজার খোলার শুরুতেই তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। ওমানের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক আলোচনাকে উভয় দেশই ‘ইতিবাচক’ বলে অভিহিত করেছে। এই কূটনৈতিক অগ্রগতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় কোনো যুদ্ধের আশঙ্কা কমেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বাজারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৮৯ সেন্ট বা ১.৩১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৬৭.১৬ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১.২৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৬২.৭৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলে সামান্য উত্তজনাও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেল। রয়টার্স।

‘বোর্ড অব পিস’ জাতিসংঘের বিকল্প হতে পারে না : ইউরোপীয় এমপি
‘বোর্ড অব পিস’ বা গাজা ‘শান্তি পর্ষদ’ কোনোভাবেই জাতিসংঘের বিকল্প হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ফার্নান্ড কার্টহাইজার। বার্তা সংস্থা তাস-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। তার মতে, জাতিসংঘের যে সুবিধা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা এই নতুন কোনো বোর্ডে পাওয়া সম্ভব নয়। কার্টহাইজার বলেন, ‘জাতিসংঘের সদস্যপদ সর্বজনীন। এখানে যোগ দিতে কোনো বড় শক্তির আমন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না। দরিদ্র বা ছোট- সব দেশই এখানে সমানভাবে স্বাগত।’ ইউরোপীয় এই নেতার মতে, জাতিসংঘের শক্তিশালী কিছু ভিত্তি রয়েছে যা অন্য কোনো সংস্থার নেই। সেগুলো হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোতে জাতিসংঘের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি রয়েছে। গত কয়েক দশকে জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক ও বিচারিক ক্ষেত্রে বিশাল অভিজ্ঞতা ও কর্তৃত্ব অর্জন করেছে। সদস্যপদ লাভের খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং তা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। কার্টহাইজার আরও বলেন, ‘কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘ মানবজাতির জন্য বিশাল কল্যাণ বয়ে এনেছে এবং এর মূল আদর্শগুলো আজও সমানভাবে কার্যকর।’ বিপরীতে ‘বোর্ড অব পিস’-কে একটি ‘ব্যয়বহুল ক্লাব’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি একজন নির্দিষ্ট দেশের রাজনৈতিক নেতার ওপর নির্ভরশীল। এর কোনো সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট বা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের আইনি ভিত্তি নেই। এখানে আলোচনা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অন্যত্র নেওয়া হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ইউরোপীয় নেতাদের বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বাড়াতে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন কার্টহাইজার। তিনি রাশিয়া, চীন এবং ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার ওপর জোর দেন। ইউক্রেন সংকট নিয়ে একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং নিষেধাজ্ঞার রাজনীতি বন্ধ করে বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ টেনে তিনি যোগ করেন, ‘সম্মান অর্জনের জন্য কোটি কোটি ডলারের প্রয়োজন হয় না। গান্ধীর কোনো বিলিয়ন ডলার ছিল না, কিন্তু তিনি বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন।’ তাস।

গ্রিনল্যান্ডে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মার্কিন পণ্য বর্জনের অ্যাপ
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর ডেনমার্কসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জনের জন্য তৈরি মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে গেছে। ‘মেড’ ও ‘মেটার’ নামের একটি অ্যাপের নির্মাতা ইয়ান রোজেনফেল্ট জানান, জানুয়ারির শেষ দিকে কূটনৈতিক উত্তেজনার চূড়ান্ত সময়ে মাত্র তিন দিনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অ্যাপটি ডাউনলোড করেন। মার্চে চালুর পর থেকে মোট ডাউনলোড সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। কোপেনহেগেনে বসবাসকারী ডিজিটাল মার্কেটিং পেশাজীবী রোজেনফেল্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জন করতে আগ্রহী ডেনিশ নাগরিকদের একটি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পরই তিনি অ্যাপটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, অনেকেই হতাশ হয়ে ভাবছিলেন, বাস্তবে আমরা এটা করবো কীভাবে? বারকোড স্ক্যান করলেও অনেক সময় বোঝা যায় না পণ্যটি আমেরিকান না ডেনিশ। আর যদি তা জানা না থাকে, তাহলে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। অ্যাপটির সর্বশেষ সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একসঙ্গে একাধিক পণ্য শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা যায়। পাশাপাশি ইউরোপে তৈরি বিকল্প পণ্যের পরামর্শও দেয়। ব্যবহারকারীরা চাইলে ‘যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন কোনো ব্র্যান্ড নয়’ বা ‘শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্র্যান্ড’ এ ধরনের পছন্দ নির্ধারণ করতে পারেন। অ্যাপটির সঠিকতার হার ৯৫ শতাংশের বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। রোজেনফেল্ট জানান, শুরুতে অ্যাপটি চালুর পর ডাউনলোড কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে বলার পর ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যায়। ২৩ জানুয়ারি একদিনেই প্রায় ৪০ হাজার পণ্য স্ক্যান করা হয়, যেখানে গত গ্রীষ্মে দৈনিক স্ক্যান ছিল মাত্র ৫০০-এর মতো। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজারের মতো স্ক্যান হচ্ছে। রোজেনফেল্ট বলেন, ডেনমার্কে ২০ হাজারের বেশি মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি জার্মানি, স্পেন, ইতালি এমনকি ভেনেজুয়েলাতেও ব্যবহারকারী রয়েছেন। তিনি বলেন, এটা এখন অনেক বেশি ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে আমরা একজন মিত্র ও বন্ধুকে হারাচ্ছি। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প ডেনমার্কসহ সাতটি ইউরোপীয় দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে ন্যাটোর মধ্যস্থতায় গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার নিয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতার কথা বলে তিনি হুমকি প্রত্যাহার করেন। তবে সেই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ হয়নি। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস হবে না। রোজেনফেল্ট স্বীকার করেন, এ ধরনের বর্জন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে না। তবে তার আশা, এতে সুপারমার্কেটগুলো বার্তা পাবে এবং ইউরোপীয় পণ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। তিনি বলেন, হয়তো আমরা একটি সংকেত দিতে পারবো, আর মানুষ তা শুনবে। সেখান থেকেই পরিবর্তন শুরু হতে পারে। এপি।

শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার আগেই ‘নিশ্চিহ্ন’ হওয়ার আশঙ্কা ইসরাইলের
ইসরাইলের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইতঝাক ব্রিক সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির গভীর অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে ২০৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার আগেই ইসরাইল ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে ব্রিকের এ মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। দৈনিক মারিভে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে ব্রিক লিখেছেন, ‘যখন আমি ভবিষ্যতের দিকে তাকাই, তখন নিজেকেই প্রশ্ন করি ইসরায়েল কি ১০০ বছর বয়সে পৌঁছাতে পারবে?’ তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেশকে এক বিপজ্জনক পথের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইসরাইলের ইতিহাস প্রসঙ্গে ব্রিক বলেন, ১৯৪৮ সালে জায়নবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যে ভূমিতে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেখানে গণহত্যা চালানো হয় এবং শত শত হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট ভূখণ্ডও দখল করে এবং আজও তারা সেখান থেকে সরে যাওয়া ও একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি প্রত্যাখ্যান করছে। ব্রিক বলেন, দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েল এমন এক সমাজে পরিণত হয়েছে, যা ভেতর থেকে ছিন্নভিন্ন। সমাজে সামাজিক গোষ্ঠী, ডান ও বামপন্থী, ইহুদি ও আরবদের মধ্যে গভীর বৈরিতা বিরাজ করছে। এ বিভাজন এখন জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ব্রিক বলেন, ইসরাইল এমন এক নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকাকে অগ্রাধিকার দেয়। তিনি বর্তমান নেতৃত্বকে স্বল্পদৃষ্টি ও দিকনির্দেশনাহীন বলে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের অবস্থানকে ব্রিক উদ্বেগজনক হিসেবে দেখেন। তার মতে, দেশটি ক্রমেই এমন এক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে, যা ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান উসকে দেয়। ব্রিক আরও উল্লেখ করেন, অনেক ইসরাইলি নাগরিক ইতোমধ্যেই দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তারা নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অভাবে এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত ২৮ জানুয়ারির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ইসরায়েল থেকে অভিবাসন গত বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রবণতা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটকে আরও প্রমাণ করছে। আনাদোলু এজেন্সি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান