নারায়ণগঞ্জে ভিত কাঁপিয়ে এগিয়ে জামায়াত অভিযোগে জর্জরিত বিএনপি
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৮
মো. মাহবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর রাজধানী ঢাকার সাথে লাগোয়া বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চলসমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। সংবেদনশীল জেলার পাঁচটি আসনে এবার নির্বাচনে ভিন্ন এক চিত্রের অবতারণা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মী ও প্রার্থীরা। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও গ্রামীণ জনপদের এ জেলাটি জাতীয় রাজনীতিতে বেশ গুরুত্ব বহন করে।
এ জেলার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে আসছে- জনগণ আর অস্থিরতা চায় না। তারা চায় শান্তিপূর্ণ জীবন, নিরাপদ চলাচল, চাঁদাবাজমুক্ত বাজার, সন্ত্রাসমুক্ত জনপদ, স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা। জন আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা শিক্ষা, সামাজিক কাজ, নৈতিক নেতৃত্ব এবং দীর্ঘদিনের জনসংযোগের কারণে ভোটারদের কাছে নতুন করে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে মনোনয়ন, নেতৃত্ব, চাঁদাবাজি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দৃশ্যমান অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের মাঝেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) : জেলার এ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুপরিচিত একটি নাম। তিনি রাজনীতির বাইরেও শিক্ষা, দাওয়াহ ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। আধুরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা এবং আধুরিয়া হিফজুল কুরআন মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি শত শত শিক্ষার্থীর দীনি শিক্ষার সুব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া চিকিৎসাসেবা, দুস্থদের সহায়তা, কিশোরদের মানসিক বিকাশে নানারকম উদ্যোগও রয়েছে জামায়াতের এ প্রার্থীদের। শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রূপগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের মাধ্যমে তিনি এলাকার অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি মোল্লা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করেছেন। পৌরসভার খাদুন এলাকায় অক্টোবর মাসে হাজী আয়েত আলী ভূঁইয়া স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় এক হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়েছেন। যেখানে গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবা দিয়েছেন। চোখের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে চোখের ছানি অপারেশনসহ একাধিকবার ফ্রি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু। মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রথমদিকে তাকে সমর্থন দিলেও পরে তার কর্মী-সমর্থকরা পূর্বাচল ও তারাব এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মশাল মিছিল করে। মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান থাকা নির্বাচনী মাঠে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে। চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার ও পোস্টার সাঁটানো নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দলের কর্মীদের এমন ঘটনার কারণে বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে, যা ভোটের লড়াইয়ে নেতিবাচক হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) : আড়াইহাজার আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আলী মোল্লা। শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ এ নেতা স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমানভাবে পরিচিত। তিনি আড়াইহাজার, গোপালদী, হাইজাদি, ফতেপুর ও কালাপাহাড়িয়া এলাকায় একাধিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ব্লাড গ্রুপিং কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন, যার মাধ্যমে হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছে।
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীদের সহায়তা, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সংস্কার, সাঁকো নির্মাণ এবং মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের ঘর মেরামতের কাজেও তিনি যুক্ত থাকছেন। এ মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে সাধারণ মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয় গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। আজাদ, পারভীন আক্তার, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মাহমুদুর রহমান সুমনের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ও সাংগঠনিক মতভেদ রয়েছে। মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের কর্মসূচি, ব্যবসায়ী ও শিল্প এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। গত ২৩ নভেম্বর আজাদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়। ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজারের হাইজাদি এলাকায় খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়ায় অংশ নিয়ে সুমন সরাসরি বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহার না হলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন।
এসব বিষয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বরের রোববার ছাত্রদলের এক নেতাকে ফোন করে হাত-পা ভেঙে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে। বিএনপির অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে কাজ করায় গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার তাকে এ হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন ওই ছাত্রদল নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই কথোপকথনের তিন মিনিট তিন সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) : সোনারগাঁ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন একজন সুশিক্ষিত শিক্ষাবিদ, কলেজের প্রিন্সিপাল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। তিনি সোনারগাঁ আইডিয়াল কলেজ, আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। সোনারগাঁ উন্নয়ন ফোরাম, ইকরা ইসলামী পাঠাগার, সমাজকল্যাণ পরিষদ, এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার, আল ইখওয়ান প্রোপার্টিজ লিমিটেড, আল ইহসান দারুল এতিমখানা, সোনারগাঁ ঈশা খাঁ ফাউন্ডেশনসহ বহু সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বদানকারী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তার উদ্যোগে সেতু সংস্কার, রাস্তা মেরামত, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, বিধবা নারীদের ঘর নির্মাণ এবং নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছে। স্থানীয় জনগণের মতে, তার নেতৃত্বে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক শৃঙ্খলার উন্নয়ন সম্ভব।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আজহারুল ইসলাম মান্নান। এ আসনে সাতজন নেতা বিভিন্ন কারণে তার মনোনয়ন মেনে নিতে পারেনি। সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, জেলা আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ মনোনয়নপ্রত্যাশী সাত নেতা মান্নানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে তারেক রহমানের কাছে লিখিত আপিল করেছেন। এছাড়া আলোচনা, মশাল মিছিল, মানববন্ধন করেছে তাদের সমর্থকরা। যদিও এখনো তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন কিনা সে ঘোষণা দেননি। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-কুতুবপুর) : ফতুল্লা আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বার। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমীর। সংগঠক হিসেবে তিনি সুপরিচিত। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি এ এলাকায় নিজের তত্ত্বাবধানে বৃক্ষরোপণ, রক্তদান কর্মসূচি, মশকনিধন, খাল পরিষ্কার, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, সাঁকো নির্মাণ, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং অসহায় মানুষের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। নবীগঞ্জ থেকে কাইকাটেক সড়ক সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধনের পরও কাজ না হওয়ায় এলজিইডি ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে জামায়াত নিজস্ব অর্থায়নে সড়কের একটি অংশ সংস্কার করে দেয়, যা ওই এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগায়। এ আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি। বিভিন্ন নেতার মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাও জনমনে আলোচিত হয়েছে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) : বন্দর আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মঈনুদ্দিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বন্দর এলাকায় শিক্ষা, দাওয়াহ ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান প্রচারণা চালালেও গত ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন- এ বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত ও ভাইরাল হয়েছে। এ পরিবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মইনুদ্দিনের বিজয়ের ব্যাপারে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর নির্বাচনী মাঠের সকল সমীকরণ পাল্টে গেছে। একসময়ের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত আসনগুলোয় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে চরম জুলুমের শিকার জামায়াত। জনসম্পৃক্ততায় দলটির নেতাকর্মীরা এগিয়েছে, যা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদের পতনের পর বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সিন্ডিকেট করতে গিয়ে জনমনে জায়গা করতে পারেনি, যা ফল বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের আমলে তাদের দলীয় সন্ত্রাসীরা শিল্প-কারখানাগুলোয় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে চাঁদাবাজি করত। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কর্মীরা এসব শিল্প-কারখানায় দখল ও চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের শিল্প-কারখানার মালিকদের। ঠিক এর বিপরীত অবস্থানে রয়েছে জামায়াত- যারা এসবের অবসান চায়, যা তাদের প্রচারের অংশ। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই একটি বিষয় স্পষ্ট- ভোটাররা এবার শান্তি, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি দেখতে চান। সেই হিসেবে অতীতের সব হিসাব এবার উল্টে যেতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ বইছে, বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচন কমিশন থেকে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ দলীয় জোট বাংলাদেশে একটি মানবিক এবং কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে, আমরা আমাদের জায়গা থেকে কাজ করছি। অন্য প্রার্থীরা তাদের জায়গা থেকে কাজ করছে। এখনো চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি কারা নির্বাচন করবে। আমি মনে করছি, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জন্য উর্বর এবং জনগণ আমাদের প্রার্থীকে পছন্দ করছে। এটা আমার আত্মবিশ্বাস। ইনশাআল্লাহ, জামায়াতের জন্য বিজয় অর্জন সম্ভব। জোটবদ্ধ নির্বাচনের আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, আট দলীয় জোটের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কতটি আসনে ছাড় দেবে, এটি একটি নীতিগত বিষয়।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা শেষ হবে ২৯ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল দায়ের করা যাবে ১১ জানুয়ারি, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।