আলোকে তিমিরে

‘হ্যাঁ’ জিতলে জাতি গন্তব্যে পৌঁছাবে


২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৯

॥ মাহবুবুল হক ॥
বাংলাদেশে এখন ‘টপ অব দ্য কান্ট্রি’ হলো জাতীয় নির্বাচন। এ পর্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আমরা যেসব খবর পাচ্ছি, তাতে অনুমিত হয় বাংলাদেশের ভোটার এবার চিন্তার দিক থেকে এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সেটা হলো সব দল দেখা শেষ, এবার হবে ইসলামী বাংলাদেশ- এ ধরনের কথা বা স্লোগান আমরা ছেলেবেলায় শুনেছি। তবে সে স্লোগান ছিল ইউনিয়ন কাউন্সিলের নির্বাচনে। জাতীয় নির্বাচনে এ ধরনের ঢেউ মাঝে মাঝে আসেনি, তেমন নয়। ১৯৭০-এর জাতীয় নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমি কলাগাছ দাঁড় করিয়েছি, তোমরা কলাগাছে ভোট দিবা’। আরেকবার শেখ সাহেবের কন্যা হাসিনা বলেছিলেন, অনেক তো দেখলেন, এবার আমাদের ভোট দিন। আমরা তো ২২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। তিনি কাঁদো কাঁদো স্বরে বলেছিলেন, আর কতদিন আমরা বাইরে থাকবো- এটা ছিল এক ধরনের বিনয়, এক ধরনের আর্তি, এক ধরনের দয়া-কামনা। ইউনিয়ন কাউন্সিলে যেটা ঘটতো, তা হলো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হয়তো ৩০-৪০ বছর ধরে একাধারে ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, চেয়ারম্যান ছিলেন। বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছেন, এলাকার বয়স্কজন তাকেই হয়তো আবার পূর্ব পদে রাখতে চান। তরুণ সম্প্রদায়ের ভোটাররা দ্বিমত পোষণ করেন। তাদেরই একটা অংশ হয়তো এ ধরনের স্লোগান বা আওয়াজ উত্থাপন করতো।
জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিভিত্তিক হয় না। এখানে দলের প্রভাব থাকে অনেকাংশে বেশি। প্রার্থী কোন দলের, সেই বিবেচনাটাই বড় হয়ে দেখা দেয়। যদিও গতবার পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচনও হয়েছে দলের ভিত্তিতে। এখন প্রশ্ন হলো- শহরে-বন্দরে না হোক, এ আওয়াজ সেভাবে না উঠলেও গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে বেশ পূর্ব থেকেই বিভিন্নভাবে বা ভিন্নতর বাক্যে এ ধরনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। মিডিয়া এখন গ্রাম-গ্রামান্তরে পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে কেউ আছেন শৌখিন, কেউ আছেন শিক্ষানবিশ সাংবাদিক, কেউ আবার উপজেলা থেকে প্রকাশিত ছোট আকারের সংবাদপত্রের সাথে জড়িয়ে আছেন। তাদের সাক্ষাৎকারে বিলক্ষণ আমরা এসব দেখছি বা শুনছি। তাছাড়া নানা কারণে আমরা শহর থেকে নিজের বাড়ির যাতায়াত পথে বা শ্বশুরবাড়ির যাতায়াত পথে এ ধরনের কথাবার্তা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। প্রথমে মনে হতো যারা একই ধরনের সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, তারা হয়তো কোনো ইসলামী দলের লোক, তারাই হয়তো সাক্ষাৎ গ্রহণকারী সাংবাদিকতুল্য ব্যক্তিকে এ ধরনের কথা শিখিয়ে দিচ্ছেন। এ স্লোগানের বিরোধীরা একসময় আশঙ্কা করেছেন- এটাও একটা ব্যবসা। কোনোরকমে একটা মোবাইল কিনে সহজেই তো জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। ছাত্রনেতা বা ছাত্র হলে তো ‘পোয়াবারো’। কে জিজ্ঞেস করবে। তুমি আবার কবে সাংবাদিক হলে বা তুমি কোন পত্রিকার বা কোন মিডিয়ার সাংবাদিক। তোমার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড আছে কিনা।
সুতরাং দেশে এখন হাজার হাজার এ ধরনের সাংবাদিক রয়েছেন। তারা যে শুধু কৌতূহলের কারণে সবাই এসব করছেন, তা তো মনে হচ্ছে না। এর পেছনেও নানা কিছু থাকতে পারে। সেসব থাক। ভালো-মন্দ তথ্য তো পাওয়া যাচ্ছে। তথ্য সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা যেসব তথ্য সরবরাহ করছেন এবং আমাদের যেসব সূত্র আছে, তা থেকে মনে হয় এ বিষয়ে আমরা প্রায় একই জায়গায় পৌঁছেছি। সেটা হলো পাড়াগাঁয়ে যারা কথা বলেন, তারা বলছেন, আমরা শেখ সাহেবের আমল দেখেছি, জিয়াউর রহমানের আমল দেখেছি, এরশাদের আমল দেখেছি, খালেদা জিয়ার আমল দেখেছি, শেখ সাহেবের কন্যা শেখ হাসিনার কয়েকবারের আমল দেখেছি। কিন্তু ইসলামী আমল দেখিনি। পাকিস্তান আমল থেকে ইসলামের কথা আমরা শুনেছি। কিন্তু ইসলামী আমল বলতে যেটা বোঝায়, তা আমরা দেখিনি। এসব আমলের গুণাগুণ নিয়ে তারা দীর্ঘ কথা বলেছেন। সেসব কথা আমরা এখানে আর আনতে চাচ্ছি না। আনলে শুধুই যাবরকাটা হবে। একই জিনিস বার বার শুনলে পাঠকেরও ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে। তবে এটুকুই বলা যায়, ভারতের প্রসঙ্গ নিয়ে বার বার আসছে। সততা ও দুর্নীতির কথা সবাই বলছেন। জীবনের নিরাপত্তার কথা; বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তার কথা, বেকারত্বের কথা, কৃষির প্রতি অনীহার কথা, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ নানা রকমের অনৈতিক বিষয়ের কথা প্রায় সব সাক্ষাৎকারে আমরা দেখতে পাচ্ছি।
কিছুটা উন্নয়ন ছাড়া কোনো বিষয়ে সাধারণ জনগণ যে সন্তুষ্ট নন এবং শেষ দিকে এসে জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন-খুন-গুম-হত্যা এসব যে সম্পূর্ণভাবে দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল- এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত রয়েছে বলে মনে হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা বলেছেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নারী দমন এবং ধীরে ধীরে দেশটা একদলভুক্ত হয়ে যাচ্ছিল, সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় আশঙ্কা। এসব আশঙ্কার কারণেই ছাত্রদের উদ্যোগে ২০২৪ সালে আশাবাদী একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু সে বিপ্লব তো কার্যকরী হলো না, স্থায়ী হলো না, হলে ভালো হতো। যারা বিপ্লব করেছেন, তারা সবাই মিলে যদি অন্তত কিছুকাল সরকার চালাতে পারতেন, তাহলে দেশ ও দশের জন্য ভালো হতো। সেটা হয়নি। সেটার জন্য শুধু বিপ্লবী দলগুলোর দোষ দিয়ে লাভ নেই। এর মধ্যে ভারতীয়সহ অমুসলিম দেশসমূহের বিরাট ষড়যন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে, তারাও তা অনুভব করেন।
বড় দেশগুলো একজোট হয়ে ফিলিস্তিনে যে নারী ও শিশুসহ লাখ লাখ লোককে হত্যা করছে, সে বিষয়টিও সামনে আসছে। সাধারণ মানুষ যখন কথা বলার সুযোগ পায় তখন দুঃখের কথা বলতে সংকোচবোধ করে না। তারা তখন দশ টাকা চালের কেজি এবং প্রতি ঘরে একটা চাকরি পৌঁছে দেয়ার শপথের কথাও বলেন। সেসব সম্পাদনা হয়ে যা কিছু সামনে আসে তাও অনেক। বিশেষ করে ২০২৪ সালের বিপ্লব সম্পর্কে নানা মত রয়েছে। এটা বিপ্লব না অভ্যুত্থান, এর অর্থ বা মানে কী- তারা অতশত বুঝেন না। যে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। যার ফলে একটি সরকার পালিয়ে গেছে, একটা পরিবর্তন হয়েছে। সেসব তারা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পেরেছেন। পরিবর্তনের পর আরও যে পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, তাও তারা অনুভব করেন। সেই পরিবর্তনের বড় বড় বিষয় নিয়ে যে সংস্কারের কাজ চলছে, তাও তারা জানেন। বিচারের কাজ যে দেরিতে হলেও শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে তারা খুশি। তাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেছিলেন, সংস্কারের পর নির্বাচন হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সংস্কারের খসড়া তৈরি হওয়া শেষ না হতেই নির্বাচনের কাজ শেষপ্রান্তে এসে গেছে। এ বিষয়টিকে অনেকে ভালো চোখে দেখেননি। তাদের ধারণা, নির্বাচনটা কোনো পক্ষের কারণে বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। সংস্কারের পক্ষে যে দীর্ঘ পথ তৈরি করা হয়েছে, এ বিষয়টিকেও তারা ভালোভাবে অনুমোদন করতে পারছেন না। তাদের বদ্ধমূল ধারণা, এর পেছনেও কোনো কারসাজি রয়েছে। দুরভিসন্ধি রয়েছে। মোটকথা তারা বুঝে ফেলেছে বিপ্লবের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর যে অঙ্গীকার ছিল, যে নিয়ত ছিল, যে শপথ ছিল, তা অনেকেই ধরে রাখতে পারেননি। ফলে ঐক্যের মহাসাগর নানা নদনদীতে পরিণত হয়েছে, যা পূর্বের অনৈক্যের মোহনায় এসে থিতু হয়েছে। এর কারণ অনেক। দেশি-বিদেশি মহলের হাতের মুঠোয় ছিল এসব।
যাহোক নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট দেয়ায় এ দেশের সাধারণ জনগণ প্রথমে বিব্রতবোধ করেছিল এবং এর পেছনেও দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র ছিল, এখনো আছে। ‘না’ ভোট দেয়ার অঙ্গীকার এখনো অনেকে করছেন। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের কিছু আন্তরিক পরামর্শ রয়েছে। তা হলো দেশ ও বিদেশের সকল ভোটার বিষয়টি এখনো পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেননি। দেশের সকল মানুষ এখনো মিডিয়ায় সমবেত হন না। নানারকম কাজকর্ম থাকে। জীবনকে তারা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতেও পারেন না। স্থানীয় সরকার এত মজবুত নয় যে, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিষয়টি সমাধান বের করতে পারবেন। সরকারের পাবলিসিটি ডিপার্টমেন্ট পূর্বে যেভাবে সিনেমা তৈরি করে সরকারের বিষয়গুলো জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করতে, সেসব প্রক্রিয়াও পূর্বের মতো সচল নয়। এর বিকল্প কী-তা তারা জানেন না। তারা শুধু অনুভব করেন, প্রতি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কেউ না কেউ বিষয়টি সহজ-সরলভাবে বুঝিয়ে দেবে।
কেউ কেউ অবশ্য পরামর্শ দিয়েছেন, স্কাউট, গার্লস গাইডসহ মসজিদের ইমাম, স্কুলের শিক্ষক, মাদরাসার শিক্ষক, ব্যাংকার, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পরিষদ, আনসার, গ্রাম-পুলিশ, এনজিওকর্মী, সেবামূলক সংস্থার কর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগে বা নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে স্থানীয় টিম তৈরি করে মহান এ কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। বিষয়টির গুরুত্ব সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যতটুকু উপলব্ধি করেছেন, ততটুকু কাজ কিন্তু হয়নি। তাদের ধারণা, এখন পর্যন্ত শতকরা ৩০ ভাগ কাজও হয়নি। শুধু সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বিপ্লবের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে দেশের কাজ মনে করে দুর্বার বেগে এগিয়ে আসতে হবে। ভোটাররা কোনো দলকে ভোট না দিতে পারে, কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে। বিশেষ করে বিপ্লবের অন্যতম নায়ক ‘নাহিদ ইসলাম’ খুব খোলামেলাভাবে বিষয়টি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। অন্যরা তাকে এ বিষয়ে অনুসরণ ও অনুকরণ করতে পারেন। জনগণ যা চায়, সবকিছু একসাথে চায়, কিন্তু কখনো একসাথে হয় না। ধৈর্য ধরতে হয়, লাগাতার কাজ করতে হয়। কারণ এ বিষয়টির ওপর দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। ‘হ্যাঁ’ ভোট হয়ে গেলে জাতি ‘রেলমেন্টে’ উঠতে পারে। লাইনচ্যুত জাতি গত ৫৪ বছরে রেলে উঠতে পারেনি। একবার ভালোভাবে রেলে উঠতে পারলে ভুলভ্রান্তি সংস্কার করে দেশ ও জাতির আপন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ৫৪ বছরে আমাদের ডেসটিনি বা গন্তব্য ঠিক হয়নি। আমাদের যাত্রা হয়েছে ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’- কবি শামসুর রাহমান। অথবা লক্ষ্যহারা যান্ত্রিক গোলযোগপূর্ণ বিমানের মতো। কোথায় গিয়ে ঠেকবে অর্থাৎ ধ্বংস্তূপে পরিণত হবে, কেউ তা আমরা জানি না। এখনো আমরা সেই একই অবস্থার মধ্যে দিনযাপন করছি। যারা বিপ্লব করেছেন, তাদের উচিত হবে অন্তত ‘গণভোটটি’ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কাজ করছেন, তারা ভবিষ্যতের কথা না বুঝে এ অপকর্মটি করছেন ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই টিকবে না- এর পেছনে তাদের যুক্তি হলো বিপ্লবোত্তর সময় অল্প কিছুসংখ্যক লোক বলেছিল, ২৪-এর বিপ্লবে আমরা ২য় স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ’৭১ ছিল আমাদের প্রথম স্বাধীনতা, যারা এ কথাটি বলেছেন, তারাও সঠিকভাবে ইতিহাসকে তুলে ধরতে পারেননি। আবেগ আর ইতিহাস এক বিষয় নয়। আশা ও আকাক্সক্ষাও এক বিষয় নয়। এর মধ্যে সূক্ষ্মতর কারুকাজ আছে। আমরা ১ম স্বাধীনতা পেয়েছি ১৯৪৭ সালে, ২য় স্বাধীনতা পেয়েছি ১৯৭১ সালে এবং ৩য় স্বাধীনতা পেয়েছি ২০২৪ সালে- এভাবে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব জমির দলিলের মতো একের পর এক মিউটেশন হয়েছে অর্থাৎ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নামজারি হয়েছে।
২য় বার স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা নামজারি হয়েছে অর্থাৎ পাকাপোক্ত হয়েছে। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের স্বাধীনতা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকে ‘কনফার্ম’ করেছে। ৩য় স্বাধীনতা লাভ করায় ২য় স্বাধীনতার নামজারি স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়েছে। আমরা যদি আমাদের সার্বভৌম ধরে রাখতে পারি অর্থাৎ দখলে রাখতে পারি, তাহলে আমাদের স্বাধীনতা কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। সুখের বিষয় হলো, যারা ‘হ্যাঁ’ পক্ষের লোক, তারা স্বাধীনতার চেয়ে সার্বভৌমত্বকে অনেক পরিচ্ছন্নভাবে উপলব্ধি করেন। তারা জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় মাছ ইত্যাদির চেয়ে জাতীয় পতাকাকে অধিক পরিমাণে জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করার সংকল্পে উদ্দীপ্ত হয়ে আছেন। সীমানার জন্য পতাকা লাগে। অন্য কিছু লাগে না।
এটা আমরা সবাই জানি। এটা সিনেমার গান নয় যে, ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’। দেশ ও জাতির প্রথম পরিচয় হলো তার পতাকা। আমাদের সীমান্তের জন্য তার প্রয়োজন নেই। ১৮ কোটি মানুষ না হলেও ১৭ কোটি মানুষ অহরাত্রি আমাদের সীমান্ত পাহারা দেবে। সীমান্তে দাঁড়িয়ে থেকেই তারা দিনযাপন করবে। সুতরাং আমাদের ভয় কীসের। ‘না’ ভোট যে পরাজিত হবে, সেটা ‘না’ ভোটের মান্যবররাই আমাদের চেয়ে বেশি জানেন। শুধু দালালির চাকরি চিরস্থায়ী করার জন্য তারা এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব চলে যাবে বলে মিথ্যা অপপ্রচার করছে।
তারা ২৪-এর বিপ্লবকে সমর্থন করেনি। বিপ্লবীদের নানাভাবে অত্যাচার-অবিচার, অপমানিত করেছে। তাদের অসম্মানিত ও হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বার বার বলেছে, ‘তোমরা কারা’? তোমাদের তো চিনতে পারছি না। যখন বিনয়ের সাথে তাদের পরিচয় দেয়া হলো, তখন তারা চিৎকার করে বলল, আমরা পেসাব করলেও তো তোমরা ভেসে যাবে।
আল্লাহর রহমতে ওদের পেসাব বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আর তারা উচ্চবাচ্য করছে না। বরং কীভাবে জাল ভোট দেয়া যায়, কীভাবে প্রতিপক্ষকে হতাহত করা যায়, সেসব বিষয় নিয়ে দেশে-বিদেশে তারা খুব ব্যস্ত আছে।
একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি আমাকে বললেন, জাল ভোট কমাতে হলে একটা বিশেষ কাজ করতে হবে। তা হলো ভোটকেন্দ্রে ভোটার ঢোকার আগে তাদের পূর্বাপর ‘টিপচিহ্ন’ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি জটিল হলেও এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়টি আমাদের আগে কেউ যদি বলে থাকেন বা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তাহলে তার প্রতি আমরা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা প্রকাশ করছি। শুরুতেই আমরা সম্মানিত আসল ভোটারকে চিহ্নিত করতে চাই। যিনি সম্মানিত ভোটার, একমাত্র তারই অধিকার থাকবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করার। প্রয়োজনে তাকে আমরা স্যালুট জানাবো, তাকে সম্মানের সাথে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাব। এবারকার ভোটকেন্দ্র হবে ‘ভোট আমানতে’র পবিত্র ঘর। যারা ভোটার নয়, তাদের সেখানে প্রবেশাধিকার যেন না থাকে সেই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ভোটারদের এনআইডি রয়েছে। সেখানে আঙুলের ছাপ রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করা থাকলে বিষয়টি খুব দুরূহ হবে বলে মনে হয় না। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে ‘জাল ভোট’ থেকে বহুলাংশে আমরা দূরে থাকতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচন কমিশন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ঘোষণা করেছে, জাতীয় নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। অর্থাৎ (অন ইওর মার্চ গেট সেট) পর্যন্ত তারা চলে গেছেন। এখন শুধু ‘গো’ বাকি। আমরা ধরে নিচ্ছি, এ মুহূর্তে তারা ‘রিলাক্স মুডে’ আছেন। তাদের কাছে এ মুহূর্তে আমাদের বিশেষ আবেদন- তারা যেন কষ্ট করে হলেও উপর্যুক্ত মহিমাময় কাজটুকু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
শুরু করেছিলাম যে বিষয়ে, সে বিষয়ে স্থিরও থাকতে পারিনি। এজন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি দায়ী। বিশেষ কারণে আমাকে এ অবস্থায় উপনীত হতে হয়েছে।
লেখক : সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

বাংলা সাহিত্যে রোজা
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৬

আল মাহমুদের গল্পে প্রেম ও প্রকৃতি
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৫

প্রেরণার বাতিঘর : আল মাহমুদ
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

বাবারা এমনই হয়
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৩