সম্পাদকীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা


৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৪২

 

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রচারের মাঠ হতে হবে সমতল। অর্থাৎ লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের একটি অংশ বেশ জোর গলায় বলছেন, ‘দেশে নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছে।’ কিন্তু মাঠ পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, এখনো ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতির অবসান হয়েনি। হুমকি-ধমকি চাঁদাবাজি চলছেই। নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিপক্ষ দলের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। হামলা প্রতিহত করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো জনতাকে পুরস্কৃত না করে ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আক্রমণকারী এবং আক্রান্তকে একই পাল্লায় মাপা হচ্ছে, যা সত্যি দুঃখজনক।

আমরা জানি, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারে সন্ত্রাসী হামলা, গুলিবর্ষণ, গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ ও মোটরসাইকেল লুটের মতো সহিংস ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পত্রপত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও পাবনা জেলা আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলা, গুলিবর্ষণ, গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি জগির মোড় এলাকায় এ বর্বরোচিত হামলায় অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে; যা একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশকে নস্যাৎ করার প্রকাশ্য অপচেষ্টা। এর আগেও একই এলাকায় জামায়াতের কর্মীদের ওপর নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুধু পাবনায় নয়, সারা দেশের অন্যান্য এলাকায়ও নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রচারের সময় মহিলাদের ওপর হামলা করছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তারা হুমকি দিচ্ছে, ‘দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের লাঠিপেটা করে ভোটকেন্দ্র থেকে তাড়াবে।’ কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের প্রধান নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বিএনপির দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত ও মনোনীত নেতার সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত হওয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন বন্ধ করে দিচ্ছে পরিবেশ নেই- এমন অজুহাতে। অথচ ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর জাতি অপেক্ষা করছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের প্রত্যাশা নিয়ে।

আমরা মনে করি, জাতির এ প্রত্যাশা যেকোনো মূল্যে পূরণ করতেই হবে। তাই অন্তর্বর্তী সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সাথে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতার চর্চা করা। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং নিরপেক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব জাতির প্রত্যাশা পূরণে জাতীয় নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।