রোজায় এবার পণ্যমূল্য বাড়বে না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমবে
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩০
স্টাফ রিপোর্টার : রমজান মাস এলেই সংযম ও বাড়তি ইবাদত নিয়ে সাধারণ মানুষের (মুসলিম) ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু সংযম ও ইবাদতে ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে বাড়তি পণ্যমূল্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ে। রমজানকে কেন্দ্র করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যেও চাহিদা বাড়ে। আর ব্যবসায়ীরা সেই চাহিদার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মূল্য বাড়িয়ে মানুষের পকেট কাটে। সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় অস্বস্তি ও উদ্বেগ। অবশ্য গত বছর রমজানে কিছুটা মূল্য বাড়লেও অতীত বছরগুলোর চাইতে খুবই কম।
রমজান মাসে সাধারণত খাদ্যগ্রহণের ধরন বদলে যায়। ইফতার ও সাহরিকে কেন্দ্র করে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, খেজুর, বেসন, পেঁয়াজ, আলু ও বিভিন্ন সবজির চাহিদা এ সময় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। চাহিদা বৃদ্ধির এ প্রবণতা বাজারে স্বাভাবিকভাবেই মূল্যচাপ সৃষ্টি করে, যা সুযোগ হিসেবে কাজে লাগায় অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। ডাল ও ছোলা রমজানের অন্যতম প্রধান উপকরণ। তাছাড়া রমজান মানেই খেজুরের বাড়তি চাহিদা। বাজারে দেশি ও আমদানিকৃত নানা ধরনের খেজুর পাওয়া গেলেও অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে ভালো মানের খেজুর। রোজায় সব ধরনের খেজুরের মূল্যই বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য ব্যবসায়ীরা দাবি করে আসছেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত খেজুরের ওপর শুল্ক, পরিবহন খরচ ও ডলার সংকটের প্রভাব পড়ে দামে। সবজির মধ্যে পেঁয়াজ ও আলু, শসা, বেগুন ও কাঁচামরিচের মতো পণ্যের দামও বাড়ে রমজানে কারণ এসব সবজি ইফতারি সামগ্রী হিসেবে খাওয়া হয়।
রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে চিনি, তেল, ডাল ও ছোলা খোলাবাজারে বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়। পাশাপাশি আমদানি শুল্ক হ্রাস, দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। যাতে বাজারে চাপ কম পড়ে।
সচিবালয়ে আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ে টাস্কফোর্স সভা শেষে সম্প্রতি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে, দাম বাড়বে না, বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম আরও কমবে। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার নিত্যপণ্য ৪০ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে। তাই এবার দামটা মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে। ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করেছেন নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা বর্তমান বাজারের স্থিতি নিয়েছি। উৎপাদন ও আমদানির পরিমাণগত বিশ্লেষণ করেছি। গত বছরের চেয়ে এ বছরের রমজানের বাজার আরও বেশি স্থিতিশীল থাকবে।
প্রসঙ্গত, আমাদের দেশে অতীত অভিজ্ঞতা মিশ্র হওয়ার কারণে রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভোক্তারা সর্বদা উদ্বেগে থাকেন। রমজান মাসে কিছু ভোগ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা উঁকি দেয়। তবে গত বছরের রমজানে এমনটা ঘটেনি। রমজানের শেষ দিকে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্তুষ্ট।