সবজিতে স্বস্তি ফিরলেও মাছে অস্বস্তি
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৩
স্টাফ রিপোর্টার : নিত্যপণ্য ক্রয়ে সামগ্রিকভাবে স্বস্তি মেলেনি। শীতকালীন সবজি বাজারে থাকায় মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও অনেক সবজির মূল্য এখনো বেশি। বিশেষ করে করলা, টমেটো, গাজরের দাম নাগালের বাইরে। বরাবরের মতোই বেশি মাছের দাম। ব্রয়লার মুরগির দাম কম থাকলেও গরু-খাসি ও হাঁসের মূল্য বেশি। এছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশের অধিকাংশ পরিবারের ব্যবহার্য এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য আকাশছোঁয়া। গত ৪ জানুয়ারি রোববার সরকারের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু দেশের কোনো বাজারে ১৮শ’ টাকার কমে এ পরিমাণের গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে ৫শ’ টাকা বেশি দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের জ¦ালানি মন্ত্রণালয় বলছে, গ্যাস সিলিন্ডারের কোনো সংকট নেই, ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিকভাবে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে সিন্ডিকেট ভাঙতে অভিযান চালানো হলেও তাতে কার্যত উপকার পাচ্ছে না ভোক্তারা। কারণ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীর সংখ্যার চাইতে অভিযান খুবই কম।
এদিকে ঢাকার খুচরা বাজারগুলোর খবর নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ও শালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এছাড়া শিম, বেগুন ও মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় মিলছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি এখন ৩০ টাকা। তবে পাকা টমেটো ও শসার কেজি এখনো ১০০ টাকায় স্থির রয়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া গাজর ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে দেশজুড়ে বয়ে চলা তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজার বেশ চড়া থাকলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ মিলছে না; অন্যদিকে ডিম ও মুরগির দাম কমলেও তা এখনো পুরোপুরি নাগালের মধ্যে আসেনি। বর্তমানে বাজারে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, যা দুই মাস আগেও ছিল ১৪০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় মিলছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকার বেশি ছিল। এদিকে গরুর গোশত আগের মতোই প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির গোশত ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম ওঠানামা করলেও মাছের দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই, এর দাম সবসময় বাড়তিই থেকে যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না। বাজারে প্রতি কেজি কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা ও আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম কিছুটা কমে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমেছে। এছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারে বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।