নির্বাচনের প্রাক্কালে পুলিশের ঢিলেমি, উদ্বিগ্ন ভোটার-প্রার্থীরা

সন্ত্রাসী-অস্ত্র উদ্ধারে গতি নেই


৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৩

॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
মনোনয়ন বাছাই সম্পন্ন হবার পর নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে উঠছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনা। কিন্তু লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং পুলিশে দোসর আওয়ামী কর্মকর্তাদের অনেকেই বহাল তবিয়তে থাকায় সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরও পুলিশের ঢিলেঢালায় এ আশঙ্কা আরও জোরদার হচ্ছে।
দেশে গত এক বছরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতায় আড়াই শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়। নিহত হয় শতাধিক ব্যক্তি। এসব ঘটনায় জুলাই গণআন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এতে আওয়ামী দোসর ক্যাডারদের সাথে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও দলীয় পুলিশ সদস্যদের যোগসাজশ পরিস্থিতিকে ভয়ংকর করে তুলছে। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইযোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে খোদ রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর বাইরে দেশব্যাপী গুলিতে আরো অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হন। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদা না পেয়ে বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের চকবাজার থানা এলাকার এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিস্থিতি উপ্তত্তের মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে।
পুলিশের ঢিলেঢালাভাব
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলায়নের পর তার নিয়োগকৃত দোসর পুলিশ কর্মকর্তাদের অধিকাংশই এখনো বহাল তবিয়তে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চিহ্নিত এসব কর্মকর্তার অধিকাংশই গোপালি ও ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবে অভিযোগ ছিল। যার ফলে তারা অনেকাংশই দায়িত্ব পালনে আন্তরিক নয় বলে দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে।
বিশেষ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনায় পুলিশ ও তাদের গোয়েন্দা তৎপরতায় ব্যাপক শৈথিল্য রয়েছে বলে আবারো প্রমাণ হয়। এছাড়া বিগত কয়েক মাসে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে গুলিতে নিহত হন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ব্যস্ততম সড়কে আব্দুল হাকিম নামে একজনকে গুলি করে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। গত বছর ২০ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজানে এক রাজনৈতিক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত ২১ জুন নরসিংদীর পলাশে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ইসমাইল হোসেন ছয় দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান। রাজধানীর পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে এক বিচারপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যা, মিরপুরে যুবদল নেতাকে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে খুন করাসহ নানা বিষয়ে পুলিশের ব্যর্থতা সবার নজরে এসেছে।
গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার অদূরে মেঘনা ব্রিজের নিকট জ্যামে পড়া শত শত গাড়ির সামনে প্রকাশ্যে ত্রাস ও ভাঙচুর করে বহু গাড়িতে ডাকাতি করা হয়। ঘটনার সময় পুরো রাস্তায় জ্যামের মধ্যেই একের পর এক বাস প্রাইভেট কার মাইক্রোবাস ভাঙচুরসহ লুটপাট করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো একটি জায়গায় কোনো পুলিশ প্রশাসন চোখে পড়েনি। এভাবে বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণে সারা দেশের, বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা তথা পুলিশ বাহিনীর যথাযথ কার্যক্রম নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রাজনৈতিক ও অপরাধ বিশ্লেষকরা। যদিও পুলিশ বলছে, নির্বাচন অনুষ্ঠান চ্যালেঞ্জিং হলেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই।
চট্টগ্রাম নগরীর খন্দকারপাড়ায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে ৫ নভেম্বর হঠাৎ গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় নিহত হন সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার ২ দিনের মাথায় এমন খুনের ঘটনায় দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। এছাড়া মনোনয়ন ঘোষণার পরই বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে মাদারীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ কয়েকটি জেলায়। তফসিল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি ঘটছে খুনের ঘটনা। বছরের প্রথম ৯ মাসে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ গেছে ৮৪ জনের। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা তো আছেই।
উদ্ধার নেই এক হাজার ৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র
জুলাই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২টি ভয়ংকর অস্ত্রও রয়েছে। এর মাঝে এখনো এক হাজার ৩৩৫টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আর দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৮৯টি গুলি এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, এর সঙ্গে থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় এসব অস্ত্র অপরাধীর হাতে চলে গেছে। এসব অস্ত্রে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করার প্রমাণ রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় কিশোর গ্যাংসহ অন্য সন্ত্রাসীদের হাতে এখন অনেক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
সক্রিয় হয়ে উঠছে আন্ডারওয়ার্ল্ড
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অন্তত ছয়জন শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পান। এর মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, ‘কিলার আব্বাস’ হিসেবে পরিচিত মিরপুরের আব্বাস আলী, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, ঢাকার অপরাধ জগতের আরো দুই সদস্য নাঈম আমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু ও পূর্ব রাজাবাজার এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আসলাম হোসেন ওরফে সুইডেন আসলাম। জানা গেছে, জামিনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় দেশে নতুন করে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। যাদের সংগঠিত করার পিছনে পলাতক আওয়ামী লীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসী-গডফাদারদের হাত রয়েছে।
ইংল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের কোডযুক্ত নম্বর থেকে ফোন করে ‘চাঁদা দিতে হবে’ এমন বার্তা পেয়ে আতঙ্কিত ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করছেন। হাজারীবাগে নির্মাণাধীন ভবনে ভয়ংকর অস্ত্রের মহড়া, ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। অনেকের মতে এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য মূলত নির্বাচনের আগে এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজির ব্যাপ্তি বাড়ানো।
মিরপুরের অপরাধজগতে সম্প্রতি ‘ফোর স্টার’ নামে একটি নতুন গ্যাংয়ের উত্থান ঘটেছে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মামুন, ইব্রাহিম, শাহাদাত ও মুক্তার নেতৃত্বে পরিচালিত এ চক্র চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়ে পল্লবী এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। গত এক বছরে মিরপুর জোনে গ্যাং-সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের যে রেকর্ড তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে এ চক্রের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রভাবশালি এক রাজনৈতিক নেতা এ ‘ ফোর স্টার’ গ্রুপের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। তার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং তিনি তাদের ব্যবহার করে এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখছেন।
এই ফোর স্টার গ্রুপের শেল্টারদাতা এবং মিরপুর অঞ্চলে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দলটির তৃণমূলের ভেতর। একসময় তার স্বচ্ছ ভাবমর্যাদা থাকলেও রাজনীতির ময়দানে তা এখন বিতর্কের ঘূর্ণিপাকে। দলে আদর্শ ফেরানোর পরিবর্তে তিনি চাঁদাবাজি, পদ বাণিজ্য, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের ‘শেল্টার’ দেওয়া এবং স্বৈরাচারী গোষ্ঠীর দোসরদের পুনর্বাসনের মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্তÑ এমন অভিযোগ উঠেছে নিরপত্তাসংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থার তথ্য ও তৃণমূলের কর্মীদের বক্তব্যে। মিরপুরে নিহত দলীয় নেতার শুটারকে গ্রেফতারের কয়েকদিনের মধ্যে জামিনে বের করে আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন আওয়ামী মদদপুষ্ট দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের গা-ছাড়া ভাবে কারণে এসকল শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পুলিশ তাদের তৎপরতা বাড়াচ্ছে না এবং তাদের নিকট বার বার অভিযোগ দায়ের করার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
সীমান্ত দিয়ে ঢোকানো হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র
বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র বলছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া, কুমিল্লা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর, সোনামসজিদ, আজমতপুর, বিলভাতিয়া, ঝিনাইদহের মহেশপুরের জুলুলি, সাতক্ষীরার কলারোয়ার তলুইগাছা ও শাঁকারা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার সীমান্ত এলাকা। নির্বাচনকে কেন্দ্র এ চক্রটি বেপরোয়া রয়েছে।
পরিস্থিতি নষ্ট করার লক্ষ্যে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত দিয়ে টার্গেট করে দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করানো হচ্ছে। তবে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া এসব আগ্নেয়াস্ত্র। দ্রুত এসব অস্ত্র উদ্ধার করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে কিছু অসাধু চক্র সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আনার চেষ্টা করছে।
৮ লাখ সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা করছি না-ডিএমপি মুখপাত্র
সার্বিক বিষয়ে সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘যেসব আসনে অতীতের নির্বাচনগুলোয় সহিংসতা হয়েছে কিংবা ৫ আগস্টের পর যেসব এলাকায় অপরাধ বেশি সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আলাদা করে ব্যবস্থা নিতে পারে। অর্থাৎ তাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। অন্যথায় আক্রমণ বাড়তে থাকলে এটা অন্য প্রার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হবে। কোনো প্রার্থী প্রচারে বের হলে তিনি আক্রমণের মুখোমুখি হতে পারেন। আহত-নিহতের ঘটনা তাদের প্রভাবিত করলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার যে বৈশিষ্ট্য, সেটা তো পিছিয়ে পড়বে।’
তবে নির্বাচনে ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। পুলিশ বলছে, চল্লিশ হাজার সদস্যকে এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেয়া হয়েছে পুরস্কারের ঘোষণা। যেকোনো প্রস্তুতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, মাথায় রাখতে হবে, এ ঘটনাগুলো এবারের নির্বাচনে ঘটার আশঙ্কা বেশি থাকবে। এটা শুধু বিএনপির দিক থেকেই ঘটছে, তা না। অন্যান্য দলের ক্ষেত্রেও এটা হতে পারে। তাই এ নিয়ে আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে।
তবে নির্বাচনে ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। পুলিশ বলছে, চল্লিশ হাজার সদস্যকে এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেয়া হয়েছে পুরস্কারের ঘোষণা। যেকোনো প্রস্তুতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছেন তারা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি চলমান ছিল। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাকি যে কাজগুলো রয়েছে, সেগুলো গুছিয়ে নেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যেটা করণীয়, সেটা পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন প্রক্রিয়াধীন। আমরা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা করছি না। আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো মোকাবিলা করার সক্ষমতাও আমাদের রয়েছে। সেনা, পুলিশ ও আনসারসহ ৮ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করবে।