নানা চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৫
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
চলতি অর্থবছরের অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার নানা ধরনের সংস্কার উদ্যোগও বাস্তবায়িত করছে। কিন্তু তবুও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সূচকের অবস্থা আশাব্যঞ্জক নয়। রফতানিতে মারাত্মক ধস, উচ্চ সুদের হার, বেসরকারি ঋণপ্রবাহে শ্লথ গতি। ফলে ভোক্তার চাহিদায় ধস, বেকারত্ব বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট সব মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম অবস্থা বিরাজমান। সব মিলিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের ভেতর অর্থনীতি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের সার্বিক অবস্থার করুন পরিণতির অন্যতম কারণ আওয়ামী লীগ আমলের ব্যাপক লুটপাটের প্রভাব। বিগত ১৬ বছর ব্যাংকিং-আর্থিক ক্ষেত্রে নিয়মকানুন এবং সুশাসনের সবরকম নীতিমালা তারা নষ্ট করে দিয়ে গেছে। দলীয় বিবেচনায় ব্যাংক ঋণ নেয়া শত শত শিল্প মালিক তাদের প্রদেয় ঋণ না দিয়ে পলায়ন এবং কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও কর্মমুখী মানুষ। সব মিলিয়ে এসব কিছুর জাঁতাকলে সাধারণ মানুষের নাজুক অবস্থা।
ব্যাপক চাপে অর্থনীতি
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থনীতির মূল সূচকগুলোর উন্নতি নেই। বরং অন্যতম চালিকাশক্তি রফতানিতে ব্যাপক ধস দেখা যাচ্ছে। এর মাঝে খাদ্যপণ্যের দামের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো বেশি। একই সঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা উন্নতি হলেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ভালো নয়।
এ সময় (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) ২৬টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমে গেছে। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারগুলোয় নেতিবাচক প্রবণতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ছয় মাসে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ সময়ে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের। এর সঙ্গে শাকসবজি, মাছ, হিমায়িত খাদ্য, অপ্রচলিত পণ্য রফতানিও কমেছে। দেশের ভেতরেও ব্যবসার গতি কমেছে। দেশের মূল রফতানি পণ্য গার্মেন্টস খাতে রফতানির মারাত্মক ধস পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে।
গত ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩২৩ কোটি ৪১ লাখ ডলারে। আর ২০২৪ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩৭৭ কোটি ৫ লাখ ডলার।
তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ের মধ্যে ১৬৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার এসেছে নিটওয়্যার রফতানি থেকে, যা বছর ব্যবধানে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ১৬০ কোটি ২৩ লাখ ডলার এসেছে ওভেন পোশাক রফতানি থেকে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং চামড়াসহ ২৭ ধরনের পণ্য বিশ্ববাজারে রফতানি হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৩৯৯ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কম।
নেই বিনিয়োগ, কমছে কর্মসংস্থান
দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে গভীর সংকট বিনিয়োগে স্থবিরতা। বেসরকারি বিনিয়োগ, বিদেশি বিনিয়োগ দুটিই নেমে গেছে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ফলে বেসরকারি পর্যায়ে কর্মসংস্থান কমে গেছে। সার্বিক বিষয় মিলিয়ে বিনিয়োগের এ স্থবিরতা নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। ব্যাংকের উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না। উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের গতি গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ধীর। যার প্রভাবে দেখা যায় চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে এক লেজেগোবরে অবস্থা।
ব্যবসায়ীদের মতে, গত এক বছরে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। কিন্তু সেই অনুপাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় পণ্যের বিক্রি কমেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
রেমিট্যান্সে ভর করে চলছে অর্থনীতি
২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। অর্থনৈতিক মন্দা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে প্রবাসী আয়ের এ প্রবৃদ্ধি রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত বর্তমানে রেমিট্যান্সের ওপর ভরসা করেই টিকে আছে অর্থনীতি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর। ওই সময়ের পর থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ দ্রুতই বাড়তে শুরু করে। বছর শেষে মোট রেমিট্যান্স দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে, যা সে সময় পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ছিল। তবে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫ সাল সে রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে, প্রথমবারের মতো বার্ষিক রেমিট্যান্স অতিক্রম করেছে ৩০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি। বছর শেষে দেশে বৈধ পথে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ব্যাংকিং খাতের ভয়াবহতা কাটছে না
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে ব্যাপক লুটপাটে বিনিয়োগ সক্ষমতা হারিয়েছে বেশিরভাগ ব্যাংক। যার খেসারত এখনো দিয়ে যাচেছ এ খাত। বহু ব্যাংকে জমা রাখা গচ্ছিত অর্থ তুলতে পারছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। ব্যবসায়ীরা ঋণের জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরে কোথাও পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় ফান্ড। এক রিপোর্টে দেখা যায়, বর্তমানে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক কার্যত নামেমাত্র টিকে আছে। দেউলিয়ার পর্যায়ে আছে ১২টি ব্যাংক। অতিমাত্রায় দুর্বল ১৫টি ব্যাংক। দখল ও লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বর্তমানে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার আশীর্বাদপুস্ট এস আলম গ্রুপ একাই পুরো ব্যাংক খাত ধ্বংস করে দিয়েছে। সাথে রয়েছে তার সহযোগীরা।
সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী এবং সোনালী ব্যাংকগুলোয় চলেছে ব্যাপক লুটপাট। ফলে এসব শক্তিশালী ব্যাংকগুলো লুটপাট করে দুর্বল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিসমিল্লাহ গ্রুপের মাধ্যমে এ ব্যাংকে লুটপাট শুরু হয়। এর নেপথ্যে ছিলেন সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য। তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রথমে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরে আরও ৬টি ব্যাংক থেকে মোট ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পুরোটাই বিদেশে পাচার করে দেন। এরপর সরকারি প্রভাবে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, এ্যানন টেক্স গ্রুপের ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ঘটনা ঘটে। বেক্সিমকো গ্রুপ প্রভাব খাটিয়ে শুধু স্থানীয় কার্যালয় থেকেই ঋণ নেন ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ভয়াবহ। একইভাবে সরকারি খাতের অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ২০০৯ সালের শুরুতে ছিল ২০ শতাংশের কম। এখন তা বেড়ে ৪১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
সরকারি খাতের সোনালী ব্যাংকে ২০১০ সালেই শুরু হয় হলমার্ক গ্রুপের কেলেঙ্কারি। গ্রুপটি সোনালী ব্যাংকসহ ২৭টি ব্যাংক থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেন। এর নেপথ্যে থেকে গ্রুপকে সমর্থন দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা। ওই সময়ে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি। এ কারণে সোনালী ব্যাংক দুর্বল হয়েছে। এ ধকল এখনো ব্যাংকটি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
সুদিনের আশায় ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষ
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ব্যাপক লুটপাটে দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ধসের কারণে ভালো নেই সাধারণ ব্যবসায়ীরা ও মানুষ। তবে অন্তবর্তি সরকারের ক্রমাগত চেষ্টায় পরিস্থিতি উত্তরনের আশায় আছে সবাই।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার মুদি ব্যবসায়ী ফরিদ রহমান বলেন, এত বড় দোকান নিয়ে বসে আছি। বেচাকেনা তেমন নেই বললেই চলে। ক্রেতারা যেন কোথায় চলে গেছে।
উত্তরা এলাকার একটি বহুজাতিক কনজ্যুমারস কোম্পানির ডিলার আলফু মিয়া সোনার বাংলাকে জানান, মাসিক বিক্রি একদম কমে গেছে। প্রতি মাসেই যেন কমে যাচ্ছে। কারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতা একদম তলানিতে। সাধারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। টাকা সব লুটপাটকারীরা পাচার করে দিছে। তবে আশা করছি নতুন সরকার আসছে পরিস্থিতি ভালো হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ শরীফ বলেন, টানা চার মাস ধরে পণ্য রফতানি কমায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রফতানি খাতেও স্বস্তি নেই। নভেম্বর মাসে রফতানি হয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলারের পণ্য। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫৪ শতাংশ কম।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হক বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য তথা দেশের বেসরকারি খাতের অবস্থা ভালো না। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে রফতানি আদেশ অনেক কমে গেছে। বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হয়নি।
এফবিসিসিআইয়ের এক সাবেক পরিচালক বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে গতিশীল হবে। ক্ষমতাসীন সরকার বেসরকারি খাতের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই ও ডিসিসিআই নেতাদের মতে, ২০২৬ সাল হবে ‘ঘুরে দাঁড়ানোর বছর’। তাদের এই আশাবাদের পেছনে তিনটি জোরালো যুক্তি রয়েছে। তারা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সফল হলে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী বর্তমানে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ মোডে আছেন। নির্বাচিত সরকার এলে বিলিয়ন ডলারের ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখবে। রাজনৈতিক সরকার ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কোনো অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমসিসিআইয়ের একজন সাবেক সভাপতি বলেন, “আমরা ২০২৫ সালকে একটি ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ হিসেবে দেখছি। আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। তবে ২০২৬-এ নির্বাচনোত্তর স্থিতিশীলতা ফিরলে আমরা আবার নতুন করে বিনিয়োগের সাহস পাব।”
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানান, ‘বর্তমানে ব্যবসার প্রধান তিন প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট। নতুন বছরে আমার প্রথম প্রত্যাশা অবশ্যই একটি নির্বাচিত সরকার। এ বিষয়গুলোর উত্তরণ ঘটানো আমাদের দ্বিতীয় প্রত্যাশা। এর বাইরে নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের সমস্যা যাতে তারা প্রাধান্য দেয়। লজিস্টিক, এনবিআরের দুর্নীতি, ট্যাক্স ও ভ্যাটের সমস্যা ও অবকাঠামো- এগুলো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এগুলো নিয়ে নতুন সরকারকে কাজ করতে হবে।’
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি ফোরামের চেয়ারম্যান ড. ইরফান আহমেদ জানান, দীর্ঘ বছরের সুশাসন এবং লুটপাটের কারণে বিনিয়োগ পরিবেশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে। এটি আস্তে আস্তে কাটবে। বিনিয়োগ পরিবেশে এটি এখন একটি বড় ‘বিষফোড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর এই আস্থার জায়গাটাই এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি ও কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রে কার্যত সাফল্য নেই বললেই চলে। বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। এফডিআই কমিটমেন্ট আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বেড়েছে। আন্ডার এমপ্লয়মেন্ট ও ‘নিট’ (শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়) জনসংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় কয়েকশ রফতানিমুখী গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আবাসন, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন সেক্টরে মারাত্মক স্থবিরতা বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট ও কম এডিপি নতুন আগত সরকারের জন্য এক মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।