সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৬

বৈশ্বিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : গুতেরেস
আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র দায়মুক্তির সঙ্গে আচরণ করছে। দেশটি মনে করে তাদের ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বিবিসি রেডিও ৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিশ্বাস কাজ করছে যে, বহুপক্ষীয় সমাধান অপ্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, তা হলো মার্কিন ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রয়োগ। কখনো কখনো সেই প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডকে পাশ কাটিয়ে করা হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টকে আটক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর ইউরোপে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মাঝে জাতিসংঘ মহাসচিব ওই মন্তব্য করেছেন। গুতেরেস বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিগুলোও বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমতার নীতিও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও জাতিসংঘের কড়া সমালোচনা করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি সংস্থাটির অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ট্রাম্প সেই সময় বলেছিলেন, তিনি একাই ‘সাতটি কখনোই শেষ না হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন’, যেখানে জাতিসংঘ ‘এর একটি যুদ্ধ অবসানে সহায়তা করার চেষ্টা করেনি।’ তিনি বলেন, পরে আমি বুঝতে পারি, জাতিসংঘ আমাদের জন্য সেখানে ছিল না। ট্রাম্পের এমন কঠোর সমালোচনার মুখে গুতেরেস স্বীকার করেন, জাতিসংঘ সনদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করাতে সংস্থাটি হিমশিম খাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বড় বড় বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানে জাতিসংঘ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, জাতিসংঘের কোনো চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা নেই; এ ক্ষমতা বড় শক্তিগুলোর হাতেই বেশি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই অতিরিক্ত প্রভাব কি সত্যিকারের ও টেকসই সমাধান আনতে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি কেবল তাৎক্ষণিক সমাধানে সীমাবদ্ধ থাকছে। এ দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। গুতেরেস বলেন, সংস্থাটিতে সংস্কার প্রয়োজন, যাতে ১৯৩টি সদস্য দেশের সামনে থাকা গুরুতর সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়। তিনি বলেন, কিছু মানুষ মনে করে আইনের শক্তির জায়গায় ক্ষমতার আইন বসানো উচিত। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, বহুপাক্ষিক সমাধানকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না; বরং তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রয়োগ এবং কখনো কখনো তা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের তোয়াক্কা না করেই। গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এখন আর বিশ্বকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করে না এবং তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রÑ এর যে কোনো এক সদস্য বর্তমানে প্রস্তাব ভেটো দিতে পারে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই এ ক্ষমতা ব্যবহার করে ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ বন্ধের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে। গুতেরেসের অভিযোগ, ভেটো ক্ষমতা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব স্বার্থ এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে তিনটি ইউরোপীয় দেশ স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছে। পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস ২০১৭ সালে জাতিসংঘের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং চলতি বছরের শেষে তিনি এ দায়িত্ব ছাড়বেন। সাধারণ পরিষদে তার বার্ষিক ভাষণে বিশৃঙ্খল এক বিশ্বের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান বিশ্ব সংঘাত, দায়মুক্তি, বৈষম্য ও অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। বৈশ্বিক ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। চলমান সংঘাতগুলোর মধ্যে গুতেরেস গাজাকে জাতিসংঘের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেন। যুদ্ধের বড় সময়ে গাজায় সহায়তা বিতরণে জাতিসংঘ বাধাগ্রস্ত হয়। ইসরাইল আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন কাঠামোর প্রতি ইঙ্গিত করে গুতেরেস বলেছেন, ১৯৪৫ সালের সমাধান-পদ্ধতি দিয়ে ২০২৬ সালের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। চ্যালেঞ্জ একের পর এক আসছেই, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব পরিবর্তন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রকাশ্য লক্ষ্যের কথাও বলেন তিনি। বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থার মৃত্যু এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষায় কিছু বিশ্বনেতার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তারপরও গুতেরেস বলেন, তিনি আশাবাদী থাকতে চান। ‘আমি মনে করি, মানুষ অনেক সময় শক্তিশালীদের মুখোমুখি হতে অনিচ্ছুক থাকে। কিন্তু সত্য হলো যদি আমরা শক্তিশালীদের চ্যালেঞ্জ না করি, তবে কখনোই আমরা একটি ভালো বিশ্ব গড়ে তুলতে পারব না।’ বিবিসি।

মুখে দাড়ি থাকায় হিন্দু সাধুকে মুসলিম সন্দেহে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করল হিন্দুত্ববাদীরা
ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মাঘমেলা ২০২৬-এর পবিত্র প্রাঙ্গণে ঘটল এক ন্যক্কারজনক ও ভয়াবহ ঘটনা। মাঘ মেলায় নামে এক হিন্দু সাধুর মুখে দাড়ি থাকার কারণে ‘মুসলিম’ সন্দেহে আটক করে এবং মব সৃষ্টি করা হয়। পড়ে তাকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে তার ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ করে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা। প্রধান স্নানের দিনে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ভিড়ের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই মাঘ মেলার সাধুর দীর্ঘ দাড়ি ও বাহ্যিক চেহারা দেখেই একদল উত্তেজিত ব্যক্তি তাকে সন্দেহভাজন বলে চিহ্নিত করে। পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও ভিড় শান্ত হয়নি; বরং তারা ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন চরমে পৌঁছায় যে জনতার চাপে মাঘমেলার ওই সাধুকে নিজের হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় প্রমাণ করতে জনসম্মুখে ধুতি খুলতে বাধ্য করা হয়। ভয়ে, অপমানে ও মানসিক চাপে তিনি কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। আধ্যাত্মিকতার নামে এ ঘটনা মুহূর্তে রূপ নেয় এক নগ্ন ধর্মীয় সন্ত্রাসে। এ ঘটনার পর মেলা প্রাঙ্গণে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সাধুসমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতারই প্রকাশ। যেখানে সন্দেহের ভিত্তিতে মানুষকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে বিচার করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, দাড়ি, পোশাক বা চেহারাই এখন ধর্ম নির্ধারণের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসন ও মেলা কর্তৃপক্ষ অবশ্য ঘটনার গুরুত্ব খাটো করার চেষ্টা করেছে। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় যাচাই একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে প্রশ্ন উঠছে পরিচয় যাচাইয়ের নামে একজন মাঘমেলার সাধুকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করার অনুমতি কে দিলো? এ ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ঘৃণার রাজনীতি শুধু ক্ষমতার করিডোরে সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন জনতার হাতে নেমে এসেছে। আজ একজন সাধু, কাল কে? সিয়াসত ডেইলি।

ট্রাম্পকে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইউরোপের
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কারোপের হুমকির বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপ। ডেনমার্কের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউরোপীয় নেতারা একযোগে ‘ট্রেড বাজুকা’ নামে পরিচিত অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। ট্রাম্পের এ অবস্থানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জবরদস্তি হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যার জবাবে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান এবং জার্মান এমইপি বের্ন্ড লাঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এ ধরনের চাপ মোকাবিলার জন্যই ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানান, ট্রাম্প যদি শুল্ক হুমকি বন্ধ না করেন, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে পারে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যানুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো বা ১০৮ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্কারোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে গৃহীত ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ কার্যকর করা হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
ডেনমার্কের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউরোপের অন্তত আটটি দেশ একযোগে অবস্থান নিয়েছে এবং বলেছে, এ হুমকি ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ককে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে- গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই কেনাবেচার বিষয় নয়। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কস্তা বলেন, ইউরোপ যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক জবরদস্তির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় প্রস্তুত। অ্যান্তোনিও কস্তা আরও বলেন, শুল্কের হুমকি পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে এবং একটি বিপজ্জনক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি জানান, ইউরোপ তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ। এরই মধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং জুন থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপ করা হবে, যতক্ষণ না গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে সমঝোতা হয়। এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি। ডেনমার্ক অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো প্রশ্নই নেই। এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকলে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটতে পারে। এর প্রভাব শুধু বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নয়, বরং ন্যাটোর মতো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা জোটের ভবিষ্যতেও গভীর ছাপ ফেলতে পারে। আল-জাজিরা।

ইরান নিজস্ব ইন্টারনেট ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম চালু করছে
ইরান এবার নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি সম্পূর্ণ আলাদা ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। নতুন এ প্ল্যাটফর্মে থাকবে দেশের উদ্ভাবিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এতে তথ্য ও যোগাযোগের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে থাকবে, যা নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা সীমিত রাখা হবে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী জনরোষে রূপ নেয়। এ বিক্ষোভে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা থাকায় দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গত ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এরপরও অবৈধভাবে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে জনগণের সুরক্ষা ও জনসংখ্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এ পরিস্থিতিতে ইরান ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তির বিকাশে মনোযোগ দিয়েছে। ফিল্টারওয়াচের তথ্যানুযায়ী, নতুন জাতীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থায় থাকবে সরকার অনুমোদিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, ন্যাভিগেশন সেবা এবং স্ট্রিমিং সাইট। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অনলাইনে সংযুক্ত থাকতে পারবে। ইরান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিকদের জন্য জাতীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য সীমিত আন্তর্জাতিক সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে তথ্যের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল স্থিতিশীলতা বাড়বে, যা দেশের সাইবার নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের পর দেশটি এখন নিজস্ব ও স্বায়ত্তশাসিত প্রযুক্তির দিকে দৃঢ়ভাবে এগোচ্ছে। নেটব্লকসের তথ্যানুযায়ী, ব্ল্যাকআউটের সময়কালে কার্যকর কোনো আন্তর্জাতিক সংযোগ ছিল না। নতুন জাতীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু হলে ইরান বিশ্বের প্রথম এমন দেশ হিসেবে প্রতিস্থাপন করবে যেখানে ডিজিটাল সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইরানের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও স্বায়ত্তশাসিত, নিরাপদ ও আধুনিক করে তুলবে। মেহের নিউজ।

ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটি ছাড়ল মার্কিন সেনারা
ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। সেখানে মার্কিনি ছাড়াও তাদের নেতৃত্বাধীন অন্যান্য দেশের সেনারাও ছিল। তারা ঘাঁটি ছাড়ার পর এটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরাকের সেনাবাহিনী। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের চৌকস ইউনিট কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর বদলা নিয়ে আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে বিপুল মিসাইল ছুড়েছিল ইরান। এতে এ ঘাঁটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইরানের হামলার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ওইসময় সেখানে থাকা মার্কিন সেনাদের অনেকের মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে চুক্তি হয়। এর অংশ হিসেবেই ঘাঁটি থেকে সরে গেছে মার্কিন সেনারা। ইরাকি সেনাবাহিনীর এক কর্নেল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ঘাঁটি ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে অল্প কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তারা শুধুমাত্র কিছু লজিস্টিক কাজের জন্য এখানো এ ঘাঁটিতে আছেন। কাজ শেষ হলে তারাও চলে যাবেন। নিরাপত্তার কারণে এর বেশি তথ্য জানাননি ইরাকের সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র কখন সেনাদের প্রত্যাহার করা শুরু করেছিল সেটি নিশ্চিত নয়। রয়টার্স।

ধনকুবেরদের প্রভাবে গণতন্ত্র হুমকির মুখে : অক্সফাম
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম তাদের বার্ষিক বৈষম্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গত ১৯ জানুয়ারি সোমবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে সংস্থাটি উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ধনী বা ধনকুবেররা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় ধনকুবেরদের রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪ হাজারগুণ বেশি এবং বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই এখন তাদের মালিকানাধীন। অক্সফামের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ধনকুবেরদের মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের নিম্নআয়ের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বা ৪.১ বিলিয়ন মানুষের মোট সম্পদের সমান। গত বছর বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। দাভোসের সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতারা মিলিত হলেও, অক্সফাম সতর্ক করেছে যে অতি ধনীদের এ আধিপত্য গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেফ বেজোস ওয়াশিংটন পোস্ট কিনে নেওয়া, ইলন মাস্কের টুইটার (বর্তমানে এক্স) অধিগ্রহণ এবং প্যাট্রিক সুন-শিয়ং বা ভিনসেন্ট বোলোরের মতো ধনকুবেরদের গণমাধ্যম মালিকানা তথ্যের অবাধ প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার বলেন, রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতির ওপর অতি ধনীদের এ অস্বাভাবিক প্রভাব বৈষম্যকে আরও গভীর করেছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য থেকে বিশ্বকে বিচ্যুত করছে। তার মতে, ধনকুবেররা এখন সরাসরি বিচারক বা নির্বাচনকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখছে, যা সাধারণ মানুষের অধিকারকে সংকুচিত করছে। বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন যখন ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠছে, তখন সরকারগুলো ধনীদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত বলে অক্সফাম অভিযোগ করেছে। গত বছর ৬৮টি দেশে অন্তত ১৪২টি বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আল-জাজিরা।

কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি দিলো সিরিয়া
কুর্দিদের অধিকার নিশ্চিত করে একটি আদেশ জারি করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। এতে প্রথমবারের মতো কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং সব কুর্দি সিরিয়ানকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা। গত সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় ভয়াবহ সংঘর্ষের পর এ আদেশ জারি করা হয়। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হন এবং শহরের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত দুটি এলাকা থেকে দেড় লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে কুর্দি যোদ্ধারা সরে গেলে সংঘর্ষের অবসান ঘটে। আলেপ্পোর এ সহিংসতা সিরিয়ার অন্যতম গভীর বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে। ১৪ বছরের যুদ্ধের পর এক নেতৃত্বের অধীনে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রেসিডেন্ট শারার প্রতিশ্রুতি কুর্দি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। কুর্দি বাহিনীগুলো শারার ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সন্দিহান। নতুন আদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কুর্দি সিরিয়ানদের অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এতে কুর্দি পরিচয়কে সিরিয়ার জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। আরবির পাশাপাশি কুর্দি ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং স্কুলগুলোয় কুর্দি ভাষা শিক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে পরিচালিত আদমশুমারির সময় যেসব কুর্দির সিরীয় নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে আগে যারা রাষ্ট্রহীন হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন, তাদেরসহ সব ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আদেশে জাতিগত ও ভাষাগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। রয়টার্স।

সৌদি আরবে ৭৮ লাখ আউন্স সোনার বিশাল মজুদ আবিষ্কার
সৌদি আরব চারটি ভিন্ন স্থানে মোট ৭৮ লাখ আউন্স সোনার বিশাল মজুদের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি ‘মাদেন’ এ সোনার সন্ধান পেয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা খনি এবং নতুন ও পুরোনো বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক খনন কার্যক্রম চালানোর পরই এ সাফল্য এসেছে। গত ১২ জানুয়ারি এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। মাদেন জানিয়েছে, কোনো একটি দেশের ভেতরে চালানো খনিজ অনুসন্ধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহত্তম প্রচেষ্টা। কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক খননকাজে ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) আউন্সের বেশি সোনার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে খনন ব্যয়, পণ্যের দামসহ বার্ষিক সাধারণ হিসাব-নিকাশ সমন্বয়ের পর প্রকৃত নতুন সোনার মজুদের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ৭৮ লাখ আউন্স। সবচেয়ে বেশি সোনা পাওয়া গেছে মাদেনের প্রধান প্রকল্প ‘মানসুরা মাসারাহ’ থেকে। গত এক বছরে এ প্রকল্পে নতুন করে ৩০ লাখ আউন্স সোনা যোগ হয়েছে। এছাড়া ‘উরুক ২০/২১’ ও ‘উম আস সালাম’ এলাকা থেকে মোট ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স সোনার সন্ধান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ‘ওয়াদি আল জাও’ এলাকায় প্রথমবারের মতো ৩৮ লাখ আউন্স খনিজ সম্পদের খোঁজ মিলেছে। মাদেন জানিয়েছে, ‘সেন্ট্রাল অ্যারাবিয়ান গোল্ড রিজিওন’-এ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খননকাজ চালানোর ফলে বেশ কয়েকটি নতুন খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক ‘মাহদ’ স্বর্ণখনির আশপাশে অনুসন্ধান চালিয়েও নতুন খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর ফলে খনিটির কার্যকাল আরও বাড়ানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হবে। মাদেনের প্রধান নির্বাহী বব উইল্ট জানিয়েছেন, এসব ফলাফল কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান কৌশল যে সঠিক পথে রয়েছে, তা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, ‘চারটি এলাকায় ৭০ লাখ আউন্সেরও বেশি সোনা যুক্ত হওয়া আমাদের স্বর্ণভাণ্ডারের বিশালতা ও সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে।’ তিনি আরও বলেন, এ প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে কোম্পানির আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেখায় যে ‘অ্যারাবিয়ান শিল্ড’-এ স্বর্ণের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কোম্পানি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। সোনার পাশাপাশি অন্যান্য খনিজের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মাদেন। ‘জাবাল শায়বান’ ও ‘জাবাল আল ওয়াকিল’ এলাকায় প্রাথমিক খননকাজে তামা, নিকেল এবং প্ল্যাটিনাম গ্রুপের ধাতুর সন্ধান পাওয়া গেছে। মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে বর্তমানে মোট খনিজ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন। এখানে প্রতি টনে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ (১০.৪ মিলিয়ন) আউন্স। মাদেন জানিয়েছে, গভীর স্তরে আরও খনিজ সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেখানে খননকাজ চালানো হবে। এ আবিষ্কারকে সৌদি আরবের খনি খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে খনি খাতকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ভয়াবহ বিস্ফোরণে আফগানিস্তানে ৭ জন নিহত
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জনের বেশি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তালেবান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, কাবুলের শার-ই-নাও এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বিদেশিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এবং রাজধানীর তুলনামূলক নিরাপদ অঞ্চলগুলোর একটি বলে বিবেচিত। তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মাতিন কানি ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, প্রাথমিকভাবে হতাহতদের তথ্য পাওয়া গেছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এদিকে কাবুলে একটি হাসপাতাল পরিচালনাকারী ইতালীয় এনজিও ‘ইমার্জেন্সি’ এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার বিকেলে শার-ই-নাও এলাকায় তাদের হাসপাতালের কাছেই বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর সেখান থেকে অন্তত ২০ জনকে কাবুলের ইমার্জেন্সি সার্জিক্যাল সেন্টারে আনা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তানে; বিশেষ করে কাবুলে বিস্ফোরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমেছে। তবে দেশটিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং মাঝে মাঝে হামলা চালাচ্ছে। চলতি ২০২৬ সালেও আফগানিস্তানে একাধিক আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্স।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি পর্ষদে’ আমন্ত্রণ পেলেন পুতিন
বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসন এবং গাজায় শাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এমন একসময়ে এ আমন্ত্রণ জানানো হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও শান্তি আলোচনা সম্প্রতি ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিতব্য এ ‘বোর্ড অব পিস’-এ অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী নেতা ও ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিনও বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তিনি বলেন, মস্কো এ প্রস্তাবের সব দিক ও সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পুতিন এতে অংশ নিতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি পেসকভ। এদিকে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও এ বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ ও পরবর্তী শাসনব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোটি তিন স্তরবিশিষ্ট, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকবে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও উঠেছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্প নিজে, ইসরাইলপন্থী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষ পর্যায়ে রাখা হলেও ফিলিস্তিনিদের কেবল তৃতীয় স্তরে সীমিত পৌর দায়িত্বে আবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আল-জাজিরা।

ক্ষমতার তিন মাসের মাথায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি জানিয়েছেন, তিনি আগামী ২৪ জানুয়ারি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে একটি আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেবেন। তার ব্যয় পরিকল্পনা ও অন্যান্য নীতির পক্ষে ভোটারদের সরাসরি সমর্থন আদায় করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি ২৩ জানুয়ারি নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় এ আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তিনি। এ আকস্মিক ভোটে সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই হবে তাকাইচির প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ওপর নিজের দখল আরও মজবুত করতে চান তাকাইচি। একইসঙ্গে জোট সরকারের ভঙ্গুর সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে শক্তিশালী করাও তার লক্ষ্য। এ নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন জাপানে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা মূল্যবৃদ্ধিকে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপরই রয়েছে কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা, যা উল্লেখ করেছেন ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা। রয়টার্স।

কলম্বিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে গেরিলাগোষ্ঠীর সংঘর্ষে ২৭ জন নিহত
কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গল এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বামপন্থি একটি গেরিলাগোষ্ঠীর অন্তত ২৭ সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে তারা প্রাণ হারান বলে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষ ঘটে গুয়াভিয়ারে বিভাগের এল রেতোরনো পৌরসভার গ্রামীণ এলাকায়। অঞ্চলটি রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং কোকেন উৎপাদন ও মাদক পাচারের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সংঘর্ষে জড়ায় কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর (ফার্ক) দুটি বিভক্ত গোষ্ঠী। একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন নেস্তর গ্রেগোরিও ভেরা, যিনি ‘ইভান মর্দিস্কো’ নামে পরিচিত। অপর গোষ্ঠীর নেতা আলেকজান্ডার দিয়াস মেনদোজা, যার পরিচিত নাম ‘কালারকা কর্দোবা’। সামরিক কর্মকর্তারা জানান, দুটি গোষ্ঠী আগে ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’ নামে পরিচিত একই জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তারা আলাদা হয়ে যায়। নিহত ২৭ জনই ভেরার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মেনদোজার গোষ্ঠীর এক নেতা সংঘর্ষ ও প্রাণহানির তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে দিয়াস মেনদোজার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। বিপরীতে, ভেরার গোষ্ঠী সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি স্থগিত হওয়ার পরও সহিংস তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য, এ দুটি গোষ্ঠীই ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল, যার আওতায় প্রায় ১৩ হাজার ফার্ক সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা কলম্বিয়ার সশস্ত্র সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাদক পাচার ও অবৈধ খননই এসব গোষ্ঠীর প্রধান অর্থের উৎস, আর চলমান সহিংসতার কারণে প্রেসিডেন্ট পেত্রোর শান্তি উদ্যোগও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রয়টার্স।

ইসরাইলকে পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপন প্রকল্প বন্ধের আহ্বান ইইউ’র
অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের হাজার হাজার নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। অধিকৃত পশ্চিমতীরে ই১ বসতি প্রকল্পটি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ সতর্ক করে বলেছে, বসতি সম্প্রসারণ এগিয়ে নেওয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এমনটাই জানিয়েছে আনাদোলু। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি বলেন, “ই১ পরিকল্পনার আওতায় ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের দরপত্রের সময়সীমা প্রকাশ এবং তথাকথিত ‘সার্বভৌমত্ব সড়ক’ নির্মাণে অগ্রগতি একটি ‘গুরুতর উসকানি’।” ব্লকটি পূর্ব জেরুসালেমের আতরোত ও নাহালাত শিমন এলাকায় বসতি পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এল আনৌনি বলেন, ‘ইসরাইলের বসতি নীতি ‘শান্তির পথে একটি বাধা’; এটি পশ্চিম তীরে আরো অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করে, হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে, পশ্চিমতীরকে খণ্ডিত করে এবং সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের আরো কার্যকলাপকে উৎসাহিত করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে জেরুসালেমকে উভয় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজধানী হিসেবে ধরে নেওয়া দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাও ক্ষুণ্ন হয়।’ তিনি বলেন, ‘ইইউ ইসরাইল সরকারকে অবিলম্বে বসতি সম্প্রসারণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় পশ্চিমতীরে, পূর্ব জেরুসালেমসহ, নতুন বসতি পরিকল্পনার অনুমোদন দ্রুত ও ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে।’ ব্লকটি ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার দায়িত্ব পালনের এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে। মিডল ইস্ট আই।

২০২৬ হতে পারে রেকর্ডভাঙা উষ্ণতম বর্ষ
২০২৬ সাল সম্ভবত বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ চার বছরের মধ্যে একটি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ। দেশটির জলবায়ু বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেটডাটা.সিএ-তে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরটি রেকর্ডভাঙ্গা উষ্ণ বছরগুলোর তালিকায় থাকার প্রায় নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১.৩৫ থেকে ১.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করবে। বিজ্ঞানীরা বলেন, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও কোনো একক বছরে ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করাকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয় না, বিজ্ঞানীরা একে উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়লে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন এবং বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এনভায়রনমেন্ট কানাডার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে, যা টানা ১৩তম বছর হিসেবে রেকর্ড হবে। একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থ। ক্লাইমেটডাটা.সিএ।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় টিকা সংকটে রোগের উচ্চঝুঁকিতে শিশুদের জীবন
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় রোগের ঝুঁকি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধসের কারণে শিশুরা প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে এ সতর্কবার্তা জানিয়েছে ইউএনআরডব্লিউএ। ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকেই গাজার শিশুরা প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মিত টিকা থেকে বার বার বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। লাজারিনি জানান, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া, কম তাপমাত্রা, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে টিকাদান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় শিশুদের জীবন বাঁচাতে অব্যাহতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও ১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ সময়ে ৪৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৮৭ জন আহত হয়েছে। এ পরিস্থিতি শিশুরা এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং টিকা সংকট আরও গভীর করছে। আনাদোলু এজেন্সি।

কাশ্মীরে মসজিদ-মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ঘিরে উদ্বেগ
ভারত-শাসিত কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরে মসজিদগুলো নিয়ে পুলিশের নতুন তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম ঘিরে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি কাশ্মীর পুলিশ একটি চার পৃষ্ঠার ফরম বিতরণ শুরু করেছে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘মসজিদ প্রোফাইলিং’। এতে মসজিদের আদর্শিক মতবাদ, প্রতিষ্ঠার সাল, অর্থের উৎস, মাসিক ব্যয়, জমির মালিকানা এবং একসঙ্গে কতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন-এমন নানা তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফরমের বাকি অংশে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে মোবাইল নম্বর, ইমেইল, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক হিসাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য। এমনকি আত্মীয়-স্বজন বিদেশে থাকেন কি না, সেসব বিষয়ও তথ্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। শ্রীনগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ নওয়াজ খান বলেন, ‘এত বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য কেন প্রয়োজ তা আমাদের বোধগম্য নয়। সংঘাতপূর্ণ একটি অঞ্চলে এ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ পরিবারগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’ একই ধরনের ফরম কাশ্মীরের মাদরাসাগুলোর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কাশ্মীরের শীর্ষ ধর্মীয় জোট মুত্তাহিদা মজলিস-ই-উলামা (এমএমইউ) এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেছে, মসজিদ ধর্মীয় উপাসনা ও সমাজসেবার স্থান। এর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোয় এভাবে হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি একে মুসলিম সমাজের মধ্যে ভয় ও অনাস্থা তৈরির চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এ পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘মসজিদকে অপরাধস্থলে পরিণত করা হচ্ছে। সরকার কি একইভাবে মন্দির, গুরুদ্বারা বা গির্জার ক্ষেত্রেও এমন তথ্য সংগ্রহ করবে?’ তবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির কাশ্মীর মুখপাত্র আলতাফ ঠাকুর বলেন, অতীতে কিছু মসজিদ রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তাই স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারি প্রয়োজন। ২০১৯ সালে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সীমিত হওয়ার অভিযোগ আসছে। প্রধান জামিয়া মসজিদ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এবং ঈদের জামাতে বিধিনিষেধ আরোপ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আল-জাজিরা।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান

বাংলা সাহিত্যে রোজা
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৬

আল মাহমুদের গল্পে প্রেম ও প্রকৃতি
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৫

প্রেরণার বাতিঘর : আল মাহমুদ
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

বাবারা এমনই হয়
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৩