সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৫
আকাশ আধিপত্যে ইতিহাস গড়ল তুরস্ক
তুরস্কের ফাইটার জেটপ্রযুক্তিতে নতুন মাইলফলক যোগ হলো। মানববিহীন যুদ্ধবিমান ‘বায়রাকতার কিজিলেলমা’ সফলভাবে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (বিভিআর) ছুড়ে জেট ইঞ্জিনচালিত একটি চলন্ত লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করেছে। গত রোববার (৩০ নভেম্বর) তুরস্কের বৃহৎ ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার ঘোষণা করে, বিশ্বের প্রথম মানববিহীন যুদ্ধবিমান হিসেবে কিজিলেলমা এ সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে। তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এন-সোশ্যালে’ দেয়া এক পোস্টে বায়কার জানায়, ‘বিশ্বে প্রথমবারের মতো কোনো মানববিহীন যুদ্ধবিমান বিভিআর দূরত্বে এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে চলন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানল।’ বায়কার আরো জানায়, স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘গোকদোয়ান’ নিক্ষেপ করে কিজিলেলমা উচ্চগতির জেটচালিত লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তুরস্কের ইতিহাসে এটাই প্রথম ঘটনা যেখানে কোনো মানববিহীন যুদ্ধবিমান স্থানীয় রাডার ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জেটচালিত উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হেনেছে। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে কিজিলেলমা বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আকাশযুদ্ধ সক্ষমতার স্বীকৃতি পেল। তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাচির বলেন, বিশ্বে তুরস্কের এ সাফল্য প্রমাণ করে যে তুরস্কের জাতীয় প্রযুক্তি সক্ষমতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে আকাশে আধিপত্যের নিয়ম নতুন করে লেখা সম্ভব।’ ডেইলি সাবাহ।
মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওপেকের সহায়তা চান মাদুরো
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ও অবৈধ দখলদারিত্ব মোকাবিলায় সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’কে। গত রোববার (৩০ নভেম্বর) গোষ্ঠিটির অন্যান্য সদস্যদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে মাদুরো বলেছেন, ‘এই আগ্রাসন, যা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, বন্ধে আপনাদের সর্বোত্তম প্রচেষ্টার ওপর আমি প্রত্যাশা রাখি।’ ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম তেলেসুর দ্বারা প্রকাশিত চিঠির একটি অনুলিপি অনুসারে, মাদুরো অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ এবং গ্যাসের মজুদ দখলের চেষ্টা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ভেনেজুয়েলা নিয়ে মন্তব্যের একদিন পর মাদুরোর চিঠিটি এসেছে। আল জাজিরা।
সংঘাত নিরসনে একমাত্র সমাধান ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র : পোপ লিও
ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের জন্য দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের ওপর ভ্যাটিকানের জোর পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি বলেছেন, এটিই একমাত্র সমাধান যা উভয়পক্ষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে। তুরস্ক সফর শেষে গত রোববার (৩০ নভেম্বর) লেবাননে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। তিনি পোপ হিসেবে তার প্রথম আন্তর্জাতিক যাত্রার দ্বিতীয় ও শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সাথে ব্যক্তিগত বৈঠকে গাজা ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করে বলেন, আঞ্চলিক দুই বড় সংকট সমাধানে তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গাজা প্রসঙ্গে তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে হলি সি-এর দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেন। পূর্ব জেরুসালেম অধিকৃত পশ্চিমতীর ও গাজা নিয়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনকে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত সমাধানের একমাত্র উপায় হিসেবে দেখে আসছে আন্তর্জাতিক মহল। পোপ লিও বলেন, ‘আমরা জানি যে এ মুহূর্তে ইসরাইল এ সমাধান গ্রহণ করবে না। কিন্তু আমরা এটিকে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখি, যা সংঘাতের সমাধান দিতে পারে। আমরা ইসরাইলেরও বন্ধু এবং আমরা উভয়পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করি, যা তাদের সবার জন্য ন্যায়বিচারের সমাধানের কাছাকাছি আনতে সাহায্য করতে পারে।’ তুরস্কে থাকাকালীন পোপ গাজায় ইসরাইলের গণহত্যার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেনি। এ বিষয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আল জাজিরা।
ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবিতে জনতার বিক্ষোভ
ফিলিপাইনে পানি আধার নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বিরুদ্ধে। তার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ম্যানিলায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে গত ৩০ নভেম্বর রোববার। এতে রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ‘কিলুসাং বায়ান কোন্ত্রা-কোরাকোট’ (কেবিকেক) বা জনগণের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে লুনেটা ন্যাশনাল পার্ক থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ মালাকানিয়াং-এর দিকে অগ্রসর হয়। আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি ছিল। অনেকে মার্কোস ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের মুখোশ পরে অংশ নেন এবং তাদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কুমির’ হিসেবে ব্যঙ্গ করে বানানো বিশাল প্রতিকৃতি রাস্তায় প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘মার্কোস পদত্যাগ করো’ ও ‘সব দুর্নীতিবাজকে জবাবদিহির আওতায় আনো’। এ ‘ট্রিলিয়ন-পেসো কেলেঙ্কারি’ নিয়ে জনরোষ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতাধর রাজনীতিকরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো প্রকল্পে বিলিয়ন পেসো ঘুষ নিয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছেÑ অনেক প্রকল্প ভুয়া হিসেবে দেখানো হয়েছে বা নিম্নমানের নির্মাণে সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে। সাম্প্রতিক দুটি শক্তিশালী টাইফুনে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যাওয়ার পর জনরোষ আরও তীব্র হয়। এ ঘটনায় সরকারের দুই মন্ত্রী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। একই কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সাবেক আইনপ্রণেতা জালদি কো অভিযোগ তুলেছেন- অনিয়মিত ব্যয়ের জন্য মার্কোস নিজেই তাকে ১১০০ কোটি পেসো (১.৭ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১০০ কোটি পেসো (১৭ মিলিয়ন ডলার) নগদ ভর্তি সুটকেস মার্কোসের বাসভবনে পৌঁছে দেন। কো বর্তমানে পলাতক, তার শেষ অবস্থান ছিল জাপানে। মার্কোস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘অনলাইনে যে কেউ যেকোনো দাবি করতে পারে। যদি সত্যিই কিছু বলে থাকে, তাহলে দেশে ফিরে আসুক।’ রোববারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২১ বছর বয়সী ছাত্র ম্যাট ভোভি ভিলানুয়েভা জানান, সেপ্টেম্বরের পুলিশি দমন-পীড়নের পরও তিনি রাস্তায় ফিরেছেন। সেদিনের বিক্ষোভে ৩০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়, নিজেও পুলিশের হাতে মারধর ও পাঁচ দিন আটক থাকার কথা বলেন তিনি। তার দাবি, ‘আমাদের বোকা ভাবা হচ্ছে। ন্যায়বিচার পেতে হলে মার্কোস ও সারা দুতার্তের পদত্যাগ জরুরি।’ ভাইস প্রেসিডেন্ট দুতার্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মেয়ে। রয়টার্স।
ভূমিকম্পের গ্রাসে চলে যাবে গোটা হিমালয়!
ঘনঘন কম্পনের কবলে ভারতের নানা স্থান, বিশেষত পার্বত্য এলাকা। গত সপ্তাহে খুব কম সময়ের ব্যবধানে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। প্রথম কম্পনের প্রভাব পড়েছিল বঙ্গেও। কম্পন অনুভূত হয় কলকাতায়ও। টেকটনিক পাতের সংঘর্ষে মুহুর্মুহুই ঘটেছে এ ঘটনা। এসবের জেরে এবার কম্পনপ্রবণ এলাকা নিয়ে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করল ভারত। ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডের প্রকাশিত সেই মানচিত্রে চরম উদ্বেগের ছায়া। বলা হচ্ছে, গোটা হিমালয়ই কম্পনের আওতায়। যে কোনো মুহূর্তে ভূমিকম্প গ্রাস করে ফেলতে পারে হিমালয়ের পাদদেশকে! এ প্রথমবার হিমালয় অঞ্চলকে ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ‘অতি বিপজ্জনক’ বলে চিহ্নিত করা হল। কিন্তু কেন হিমালয়ের পার্বত্য অংশ এতটা ঝুঁকিপ্রবণ? তা বুঝতে হলে একেবারে প্রাথমিক ভূগোলের দ্বারস্থ হতে হবে। ‘প্লেট টেকটনিক থিওরি’ অর্থাৎ ভূগর্ভের নিচে প্লেট বা পাতের সংঘর্ষের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের জন্মবৃত্তান্ত মনে করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। যুগ যুগ আগে প্রকৃতির এ চলনেই তৈরি হয়েছিল বিশালাকার হিমালয় পর্বত, যা এখনো ‘নবীন ভঙ্গিল পর্বতে’র শ্রেণিতে পড়ে। ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের নিচে থাকা ভারতীয় পাতকে সমানে ধাক্কা দিয়ে চলেছে ইউরেশীয় পাত। যার জেরে প্রতি বছর তার সরণ হচ্ছে ৫ সেন্টিমিটার করে। এ পরিসংখ্যান পাতের চলন হিসেবে বেশ অনেকটাই। একটি পাতের ওপর আরেকটি পাতের বলপ্রয়োগ বললেও অত্যুক্তি হয় না। আর এতে ক্রমশ দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে বেড়ে চলেছে হিমালয়। তার পাদদেশে দেখা দিচ্ছে একাধিক ফাটল। চাপ সামলাতে সামলাতে মাটির ওপরিতল কখনও কখনো কুঁকড়ে যাচ্ছে, কখনো চাপমুক্তির জন্য নিজেকে প্রশস্ত করছে। তখনই কম্পন টের পাওয়া যাচ্ছে। সেইসঙ্গে ভঙ্গিল পর্বতও স্থায়িত্ব হারাচ্ছে।
‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগে তদন্তের মুখে ট্রাম্প
গত সেপ্টেম্বরে (২০২৫) ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি কথিত ‘মাদকবাহী’ নৌকায় হামলার পর বেঁচে যাওয়াদের হত্যা করতে দ্বিতীয়বার হামলা চালায় মার্কিন সেনা। গত ২৮ নভেম্বর শুক্রবার একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বেশকিছু আইনপ্রণেতা ট্রাম্প প্রশাসনকে উত্তরের জন্য চাপ দিচ্ছেন। সিএনএন এবং ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে যে, ২ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারের অভিযোগে একটি জাহাজে দ্বিতীয়বার আঘাত করেছিল, যার ফলে প্রাথমিক আক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া বাকিরা মারা গিয়েছিল। এ ঘটনায় ওই নৌকায় থাকা ১১ জন নিহত হয়েছিলেন। এটি ছিল ক্যারিবিয়ান এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌযানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমতি দেওয়া ধারাবাহিক হামলার মধ্যে প্রথম। এরপরেও আরও কয়েকটি নৌকায় হামলা চালায় মার্কিন সেনা যাতে ৮০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ২৮ নভেম্বর সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ বলেছেন যে, এসব হামলা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক আইনে বৈধ’। সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনে করা হয়েছে। মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির চেয়ারম্যান সেনেটর রজার উইকার এবং সদস্য সেনেটর জ্যাক রিড গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) এ বিষয়ে ‘দৃঢ় তদারকি’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ‘কমিটি সন্দেহভাজন মাদকদ্রব্যের জাহাজের ওপর কথিত দুইবার হামলার সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলো এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত,’ দুজন একটি যৌথ বিবৃতিতে লিখেছেন।
‘কমিটি বিভাগকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং আমরা পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত তথ্য নির্ধারণের জন্য জোরদার তদারকি করব,’ তারা যোগ করেছেন।
কমিটির আরেক সদস্য সিনেটর মার্ক কেলি গত রোববার বলেছেন যে, সংস্থাটি তার তদন্তের অংশ হিসাবে সামরিক কর্মকর্তাদের ‘শপথের অধীনে’ রাখবে। ‘আমরা একটি তদন্ত করতে যাচ্ছি,’ কেলি এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’-এ হোস্ট ক্রিস্টেন ওয়েল্কারকে বলেছিলেন, ‘আমরা একটি পাবলিক শুনানি করতে যাচ্ছি। আমরা এ লোকদের শপথের অধীনে রাখতে যাচ্ছি এবং আমরা কী ঘটেছে, তা খুঁজে বের করতে যাচ্ছি এবং তারপরে জবাবদিহি থাকা দরকার।’ সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এদিকে, গত রোববার (৩০ নভেম্বর) বলেছেন যে, এটি ‘খুব সম্ভব’ যে দুইবার হামলা একটি যুদ্ধাপরাধ হয়ে থাকতে পারে। ভ্যান হোলেন এবিসি নিউজকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি সেখানে খুব সম্ভব একটি যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছিল।’ কেলিও সিএনএনকে বলেছিলেন যে দ্বিতীয় হামলা, যদি এটি ঘটে থাকে, ‘মনে হয়’ একটি যুদ্ধাপরাধ। অ্যারিজোনা ডেমোক্র্যাট রোববার বলেছে, ‘যদি এটি সত্য হয়, যা রিপোর্ট করা হয়েছে তা যদি সঠিক হয়, তবে আমরা চেইন অব কমান্ডের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করছি যা তাদের কখনই করা উচিত নয়।’ ভার্জিনিয়া ডেমোক্র্যাট বলেছে যে, দুইবার হামলা ‘যদি এটি সত্য হয় তবে এটি একটি যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পৌঁছেছে’। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডন বেকন বলেছেন যে, যা ঘটেছে তা ‘সত্যের কাছে পৌঁছানো’ গুরুত্বপূর্ণ, দ্বিতীয় হামলা, যদি সত্য হয় তবে এটি ‘যুদ্ধের আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’। তিনি বলেন, ‘কেউ যখন আত্মসমর্পণ করতে চায়, আপনি তাদের হত্যা করতে পারেন না যদি না তারা আসন্ন হুমকি তৈরি করে। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, একটি ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে বাঁচার চেষ্টা করা দুই ব্যক্তি কোনো আসন্ন হুমকি তৈরি করবে।’ রয়টার্স।
চোরাই জ্বালানিভর্তি ভারতীয় জাহাজ আটক করলো ইরান
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের হরমুজ প্রণালি থেকে লাখ লাখ লিটার চোরাচালানি জ্বালানিসহ একটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে ইরান। জাহাজটিতে এক ডজন ভারতীয়সহ মোট ১৩ জন ক্রু ছিলেন। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজটি আটক করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বুশেহর বন্দরে নিয়ে গেছে। গত রোববার (৩০ নভেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আল-আরাবিয়া জানায়, এসওয়াতিনি পতাকাবাহী জাহাজটি চোরাই জ্বালানি বহন করছিল। বৈশ্বিক তেল ও তরল গ্যাস পরিবহনের অন্যতম কেন্দ্রীয় পথ হরমুজ প্রণালিতে অবৈধ জ্বালানি পরিবহনে জড়িত ট্যাঙ্কারগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে ইরানি বাহিনী। আইআরজিসির এক স্থানীয় কমান্ডারের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, আটক করা জাহাজটি প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার চোরাচালানি জ্বালানি বহন করছিল। জাহাজে থাকা ১৩ জন ক্রুর মধ্যে ১২ জন ভারতীয় এবং একজন প্রতিবেশী দেশের নাগরিক। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আইআরজিসি মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটক করেছিল। পরে জাহাজটি পরিচালনাকারী কোম্পানি জানায়, ইরান ট্যাঙ্কারটি এবং ২১ নাবিককে মুক্তি দিয়েছে। ‘তালারা’ নামে ওই ট্যাঙ্কারটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্সের দাবি, জাহাজটি ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য নিয়ে ‘অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরমুখী’ ছিল এবং চোরাচালানকারীর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা কোম্পানি ছিল ইরানি নাগরিক। ফার্স আরও জানায়, তালারা জাহাজ আটক করার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই; এটি সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় পর্যায়ের আইনগত পদক্ষেপ। রয়টার্স।
জনবল সংকটে ইসরাইলের সেনাবাহিনী
গত রোববার (৩০ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অফিসারদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে গভীর সংকটের মুখোমুখি। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, লেফটেন্যান্ট ও ক্যাপ্টেন পদে প্রায় ১৩০০ অফিসার এবং আরও ৩০০ মেজরের ঘাটতি রয়েছে। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অফিসারদের মধ্যে মাত্র ৬৩% সেনাবাহিনীতে থাকতে আগ্রহী, যেখানে ২০১৮ সালে এটি ছিল ৮৩%। নন-কমিশনড অফিসারদের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩৭% এ কাজে থাকতে চান, যা ২০১৮ সালে ৫৮% ছিল। আইডিএফ বহু বছর ধরে ক্যারিয়ার সৈনিকদের ধরে রাখার লড়াই চালাচ্ছে, কারণ বেসামরিক চাকরি অনেক বেশি লাভজনক এবং চাপ কম। এছাড়া যুদ্ধ ক্লান্তি, রাজনৈতিক অবস্থা ও সামরিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। এ মাসে কর্মী অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৬০০ ক্যারিয়ার সৈনিক আগাম অবসর নিতে চাইছেন। ফলে জুনিয়র অফিসারদের পদোন্নতি দিয়ে শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্মী অধিদপ্তরের চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির ভাদমানি নেসেট বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের অনুপাত হ্রাস পাচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ৫০০ প্রার্থীর মধ্যে ৪০০ লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়োগ করতে হবে। সকল স্তরে বার্নআউট বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জমির এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সংকট মোকাবিলা ও আইন প্রণয়নের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে অতি-অর্থোডক্সদের খসড়া ছাড় নিয়ন্ত্রণকারী নতুন বিলের কারণে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। ১৮-২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার অতি-অর্থোডক্স পুরুষ সামরিক পরিষেবার জন্য যোগ্য, কিন্তু তালিকাভুক্ত হননি। আইডিএফ জানিয়েছে, গাজা ও অন্যান্য সামরিক চাপের কারণে জরুরিভাবে ১২০০০ নতুন নিয়োগের প্রয়োজন। দেশটির সংবাদদমাধ্যম দৈনিক মারিভ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন, হাজারো অফিসার এবং নন-কমিশনড অফিসার সামরিক পরিষেবা ত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন, কেউ কেউ তাদের পরিষেবার মেয়াদ নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এছাড়া অনেকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তরুণ সৈন্যরা স্থায়ী পরিষেবা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চায়নি। তিনি আরও বলেন, জনবলের কমে আসায় সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং যুদ্ধ পরিচালনা করতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ইরানে বৃহৎ স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কারের ঘোষণা
ইরান দেশটির অন্যতম বড় স্বর্ণখনিতে নতুন করে বড় ধরনের মজুদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর সোমবার স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন মজুদের সন্ধান মিলেছে পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশের বেসরকারি মালিকানাধীন শাদান স্বর্ণখনিতে। ফার্স নিউজ এজেন্সি এটিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি জানায়, শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন মজুদের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে। খবরে বলা হয়, দেশের পূর্বাঞ্চলের শাদান স্বর্ণখনির বিদ্যমান মজুদ নতুন এ আবিষ্কারের পর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এতে আরো জানানো হয়, নতুন মজুদে প্রায় ৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩ দশমিক ১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক রয়েছে। অক্সাইড আকরিক সাধারণত উত্তোলন তুলনামূলক সহজ ও কম ব্যয়বহুল। ইরান কখনোই নিজেদের জাতীয় স্বর্ণ মজুদের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্বর্ণ কেনা অনেক বাড়িয়েছে বলে দাবি করে। গত সেপ্টেম্বর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদরেজা ফারজিন জানান, ২০২৩-২৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি বিশ্বে শীর্ষ পাঁচ স্বর্ণ-ক্রয়কারী ব্যাংকের একটি ছিল। দেশটির আইএসএনএ সংবাদমাধ্যমেও এ তথ্য প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা ইয়েকতা আশরাফির উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে স্বর্ণ মজুদ বৃদ্ধির খবর দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। ইরানে মোট ১৫টি স্বর্ণখনি রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জারশোরান খনিটি সবচেয়ে বড়। ডলারের বিপরীতে রিয়ালের ক্রমাগত দরপতন ও লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে অনেক ইরানির জন্য স্বর্ণই এখন নিরাপদ বিনিয়োগ। এএফপি।
এশিয়ার চার দেশে বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত
শিয়ার চার দেশ ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে এক হাজার ১৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষকে সাহায্য করার প্রচেষ্টা চলছে। গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) উত্তর সুমাত্রায় পৌঁছে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেছেন, সরকারের অগ্রাধিকার হলো ‘তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সহায়তা কীভাবে পাঠানো যায়’ তা নির্ধারণ করা। বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ৬০৪ জনের মৃত্যু এবং আরো ৪৬৪ জন এখনো নিখোঁজ থাকার পর জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার জন্য প্রাবোওয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি বলছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ সময় কেটে গেছে’, রাজ্য আবহাওয়া সংস্থা জাকার্তার আশপাশে আরো মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও তীব্র বাতাস এবং পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা, পশ্চিম জাভা ও দক্ষিণ কালিমান্তানে বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে। এদিকে শ্রীলঙ্কার সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। কর্তৃপক্ষের মতে, কমপক্ষে ৩৬৬ জন নিহত হয়েছে এবং আরো ৩৬৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রাণকর্মীরা ভেঙে পড়া গাছপালা ও ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো পরিষ্কার করছেন। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ পাচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি।’ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও জাপানের উদ্ধারকারী দল জরুরি প্রতিক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য পৌঁছেছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আরো সহায়তা প্রয়োজন। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ সোমবার জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণে চলমান বন্যায় মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ১৭৬ জনে পৌঁছেছে। সরকার ত্রাণ ব্যবস্থা শুরু করেছে। কিন্তু বন্যা মোকাবিলার বিষয়ে জনসাধারণের সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে। এএফপি জানিয়েছে, তাদের ব্যর্থতার অভিযোগে দুই স্থানীয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের অনুমান, বর্তমানে ৭৬ হাজার শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। সঙ্খলা প্রদেশে পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। প্রদেশটিতে ১৩১ জন মারা গেছেন। সীমান্তের ওপারে মালয়েশিয়ার পার্লিস রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরা।
ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরোভস্ক রাশিয়ার দখলে
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরোভস্ক দখল করার কথা জানিয়েছে রুশ বাহিনী। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্র যা প্রায় দুই বছর ধরে অবরুদ্ধ ছিল। গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাশিয়ার চিফ অব স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভের বরাত দিয়ে ক্রেমলিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, রুশ বাহিনী খারকিভ অঞ্চলের পূর্ব ইউক্রেনীয় শহর ভোভচানস্কও দখল করেছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রোববার গভীর রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন একটি ফ্রন্ট-লাইন কমান্ড সেন্টার পরিদর্শনের সময় গেরাসিমভ তাকে শহর দখলের খবরটি জানিয়েছিলেন। পোকরোভস্ক হলো দোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র। এটি পূর্ব ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের মধ্যে একটি যা রাশিয়া নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে দাবি করছে। সম্প্রতি শহরটিতে রাশিয়ার ড্রোন, কামান ও বোমাবর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন এখনো রাশিয়ার শহর দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, পোকরোভস্কের রাস্তায় রুশ সৈন্যদের মিছিল করে রাশিয়ার পতাকা উড়িয়ে দেয়ার একটি ভিডিও প্রচার করেছে মস্কো। তাস জানিয়েছে, পুতিন পরে রুশ বাহিনীকে তাদের বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। এদিকে যুদ্ধ অবসানের জন্য আলোচনা করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ সপ্তাহে মার্কিন ও ইউরোপীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। আল-জাজিরা।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে নিষিদ্ধ করল রাশিয়া
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে (এইচআরডব্লিউ) নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া। গত ২৮ নভেম্বর (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে এমন ঘোষণা দেয় পুতিনের সরকার। মস্কোর এ ঘোষণার অর্থ হলো আন্তর্জাতিক এ সংস্থাকে রাশিয়ায় তাদের সকল কাজ বন্ধ করতে হবে; যারা এ সংস্থাটির সাথে সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এইচআরডব্লিউ বার বার রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের সময় মস্কোর বিরুদ্ধে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছে মস্কো। মনে করা হচ্ছে, এ কারণেই এইচআরডব্লিউকে নিষিদ্ধ করেছেন পুতিন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সোভিয়েত-পরবর্তী রাশিয়ার ওপর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাজ সরকারকে মানবাধিকার এবং স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য চাপ দিয়েছে।’
ফিলিপের আরো বলেন, আমাদের কাজ পরিবর্তিত হয়নি। তবে নাটকীয়ভাবে যা পরিবর্তিত হয়েছে তা হলো সরকারের একনায়কতান্ত্রিক নীতি। দমন-পীড়নের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনে তার বাহিনী যে যুদ্ধাপরাধ করছে তার পরিধি। আল-জাজিরা।
আঞ্চলিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তেহরান সফরে গিয়ে বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের আরও অনেক কিছু করার আছে। গত ৩০ নভেম্বর রোববার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আজ আমরা আবার দেখলাম, কারণ আরও অনেক কিছু করার আছে। তার মতে, উভয় দেশের দীর্ঘস্থায়ী সমন্বয়ের প্রয়োজন। ফিদান আরও বলেন, সীমান্ত দক্ষতা উন্নত করতে, সীমান্ত গেটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে এবং সরবরাহ ও পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। আমাদের দেশগুলোর জনসংখ্যা বিশাল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং উচ্চ বাণিজ্য রয়েছে। তবে আমাদের বাণিজ্য আরও কার্যকর হওয়া দরকার। মন্ত্রীরা অনিয়মিত অভিবাসন, বিশেষ করে আফগানিস্তান থেকে আসা অভিবাসন মোকাবিলার প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেছেন। ফিদান বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গে একসাথে এ সমস্যাটি মোকাবিলা করার লক্ষ রাখি।’ ফিদান পূর্ব তুরস্কের ভ্যান প্রদেশে একটি নতুন কনস্যুলেট খোলার ইরানের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আরাঘচি সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে শিগগিরই নবম তুর্কি-ইরান উচ্চস্তরের সহযোগিতা পরিষদের বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও সম্মত হন। আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে ফিদান গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলি সম্প্রসারণবাদী নীতির ওপর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উভয় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য ইসরাইলকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফিদান চলমান পারমাণবিক আলোচনার সময় তেহরানের প্রতি আঙ্কারার সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন এবং তিন ইউরোপীয় দেশের অন্যায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। ইরনা।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান