মানবিক সংকট এবং জেনজির ক্যারিশমা দেখল বিশ্ব


১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৩

তরুণ মুসলিম মামদানী নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত

॥ মুহাম্মদ আল-হেলাল ॥
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২০২৫ সাল একটি ঘটনা বহুল বছর। বছরটির শুরুর দিকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বারের মতো শপথগ্রহণ এবং শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর বিশ্বরাজধানী খ্যাত নিউইয়র্কে ৩৩ বছর বয়সী দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূত আফ্রিকান-আমেরিকান মুসলিম তরুণ জোহরান মাদানীর মেয়র নির্বাচন, পাক-ভারত, পাক-আফগান, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার ন্যায় বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ-বিগ্রহ, সুদান মানবিক সংকট এবং জেনজি আন্দোলনে নেপাল, মাদাগাস্কার সরকার পতন ইত্যাদির জন্য ২০২৫ সাল আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটেছে এ ধরনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ আয়োজনে আল-জাজিরা, বিবিসি, ইরনা, সৌদি গেজেট, গালফ নিউজ, সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট, এএফপি, এপি, এপিপি ইত্যাদি অবলম্বনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরার প্রয়াস।
১. যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শপথ
ঘটনাবহুল ২০২৫ সালের অন্যতম ঘটনা বিশ্বের সামরিক, অর্থনৈতিক, পারমাণবিক, রাজনৈতিক সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৮৯০ সালের পর তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি একটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর আবারও প্রেসিডেন্ট হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শপথগ্রহণ করেছেন। তার আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেন জেডি ভ্যান্স। ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল রোটুন্ডায় তার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে হাজির হন বিদেশি বিভিন্ন রাষ্ট্র নেতারাও। প্রতিবার এ শপথ অনুষ্ঠান ক্যাপিটল হিলের বাইরে আয়োজন করা হয়। তবে তীব্র ঠাণ্ডার কারণে এবার সেটি ভেতরেই করা হয়। ফলে ৪০ বছরের রীতি ভাঙছে। এর আগে ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিষেকের সময় এ জটিলতা দেখা দেয়। এ সময় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ থেকে ২০ ডিগ্রিতে নেমে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মানুসারে, শপথগ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট একটি অভিষেক ভাষণ দেন, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দায়িত্ব পালনের সংকল্প ও পরিকল্পনার কথা জানান। এরপর বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে বিদায় জানানো হয়। শপথের পর প্রেসিডেন্ট একটি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন, যা ক্যাপিটল ভবনের প্রেসিডেন্ট রুমে অনুষ্ঠিত হয়। এর পরপরই আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের সুপার পাওয়ার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
২. পাক-ভারত যুদ্ধ
২২ এপ্রিল ২০২৫ জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে বৈসরান উপত্যকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের একটি দল পর্যটকদের লক্ষ করে গুলি চালায়। এ হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে পর্যটক ও সরকারি কর্মচারী উভয়ই ছিলেন। আরও কয়েকজন আহত হন। পেহেলগামের ঘটনার পর পরই দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। কয়েকদিন যুদ্ধ চলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি হয়। যুদ্ধ পরবর্তীতে ভারত পাকিস্তান তাদের যুদ্ধ কৌশল, আক্রমণ, ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে বিবৃতি দেয়।
মে ১১, ২০২৫ তারিখে ভারতীয় সেনার ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্স লেফটোন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই, বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশন্স এয়ার মার্শাল একে ভারতী এবং নৌবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব নেভাল অপারেশন্স’ ভাইস অ্যাডমিরাল এএন প্রমোদ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তথ্য দেন।
তারা দাবি করেছেন, অপারেশন সিঁদুরের ফলে ৩৫ থেকে ৪০ জন পাকিস্তানি সেনা মারা গেছেন। পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। চাকলালা, রফিকি, সারগোদা, জ্যাকোকাবাদ, ভুলারির মতো অনেকগুলি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করা হয়েছে। ভারতের নৌবাহিনী করাচিতে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল।
ভারতের দাবি, পাকিস্তান এ আক্রমণ করেছিল বলেই ভারতকে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ করে আক্রমণ করতে হয়েছে। ভাইস অ্যাডমিরাল এএন প্রমোদ বলেছেন, পেহেলগামের ঘটনার পরে ভারতীয় নৌবাহিনীর ডুবোজাহাজ, রণতরী, বিমানসহ সমস্ত বিভাগকে সমুদ্রে মোতায়েন করা হয়েছিল। নৌবাহিনী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে আরব সাগরে বেশ কিছু জায়গায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল পাবলিক রিলেশন্স এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদ, নৌবাহিনীর ন্যাভাল স্টাফ (অপারেশন) ডেপুটি চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল রাজা রাব নওয়াজ ওবং পাকিস্তান সেনাপ্রধান মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করেন। তাদের দাবি, ভারত পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর তারা অপারেশন বুনিয়ানউম মারসুস শুরু করেন। ভারতের ২৬টি সামরিক টার্গেট লক্ষ করে হামলা করা হয়। এ টার্গেটের মধ্যে ছিল সুরাতগড়, সিরসা, আদমপুর, ভুজ, নালিয়া, ভাতিন্দা, বারনালা, হালওয়ারা, অবন্তীপুর, শ্রীনগর, জম্মু, মামুন, আম্বালা, উধমপুর ও পাঠানকোট। প্রতিটি জায়গায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাকর্তাদের দাবি, তাদের নৌবাহিনী মুম্বাইয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছিল। তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির অনুরোধ করেনি। কেউ যদি যুদ্ধে নামে, তাহলে দুই পক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য নামবে। তাই পাকিস্তান খুবই সংযত ও পরিণতভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। জিএইচ/এসসি (পিটিআই, রয়টার্স, এএফপি, এপি)
এ যাবত ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যতগুলো সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে সবগুলোই প্রায় ভারতের অভ্যন্তরে উৎপত্তি হয়েছে এবং সেই সংঘাতগুলোর জন্য কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই ভারতের পক্ষ থেকে অঙ্গুলি তোলা হয়েছে পাকিস্তানের দিকে। কিন্তু বিশ্ববাসীর সাওয়াল নিñিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে ভারতে হামলা করে বা হামলার সময় বন্দী কেন করা হয় না? অন্যদিকে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা যখনই ভারতে মুসলিম নির্যাতনের মতো কোনো ঘটনা ঘটে তখন বিশ্ব মিডিয়ায় সেটি আড়াল করতে খোদ ভারত সরকারের মদদে ভারত পাকিস্তান উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। সম্প্রতি ভারতের সংসদে ওয়াক্ফ বিল আনয়নের পর যে মুসলিম নিধন শুরু হয় সেটি আড়াল করতেই ভারত সরকারের মদদে পেহেলগামে হামলার মাধ্যমে পর্যটকদের হত্যা করা হতে পারে। এ ধরনের সংশয় থেকে আলোচনার টেবিলের পরিবর্তে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়া মানবতার জন্য হুমকি। এ যুদ্ধে উভয় দেশের জানমালের ক্ষতি হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা এবার যুদ্ধে পাকিস্তানের তুলনায় ভারতের বেশি ক্ষতি হয়েছে। সুতরাং পাক-ভারত সংঘাত, অবিশ্বাস দূর করে দেশ দুটির মধ্যে শান্তি স্থাপন না হলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হওয়া অবশ্যম্ভাবী।
৩. নেপালে ২৪ ঘণ্টার জেনজি আন্দোলনে পার্লামেন্টে আগুন এবং সরকার পতন
সম্প্রতি নেপাল সরকারের দুর্নীতি ও নানা ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা ‘নেপো কিড’ এবং ‘নেপো বেবিস’ নামের বিভিন্ন ধরনের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনলাইনে পোস্ট করেন। সরকারবিরোধী এসব হ্যাশট্যাগ অনলাইনে ব্যাপক ট্রেন্ডে পরিণত হয়। পরবর্তীতে নেপাল সরকার কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধের সিদ্ধান্ত ও সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেনজি প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন অনলাইন থেকে সড়কে পৌঁছে। হামি নেপাল নামের একটি সংগঠন প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এক সমাবেশের আয়োজন করে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫। এ সমাবেশ থেকে সরকারের কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। জেনজি প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এর ফলে বিক্ষুব্ধ জনতাকে অগ্নিশর্মা হয়ে ২০২২ সালে সংঘটিত শ্রীলঙ্কার ন্যায় সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্যদের ওপর আক্রমণ করতে এবং পার্লামেন্টের মূল ভবনে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। অবশেষে আন্দোলনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর (ইউনিফাইড মার্কসবাদী-লেলিনবাদী) (সিপিএন-ইউএমএল) এবং নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতন হয়। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিপিএন-ইউএমএল এর কেপি শর্মা ওলি ১৫ জুলাই, ২০২৪ থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
৪. জেনজি বিক্ষোভে মাদাগাস্কার সরকারের পতন
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ মাগাগাস্কারে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। ‘জেনজি’ নামে পরিচিত এ বিক্ষোভ রাজধানী আন্তানানারিভো থেকে শুরু হলেও ধীরে ধীরে আটটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৩ সালে তৃতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার এ আন্দোলন সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানিমন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ও তার পুরো সরকারকে পদত্যাগের দাবি করে আবারও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসলে প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পদচ্যুত করেছেন ও সরকার ভেঙে দিয়েছেন এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর নতুন সরকার গঠন করা হবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক নিরাপত্তা বাহিনীর ‘অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগের’ নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১০০ জন আহত হন। তিনি জানান, আটক ও মারধরের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস; এমনকি সরাসরি গুলিও চালানো হয়েছে।
৫. পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। গত কয়েক বছরের উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস ২০২৫ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নয়। এরই মধ্যে দুই পক্ষের দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ৯ অক্টোবর ২০২৫ আফগান রাজধানী কাবুলে দুটি বিস্ফোরণ ও সীমান্তবর্তী পাকতিয়া প্রদেশের একটি বাজারে আরেকটি বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও একসময় পাকিস্তান ও তালেবান ছিল ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিন্তু এখন সম্পর্ক একেবারেই ভিন্ন চিত্র ধারণ করেছে। থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ কাবুলের দিকে ইঙ্গিত করে জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই পাকিস্তানে ২ হাজার ৪১৪ জন নিহত হয়েছেন আত্মঘাতি হামলায়।
মূলত ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশদের নির্ধারিত এ সীমান্ত পাকিস্তান স্বীকৃতি দিলেও আফগানিস্তান কখনোই তা মেনে নেয়নি। সুতরাং দুই দেশের বিবাদের মূল শিকড় রয়েছে ডুরান্ড লাইনে।
এ সংঘর্ষে ২৩ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। আহত হয়েছেন আরও ২৯ জন। আর অপর পক্ষে দুই শতাধিক তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
১৯ অক্টোবর ২০২৫ ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগান প্রতিনিধিদের সংঘর্ষবিরতি সম্মত হয়েছে দুই দেশ। পুরো মুসলিম ব্রাদারহুডের জন্য দেশ দুটির মধ্যে স্থায়ী শান্তি স্থাপন জরুরি।
৬. সুদান সংকট ২০২৫ সালের ‘সবচেয়ে অবহেলিত মানবিক সংকট’
২০১১ সালে সুদান বিভক্তির পর দক্ষিণ সুদানে তেলের খনির প্রায় ৭৫% চলে যায়। ফলে সুদানের অর্থনীতিতে মারাত্মক ধাক্কা লাগে। সুদানে স্বর্ণের খনির সিংহাংশ আল-ফাশির অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। আল-ফাশির অঞ্চল বর্তমান আরএসএফের অধীনে। আরএসএফ এ খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করছে এমন অভিযোগ রয়েছে। আল-ফাশির অঞ্চলের নেতৃত্বের হাতে স্বর্ণের খনি। আঞ্চলিক নেতৃত্ব এবং স্বর্ণের খনি দখলকে কেন্দ্র করেই চলেছে গৃহযুদ্ধ। এছাড়া হেমেদতির দাবি আরএসএফের এক লাখ সদস্যকে সেনাবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার পর বাহিনীর নেতৃত্ব থাকবে তার হাতে। আরএসএফ এবং এসএএফের দুই নেতা বুরহান ও হেমেদতির মধ্যে এ বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এমন এক উত্তপ্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরএসএফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনী এটিকে হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে। প্রতিক্রিয়ায় এসএএফ সদস্যদের রাজধানী খার্তুমের রাস্তায় নামানো হয়। কয়েক দিনের উত্তেজনা শেষে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল শুরু হয় তীব্র বন্দুকযুদ্ধ।
প্রায় তিন বছরের অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১ কোটি ৪০ লাখের মতো মানুষ। ২ কোটির বেশি মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। এর মধ্যে ৬০ লাখের মতো মানুষ দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতিতে রয়েছেন। ২০২৪ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দারফুরে মাসালিত ও অন্যান্য অনারব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরএসএফ ও তাদের মিত্র মিলিশিয়া বাহিনী কর্তৃক জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগ করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরএসএফ ও তাদের মিত্র মিলিশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র। আর জাতিসংঘ আরএসএফ ও এসএএফের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে আরএসএফের যোদ্ধারা অনারব নারীদের ‘আরব শিশু’ জন্ম দিতে বাধ্য করেছেন। ২০২৫ সালে গণহত্যায় সহযোগিতা করার অভিযোগে সুদান সরকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিল। কিন্তু আইসিজে মামলাটির শুনানি করতে রাজি হননি। আদালত জানান, এটা তাঁদের এখতিয়ারের মধ্যে নেই।
৭ ডিসেম্বর ২০২৫ আরএসএফ দাবি করে, তারা দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী হেগলিগ তেলখনি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী কোরদোফান অঞ্চলের কিছু এলাকাসহ আরএসএফ বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। (বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা, রয়টার্স ও গ্লোবাল কনফ্লিক্ট ট্র্যাকার)।
অন্যদিকে অনেক বিশেষজ্ঞের মতামত বর্তমান বিশ্বের সকল ঘটনা পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক পরিচালিত। আর পশ্চিমা বিশ্বের সকল পলিসি স্যামুয়েল হান্টিংটোনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ থিসিস দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং মুসলিম ভূখণ্ড সুদানে চলমান সাফ এবং আরএসএফের মধ্যকার গৃহযুদ্ধও স্যামুয়েল হান্টিংটোনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ থিসিস দ্বারা প্রভাবিত।
স্যামুয়েল হান্টিংটোন তার ‘সভ্যতার সংঘাত’ থিসিসে দেখিয়েছেন মুসলিম জনসংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৭০ সাল নাগাদ ইসলামী সভ্যতা বিশ্ব শাসন করবে। আর সেই ইসলামোফোবিয়া আশঙ্কা থেকেই যেকোনো উপায়ে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা হ্রাস করা পশ্চিমাদের পলিসি প্রতিযোগিতা। হোক সেটি মুসলিম জন অধ্যুষিত এলাকায় স্বর্ণের খনি দখল আর নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব বা ধর্ম বিশ্বাস , রাজনৈতিক স্বাধীনতা, আধিপত্য বা সীমানা নিয়ে যুদ্ধ, গণতন্ত্রের নামে সংঘাত এবং পরিবার পরিকল্পনা নীতির ন্যায় পারস্পরিক সাংঘর্ষিক কোন নীতি, সেদিকে লক্ষ করার সময় তাদের নেই। এর প্রতিফল হিসেবে হয়তো আমরা ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে মুসলিম জন অধ্যুষিত এলাকায় বেশি সংঘাত দেখতে পাই যেমন কাশ্মীর দ্বন্দ্ব, ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তুর্কিয়ে-কুর্দিস্তান, নেতৃত্বের লড়াই নিয়ে ইরাক-ইরান ও ইয়ামেন-সৌদি আরাবিয়া, আদর্শ নিয়ে তালিবান-নর্দান এলায়েন্স, গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশের আন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন্দল, স্বর্ণের খনি দখল আর নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে সুদানে গৃহযুদ্ধও এর বাইরে নয়। সর্বোপরি সুদান সংকট এমন জটিল অমানবিক রূপ ধারণ করেছে যে জাতিসংঘ সুদান সংকটকে ২০২৫ সালের ‘সবচেয়ে অবহেলিত মানবিক সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
৮. নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানী : শতাব্দীর সর্বকনিষ্ঠের রেকর্ড ব্রেক
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ৩৩ বছর বয়সী মুসলিম তরুণ জোহরান মামদানী নভেম্বর ০৪, ২০২৫। এ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি শহরটির ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম এবং নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হলেন। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ইতিহাস গড়েছেন। গত একশ’ বছরেও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে শহরটির মেয়রের চেয়ারে বসছেন মামদানী। এতদিন নিউইয়র্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের খেতাব ছিল হিউ জে গ্রান্টের, যিনি ১৮৮৯ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী হিসেবেও নিউইয়র্কের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েন মামদানি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুওমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে এ ইতিহাস গড়লেন নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট পরিচয় দেওয়া মামদানি। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট পার্টির সামনের সারির নেতৃত্বে পা রাখলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে জোহরান মামদানী ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৬ ভোট (৫১ শতাংশ), অ্যান্ড্রু কুওমো ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৩ ভোট (৩৯ শতাংশ) এবং কার্টিস স্লিওয়া ১৪ হাজার ৬২৬ (৭.১ শতাংশ) ভোট পেয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অফ ইলেকশনস জানিয়েছে- পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবার ভোটার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলে রাত ৯টা পর্যন্ত মেয়র নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে আসে নাটকীয় মোড়। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থিতার দৌড়ে জোহরান মামদানীর কাছে হেরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া অ্যান্ড্রু কুওমোকে সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তার দল রিপাবলিকান পার্টি কার্টিস স্লিওয়াকে প্রার্থী করেছে। ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে রিপাবলিকান ভোটাররা কুওমোর দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা নতুন এক সমীকরণ দাঁড় করাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
নিউইয়র্কের নির্বাচন শেষ পর্যন্ত মামদানী বনাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এদিন সকালেই কুইন্সের অ্যাস্টেরিয়ার আর্টস হাই স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন মামদানী। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী রামা দুয়াজি। ভোট দিয়েছেন কুওমো এবং স্লিওয়াও। তিন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণী এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এর আগে আগাম ভোট দেন নিউইয়র্কের সাত লাখ ৩৫ হাজার বাসিন্দা।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সবকিছু ছাপিয়ে শেষ দিনের প্রচারণার ছিল নানা নাটকীয়তা। মেয়র থাকাকালে বিদ্রোহী ডেমোক্র্যাট অ্যান্ড্রু কুওমোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ খারাপ ছিল। কিন্তু ভোটের মাঠে আকস্মিক তাকেই সমর্থন করেন ট্রাম্প। মেয়র হওয়ার দৌড়ে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়াওকে উপেক্ষা করে কুওমোকে সমর্থন মামদানীকে ঠেকাতে ট্রাম্পের মরিয়া চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
কুওমো নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র। তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি শহরটির মেয়র থাকাকালে সেখানকার আদালতে ট্রাম্পের মামলা চলে। এ নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় সরাসরি কুওমোর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু অনেকটা ইউটার্ন নিয়ে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘আপনি ব্যক্তিগতভাবে অ্যান্ড্রু কুওমোকে পছন্দ করেন বা না করেন, আপনার সামনে আর কোনো পছন্দ নেই। আপনাকে অবশ্যই তাকে ভোট দিতে হবে। আশা করি, তিনি চমৎকার কাজ করবেন। আর তিনি এটা করার সামর্থ্য রাখেন, মামদানি নয়।’
বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের সমর্থনের কড়া জবাব এলো মামদানির। তিনি বলেন, কুওমোকে সমর্থন করেছেন ট্রাম্প ও তার দলের লোকজন। তিনি নিউইয়র্ক সিটি বা নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের সেরা মেয়র হবে না, তিনি হবেন ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সেরা মেয়র।
জোহরান মামদানী জিতলে কেন্দ্রীয় তহবিল বন্ধ করে দেবেন বলেও ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তহবিল বন্ধের হুমকি দেন। তখন তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিউইয়র্ককে অধিক অর্থ দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন হতে যাচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, এটা কোনো নিয়ম নয়, হুমকি।
৯. থাই-কম্বোডিয়ান সীমান্ত সংঘর্ষ
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত নিয়ে তিন সপ্তাহের ভয়াবহ সংঘর্ষের পর একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গত জুলাই মাসেও প্রতিবেশী দুই দেশের সীমান্তে সংঘাত হয়েছিল। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ট্রাম্প এ চুক্তির নাম দেন ‘কুয়ালালামপুর শান্তিচুক্তি’। এতে বিতর্কিত এলাকা থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি অন্তর্বর্তী পর্যবেক্ষক দল গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের শুরুতে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং সংঘাত নতুন মাত্রা পায়।
থাই কর্তৃপক্ষের মতে, ৭ ডিসেম্বরের পর থেকে তাদের ২৬ জন সেনা এবং অন্তত ৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়া জানিয়েছে তাদের ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, তবে সামরিক হতাহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সংঘাত চলাকালে থাইল্যান্ড এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে বিমান হামলা এবং ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করেছে। পাল্টা জবাবে কম্বোডিয়া বিএম-২১ রকেট লাঞ্চার ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়।
২০২৫ সালে ঘটে যাওয়া অনাকাক্সিক্ষত যুদ্ধ বিগ্রহ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ, জোহরান মামদানীর মেয়র নির্বাচন, জেনজি আন্দোলন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আগামী বিশ্বকে শান্তিময় করে তোলা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দায়িত্বে বর্তায়।