জন্মাচ্ছে কম ওজনের অপরিণত শিশু

বায়ুদূষণে বাড়ছে হৃদরোগ-স্ট্রোক


৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৭

॥ হামিম উল কবির ॥
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বায়ুদূষণের দেশ। হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, এমনকি মায়ের গর্ভে থাকা অনাগত সন্তান ত্রুটি নিয়েই ভূমিষ্ঠ হচ্ছে বলে গবেষণায় প্রমাণিত। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, সাংগঠনিক এবং ব্যক্তি পর্যায়ে বায়ুদূষণের ব্যাপারে অসচেতনতায় দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। বায়ুদূষণ কমিয়ে আনতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো নয়। অন্যান্য দেশে বায়ূদূষণের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স না হলেও চোখে পড়ার মতো ব্যবস্থা নেয়া হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প-কারখানা ও ইটভাটার ধোঁয়া, পুরনো ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, নির্মাণকাজের ধুলা-বালি, বৈজ্ঞানিকভাবে না পুড়িয়ে প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে বর্জ্য পোড়ানো এবং শীতকালে অভ্যন্তীরণ ও দেশের বাইরে থেকে বাতাসে ভেসে আসা ফাইন পার্টিকল (পিএম২.৫) বাংলাদেশের বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। দূষিত বায়ুতে পিএম ২.৫ ছাড়াও কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ও ওজোনের (৩) মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এ দূষিত বাতাস মানবশরীরে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে মারাত্মক ঝুঁকি বাড়ানোর ফলে তৈরি করছে অর্থনৈতিক সংকট। পরিবেশ অধিদফতরের এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের কারণে ইটভাটা দায়ী ৫৮ শতাংশ। বায়ুতে সয়েল ডাস্ট ও অন্যান্য ডাস্ট ১৮ শতাংশ, যানবাহন ১০ শতাংশ, বায়োমাস পোড়ানোর কারণে ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬ শতাংশ দূষণ হয়। অন্য একটি গবেষণায় চুলা থেকে ধোঁয়ায় ২৮ শতাংশ বায়ু দূষিত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ দৈনিক গড়ে দুই লাখ পরিমাণ বায়ু শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করে এবং ছেড়ে দেয়।
হৃদরোগ-স্ট্রোক বাড়ানোর জন্য দায়ী : বায়ুদূষণ সরাসরি ফুসফুসের ক্ষতি করে থাকে। তবে রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সূক্ষ্ম ধাতবকণিকা ফুসফুসের অ্যালভিওলাই অতিক্রম করে রক্তে মিশে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং রক্তনালির স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে। এর ফলে উচ্চরক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ইদানীং বাংলাদেশে ৩০ বছরের যুবকদের মধ্যে হৃদরোগের রোগী পাওয়া যাচ্ছে। ২০ বছর বয়সীরা উচ্চরক্তচাপে ভোগে। এদের নিয়মিত ওষুধ খেয়ে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। আবার দেখা যায়, বয়স ৪০ অতিক্রম করতে না করতেই হার্ট অ্যাটাকের কারণে মৃত্যু হচ্ছে অথবা মৃত্যু না হলেও হার্টে রিং পরানো (স্ট্যানটিং) কিংবা বাইপাস সার্জারি করিয়ে জীবন রক্ষা করতে হয়। এগুলো বায়ুদূষণের সাথে জড়িত। বাংলাদেশের মতো এত কম বয়সে হৃদরোগের জটিল রোগী উন্নত বিশ্বে নেই। এটি একটি নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। হৃদরোগ ছাড়াও ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য দূষিত বায়ু অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রমাণ হয়েছে গবেষণাগারে।
শ্বাসতন্ত্র ও ফুসফুসের নানা রোগের জন্য দায়ী
বায়ুদূষণের কারণে প্রত্যক্ষ স্বাস্থ্য সমস্যাটি হলো শ্বাসতন্ত্রের রোগ। বাতাসে থাকা পিএম ২.৫ বা ফাইন পার্টিকলের মতো অতি ক্ষুদ্র কণা নাক ও গলার প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিক্রম করে সরাসরি ফুসফুসের ভেতরে ঢুকে যায়। এমনকি ফুসফুসে থাকা যে ছাকনি, সেটাও এ ফাইন পার্টিকলকে প্রতিরোধ করতে পারে না। পিএম ২.৫ কণাটি এক মিলিমিটারের এক হাজার ভাগের এক ভাগ। মিটার স্কেলে মিলিমিটারের দাগ কাটা আছে সহজেই বের করা যায়। আরো সহজ করে বললে এভাবে এটা বলা যায়, পিএম ২.৫ একটি বালি কণার ৩৫ ভাগের এক ভাগ। একটি চুলের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০টি পিএম ২.৫ বসানো যাবে। এ কণাটি এত ছোট যে নাক ও গলার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক ফিল্টার বা ছাকনি ভেদ করে ভেতরে চলে যায় এবং ফুসফুসের অ্যালভিওলাই ভেদ করে গভীরে ঢুকে ফুসফুসের ক্ষতি করে থাকে। ফুসফুসের একেবারে গভীরে পৌঁছে যাওয়ার কারণে পিএম ২.৫-এর কারণে শিশু অথবা বয়স্ক সবার মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে বসবাস করতে থাকলে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজে (সিওপিডি) আক্রান্ত হয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শহরাঞ্চলের শিশুদের ফুসফুস পূর্ণ বিকাশে বাধাদান করে এবং সারা জীবন ফুসফুসে নেচিবাচক প্রভাব নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।
শিশু, গর্ভবতী নারী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে
বায়ুদূষণের ক্ষতি সবচেয়ে ভয়াবহভাবে প্রভাব ফেলে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ওপর। গর্ভাবস্থায় দূষিত বাতাসে শ্বাস নিলে শিশুর অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, ফলে গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। একই সাথে কম ওজন নিয়ে অপরিপক্ব শিশুর জন্ম হয় (ইমম্যাচিউরড বেবি) এবং এদের জন্মগত নানা ত্রুটি থাকায় নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। অক্সিজেন মস্তিষ্কে সঠিক পরিমাণে পৌঁছাতে না পারলে মস্তিষ্কের বিকাশ কম হয়। জন্মের পর বায়ুদূষণে বেড়ে উঠলে শ্বাসনালিতে ঘন ঘন সংক্রমণ ঘটে, হাঁপানি ও এলার্জি দেখা দেয়। দীর্ঘ মেয়াদে বায়ুদূষণের শিকার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কম ঘটে, শেখার ক্ষমতা কমে যায় ও মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে শিশুর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। (বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল হেলথ, নিউরোডেভেলাপমেন্ট সিস্টেমেটিক রিভিউ- পাবমেডে এ সংক্রান্ত গবেষণা রিপোর্ট আছে)। বায়ুদূষণে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ বায়ুদূষণ।
স্নায়ুতন্ত্র, মানসিক বিকাশ ও আচরণগত সমস্যা
গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। দূষিত বায়ুর কণা মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে। স্মৃতিশক্তি হ্রাস করে, মনোযোগের ঘাটতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে অনেকটাই দুর্বল করে দেয়। এ কারণে দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ বাড়ায়, ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কর্মজীবী মানুষের মধ্যে মনোযোগে সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে। মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে দেয় বলে গুণগতমানম্পন্ন কাজ কম হয় এবং এতে উৎপাদনশীলতায় প্রভাব পড়ে। বিশ্বব্যাংকের এ ব্রেদ অব চেঞ্জ; সলিউশনস ফর ক্লিনার এয়ার ইন দ্য ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেইনস অ্যান্ড হিমালয়ানস ফুটহিলস’ নামক রিপোর্টে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
গর্ভস্থ শিশুর বিকাশে বাধা
সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শিকার মায়েরা সবচেয়ে বেশি কম ওজনের শিশু জন্ম দিচ্ছে। কারণ হিসেবে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাতাসের মধ্যে ভেসে বেড়ানো অতিসূক্ষ্ম ধাতুর কণা মায়ের শরীরে প্রবেশ করে গর্ভস্থ ভ্রƒণে পৌঁছে যাচ্ছে ভ্রƒণের বিকাশে বাধা দিচ্ছে। মহাখালীর আইসিডিডিআর’বির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ বিষয়ক একটি বিস্তারিত বলা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শিকার মায়েরা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনের ৩৬ শতাংশ শিশুর জন্ম দিচ্ছেন। কম দূষণের মায়েদের কম ওজনের শিশু জন্মদানের হার ২০ শতাংশ। জন্মের সময় শিশুর কমপক্ষে আড়াই কেজি ওজন হলে সেটা স্বাভাবিক ওজন ধরে নেয়া হয়। এর কম ওজন নিয়ে জন্ম নিলে কম ওজন বা লো বার্থ ওয়েট হিসেবে ধরে নেয়া হয়। এ ধরনের শিশুরা বড় হলে নানা ধরনের রোগ নিয়ে বেঁচে থাকে। অপরদিকে কম ওজন ছাড়াও বায়ুতে বেশি দূষণ থাকলে ১৫ শতাংশ অপরিণত শিশুর জন্ম হচ্ছে এবং তুলনামূলক কম বায়ুদূষণের শিকার মায়েরা ৯ শতাংশ অপরিণত শিশুর জন্ম দিচ্ছেন। বিশিষ্ট অবসস্ট্রেটিক ও গাইনিকোলজিস্ট ডা. নুরে শারমিন বলেন, গর্ভে শিশু জন্মের ২৫৯ দিন অথবা ৮ মাস ১৯ দিনের আগে শিশু জন্মালে সেটা অপরিণত শিশু হিসেবে ধরা হয়। অপরিণত শিশুদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিউনেটাল আইসিইউ’র মধ্যে রেখে ওষুধ প্রদান করতে না পারলে ওই শিশুদের বাঁচিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে থাকে। আর নিউনেটাল আইসিইউ-এ প্রচুর খরচ হয়ে থাকে। সব বাবা-মা এর খরচ বহন করতে পারেন না।
বায়ুদূষণ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে হ্রাস করে
দূষিত বায়ু মানুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফাইন পার্টিকল ২.৫ শ্বাসনালির প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়। ফলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করে শ্বাসনালিকে রোগগ্রস্ত করে দেয় এবং শুরু হয় নানা ধরনের অসুস্থতা। ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য শ্বাসনালি সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পিএম ২.৫ এর মাত্রা বেশি হলে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বেশি হয় এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
শরীরের অন্যান্য ক্ষতি
বায়ুদূষণ চোখ ও ত্বকের বিরাট ক্ষতি করে থাকে। দূষিত বাতাসে চোখ জ্বলা-পোড়া করে, চোখ লাল করে দেয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে দৃষ্টি শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। চোখের পাওয়ার কমে যায় বলে অকালেই চশমা ব্যবহার করতে হয়। ত্বকের ক্ষেত্রে নানা ধরনের এলার্জি, চুলকানি, র‌্যাশ ও অকাল বার্ধক্য এসে যায়। ভারী ধাতু ও বিষাক্ত উপাদান শরীরে জমা হয়ে কিডনি ও লিভারে কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
জীবনমান ও আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলে
বায়দূষণের কারণে কেবল স্বাস্থ্যের ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এ দূষণে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়, কর্মদিবস নষ্ট হয়। সঠিক সময়ে ও সঠিক চিকিৎসা করতে না পারলে ভুক্তভোগীর মৃত্যুও হয়ে থাকে। একজন কর্মক্ষম মানুষের মৃত্যু হলে উৎপাদনশীলতা কমে যায়, পরিবারটি দরিদ্র্যের চক্রে ঢুকে যায়। গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিন দূষিত পরিবেশে জীবনযাপন করলে মানুষের গড় আয়ুর কমে যায় কয়েক বছর পর্যন্ত অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক বছর আগে মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি চাপ সরকারের উন্নয়ন ব্যয়কেও সীমিত করে তোলে।
বায়ুদূষণ কমিয়ে আনা
বাংলাদেশের বায়ুদূষণ কমিয়ে আনা সহজ কিছু না। তবে রাষ্ট্র এবং সমাজ ও ব্যক্তি ইচ্ছা করলে এটা কমিয়ে আনতে পারে। সবার মধ্যে সচেতনতা আসলে বায়ুদূষণ কমিয়ে আনা যায়। ধোঁয়া ও ধুলার সৃষ্টি হয় এমন কাজ এড়িয়ে চলা। অপ্রয়োজনে কোনো কিছু পোড়ানো না হলে ধোঁয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হেলথ এ্যাফেক্টস ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ নিয়ে একটি গবেষণায় (২০১৭ সালে) বলা হয়েছে, ৬৩ হাজার ৭১৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে চুলার ধোঁয়ার কারণে। পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, ‘চুলায় কাঠ অথবা গোবর পোড়ানো তো বন্ধ করা যাবে না। তবে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হলে এটা বন্ধ করা সম্ভব। তখন গ্যাস পুড়িয়ে আ বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে রান্না প্রচলন হবে। এর আগে চুলার ধোঁয়া বন্ধ হবে না।’ চুলা ছাড়া প্রচলিত ইটভাটা বাদ দিয়ে পরিবেশবান্ধব ইটভাটায় ইট পোড়ালে বায়ুদূষণ কম হবে। এছাড়া গাড়ির পুরনো ইঞ্জিন ব্যবহার বন্ধ করতে পারলেও বায়ুদুষণ কম হবে। তবে বায়ুদূষণের একটি অংশ দেশের বাইরে থেকে বিশেষ করে ভারত থেকে স্মগ (ধুলা ও ধোঁয়া) আকারে আসে, সেটা বন্ধ করা সহজ হবে না। এজন্য আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ লাগবে।