জামায়াতের প্রচারে হামলার ঘটনা বাড়ছে, রেহাই পাচ্ছেন না নারীরাও

প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীতে নারী সমাবেশ


২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রচারকাজে নিয়োজিত দলটির নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো স্থানে হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রতিপক্ষের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না জামায়াতের নারী কর্মীরাও। এরই প্রেক্ষিতে ৩১ জানুয়ারি শনিবার দলটি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে নারী সমাবেশও ডেকেছে। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় ইসি শোকজ পর্যন্তই থেমে থাকছে, কঠোর কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। গত ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত জোট প্রার্থী এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। দেশজুড়ে নির্বাচনী সহিংসতায় বাড়ছে উদ্বেগও।
ভোলায় সংঘর্ষে আহত ২৫
ভোলার বোরহানউদ্দিনে গত ২৫ জানুয়ারি রোববার বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের বোরহানগঞ্জ বাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলা-২ আসনে বোরহানগঞ্জ বাজারে জামায়াতের পূর্বঘোষিত মিছিলে হামলা চলায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাকসুদুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আট থেকে নয়জন আহত হন। সংঘর্ষ থামার পর রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ওবায়দুল্লাহ এবং জামায়াত নেতা নূর ইসলাম আলম হামলার শিকার হন। তাঁদের যানবাহনে ভাঙচুর করা হয় এবং গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাঁদের ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবশ্য জামায়াতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৭ জানুয়ারি বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ করে, জেলা সিভিল জজ।
নির্বাচনী প্রচারে বাধা, উত্তেজনা
মেহেরপুর-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার সকালে সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেনÑ আশরাফুল ইসলাম, আনছারুল ইসলাম ও সোহেল রানা। পরে তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে জামায়াতের একদল নারী কর্মী গহরপুর গ্রামে আসন্ন নির্বাচনী গণসংযোগে বের হন। এ সময় একই গ্রামের বিএনপি কর্মী আলেহীম ও তার সহযোগীদের সঙ্গে জামায়াতের নারী কর্মীদের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। জামায়াতের নেতকর্মীদের অভিযোগ, সংগঠনটির নারী কর্মীরা গহরপুর গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গেলে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
জনগণের সমর্থন না থাকায় পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বিএনপিÑ এমন অভিযোগ করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে এসব ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা জাতির সঙ্গে বেঈমানির শামিল।’ গত ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াতের নায়েবে আমীর বলেন, ‘নারীদের ওপর এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্ব পিছিয়ে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশকে পিছিয়ে দেবে।’ এ সময় তিনি জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।
জামায়াত নেতার ওপর হামলা, বিএনপি প্রার্থীর ছেলেকে তলব
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হারুনুর রশিদের ছেলে রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফিকে তলব করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। গত ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার কমিটির চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ মো. মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই তলব আদেশ জারি করা হয়। মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে কমিটি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোশংকরবাটী এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ এবং তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়ার উপস্থিতিতে তাদের ছেলে রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি একটি বেআইনি জটলা সৃষ্টি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওইসময় সেখানে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর পৌর এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আজিজুল হক নূরের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি এই ঘটনাকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এবং সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮-এর ৩, ১৫ ও ২৭ বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় নাচোল সিভিল জজ আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে এই ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফিকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারিক কমিটি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, জামায়াতের নিন্দা
ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর নির্বাচনী প্রচারকালে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগ চালানোর সময় একটি বড় দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। এ ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।