দাঁড়িপাল্লা বাংলাদেশের গণমানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে : ডা. শফিকুর রহমান
২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১০:২৯
মুহাম্মদ ইমরান সোহেল, চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আজকে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। অথচ দীর্ঘসময় বাংলার জনগণ থেকে দাঁড়িপাল্লা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। পরিবর্তিত বাংলাদেশে দাঁড়িপাল্লা গণমানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘসময় ধরে জুলুম সহ্য করেছি আল্লাহর জন্য। পটপরিবর্তনের পর আমরা কারো ওপর জুলুম হতে দেইনি। দেশবাসীকে বলেছি ধৈর্য ধরতে। তারা ধৈর্যের সর্বোচ্চ উদাহরণ তৈরি করেছেন। প্রশাসন ভয় পেত, আমরা তাদের সাহায্য করেছি। উৎসাহ দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। অনেক তরুণ তাদের জীবনে একটিবারও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা অপেক্ষা করছে ভোট দিতে। কেউ তাদের অধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন না। তাহলে আপনাদের পরিণতিও ভালো হবে না। অতীত থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীর গণভোটে যারা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থাকবে, তারা অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি চায় না। যারা ‘না’ এর পক্ষ অবলম্বন করবে, তারা অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়তে চাই, আমরা অতীতেও চাঁদাবাজি করি নাই, আগামীতেও করবো না, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমাদের অনেক রাজনৈতিক দল এ কথাটি জোরালোভাবে বলতেও পারে না। কারণ বলতে গেলে তাদেরও হাসি আসবে, জনগণও হাসবে। আমরা ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই। আমরা অনেক জুলুম সহ্য করেছি। আর কোনো মানুষ যেন জুলুমের শিকার না হয়। আমরা জুলুমমুক্ত ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। আজকে সকল ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক মানুষ ঐক্যবদ্ধ। তাদের নিয়ে আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে আমাদের কোনো এমপি-মন্ত্রী সরকারি কোনো বাড়ি গ্রহণ করবেন না, ট্যাক্সবিহীন গাড়ি গ্রহণ করবেন না। আমাদের জনপ্রতিনিধিরা বিলাসী জীবনযাপন করতে পারবেন না। বিলাসিতা আল্লাহ পছন্দ করেন না। আমরা আল্লাহর নির্দেশনার আলোকে ন্যায়ভিত্তিক দেশ পরিচালনা করবো, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেব’Ñ এ নীতি আর চলবে না। এবার যার ভোট সে দিবে, যাকে খুশি তাকে দেবে। আমাদের লড়াই হবে মজলুমের পক্ষে, জালিমের বিপক্ষে। আমরা আর কাউকে জালিম হয়ে উঠতে দেবো না।
বিশেষ অতিথি দলের সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে বাংলার জনগণ এমন এক দেশ দেখতে চায়, যেখানে কোনো স্বৈরাচারীর জন্ম হবে না, ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। মানুষ এমন দেশ চায়, যেখানে পরিচালকরা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করবে না। এসব উদাহারণ তৈরি করেছেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। তাদের উত্তরসূরিদের আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। আপনাদের তাদেরকে বিজয়ীর আসনে বসাতে হবে। আমীরে জামায়াতের নির্দেশনা নিয়ে সকলকে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যেন তাদের বিজয় নিশ্চিত করা যায়। এ শহীদের দেশে আর কোনো দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজকে দেশের পরিচালনায় স্থান দেয়া যাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে নগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজের প্রত্যাখ্যান করবে। ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবে। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, উত্তর জেলা সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি জাহিদুর ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ এবং নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১০ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন। এতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা আমীর ও চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলা উদ্দিন সিকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আমীর অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা আমীর মাওলানা আবদুস সালাম আজাদ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আলিম, কক্সবাজার জেলা নায়েবে আমীর এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মুহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সভাপতি তানজীর হোসেন জুয়েল, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাঈমুনুল ইসলাম মামুন প্রমুখ।
আগামীতে যে নির্বাচন আসবে, সেখানে হক এবং বাতিলের ফয়সালা হবে-জামায়াত আমীর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের কুরআন এক, আল্লাহ তায়ালা এক, নবী এক, পথ আমাদের এক। যেখানে আমরা যাব, সেই জায়গাটাও আমাদের এক। কাজেই আমাদের মাঝে কোনো ভিন্নতা থাকবে না, ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি- আল্লাহর বিশেষ দান। আমি অনেক দেশ ঘুরেছি, আমার মনে হয়েছে এমন বরকতময় দেশ পৃথিবীতে খুব কমই আছে।
গত শনিবার (২২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা তাজুল ইসলামের পরিচালনাধীন ফিরোজশাহ মাদরাসার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফিলে প্রধান মুফাসিসর ছিলেন মাওলানা মামুনুল হক।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের জলে-স্থলে, মাটির নিচে সম্পদে ভরপুর। শুধু একটা সম্পদের অভাবে আমাদের দেশ হামাগুড়ি খাচ্ছে, সেটি হলো অতীতে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের চারিত্রিক সম্পদের অভাব। যখন তারা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন, তখনই জনগণের খাদেম না হয়ে মালিকে পরিণত হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ। আগামীতে যে নির্বাচন আসবে, সেখানে হক এবং বাতিলের মাঝে ফয়সালা হবে, ইনশাআল্লাহ। এতে আমাদের সবাইকে হকের পক্ষে থাকতে হবে। কারো রক্তচক্ষুকে পরোয়া করা যাবে না। একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে পরোয়া করতে হবে, আর কাউকে পরোয়া করা যাবে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, এ ভোট শুধু ভোটাধিকার নয়, এটা একেকটা ভেটো পাওয়ার। এখানে ভুল করা যাবে না। ভুল করলে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। বিবেকের আলোকে ভোট দেবেন, হকের পথে থাকবেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেন। আল্লাহ তায়ালার জন্য যারা ঐক্যবদ্ধ হবেন, তাদের সাথে থাকবেন। আমরা একসাথে থাকবো, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর রাজ কয়েম করার জন্য, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা কারো সাথে আপস করবো না। প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ না গড়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।