সম্পাদকীয়

ভোট শুধু অধিকার নয়, একটি পবিত্র দায়িত্ব


২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৪

প্রতীক বরাদ্দ এবং নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর উৎসবমুখর আমেজ লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ দীর্ঘ দেড় দশক অপেক্ষার পর অনেক ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে দেশবাসী শুধু তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন না, পুরনো বন্দোবস্ত ভেঙে নতুন দেশ গড়ার জন্য হ্যাঁ ভোট দেবেন। তাই অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারের জাতীয় নির্বাচন গুরুত্বের বিচারে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ, শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ৩৬ জুলাই বিপ্লবের ফসল। এ সরকারকে পুরনো বন্দোবস্ত বদলে ৩৬ জুলাই চেতনার আলোকে নতুন দেশ গড়ার শপথে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ব্যর্থ হলে ইতিহাস এ সরকার ক্ষমা করবে না। তবে এর মানে এই নয়- যাদের কারণে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হবে, তাদেরকে ইতিহাস ক্ষমা করবে। অতএব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন ছাত্র-জনতা কেউ দায়িত্বমুক্ত নন। বিশেষ করে ৩৬ জুলাইযোদ্ধাদেরও সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। আবেগকে কিছুতেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই দেশ ও জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থের কারণে জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো অর্বাচীন ভূমিকা পালন করছেন। অনেক সিনিয়র জাতীয় নেতা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অশোভন মন্তব্য করছেন, যা শেষ পর্যন্ত তার দিকেই ফিরে আসছে। যেমন বিগত সময়ে দেশ শাসন করেছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন- এমন সিনিয়র নেতারা বাক্যবাণে তার মরহুম পিতাকে পর্যন্ত আহত করছেন। অথচ তাদের উচিত নিজ দলের আদর্শ ও কর্মসূচির প্রচার করে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো। ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করার ও ৩৬ জুলাই বিপ্লবের চেতনার পক্ষে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করা। কিন্তু তারা ব্যস্ত কাদা ছোড়াছুড়িতে।
আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে এ সময়ে সবচেয়ে সতর্ক ও ঐক্যের প্রতীক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। জনগণের উদ্দেশে তার পরিষ্কার বক্তব্য, ভোট শুধু আপনাদের অধিকার নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। আপনি যে দল বা ব্যক্তিকে পছন্দ করেন, ঠিক তাকে নিঃসকোচে ভোট দেবেন। আপনার একটি ভোটই নির্ধারণ করে দেবে আগামীতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পালন করবে। এবার একজন ব্যক্তি দুটি ভোট দিতে পারবেন। একটি সরকার গঠনের ভোট, অপরটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট। গণভোটে আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। ১৭ বছরের বস্তাপচা রাজনীতির বন্দোবস্ত পরিষ্কার করে সম্প্রীতির রাজনীতির চর্চার বিকাশ ঘটাতে হবে। আমরা এককভাবে নির্বাচন করছি না। দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও আমাদের এই প্রয়াস সামগ্রিক। আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করেছি- আমরা একা নই, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়ব। আমাদের স্লোগান, ‘এসো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ।’ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা গত ৫৪ বছরের পচে যাওয়া রাজনীতি চান না এবং রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন চান, আমরা আশা করি, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করবেন।
আমরাও আশা করি, প্রত্যেক দলের জাতীয় নেতারা এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবেন। জনগণকে তাদের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাসনে পাঠানো নির্বাচন ব্যবস্থা আবার যথাযথভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবেন।