ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিএনপির প্রার্থী ২৮৬, শরিকদের ছেড়েছে ১৪ আসন


১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০২

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন ২৯১ জন প্রার্থী। বাকি ৯টি আসনে বিএনপি মিত্রদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। ওই নয়জন প্রার্থী নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর ২৯১ আসনের মধ্যে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে ২৮৬ জন, বাকি পাঁচজন হচ্ছে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র। এ মিত্রদের কেউ দল ছেড়ে আবার কেউ দল বিলুপ্ত করে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন। অর্থাৎ মিত্রদের জন্য বিএনপি আসন ছেড়েছেন ১৪টি। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার আসনসহ মোট সাতটি আসনে বিকল্প প্রার্থী দিয়ে রেখেছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসন থেকেও নির্বাচন করবেন। জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ৫২ আসনে বিএনপির ৭১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে আলোচিত বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা, সাইফুল আলম নিরবসহ ৯ জনকে দল থেকে গত ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বহিষ্কার করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিত্র দলগুলোর নেতারা নিজস্ব প্রতীকে ৯টি এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৫টি আসনে নির্বাচন করবেন। ১৭টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি নিজেদের প্রার্থীকে সরিয়ে মিত্র দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেয়। আবার কোনো কোনো আসনে বয়স্ক, ঋণখেলাপিসহ আরও কিছু কারণে প্রার্থী বদল করেছে দলটি। এসব আসনে যোগ্যরা মূল্যায়িত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি এলেও বেশকিছু আসনে ক্ষোভ রয়ে গেছে। এসব আসনের বেশিরভাগ জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলটির নেতারা।
এবার জোটসঙ্গীদের নিয়ে চ্যালেঞ্জে রয়েছে বিএনপি। কেননা জোটবদ্ধ হলেও নির্বাচন করতে হবে নিজ দলীয় প্রতীকে- এমন বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। আর এতেই বিপাকে পড়ে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো। কারণ নির্বাচনে প্রতীক একটা বড় ফ্যাক্ট। আর তাই তো দীর্ঘদিনের শরিক দলের শীর্ষনেতাদের কেউ রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে আবার কেউ নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তারা এখন লড়বেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।
গত কয়েকদিনে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং এলডিপির একাংশের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান গত ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি ঝিনাইদহ-৪ আসনটি রাশেদ খানকে এবং পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয়। নির্বাচন কমিশনের নতুন বিধিমালা অনুযায়ী জোটভুক্ত প্রার্থীদের নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার কথা থাকলেও নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন নুরুল হক নুর।
এদিকে নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এলডিপির মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দেন এবং কুমিল্লা-৭ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও। গত ২২ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির শরিক হিসেবে প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। তবে ওই আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করায় তিনি দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন।
এছাড়া এলডিপির একাংশের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমও নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। গত ৮ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন। ঢাকা-১৩ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। অন্যদিকে জোনায়েদ সাকি, মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হকসহ ৯ জন নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেবন।