সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২১

ইউরোপে প্রতি বছর ৮ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ মদ্যপান
মদের নেশাই এক বড়োসড়ো মৃত্যুফাঁদ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থাৎ ডব্লিউএইচও-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অন্তত তাই বলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী ইউরোপজুড়ে মদ্যপানের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, এ মহাদেশের প্রতি ১১টি মৃত্যুর মধ্যে ১টির জন্য দায়ী অ্যালকোহল!
ডব্লিউএইচও-এর সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মদ্যপানের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে ইউরোপ। আর এ অত্যধিক আসক্তিই ডেকে আনছে অকালমৃত্যু। ২০১৯ সালের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, শুধুমাত্র মদ্যপানের জেরে দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, পড়ে গিয়ে আহত হওয়া এবং আত্মক্ষতি করা বা আত্মহত্যার মতো ঘটনা।
তবে শুধু দুর্ঘটনাই নয়, হিংসা ও পারিবারিক নির্যাতনের পেছনেও বড় ভূমিকা রয়েছে মদের। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মারামারি থেকে শুরু করে গার্হস্থ্য হিংসা সব ক্ষেত্রেই ইন্ধন জোগাচ্ছে মদ্যপান। বিশেষ করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুবসমাজ। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ভবিষ্যতে এটা বড় মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে। ডব্লিউএইচও-এর কর্মকর্তা কারিনা ফেরেইরা-বোর্হেস সতর্ক করেছেন, ‘অ্যালকোহল একটি বিষাক্ত পদার্থ। এর থেকে সাত ধরনের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটি মানুষের বিচারবুদ্ধি গুলিয়ে দেয়, যার ফলে বাড়ে অপরাধ ও দুর্ঘটনা।’
পরিসংখ্যানে আরো দেখা গিয়েছে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোয় মদ্যপানজনিত মৃত্যুর হার পশ্চিম বা দক্ষিণ ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি। রাশিয়ায় গত দুই দশকে মদ্যপানে কিছুটা রাশ টানা সম্ভব হলেও বিয়ার ও ভদকার আসক্তি পুরোপুরি যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সচেতন না হলে এই ‘বিষ’ আগামী দিনে আরো বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। আল-জাজিরা।

মুসলিম আমেরিকানদের হাত ধরেই বৈশ্বিক জাগরণ আশা করছেন এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, মুসলিম আমেরিকান সমাজ বৈশ্বিক মুসলিম ঐক্য ও সচেতনতা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় গত ২৬-২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (এমএএস)-এর বার্ষিক সম্মেলনে একটি লিখিত বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এরদোগানের বার্তায় বৈশ্বিক মুসলিম ঐক্যের প্রতি জোর দেয়া হয় এবং এমএএস-এর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করা হয়। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই এমএএস সম্মেলনে ভিডিও বার্তা বা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে অংশ নেন এরদোগান। তিনি সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংগঠনটিকে ধন্যবাদ জানান এবং ইসলামি বিশ্বের জন্য এটি একটি ফলপ্রসূ আয়োজন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ বছরের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ফেইথ আন্ডার ফায়ার : স্ট্যান্ডিং স্ট্রং ইন চাইটিক টাইমস’ (অগ্নিপরীক্ষার মুখে বিশ্বাস : অস্থির সময়ে দৃঢ় থাকা)। বার্তায় এরদোগান বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, যেসব মানুষের সঙ্গে আমাদের হৃদয় একাত্ম, তাদের ভূমি আজ যুদ্ধ, সংকট ও অস্থিরতার চক্রে নিমজ্জিত। এসব বিশৃঙ্খল সময়ে একে অপরের ওপর বিশ্বাস রেখেই আমাদের শক্ত থাকতে হবে’। মুসলিম আমেরিকান সমাজের নীতিগত অবস্থানকে তিনি সাধুবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, এ অবস্থান অন্য সম্প্রদায়ের জন্য উদাহরণ হয়ে বৈশ্বিক জাগরণ সৃষ্টি করবে। সম্মেলনের আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের, বিশেষত গাজার মানুষের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অভিযানে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধেই তারা কণ্ঠ তুলতে চান।
তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই গাজা পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার সমালোচনা করে আসছে। আঙ্কারা ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি ‘শান্তি পরিকল্পনা’র পর গাজায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তুরস্কের অভিযোগ, ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করে চলেছে। শিকাগোর এ সম্মেলনে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) নারী শাখার প্রধান তুঘবা ইশিক এরজান অংশ নেন এবং উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন। তিনি গাজা ও অন্যান্য মুসলিম নিপীড়নের প্রসঙ্গে তুরস্কের মানবিক কূটনীতির অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি মানবিক সহায়তা করিডোর চালু, আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর বিষয়েও কথা বলেন। পাশাপাশি ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত রাখাকে এরদোগানের ‘ন্যায়ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির’ প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে একে পার্টির সংসদ সদস্য মেরিয়েম গোকা ও রুমেইসা কাদাক বক্তব্য দেন। অধিবেশনগুলোয় গাজা, লিবিয়া ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তুরস্কের ভূমিকা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। আল-সাবাহ।

ভোটার তালিকা সংশোধনীর আড়ালে হিন্দু রাষ্ট্রের পথে ভারত!
২০২৫ সাল ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই বছরটি কেবল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীই নয়, বরং ভারতকে একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার এক বছর হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘স্ক্রল ইন’-এর একটি বিশেষ নিবন্ধে উঠে এসেছে কীভাবে এই এক বছরে নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার এবং ধর্মীয় পরিচয়ের সমীকরণগুলো আমূল বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় পরিচয় নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি কেবল সীমান্ত অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ভারতের মূল ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আসামে ‘বিদেশি ট্রাইব্যুনাল’ কর্তৃক অ-নাগরিক ঘোষিত ব্যক্তিদের মধ্যরাতে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাংলাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের নাগরিকত্ব প্রমাণের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বার বার। জুলাই মাসে বিহার থেকে শুরু হওয়া নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) কর্মসূচিটি অক্টোবর নাগাদ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত করা হয়। সরকারিভাবে একে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ও দ্বৈত নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া বলা হলেও, সমালোচকদের মতে এটি মূলত মুসলিম ও বিরোধীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একটি কৌশল।
এ প্রক্রিয়ায় ‘প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার’-এর নীতি লঙ্ঘন করে ভোটারদের ওপরেই নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতে বছরের শেষার্ধে; বিশেষ করে বড়দিনের আগে বিভিন্ন রাজ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে গির্জার সামনে হনুমান চালিশা পাঠ এবং আসামের নলবাড়িতে স্কুলে ঢুকে বড়দিনের সাজসজ্জা নষ্ট করার মতো ঘটনাগুলো দেশের সাংবিধানিক ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশপরা। ১৯২৫ সালে আরএসএস প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতকে একটি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা। ২০২৫ সালে এসে সেই লক্ষ্য পূরণে আইনের ধূসর এলাকাগুলোকে ব্যবহার করে ‘গেরুয়াকরণ’ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে বলে নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে। এম.এস. গোলওয়ালকারের তাত্ত্বিক আদর্শকে ভিত্তি করে বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলো ভারতকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ে আবদ্ধ করার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা ভারতের বহুত্ববাদী কাঠামোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে। স্ক্রল ইন।

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক ধসের আশঙ্কা

মার্কিন অর্থনীতিবিদ পিটার শিফ আবারও সতর্ক করে বলেছেন যে, বৈশ্বিক অর্থনীতি একটি বড় সংকটের দিকে এগোতে পারে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ২৬ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারের দীর্ঘদিনের প্রভাব ধীরে ধীরে কমছে। শিফ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে দেশগুলি ডলারভিত্তিক সম্পদের বিকল্প খুঁজছে, যা মার্কিন রাজস্ব ও মুদ্রানীতির ওপর ক্রমহ্রাসমান আস্থাকে প্রতিফলিত করে। তিনি বলেছেন যে এ পরিবর্তন অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় ডলারকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং বৃহৎ বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য কম খরচে ঋণ নেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে। শিফ বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ, দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে ডলারের দুর্বলতাকে যুক্ত করে সতর্ক করেছেন যে, নীতিনির্ধারকেরা ‘সফট ল্যান্ডিং’ নিশ্চিত করার বদলে এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা মুদ্রার মান আরও হ্রাস করবে এবং মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক অস্থিরতা বাড়াবে।
তিনি শক্তিশালী শেয়ার বাজার পারফরম্যান্স বা নির্বাচনী অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে আশাবাদকেও উড়িয়ে দিয়ে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, এ ধরনের সংকেতগুলো গভীর ঝুঁকিগুলোকে আড়াল করে। শিফের মতে, ক্রমবর্ধমান সোনার দাম অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার পরিবর্তে ডলারের অবমূল্যায়ন এবং পদ্ধতিগত ঝুঁকি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে। ডলারের পাশাপাশি শিফ ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে বিটকয়েন নিয়েও তাঁর দীর্ঘদিনের সন্দেহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিরি আরও বলেন, স্বর্ণের দাম বাড়ার সময়ে ক্রিপ্টো সম্পদগুলো নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি। এতে তাঁর বিশ্বাস আরও জোরালো হয়েছে যে, ফিয়াট মুদ্রার ওপর আস্থা কমলে ঐতিহ্যগত মূল্য সংরক্ষণকারী সম্পদই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। ফিনবোল্ড।

হিন্দুত্ববাদীদের হাতে হেনস্তার শিকার জাপানি পর্যটক দল
গত ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বারাণসীর দশাশ্বমেধ ঘাটে ভ্রমণের সময় একদল হিন্দুত্ববাদী পুণ্যার্থীর হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন কয়েকজন জাপানি পর্যটক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ককে পরবর্তীতে পুলিশ একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পর্যটকরা ঘাটে গোসল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় কিছু পুণ্যার্থী তাদের বাধা দেন এবং গঙ্গা নদীতে প্রস্রাব করার অভিযোগ তোলেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পুণ্যার্থীরা পর্যটকদের জেরা করছেন এবং পর্যটকরা দৃশ্যত ভীত ও বিভ্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন। ভাইরাল ভিডিওতে এক পুণ্যার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার কি সাধারণ জ্ঞান নেই? এটি আমাদের পবিত্র নদী। এখানে কত মানুষ স্নান করছেন। হাত জোড় করে ক্ষমা চান।’ পর্যটককে তার ট্যুর গাইডকেও ডাকতে বলা হয়।
হুমকির মুখে পড়ে এক জাপানি পর্যটককে ঘাটের সিঁড়িতে বসে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। বড়দিন উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে বারাণসী ভ্রমণে আসা ওই পর্যটকরা সাঁতারের পোশাক এবং সান্তা ক্লজের টুপি পরেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেশ কিছুক্ষণ ধরে বিতর্ক চলে এবং পর্যটকদের মৌখিকভাবে গালিগালাজ করা হয়, যার ফলে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। ভিডিওতে পর্যটক পরিবারের নারী ও শিশুদেরও বেশ আতঙ্কিত দেখাচ্ছিল।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বারাণসী পুলিশ কাশি ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানায়, ‘স্নান করা নিয়ে জাপানি পর্যটকদের জেরা করেছিলেন অন্য তীর্থযাত্রীরা। পর্যটকরা ক্ষমা চাওয়ার পর বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মিটে গেছে। কোনো শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেনি।’ সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল অঞ্জন ত্রিপাঠি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, ‘কিছুক্ষণ তর্কাতর্কি হলেও পরে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে কথা বলে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেন।’ তিনি আরও জানান, কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে পুলিশ ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, তা খতিয়ে দেখছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেক ব্যবহারকারী পুণ্যার্থীদের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে একে বিদেশি পর্যটকদের প্রতি অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছেন। অনেকের মতে, এ ঘটনা আতিথেয়তার পরিপন্থী এবং এটি বারাণসী তথা ভারতের পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। সিয়াসত ডেইলি।

পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা!
নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেন ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে ক্রেমলিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পর সোমবার এ হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নভগোরোদ অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে কিয়েভ। এ হামলার কারণে যুদ্ধ অবসানে ক্রেমলিনের আলোচনার অবস্থান এখন বদলাবে। ল্যাভরভ বলেছেন, ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ইউক্রেন ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে হামলা চালায়। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স বলেছে, ‘ইউক্রেনের এ ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে। ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের ছোড়া সব ড্রোন রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।’ রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ হামলার পরও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা মস্কোর রয়েছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বাসভবনে কিয়েভ ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ক্রেমলিন যে দাবি করেছে, তাকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভে নতুন হামলার যুক্তি দাঁড় করাতেই এ দাবি করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি রুশ ফেডারেশনের আরেকটি মিথ্যাচার।’ তিনি বলেন, তারা মূলত রাজধানী কিয়েভ এবং সম্ভবত সরকারি ভবনগুলোয় হামলার ক্ষেত্র তৈরি করছে।’ ইউক্রেনের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, একেবারে সবাইকে। রাজধানীতে হামলা চালানো হতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু ওই ব্যক্তি (পুতিন) বলেছেন, তারা উপযুক্ত লক্ষ্য বেছে নেবে।’ এএফপি, রয়টার্স।

 

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই স্নাতক সম্পন্ন ১৬৮ ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের
গাজায় চলমান গণহত্যা ও অবরোধের মধ্যেই ধ্বংসপ্রাপ্ত আল-শিফা মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি চিকিৎসক। গত ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের ধ্বংসাবশেষের সামনে এ ব্যতিক্রমী সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও চিকিৎসকরা তাদের উচ্চতর মেডিক্যাল প্রশিক্ষণ শেষ করে প্যালেস্টাইন বোর্ড সার্টিফিকেশন অর্জন করেন। তারা নিজেদের নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যানিটি কোহর্ট’ মানবতার ব্যাচ। এ সময়টায় তারা একদিকে পড়াশোনা ও পরীক্ষা চালিয়ে গেছেন অন্যদিকে গাজার বিপর্যস্ত হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অনাহার, বারবার বাস্তুচ্যুতি ও নিরবচ্ছিন্ন সহিংসতার মাঝেও তাদের এ অর্জন মানবিক দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে কিছু খালি চেয়ার রাখা হয়, যেখানে শহীদ স্বাস্থ্যকর্মীদের ছবি টানানো ছিল যারা এ গণহত্যামূলক যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইউসুফ আবু আল-রেইশ আল-জাজিরাকে বলেন, এটি ছিল ‘যন্ত্রণার গর্ভ থেকে, বোমাবর্ষণের নিচে, ধ্বংসস্তূপ ও রক্তস্রোতের মাঝখান থেকে স্নাতক হওয়ার মুহূর্ত’। নবস্নাতক চিকিৎসক ডা. আহমেদ বাসিল বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি স্থাপনায় দাঁড়িয়ে উচ্চতর যোগ্যতা অর্জন প্রমাণ করে ফিলিস্তিনিরা জীবনকে ভালোবাসে এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতি অটল থাকে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে আল-শিফা হাসপাতাল একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রথম অভিযানে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু সালমিয়াকে গ্রেফতার করে সাত মাস আটক রাখা হয়। ২০২৪ সালের মার্চে দ্বিতীয় হামলায় পুরো কমপ্লেক্স প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। বর্তমানে গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৮টি আংশিকভাবে চালু আছে। প্রায় ১৮ হাজার ৫শ’ গুরুতর রোগীর মধ্যে ৪ হাজার শিশু জরুরি চিকিৎসা সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ডব্লিউএইচও হেলথ ক্লাস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় স্বাস্থ্যসেবায় ৮২৫টি হামলা হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ৯৮৫ জন, আহত প্রায় ২ হাজার । ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, গত দুই বছরে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ৭২২ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। মাকতুব মিডিয়া।

ইসরাইলি আগ্রাসনের মধ্যেই হাফেজ হলেন ৫শ’ ফিলিস্তিনি
দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের মধ্যেই গাজা উপত্যকায় ৫০০ ফিলিস্তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছেন। স্থানীয় সময় গত ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার গাজা সিটির আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সম্মাননা জানানো হয়। এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে হিফজ সম্পন্ন করা সদস্যদের পরিবার, আলেম, শিক্ষক ও বাসিন্দারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই যুদ্ধের সময় একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও বক্তব্যের মাধ্যমে অব্যাহত বোমাবর্ষণ, অবরোধ ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ধৈর্য, বিশ্বাস ও অবিচলতার বার্তা তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে তারা পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছেন। অনেকেই বিপুলসংখ্যক লোকের ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্রে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বা অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে মোমবাতির আলোতে পড়াশোনা করেছেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে কুরআন হিফজ কেবল ব্যক্তিগত ধর্মীয় অর্জন নয়, এটি ফিলিস্তিনি পরিচয় ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের একটি সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রতীক। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একজন আয়োজক বলেন, ‘যখন ইসরাইল আমাদের জীবন, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ মুছে দিতে চায়, তখন এই হাফেজ ও হাফেজারা আল্লাহর বাণীকে নিজেদের হৃদয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।’ উপস্থিত ধর্মীয় আলেমরা জানান, দীর্ঘদিনের অবরোধ ও একাধিক সামরিক অভিযানের পরও গাজায় কুরআন শিক্ষার ঐতিহ্য রয়েছে। যুদ্ধের সময় বহু হিফজ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলেও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ও পারিবারিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম অনানুষ্ঠানিকভাবে চলতে থাকে। অভিভাবকরা জানান, বোমা পড়া শব্দের মধ্যে এবং জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠার সময় তাদের সন্তানরা সান্ত্বনা ও শক্তির জন্য কুরআনের আশ্রয় নিয়েছে। টিরআরটি ওয়ার্ল্ড।

আবু উবায়দার শাহাদাতের বিষয় নিশ্চিত করল হামাস
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবায়দার শাহাদাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি। একইসাথে তৎকালীন গাজা প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ারের শাহদাতও নিশ্চিত করা হয়েছে। গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) কাসসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী গত মে মাসে দাবি করেছিল যে তারা হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহইয়া সিনওয়ারের ছোট ভাই মোহাম্মাদ সিনওয়ারকে হত্যা করেছে। এর তিন মাস পরে তারা দাবি করেছে, কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবায়দাকেও হত্যা করা হয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে তাদের উভয়ের চলতি বছরের শুরুর দিকে নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে শেষ বিবৃতি দিয়েছিলেন হামাস মুখপাত্র আবু উবায়দা। তখন গাজা সিটিতে নতুন আক্রমণ শুরু করেছিল ইসরাইলি বাহিনী। এরপর তারা গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর একের পর এক গোলা বর্ষণে শত শত আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা আবাসিক এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, আবু উবায়দা ছিলেন হামাসের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। তিনি এ বছরের শুরুতে যুদ্ধের যাবতীয় আপডেট সরবরাহ করতেন। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং বন্দী বিনিময় চুক্তি সম্পর্কেও বিবৃতি দিয়েছিলেন তিনি। তিনি এককভাবে ইসরাইলিদের মনোবল অনেকটুকু ভেঙে দিয়েছিলেন। সিনওয়ার এবং আবু উবাইদ হলেন গত দুই বছরে ইসরাইল কর্তৃক নিহত হামাসের সর্বশেষ প্রতিনিধি, যার মধ্যে রয়েছেন হামাসের অনেক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা। এ তালিকায় রয়েছেন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার; সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ, ১৯৯০-এর দশকে কাসাম ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন; এবং রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়েহ। আল-জাজিরা।

উত্তর কোরিয়ার সফল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উন আবারও দূরপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) পশ্চিম উপকূলে এ পরীক্ষা সফলভাবে চালানো হয়েছে। কিম জং উন পরীক্ষা পরিচালনার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন, কারণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ধারিত কক্ষপথ পেরিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে সীমাহীন ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বৃদ্ধি করতে। ২০২৬ সালের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন বা পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সম্মেলনে আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। তার আগে দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে কিম জং উনকে সম্প্রতি বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা প্রসঙ্গে কিম বলেন, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির মুখে নিজেদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং দ্রুত সাড়াদানের সক্ষমতা নিয়মিত যাচাই করা একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া তার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত রোববার সকালে পিয়ংইয়ংয়ের নিকটবর্তী সুনান এলাকা থেকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়া আরো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে বলে সিউল সতর্কবার্তা দিয়েছে। সম্প্রতি কিম জং উন একটি নির্মাণাধীন বিশাল পারমাণবিক শক্তিচালিত কৌশলগত সাবমেরিন পরিদর্শন করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া এ সাবমেরিন নির্মাণ পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে একে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আল-জাজিরা।

তুরস্কে বন্দুকযুদ্ধে পুলিশসহ ৯ জন নিহত
তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বন্দুকযুদ্ধে আইএসআইএলের ছয় সদস্য ও তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) তুর্কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ১৩টি প্রদেশে আইএসআইএলের ঘাঁটিতে গত রোববার রাতভর ১০৮টি পৃথক অভিযান চালায়। খবর আল জাজিরার। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ২টায় ইস্তাম্বুলের দক্ষিণে অবস্থিত ইয়ালোভা প্রদেশের এলমালিক গ্রামে একটি বাড়িতে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময় হয়। এতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং আইএসআইএলের ছয় সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় আট পুলিশ সদস্য এবং একজন নৈশপ্রহরী আহত হয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, অভিযানের সময় পাঁচজন নারী এবং ছয় শিশুকে বাড়ি থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়। যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, সেখানে লোকজন এবং যানবাহন প্রবেশের অনুমতি ছিল না। বন্দুকযুদ্ধের পর ইয়ালোভা গভর্নরেটের কাছাকাছি পাঁচটি স্কুলে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। ইস্তাম্বুল থেকে আল জাজিরার সিনেম কোসেওগলু জানান, বড়দিনের ছুটির সময়ে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী সারাদেশে আইএসআইএলের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবার তুর্কি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ১২৪টি স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১৫ জন আইএসআইএল সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। আরএ।

সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বে চীনের সমর্থন
সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিভক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে চীন। গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি বেইজিংয়ের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো দেশেরই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে উৎসাহ দেওয়া বা সমর্থন করা উচিত নয়।’ তিনি সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। চীনের এ বক্তব্য এমন এক প্রেক্ষাপটে এলো, যখন ইসরাইল গত ২৬ ডিসেম্বর স্বঘোষিত রিপাবলিক অব সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। একইসঙ্গে তেল আবিব সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতে তাৎক্ষণিক সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বেইজিং সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা বিচ্ছিন্নতাবাদকে সমর্থন করে না এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে সোমালিয়ার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার পক্ষেই রয়েছে। এসআর।

আরএসএফের আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই সুদানের যুদ্ধ শেষ হতে পারে : আল-বুরহান
তৃতীয় বছরে পা দেওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধ কেবল র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই শেষ হতে পারে। এমন কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন সরকারপন্থী সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ)-এর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। এ বক্তব্য এসেছে এমন একসময়ে, যখন দেশটি দুর্ভিক্ষ, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও লাগাতার সংঘর্ষের কারণে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং বহু শহর জনশূন্য হয়ে উঠছে। গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সরকারি সফরকালে আল-বুরহান বলেন, আরএসএফ নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হলে কোনো রাজনৈতিক সমাধান গ্রহণযোগ্য হবে না। তুরস্কে বসবাসরত সুদানি নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসান মানেই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক লড়াই নয়; অস্ত্র নামিয়ে রেখে আত্মসমর্পণের মাধ্যমেও সংঘাত শেষ হতে পারে। এর আগে ২৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সুদানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মতে, এ গৃহযুদ্ধ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। রাজধানী খার্তুমের দক্ষিণে কস্তি শহরে হাজারো পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে এবং সীমিত খাদ্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। হোয়াইট নাইল রাজ্য থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং অনেক এলাকাতেই খাদ্যাভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সুদানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপ স্থানীয় সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। খাদ্য ও ওষুধের পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায়। জাতিসংঘ ২০২৬ সালের জন্য মানবিক সহায়তার তহবিল কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিসহ বড় দাতারা সহায়তা হ্রাস করেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, তহবিল সংকটের কারণে খাদ্য রেশন ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বর্তমানে সুদানে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়ছে। নর্থ দারফুর ও নর্থ কর্দোফানে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ায় অনেক শহর কার্যত ‘ভূতুড়ে শহরে’ পরিণত হয়েছে। নর্থ কর্দোফানে কৌশলগত শহর এল-ওবেইদ ঘিরে এসএএফ ও আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে, যেখানে দখল-পাল্টাদখলের মধ্য দিয়ে ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ যুদ্ধের চিত্র দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কর্দোফানেও পরিস্থিতি গুরুতর। দীর্ঘদিন ধরে কাদুগলি ও দিলিং শহর অবরোধে থাকায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সংঘর্ষ জটিল হয়ে উঠেছে এবং ড্রোন ও ভারী গোলাবারুদ ব্যবহারের খবর মিলছে। সব মিলিয়ে, সামরিক অনড় অবস্থান, মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি সুদানের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। আল-জাজিরা।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান