তফসিল পরবর্তী প্রতিটি ধাপ সাহসিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে–মিয়া গোলাম পরওয়ার
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:০২
গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে খুলনা-৫ আসনের ইটভাটার মালিক-শ্রমিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরও
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে আমরা প্রথম ধাপ অতিক্রম করেছি। কিন্তু সামনে আরও বহু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।’
তিনি বলেন, “নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে হলে সমান সুযোগ বা ‘লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসনের সকল বিভাগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়। তফসিল ঘোষণা হলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়ে যাবে- এমনটা নয়। ডিসি, এসপি, ইউএনও, পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কাকে সহযোগিতা করবেন বা কোথাও পক্ষপাত করবেন কী না- এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।’’ গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, আরপিও অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনের বদলি, পদায়নসহ সকল ক্ষমতা ইলেকশন কমিশনের অধীনে আসে। তাই নির্বাচন নিরপেক্ষ করার দায়িত্বও কমিশনের। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশ, ভোট প্রদান ও নির্বিঘ্নে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে একজন ভোটারকে দুটি ভোট দিতে হয়। তাই প্রতিটি ভোট কাস্ট নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের গণআকাক্সক্ষা প্রতিফলিত করতে হলে সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও জনগণকে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তফসিল ঘোষণা নিয়ে উচ্ছ্বাস তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রশাসন মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ থাকবে, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্রে হুমকি দিতে পারবে না এবং ঈদের মতো উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান নিশ্চিত হবে।
নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুদক চেয়ারম্যান দুর্নীতিবাজদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।’
তফসিল ঘোষণার পরবর্তী প্রতিটি ধাপে ইসি যাতে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেÑ এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘কোনো দলের দিকে নয়, গণতন্ত্র ও ভোটারদের আকাক্সক্ষার দিকে তাকিয়ে কমিশনকে কাজ করতে হবে।’
গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে খুলনা-৫ আসনের জিরো পয়েন্ট এলাকায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার কুলবাড়িয়া এলাকায় আজিজুর ইসলামের আল্লারদান ইটভাটায় মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইটভাটা মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আবদুল লতিফ জমাদ্দার।
এ সময় খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলার আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, গাজী সাইফুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা ওমর আলী, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবদুল কাইয়ুম জমাদ্দারসহ বিভিন্ন রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা, ইটভাটা মালিক ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর ৩০০ আসনে ভোটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। বর্তমান অন্যায় আইন-শাসনের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকা কঠিন হয়ে পড়ছে। কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশ উপকৃত হবে। তাই ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা সংসদে গেলে কল্যাণরাষ্ট্র গড়া সম্ভব।’
তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশের আটটি ইসলামী দল আগামী নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিটি আসনে একজন প্রার্থী দেবেন। এ আসনে ২০০১ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ায় তিনি আবারো একই প্রতীকে সমর্থন চান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।