সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার তাগিদ ওমানের
ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সমর্থন এবং সংযমের আহ্বান জানিয়েছে ওমান। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতির প্রতি পুনরায় দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখতে এবং উত্তেজনা এড়াতে সংলাপের পথ খোলা রাখার তাগিদ জানিয়েছে। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনী পরিচালিত একটি লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ছিল এবং মাদুরোর গ্রেফতারের জন্য ৫ কোটি ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, মাদুরো মাদক পাচারে জড়িত এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে জালিয়াতি করে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি মার-এ-লাগো থেকে সরাসরি অভিযানটি লাইভ দেখেছেন। ফক্স নিউজের টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযানের দৃশ্যকে ‘একটি টেলিভিশন শো দেখার মতো’ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। আরব নিউজ।
ভাঙনের পথে ইয়েমেন
ইয়েমেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)। এ ঘোষণা এসেছে এমন একসময়ে, যখন গত মাসে এসটিসির দখলে যাওয়া অঞ্চল পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব সমর্থিত বাহিনী দক্ষিণ ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) সৌদি সীমান্তঘেঁষা হাজরামাউত প্রদেশে সৌদি সমর্থিত গভর্নরের বাহিনী ও এসটিসির অনুগত যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এসটিসির অভিযোগ, সৌদি আরব সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় তাদের অবস্থান লক্ষ করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াদি হাজরামাউত ও হাজরামাউত মরুভূমি অঞ্চলের এসটিসি প্রধান মোহাম্মদ আব্দুলমালিক জানান, আল-খাশা এলাকার একটি ক্যাম্পে চালানো সাতটি বিমান হামলায় সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে হাজরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এসটিসির কাছ থেকে সামরিক ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের এ উদ্যোগ কোনো যুদ্ধ ঘোষণা নয়। তার ভাষায়, এটি দক্ষিণ ইয়েমেনের সামরিক স্থাপনাগুলোকে ‘শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে’ পুনরায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এ অভিযান উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।’ সানায় অবস্থানরত আল-জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ আলাত্তাব জানান, সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি এসটিসির অবস্থানগুলোয় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে তিনি বলেন, ‘সেখানে আসলে কী ঘটছে, সে বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষায় আছি।’ সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ওই এলাকায় এসটিসি এখনো তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এর মধ্যেই গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে সৌদি আরব সব পক্ষকে একটি আলোচনামূলক ফোরামে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় সংকটের ন্যায্য সমাধানের জন্য একটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা’ তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। সৌদি আরব জানায়, সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমির অনুরোধেই এ বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আগে এক টেলিভিশন ভাষণে এসটিসি প্রেসিডেন্ট আইদারুস আল-জুবাইদি দুই বছর মেয়াদি একটি অন্তর্বর্তী পর্যায় শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে দক্ষিণ ও উত্তর ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চান তারা। তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যদি কোনো সংলাপ শুরু না হয় কিংবা দক্ষিণ ইয়েমেন আবারও হামলার শিকার হয়, তবে তার দল ‘অবিলম্বে’ স্বাধীনতা ঘোষণা করবে। তার ভাষায়, ‘যদি এ আহ্বানে সাড়া না দেওয়া হয় অথবা দক্ষিণের মানুষ, তাদের ভূমি কিংবা বাহিনীর ওপর সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে এ সাংবিধানিক ঘোষণাটি নির্ধারিত সময়ের আগেই সরাসরি কার্যকর হবে।’ দোহা থেকে আল-জাজিরার আলি হাশেম জানান, এ ঘোষণা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার কিংবা উত্তর ইয়েমেন ও রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুথি আন্দোলনের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। হাশেম বলেন, ‘এ ঘোষণা কার্যত ২৬ বছর ধরে টিকে থাকা ইয়েমেনের ঐক্য ও একক রাষ্ট্র কাঠামোর অবসান ঘটাবে। তাই এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুতিদের কাছেই একটি রেড লাইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ আল-জাজিরা।
ইসরাইলপন্থী নির্বাহী আদেশ বাতিল করেই মামদানির সূচনা
নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন। সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা কিছু বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ বাতিল করে তিনি শহরের প্রশাসনে নতুন সূচনা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ইহুদিবিদ্বেষের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা (আইএইচআরএ) বাতিল এবং ইসরায়েল বয়কট সম্পর্কিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া। এ পদক্ষেপের পরই ইসরাইল কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামদানির কাজকে ‘ইহুদিবিদ্বেষের আগুনে ঘি ঢালার সমান’ বলে অভিহিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারা জানিয়েছে, নবনির্বাচিত মেয়রের এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে যাচ্ছে এবং নেতৃস্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি ক্ষতিকর বার্তা পাঠাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক মেয়র অ্যাডামস ২০২৪ সালে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর বেশকিছু বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা গ্রহণ, যা ইসরাইল সমালোচনাকেও আধুনিক ইহুদিবিদ্বেষের অংশ হিসেবে ধরা হতো। মামদানি এ সংজ্ঞাটি বাতিল করেছেন। মামদানি সাবেক মেয়রের একটি আদেশও বাতিল করেছেন, যেখানে সিটি কর্মকর্তাদের ইসরাইল বয়কট বা বিডিএস আন্দোলনের পক্ষে কাজ করা নিষিদ্ধ ছিল। এছাড়া উপাসনালয়ের পাশে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত অ্যাডামসের নির্দেশনাও বাতিল করা হয়েছে। তার এ সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া এসেছে। মেয়র মামদানির কার্যালয় জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ ‘নতুন শুরু’ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। মামদানি নিজে একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট এবং দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার। তিনি নবনির্বাচনী ভাষণে ইহুদি নিউইয়র্কবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মতো একজন মুসলিম আর কোথায় বেগেল ও লক্স খেয়ে বড় হওয়ার সুযোগ পেত?’ মামদানি এও স্পষ্ট করেছেন, অনেক আদেশ বাতিল হলেও ‘অফিস টু কমব্যাট অ্যান্টিসেমিটিজম’ (ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী দফতর) সচল রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘ইহুদিবিদ্বেষ এমন একটি সমস্যা, যা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি।’ জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। তার মা প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বাবা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাহমুদ মামদানি। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে শপথ নেন এবং তার শপথ পড়ান প্রবীণ ইহুদি নেতা ও সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। নিউ ইয়র্ক টাইমস।
‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের তিন শ্রমিককে পেটাল হিন্দু জঙ্গিরা
মহারাষ্ট্রে কেবল বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার তিন পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পাণ্ডবেশ্বরের বাসিন্দা দিলীপ বাগদী, সমীর বাউড়ি এবং তাদের এক সহকর্মী জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের দাবি, টিকিট কাটার সময় তারা হিন্দিতে কথা বললেও, নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলা শুরু করতেই স্থানীয় হিন্দু জঙ্গি গোষ্ঠীর কিছু সদস্য তাদের ওপর চড়াও হয়। তাদের অভিযোগ, স্থানীয়রা তাঁদের পথ আটকে পরিচয় জানতে চায় এবং তারা ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের জোরপূর্বক ‘বাংলাদেশি’ বলে দাবি করা হয়। এমনকি তাদের যানবাহন থেকে নামিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে আধার কার্ড পরীক্ষা করা হয়। আক্রান্ত সমীর বাউড়ি বলেন, ‘আধার কার্ড দেখানোর পরও তারা বিশ্বাস করতে চায়নি যে আমরা ভারতীয়।’ শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেছেন, তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের মাথায় গরম চা ঢেলে দেওয়া হয় এবং মাথা ও পেটে লাথি মারা হয়। এমনকি একজন অসুস্থ হওয়ার ভান করলেও হামলা থামেনি বলে তারা দাবি করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ওড়িশা এবং রাজস্থানের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয়ও বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। সেই আবহে এ নতুন ঘটনাটি সামনে এলো। শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার পর রোববার পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাদের সঙ্গে দেখা করেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কারণেই দেশজুড়ে বাঙালিদের জন্য এক প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি বাঙালিদের প্রতি চরম নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ। পশ্চিমবঙ্গ যখন সারা দেশের মানুষকে স্বাগত জানায়, তখন অন্যান্য জায়গায় বাঙালিদের নিশানা করা হচ্ছে। মানুষ এটা ক্ষমা করবে না।’ অন্যদিকে এ অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় বিজেপি নেতা দিলীপ চক্রবর্তী রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। তার দাবি, রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবেই শ্রমিকরা মহারাষ্ট্র, গুজরাট বা ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। সিয়াসত ডেইলি।
সব পক্ষকে ‘শান্ত’ হওয়ার আহ্বান ইউরোপীয় ইউনিয়নের
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলাকে ঘিরে পরিস্থিতি যেন আরো বড় সংঘাতের দিকে না যায়, সেজন্য উভয়পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সামাজিক মাধ্যমে এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জোটের পক্ষে এ আহ্বান জানিয়েছেন ইইউ’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক প্রতিনিধি কাজা কালাস। ওই বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনই ভেনেজুয়েলায় বর্তমান সঙ্কটের সমাধান ও গণতন্ত্রে পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোড়লগিরি’ মেনে নেবে না চীন
যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বিশ্বের মোড়ল ভেবে যাকে তাকে আটক করবে এবং বিচার করবেÑ এটা মেনে নেবে না চীন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ মন্তব্য করেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বেইজিং কোনো দেশই যেন নিজেকে ‘বিশ্বের পুলিশ’ মনে করে এমন ধারণায় বিশ্বাস করে না, কিংবা কোনো রাষ্ট্রের ‘বিশ্বের বিচারক’ হওয়ার দাবিও তারা মেনে নেয় না। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ভেনেজুয়েলার ‘হঠাৎ ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করেন। ওয়াং ই বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকা উচিত। শনিবার ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর এটিই ছিল চীনের শীর্ষ কূটনীতিকের প্রথম মন্তব্য। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কের একটি আটক কেন্দ্রে রয়েছেন। চীন নিজেকে একটি প্রভাবশালী কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উচ্চাকাক্সক্ষা পোষণ করে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে অপ্রত্যাশিত সমঝোতা করিয়ে দিয়ে এই লক্ষ্য তারা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং বৈশ্বিক সংকটপূর্ণ ইস্যুগুলোয় ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ পালনের অঙ্গীকার করে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে মোকাবিলা করতে পারার সাফল্য চীনের আত্মবিশ্বাস আরো জোরদার করেছে। আল-জাজিরা।
এক বছরে ১০ হাজারের অধিক ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করেছে তালেবান
আফগানিস্তানে গত এক বছরে ১০ হাজারের অধিক ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলান জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, গত বছরে দেশজুড়ে ২৫ হাজার ২২৮ জন মাদকাসক্ত চিকিৎসার আওতায় গিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। একই সময়ে বড় শহরগুলো থেকে ১০ হাজার ৬৬৪ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং প্রতিটি দরিদ্র ব্যক্তির জন্য নগদ সহায়তা হিসেবে ২ হাজার আফগানি নির্ধারণ করে বিতরণ করা হয়েছে। মুহাজির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরে অন্যান্য দেশ ও বিদেশি দেশগুলো থেকে ২৮ লাখ মুহাজির এবং আফগান নাগরিক আফগানিস্তানে ফিরে এসেছেন। তিনি যোগ করেছেন, তাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া উপযুক্তভাবে পরিচালিত হয়েছে, প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়েছে এবং মুহাজিরদের জন্য জায়গা বণ্টনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে এবং মুহাজিরদের জন্য শহরক বণ্টনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। মাওলানা মুজাহিদ বলেন, গত বছরে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ প্রশিক্ষণ, কূটনীতি ও বিদেশ সফর, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, ভিক্ষুক পুনর্বাসন এবং মুহাজির প্রত্যাবর্তনসহ একাধিক খাতে কার্যক্রম ও অগ্রগতির তথ্য রয়েছে। তিনি এসব খাতে নির্দিষ্ট সংখ্যা ও পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছরে জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৪ জনে পৌঁছে গেছে। তিনি আরও বলেন, একই সময়ে নিরাপত্তা, অপরাধ, সীমান্ত, লজিস্টিক ও অন্যান্য খাতে ১ লাখ ৩০০ জন পুলিশ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। কূটনীতি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছরে আফগানিস্তানের সরকার ভালো অগ্রগতি করেছে। তিনি জানান, রাশিয়া কর্তৃক তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া কর্তৃক ইমারাতে ইসলামিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক লক্ষ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে ৯৯টি বিদেশ সফর করেছেন। আরটিএ।
গাজায় বিশাল ত্রাণবহর পাঠাচ্ছে সৌদি আরব
গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। সৌদি আরবের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় আকাশ, সমুদ্র এবং স্থলপথ-তিন মাধ্যমেই সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়ানোর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (কেএসরিলিফ) সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ মহতি উদ্যোগ ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর সৌদি আরবের ঐতিহাসিক অঙ্গীকারেরই একটি প্রতিফলন এবং এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে ফিলিস্তিন সবসময়ই সৌদি নেতৃত্বের হৃদয়ে মিশে আছে।’ এখন পর্যন্ত কেএস রিলিফের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় পরিসরে আকাশ ও সমুদ্রপথে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের খবর পাওয়া গেছে। এ প্রক্রিয়ায় ৭৭টি বিমান এবং ৮টি জাহাজে করে ৭ হাজার ৬৯৯ টনেরও বেশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৯১২টি সৌদি ত্রাণবাহী ট্রাক ইতোমধ্যে গাজায় পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে জর্ডানের সঙ্গে যৌথভাবে আকাশ থেকেও গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি গাজার ভেতরে বিভিন্ন ত্রাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৯০.৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। গাজায় বর্তমানে যখন শীতের প্রকোপ বাড়ছে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রায় ৪ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের এ বর্ধিত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। রয়টার্স।
ট্রাম্পকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর এবার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তারপরই তাঁকে পালটা জবাব দিলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ও গ্রিনল্যান্ডের নেত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন। জানিয়ে দিলেন, এমন মন্তব্য একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি ‘দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিন’-এ এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই তাকে বলতে শোনা যায়, ‘অবশ্যই আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। নিরাপত্তার জন্যই দরকার’। আর এ বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত মেটে ফ্রেডরিকসেন বলেছেন, ‘আমেরিকা গ্রিনল্যান্ড দখল করবে- এমন কথা বলার কোনো অর্থই হয় না। ডেনিস রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত তিনটি দেশের কোনোটিকেই সংযুক্ত করার অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেই’। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না। দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে অভিষিক্ত হওয়ার পরই ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চায় আমেরিকা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের গ্রিনল্যান্ডকে চায় আমেরিকা। খনিজ পদার্থের জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ড উপকূলের আশপাশে বহু রুশ এবং চীনা জাহাজ রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা প্রয়োজনীয়’। তারপরই আর্কটিক অঞ্চলে আমেরিকার বিশেষ দূত নিয়োগ করেন তিনি। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রিনল্যান্ড। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন একটি যৌথ বিবৃতি দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করে তারা বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে আপনি অন্য কোনো দেশকে সংযুক্ত করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশঙ্কা থাকলেও নয়। গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর। আমেরিকা কোনোদিন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারবে না’। এদিন ফের সেই সুরই শোনা গেল তার কথায়। আসলে গ্রিনল্যান্ডে প্রচুর ধাতু রয়েছে, যা প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে জরুরি উপাদান। এর মধ্যে মোবাইল, ইলেকট্রিক গাড়ি, অস্ত্রশস্ত্রে ব্যবহৃত হওয়া বিরল ধাতুও রয়েছে। চীন যেখানে এ ধরনের ধাতুর ভাণ্ডার হওয়ায় আধিপত্য জারি করে রেখেছে, সেখানে গ্রিনল্যান্ড হাতে পেলে আমেরিকার প্রভাব আরো বাড়বে। এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের সম্পদের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। আর সে কারণেই ট্রাম্প তা দখল করতে চাইছেন নিরাপত্তার অছিলায়, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিফহাল মহল। তাস ও নিউইয়র্ক টাইমস।
ভারতে মুসলিম রিকশাচালককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হিন্দুত্ববাদীদের
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে একটি চাঞ্চল্যকর ও সহিংস ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রদায়িক এ হামলার ঘটনায় এক মুসলিম রিকশাচালককে লাঞ্ছিত করেছে একদল হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থী। আক্রমণকারীরা তাকে বালুর নিচে অর্ধেক পুঁতে ফেলে এবং জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে, যা ছিল স্পষ্টত একটি হত্যা প্রচেষ্টা। আক্রান্ত ব্যক্তি দিদার হোসেন আগরতলার অভয়নগরের বাসিন্দা। আগরতলার গাঙ্গাইল নিবেদিতা ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। পেশায় রিকশাচালক হোসেন বর্তমানে এ হামলা থেকে বেঁচে ফেরার পর চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রমণের পর হোসেন দুর্গা চৌমুহনী আউটপোস্টে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে তিনি বর্ণনা করেন, আক্রমণকারীরা হঠাৎ তার পথ আটকে দেয় এবং তাকে নৃশংসভাবে মারধর করে। হোসেন বলেন, ‘পরবর্তীতে তারা আমাকে জোরপূর্বক বালুর স্তূপের ভেতর ঠেলে দেয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।’ তিনি আরও জানান যে, এই হামলায় তিনি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক আঘাত পেয়েছেন এবং তার চিৎকারে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে তিনি কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যান। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান যে, হোসেনের নাম জিজ্ঞাসা করার পর তার মুসলিম পরিচয় নিশ্চিত হয়েই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ হামলার ঘটনা আগরতলায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে অনেক মানুষ প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং টিপরা মোথা নেতা শাহ আলম এ বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে শাহ আলম বলেন, ‘অভিযোগ দায়ের করা ছাড়া পুলিশ এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু করেনি। সংখ্যালঘুদের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’ সিয়াসত ডেইলি।
নেতানিয়াহুকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা
গাজা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। তিনি বলেন, গাজায় শিশুদের কান্না ও দুর্দশা বিশ্বকে নাড়া দিচ্ছে। কিন্তু তারপরও ইসরাইল ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। গাজায় মানবিক সহায়তা দেয়া ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধের সমালোচনায় গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার ইস্তাম্বুলে জুমার নামাজের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এরদোগান বলেন, বাতাস, বৃষ্টি এবং কাদার মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের কান্না করা ছাড়া উপায় নেই, কেননা তাদের কাছে তাঁবু নেই। আমরা কন্টেইনার পাঠাতে চাই, কিন্তু নেতানিয়াহুর যেতে দেয় না… আজ হোক কাল হোক, আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা এই নির্যাতিত মানুষকে এই কষ্ট থেকে উদ্ধার করব। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গাজায় মানবিক সহায়তা দেয়া ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ইসরাইল। যার মধ্যে ডক্টর্স উইদাউট বর্ডারসও রয়েছে। ইসরাইলের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এরদোগানও। হুরিয়েত ডেইলি নিউজ।
ইমরান খানের পক্ষে কথা বলায় ৮ সাংবাদিকের যাবজ্জীবন
পাকিস্তানে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থনে কর্মকাণ্ড চালানো আট সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যকারী বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ইমরান খানের সমর্থনে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার তাদের অনুপস্থিতিতে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে এ রায় দেয়া হয়। ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভের পর দায়ের করা মামলাগুলোর ভিত্তিতে এ সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। ওইদিন ইমরান খানকে গ্রেফতার করার পর তার সমর্থকেরা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে সরকার ও সামরিক বাহিনী ইমরান খানের দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন অভিযান শুরু করে। উসকানি দেয়া ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে শত শত ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সামরিক বিচারের আওতায় আনা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড পাকিস্তানি আইনে ‘সন্ত্রাসবাদের আওতার মধ্যে পড়ে’ এবং তাদের অনলাইন কনটেন্ট সমাজে ‘ভয় ও অস্থিরতা’ ছড়িয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তদের বেশিভাগই পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বিচার চলাকালে আদালতে হাজির হননি। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে ইউটিউবার হওয়া আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেইন, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীন সেহবাই, মন্তব্যকারী হায়দার রাজা মেহদি ও বিশ্লেষক মঈদ পীরজাদা। ২০২৩ সালে সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) বলেছিল, এসব তদন্তগুলো সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শামিল। সিপিজের এশিয়া কর্মসূচির সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই বলেন, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব তদন্ত বন্ধ করতে হবে এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে চলমান ভয়ভীতি ও সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে। রয়টার্স।
পাকিস্তানের বরেণ্য আলেম মাওলানা ফজলুর রহিম আশরাফির ইন্তেকাল
পাকিস্তানের বরেণ্য আলেম ও দেশটির প্রসিদ্ধ ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আশরাফিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা ফজলুর রহিম আশরাফি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) জিও নিউজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মাওলানা ফজলুর রহিম আশরাফি পাকিস্তান কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তান’র পৃষ্ঠপোষক এবং জামিয়া আশরাফিয়ার শাইখুল হাদীস ও সাবেক মুহতামিম ছিলেন। পাকিস্তানসহ গোটা বিশ্বে তার অসংখ্য ছাত্র ও শুভাকাক্সক্ষী রয়েছে। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাদ জোহর লাহোরে জামিয়া আশরাফিয়ায় মাওলানা ফজলুর রহিম আশরাফির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওলামায়ে কেরাম, মন্ত্রী-সচিব, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ দেশের সর্বস্তরের অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। মাওলানা ফজলুর রহিম আশরাফির ইন্তেকালে গভীর শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহসান ইকবাল, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারইয়াম নাওয়াজ, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী খাজা সাদ রফিক, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের আমীর মাওলানা ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাফেজ নাঈমুর রহমান প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শোকবার্তায় বলেছেন, মাওলানা ফজলুর রহিম আশরাফি একজন বড় আলেম, খ্যাতিমান মুহাদ্দিস ও ইসলাম প্রসারের ক্ষেত্রে মহান এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার গোটা জীবন কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষার প্রচারে নিবেদিত ছিল। যার মাধ্যমে অসংখ্য আলেম ও ছাত্র উপকৃত হয়েছে। জিও নিউজ।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার উদ্যোগ আনোয়ার ইব্রাহিমের
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, চলতি বছরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন। এটি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি। হক সোমবার (৫ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে আনোয়ার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সবারই একটি মেয়াদসীমা আছে, সেখানে কোনো ব্যতিক্রম নেই। নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া বিশেষ ঘোষণায় আনোয়ার বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করতে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করব, যার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর বা টানা দুই মেয়াদ।’ মেয়াদ শেষে দায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়াই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী থাকার কোনো মেয়াদসীমা নেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রথম দফায় ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। পরবর্তীতে মাহাথির অবসর ভেঙে একটি ভিন্নধর্মী বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সেই জোট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। ওই বছর ৯২ বছর বয়সে পুনরায় শপথ নিয়ে মাহাথির বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হন। তবে মেয়াদসীমা সংক্রান্ত বিলটি ঠিক কবে সংসদে তোলা হবে, সে ব্যাপারে আনোয়ার নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। চলতি মাসেই সংসদের এ বছরের প্রথম অধিবেশন বসবে। আনোয়ারের জোট পাকাতান হারাপান (অ্যালায়েন্স অব হোপ) ২০২২ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই দফায় সীমিত রাখার অঙ্গীকার করেছিল। আনোয়ার জানান, সরকার সংসদে তথ্য অধিকার আইনও উত্থাপন করবে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাইকে জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে এবং প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না। এএফপি।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার জন্য ‘অত্যাধুনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ পরীক্ষা তদারকি করেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ‘ভূরাজনৈতিক সঙ্কট’ এ পরীক্ষা আরো তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে, যা স্পষ্টভাবে এ সপ্তাহান্তে ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতি ইঙ্গিত করেছে। সিউল ও টোকিও রোববার জানিয়েছে, তারা পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি থেকে দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা লি জে মিয়ং একটি শীর্ষ সম্মেলনের জন্য বেইজিং যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেম দেশটির চলতি বছরের এটি প্রথম পরীক্ষা। লি বলেছেন যে তিনি আশা করেন, তার সফরটি চীনকে উত্তর কোরিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য ব্যবহার করতে সক্ষম হবে, যাতে করে সিউলের পিয়ংইয়ংয়ের সাথে সম্পর্ক উন্নত হয়। সোমবার কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) কিমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বাহিনী কিভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তা দেখিয়েছে, যা সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কট ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় ছিল। কেসিএনএ কিম জং-উনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘আমাদের পরমাণু বাহিনীকে একটি বাস্তবভিত্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রকৃত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের এ কার্যক্রম ‘ধীরে ধীরে পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থাটিকে একটি উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।’ বাসস।
ইসরাইল পশ্চিমতীরে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিকসহ বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে
দখলদার ইসরাইলি বাহিনী গণহারে আটক অভিযান চালিয়েছে পশ্চিম তীর। গত ৫ জানুয়ারি সোমবার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইসরাইলের এ অভিযানে সাংবাদিক ও কিশোরসহ অনেক ফিলিস্তিনি আটক হয়েছেন। বেথলেহেম শহরের উত্তরে আইদা শরণার্থী শিবির থেকে ইসরাইলি বাহিনী ২৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাসিন্দারা এ অভিযানগুলোকে ব্যাপক বাড়ি তল্লাশি এবং ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক এনাস ইখলাভি, যাকে হেবরনের পশ্চিমে ইধনা শহরে তার বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তুলকারমের কাছে নুর শামস শরণার্থী শিবিরে অভিযানের সময় ইয়াজান আল-আলৌল নামে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরকেও আটক করা হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী প্রতিনিয়তই পশ্চিমতীরে রাতের বেলায় অভিযান ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করে। আর এমন প্রতিটি অভিযানে ফিলিস্তিনিদের আটক করা হয়। ২০২৩ সালে গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ অভিযান এবং গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। মাত্র দুই বছরেরও বেশি সময়ে, ইসরাইলি বাহিনী পশ্চিমতীরেই ২১,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে প্রায় ৯,২৫০ জন ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে আটক রয়েছেন, যার মধ্যে ৩৫০ জন শিশু এবং প্রায় ৫০ জন নারী। এসব ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রায় অর্ধেককেই কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখা হয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, ইসরাইল কর্তৃপক্ষ হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার করে, যার মধ্যে রয়েছে নির্যাতন, অনাহার, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা এবং নির্জন কারাবাস। মিডল ইস্ট আই।
নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ নাইজারে একটি ব্যস্ত বাজারে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নাইজার প্রদেশের ডেমো গ্রামের কাসুয়ান দাকি মার্কেটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাইজার পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিও আবিওদুন জানান, মোটরসাইকেলে করে একদল সশস্ত্র হামলাকারী বাজার এলাকায় ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ আহত হন। হামলাকারীরা শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। তারা বাজারের একাধিক দোকানে লুটপাট চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়দের কাছে এ সন্ত্রাসীরা ‘ডাকাত’ নামে পরিচিত বলে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র। তিনি রয়টার্সকে আরও বলেন, হামলার সময় কয়েকজন মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। হামলায় আহত দাউদা সাকুল্লে নামে এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, সন্ত্রাসীরা নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় মার্কেটে কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না। হামলার পর স্থানীয়রা এখনো বাজার এলাকায় লাশ খুঁজে চলেছেন। এদিকে এ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু। এক বিবৃতিতে তিনি হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে অপহৃতদের যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয়; বিশেষ করে বন ও জঙ্গলঘেঁষা অঞ্চলে, কঠোর নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ করা যায়। উল্লেখ্য, এ ঘটনার প্রায় এক মাস আগে নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে বন্দুকের মুখে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিল সন্ত্রাসীরা। সেই ঘটনায় অপহৃত শিক্ষার্থীদের সবাইকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান