ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছে
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৪
॥ সরদার আবদুর রহমান॥
শুরুতেই কিছু প্রশ্ন- ভারত কি বাংলাদেশকে এখনো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে পারেনি? এখনো কি দেশটিকে করদরাজ্য অথবা অধীনস্থ মনে করে চলেছে?
অথবা চব্বিশের জুলাই-আগস্টের বাস্তবতা তারা মেনে নিতে পারছে না? শেখ মুজিবের সেই উক্তি, ‘তোমরা রিয়েলিটি মাইন্যা নাও’-এর বাস্তবতা কি ভারত মেনে নিতে পারছে না?
এরকম অজস্র প্রশ্ন গত ১৬ মাস ধরে দুই দেশের আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাব হিসেবে ভারত কেন বলছে না যে, ‘হ্যাঁ, আমরা রিয়েলিটি মাইন্যা নিলাম।’
হাসিনার পতনের পর থেকে ভারতে তার আশ্রয় গ্রহণ করা পর্যন্ত বিষয়টি না হয় মেনেই নেয়া গেল যে, ঘটনার আকস্মিকতায় তারা কিছুটা হতভম্ব অবস্থায় ছিল এবং এই ট্রমা কাটাতে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু তাই বলে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি পাওয়া অপরাধীদের পক্ষপুটে আগলে রাখতে হবে? এখানেই শেষ নয়, ভারতে বসে তাদের বাংলাদেশের ভেতরে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে নাগরিকদের হত্যা করে পুনরায় ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পারছে! পর্যবেক্ষরা বলছেন, ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে বসে খুনি হাসিনা দেশব্যাপী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের টার্গেট কিলিংয়ে লিপ্ত হয়েছে।
ভারতের বর্তমান আচরণ
ভারতের বর্তমান সরকারের আচরণে বার বার এ কথাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, বাংলাদেশের ওপর ‘হাসিনা রেজিম’ তাদের চাপিয়ে দেয়া একটি ব্যবস্থা। যেটা তারা হারিয়ে ফেলেছে। তারা তাদের হাতের খেলনাটা হারিয়ে এখন শিশুর মতো আচরণ করছে। বলতে হচ্ছে যে, একটা দেশ কতটা দেউলিয়া হলে সে প্রতিবেশী দেশের খুনিদের আশ্রয় দেয়! ভারত কেবল শেখ হাসিনা নয়, তার সুবিধাভোগী সাঙ্গ-পাঙ্গদের জন্যও কোল পেতে রেখেছে। ভারত সম্ভবত এমন আশা করে আছে যে, বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় পতিত আওয়ামী লীগকে সহসা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
কিন্তু ভারত তো ভালো করেই জানে যে, তারা যাকে এবং যাদের জামাই আদরে রেখেছে, তারা কোন পর্যায়ের লোক! এদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ কেবল আইন-আদালতেই নয়, পুরো দেশের মানুষের মন ও মগজে জমা হয়ে আছে। এরা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে ফোকলা করে পালিয়ে এসেছে। একটি বৃহৎ দেশ যেটি আবার বৃহৎ গণতন্ত্রের দেশ বলে দাবি করে থাকেÑ তারা কীভাবে এত সব অপরাধপ্রবণ ও নানা প্রকার আইনবিরোধী অভিযোগে অভিযুক্ত লোকদের আশ্রয় দিয়ে উঁচু গলায় কথা বলতে পারে!
ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান হলো, তারা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের সঙ্গে নয়, শাসক আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে রেখেছে। এর ফলে তারা বাংলাদেশের স্বার্থের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর প্রতি কখনোই বিশ্বস্ত থাকেনি। গঙ্গা-তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য অধিকারকে তারা মেনে নেয়নি। বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছিল। অপরদিকে তাদের পণ্য বাংলাদেশের বাজার ভরে রাখার সুবিধাগুলো ঠিকঠাক বজায় রেখে চলে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে জলে-স্থলে করিডোর সুবিধা ঠিকই আদায় করে নিয়েছে। এটি আদায় করেছে একপ্রকার বিনা মূল্যে। মোদ্দাকথা হাসিনার সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি; বিশেষত আমদানি ও রফতানি নীতি, প্রতিরক্ষানীতি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার বিন্যাস এমনভাবে ডিজাইন করে যে, সেটি যেন সবসময় ভারতের স্বার্থের অনুকূলে থাকে। ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট জৈল সিং একবার বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশকে ভারতের রাডারের বাইরে যেতে দেয়া ঠিক হয়নি।’ পরবর্তীকালে এ মন্তব্যের আলোকেই বাংলাদেশকে তাদের বগলদাবা করে রাখার কৌশল বিস্তৃত করতে উঠেপড়ে লাগে।
ভারতের অবস্থান মূল্যায়ন
শেখ হাসিনা যে ভারতের সবচেয়ে আস্থাভাজন ছিলেন- এটা তারা প্রকাশ্যেই বড়াই করে বলে বেড়াত। এ আস্থা কতটা, সেটা খোদ শেখ হাসিনার ভাষায় ছিল এমন- ‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা সারা জীবন মনে রাখবে’। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার ক্ষমতাচ্যুতি শুধু আওয়ামী লীগকেই বিপদে ফেলেনি, অভাবনীয় সংকটে ফেলেছে ভারতকেও। একদিকে জুলাই গণহত্যায় অভিযুক্ত হাসিনা ও তার অনুসারীদের আশ্রয় দেয়া; অন্যদিকে তার পতনের পর গঠিত ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ‘সম্পর্ক বজায়’ রাখার চ্যালেঞ্জ- এ দুই দিক সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় একপর্যায়ে হাসিনাপন্থি নীতিতেই ঝুঁকে যায় ভারত সরকার।
এমন উভয় সংকটে কোনো কোনো বুদ্ধিজীবী পরামর্শ দিচ্ছেন ভারতকে ধৈর্যধারণ করতে। এদের একজন মনে করেন, ভারতকে এখন তাড়াহুড়ো করা যাবে না। ঢাকার সকল রাজনৈতিক পক্ষ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে নীরব ও ধৈর্যশীল কূটনীতি প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাস সম্পর্ক অস্থির থাকবে। তবে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠিত হলে সম্পর্ক পুনরায় গড়ার সুযোগ তৈরি হবে। নয়াদিল্লির সামনে এখন একটি বড় নীতিগত প্রশ্ন হলো- কীভাবে মিত্রদের আশ্বস্ত করা যায় যে, ভারত পাশে থাকবে, কিন্তু মানবাধিকার বিতর্কে জড়াবে না? সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, পররাষ্ট্রনীতি জনমত বা নৈতিকতায় চলে না। ক্ষমতায় যারা থাকে, যারা বন্ধুসুলভ, তাদের সঙ্গেই কাজ করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা এও মনে করেন যে, হাসিনাকে অতিরিক্ত সমর্থন দিয়ে দিল্লি ভুল করেছে। এ রাজনৈতিক ফাটল মেরামত সম্ভব হবে কি না, তা অনিশ্চিত। অনেক কিছু নির্ভর করছে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের ওপর। নতুন সরকার হাসিনা ইস্যুতে কতটা প্রভাব ফেলতে দেবে, সেটাই আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে। যদি এ সম্পর্ক এক নির্বাসিত নেত্রীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তবে অগ্রগতির পথ কঠিন হবে।
এদিকে বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও দিল্লির করণীয় ঠিক করতে ভারত সরকার সম্প্রতি সর্বদলীয় একটি সংসদীয় প্যানেল গঠন করে, যার নেতৃত্ব দেয়া হয় কংগ্রেস নেতা শশী থারুরকে। এ কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিষয়ে বেজায় হতাশা ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ তৈরি করেছে। যদিও পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যে’ নেমে যাবে না বলে মত দিয়েছে কমিটি, তবুও বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংসদীয় কমিটি সরকারকে একাধিক সুপারিশ দিয়েছে। কমিটির মতে, চলমান অস্থিরতার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে যার অন্যতম হলো ‘শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আধিপত্যের পতন’। কমিটি বলেছে, ‘১৯৭১ সালে চ্যালেঞ্জটি ছিল অস্তিত্বগত; মানবিক সংকট ও একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতি আরো গভীর ও প্রজন্মগত বিচ্ছিন্নতা তৈরি করছে। এটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং ভারতের কাছ থেকে কৌশলগতভাবে সরে যাওয়ার সম্ভাব্যতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘এ মুহূর্তে ভারত যদি তার কৌশল পুনর্নির্ধারণে ব্যর্থ হয়, তাহলে যুদ্ধের কারণে নয়, বরং প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ঢাকায় কৌশলগত অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।’ পর্যবেক্ষক মহলের মতে, ভারত-বাংলাদেশকেন্দ্রিক বর্তমান সমস্যা ও সংকট মূলত শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ সরকার চাচ্ছে বিচারের জন্য হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু তার বিচারের রায় কার্যকর করা হবে- এ সম্ভাবনায় ভারত তাকে প্রত্যর্পণে রাজি নয়।
ভারতের নমনীয় হওয়ার বিকল্প নেই
ভারত যতই ‘অনমনীয়’ মনোভাব প্রদর্শন করুক না কেন বাংলাদেশের জনমানসের আকাক্সক্ষার কাছে অবনমিত হতেই হবে। বোধ হয় তার কিছু লক্ষণ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। ভারতের কূটনীতিকদের সর্বসাম্প্রতিক বক্তব্য শুনে সেরকম কিছু মনে হচ্ছে। তবে ভারতের প্রশ্রয়ে থেকে আওয়ামী লীগের অ্যাক্টিভিস্টরা যদি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, সেক্ষেত্রে এ লক্ষণগুলো আর ক্রিয়াশীল থাকবে না। মোদ্দাকথা হলো, ভারতকে বন্ধু প্রতিবেশী হতে হবে, দাদাগিরি দেখানো দিয়ে নয়।
পর্যবেক্ষকরা বলে আসছেন, বাংলাদেশের ভেতরে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড যা কিছু সংঘটিত হচ্ছে, তার অনিবার্য দায় ভারতের ওপর চাপছে। কেননা ভারত যেকোনো কারণেই হোক না কেন তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এখন তাদের যেকোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নির্বাচন ও গণতন্ত্রবিরোধী হিসেবেই চিহ্নিত হবে। যেভাবে তারা তাদের দীর্ঘ শাসনকালে বিরোধীদের ওপর একই ছক্কা মেরে আসছিল।
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা- এ প্রশ্ন করা হলে সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দলটির প্রধান মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত ও আইনের আওতা থেকে পলাতক এক ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আক্রমণের ডাক দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের ভয়ংকর অপরাধী ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন কোনো সংগঠনকে বিশ্বের কোনো গণতন্ত্রমনা দেশ কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড চালাতে দিতে পারে না, নির্বাচন তো দূরের কথা।’ শেখ হাসিনা যে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সে কথাও সকল পক্ষকে মাথায় রাখতে হবে। সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করা হয়েছিল শেখ হাসিনা যতদিন খুশি ভারতে থাকতে পারবেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি এমন একটি বিষয়, যেখানে তার নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি যে পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন, সেই পরিস্থিতিই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় একটি ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু আবারো বলছি, এটি এমন একটি বিষয় যেখানে শেষ পর্যন্ত তাকেই নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে হবে।’ এ সময় বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে উন্নতির আশাও প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফলাফল যা-ই আসুক না কেন, তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ব দৃষ্টিভঙ্গির হবে। আশা করি, পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
সম্পর্কের শেষ কথা
সাম্প্রতিক খবর হলো, কিছু ‘বিতর্কিত’ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষই দুই দেশের রাষ্ট্রদূতকে পাল্টাপাল্টি তলব করে। অতঃপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো কার্যকলাপে ভারতের ভূখণ্ড কখনোই ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে ভারতের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে।’ অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা শুরু থেকেই একটা ‘গুড টু ওয়ার্কিং রিলেশন’ চাওয়ার কথা বলে আসছি। আমরা চাইলেই সেটা হবে, এমন তো কোনো কথা নেই! দুই পক্ষ থেকেই তো সম্পর্কটাকে এগোনোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। আমার মনে হয় আমরা দুই পক্ষ মিলে হয়তো ততটা এগোতে পারিনি। যে কারণে টানাপড়েন রয়ে গেছে।” তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘সর্বশেষ ভারতের যে বক্তব্য এসেছে, তাতে আমাদের নসিহত করা হয়েছে। সেটার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে, এটা নিয়ে আমরা প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না।’ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই সরকার প্রথম দিন থেকে স্পষ্টভাবে বলে আসছে, নির্বাচন হবে অত্যন্ত উচ্চমানের, মানুষ যেন গিয়ে ভোট দিতে পারে- সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই; যে পরিবেশ গত ১৫ বছর ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানি আগে শেখ হাসিনা ভারতে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিতেন। এখন প্রতিনিয়ত মূলধারার গণমাধ্যমেও তার বক্তব্য আসছে এবং সেই বক্তব্যে প্রচুর উসকানি আছে। যিনি একটা আদালত থেকে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন, আমাদের পাশের দেশে বসে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সেক্ষেত্রে আমরা বক্তব্য বন্ধ বা তাকে ফেরত চাইবো, এটা তো অস্বাভাবিক কিছু নয়।’ এ প্রসঙ্গে একজন বিশ্লেষক অভিযোগ করে বলেন, ভারত পলাতক সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছে। সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নালিশ উত্থাপন করা।