পুঁজিবাজারের গোলকধাঁধায় দিশেহারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা


২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৪১

॥ জিয়াউল হক সবুজ ॥
সাত বছর ধরে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে অল্প বেতনে চাকরি করেন রফিক মিয়া। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সঞ্চয়ের প্রায় চার লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। তার পোর্টফোলিওর বড় অংশই ছিল দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত এক্সিম ব্যাংকসহ তিনটি ব্যাংকের শেয়ারে। গত ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঘোষণায় ব্যাংকগুলোর শেয়ার মূল্য কার্যত শূন্য হয়ে যাওয়ার পর থেকে রফিক মিয়ার জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার।
ঋণের দায় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রফিক মিয়ার মতো লাখো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর জীবন এখন অনিশ্চিত। দরপতনের বৃত্তে হঠাৎ আটকে যাওয়া শেয়ারবাজার এখন রফিক মিয়ার মতো বিনিয়োগকারীদের চোখের জল ছাড়া আর কিছুই নয়। দফায় দফায় সর্বোচ্চ দরপতনের মধ্যে দু-একবার সূচকের বড় উত্থানেও তেমন আশা দেখছেন না রফিক মিয়া।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে শেয়ারবাজারের চলমান দরপতন দুটি বড় ধাক্কায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর মধ্যে প্রথম বড় ধাক্কাটি আসে গত ২৮ অক্টোবর। সেদিন ডিএসইএক্স সূচক একদিনে কমেছিল ১৪৯ পয়েন্ট। ‘দুর্বল ব্যাংকের শেয়ারদর শূন্য হয়ে যাবে’- কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের এমন বক্তব্যের পরদিনও ভয়াবহ পতন হয় শেয়ারবাজারে। ৬ নভেম্বর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দেয় নতুন মার্জিন ঋণ রুলসের গেজেট। মার্জিন রুলসের নতুন গেজেট বাজারে ঋণ সুবিধা ব্যবহার করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরো কঠোরতা বয়ে আনে।
একদিকে দুর্বল ব্যাংকের শেয়ারদর শূন্য হওয়ার খবর; অন্যদিকে নতুন মার্জিন রুলসের গেজেটের প্রথম দিন ৯ নভেম্বর সূচক পড়ে যায় ৬৮ পয়েন্ট। এতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত অর্থ তুলে নেয়ার প্রবণতায় মেতে ওঠেন। বিপুল পরিমাণ পুঁজি হারান অসংখ্য সাধারণ বিনিয়োগকারী। এর সাথে যোগ হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়কে ঘিরে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ থাকা আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন কর্মসূচি। সেদিন (১৩ নভেম্বর) ডিএসইএক্স সূচক একদিনে ১২৩ পয়েন্ট কমে মাসের সর্বোচ্চ পতন দেখে পুঁজিবাজার।
অক্টোবরের শেষপ্রান্ত থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক পতনকে ব্যাংকিং খাতের চরম আস্থাহীনতার ফল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দরপতনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতি আর নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন মার্জিন রুলসকে দায়ী করছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। এ নিয়ে মতিঝিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভও করে, পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ নেতারা। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তানিম নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘আমি তো কোনো ফাটকা খেলিনি। ভেবেছিলাম যে, ব্যাংক কখনো ডুববে না। কিন্তু চোখের সামনেই আমার প্রায় ৮০ ভাগ বিনিয়োগ শূন্য হয়ে যেতে দেখলাম। এখন ঋণের কিস্তি কীভাবে দেবো? কীসের আশায় পড়ে থাকবো পুঁজিবাজারে?’
পুঁজিবাজারের গোলকধাঁধা
শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চারটি কারণে আস্থাহীনতার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের শেয়ার বাজার। এ যেন এক গোলকধাঁধা। এ পতনের প্রধান চালক চারটি হলো, দুর্বল ব্যাংকের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণার মাধ্যমে আস্থার সংকট তৈরি করা, নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালা গেজেটের আকস্মিক প্রভাব, রাজনৈতিক ‘শাটডাউন’ বা ‘লকডাউন’ কর্মসূচির অনিশ্চয়তা এবং সর্বোপরি এসবের ফলস্বরূপ বাজারে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীর মধ্যে তৈরি হওয়া ‘প্যানিক সেলিং’। এ চার গোলকধাঁধায় বাজারে বিক্রির চাপ বহুলাংশে বেড়ে যায়। যার জন্য বিএসইসির অপরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দূরদর্শিতার অভাবকে দুষছেন অনেকে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন অর্থনীতিবিদ এবং পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ। ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবির পরিচালনা বোর্ডে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশের বাজার সম্পর্কে তেমন জ্ঞান নেই। এদের জন্য মায়া লাগে। তারা অন্যের কথায় বিশ্বাস করে পতনের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে নিঃস্ব হয়। যখন কেনার সময়, তখন তারা শেয়ার বিক্রির চাপে পড়ে ভুল করে। ভুল মানুষের পরামর্শে তারা নামসর্বস্ব দু’নম্বর কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে। এ সুযোগে বাজার থেকে অর্থ লুটে নেয় গেমলাররা’।
বাজার বিশ্লেষক, ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা এবং অন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও মনে করছেন, নভেম্বরে চরম পতনের পেছনে চারটি মূল কারণ সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। এর প্রধান কারণ নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালার গেজেট।
মার্জিন ঋণের নতুন গেজেট
দীর্ঘ ২৬ বছর পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ৬ নভেম্বর নতুন ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা-২০২৫’ এর প্রজ্ঞাপন জারি করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ পরিবর্তনকে দীর্ঘমেয়াদি বাজার স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব হয় সম্পূর্ণ বিপরীত। মার্জিন ঋণের নতুন নীতিতে ঋণের অনুপাত এবং শর্তাবলী কঠিন করা হয়েছে। বাজারের সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত ২০-এর বেশি হলে মার্জিন ঋণ অনুপাত ১:০.৫ এর বেশি হবে না। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী নিজের ১ টাকা বিনিয়োগ করলে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা ঋণ নিতে পারবেন। এ কঠোরতা ঋণনির্ভর বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধাক্কা।
নতুন নিয়মে পূর্বের বিতরণ করা ঋণ হিসাবে থাকা যেসব শেয়ার এখন ঋণ অযোগ্য হয়ে গেছে, সেসব শেয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়ার শর্তারোপ করা হয়। এর ফলে বাজারে বিক্রির চাপ তীব্র হয়। বিপুলসংখ্যক শেয়ার বাধ্যতামূলক বিক্রির আশঙ্কায় এবং মার্জিন ঋণ ব্যবহার করে নতুন করে শেয়ার কিনতে না পারার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের পোর্টফোলিও থেকে তাড়াতাড়ি অর্থ তুলে নেওয়া শুরু করেন। ফলে বাজারের তারল্য সংকট আরও বেড়ে যায় এবং সূচক দ্রুত নিচে নামতে থাকে।
শীর্ষস্থানীয় এক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নতুন মার্জিন রুলস বাজারে শৃঙ্খলা আনবে ঠিকই, কিন্তু এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ছিল চরম দুর্বল। এক মাসের মধ্যে সবকিছুর পরিবর্তন প্রত্যাশা করাটা অবাস্তব সিদ্ধান্ত। হুট করে এমন কঠোর না হয়ে ধাপে ধাপে হলে অনেকেই বাধ্য হয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে হতো না।
ব্যাংকের শেয়ারদর শূন্য ঘোষণা
দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে অত্যন্ত অস্থির ও ঘটনাবহুল মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে নভেম্বরের প্রথম ২০টি দিন। এ সময়ে শেয়ারবাজার শুধু মূল্য সূচকই হারায়নি, এর সঙ্গে হারিয়েছে বিনিয়োগকারীদের বহু বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা আস্থা ও ভরসা। গত ৫ নভেম্বর পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের এককথায় দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকের প্রায় ৫৮২ কোটি শেয়ারের বাজার মূল্য হঠাৎ করেই শূন্যে পরিণত হয়। এ শেয়ারগুলোর বড় অংশই ছিল ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি বার্তা গেছে যে, কোনো কোম্পানি দুর্বল হলে বা একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় গেলে তাদের শেয়ারের মূল্য শূন্য হতে পারে। অথচ উল্টো পদক্ষেপ হতে পারতো। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ক্ষতিপূরণ পাওয়া তো দূরে থাক, শেয়ারের ন্যূনতম দাম পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দুর্বল ব্যাংকের গ্রাহকরা। অথচ অনেকে ধরে নিয়েছিল, দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত হওয়ার পর শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। শক্তিশালী ব্যাংকে পরিণত হতে পারে প্রস্তাবিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। দুর্বল ব্যাংক সবল হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট হলে সেসব ব্যাংকের শেয়ারদর একেবারে তলানিতে ঠেকবে কেন? এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ফলে পুরো বাজারে; বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। হুট করে শেয়ারদর শূন্য ঘোষণার মতো সিদ্ধান্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘বড় শক’ হয়ে থাকবে।
লকডাউন-শাটডাউনের প্রভাব
নভেম্বরে দরপতনের অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘শাটডাউন’ বা ‘লকডাউন’ কর্মসূচি বাজারে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এর ফলে ১৩ নভেম্বর একদিনে ১২৩ পয়েন্ট হারায় পুঁজিবাজার, যার প্রায় পুরোটাই রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, পরিবহন চলাচল সীমিত হওয়া এবং সর্বোপরি এক ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাজারে তীব্র বিক্রির চাপ সৃষ্টি করে। বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা সাধারণত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখার জন্য বাজার থেকে দ্রুত পুঁজি তুলে নেন, যা সূচকে বিশাল পতন ঘটায়।
আতঙ্কে ‘প্যানিক সেল’
নতুন মার্জিন ঋণ রুলসের বাধ্যবাধকতা, দুর্বল ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য হারানো এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এ তিন কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। ফলস্বরূপ বাজারে সৃষ্টি হয় ‘প্যানিক সেল’। টানা দরপতনে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা ভাবতে শুরু করে বাজার আরও পড়বে। তাই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যেকোনো মূল্যে তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি শুরু করে। ‘যদি আগামীকাল দাম আরও কমে যায়?’ এ মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর মধ্যে আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ‘ভয়ই যখন বাজারের চলক’ এ পরিণত হয়, তখন আর ক্রেতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ফলে দরপতন হয় ভয়ংকর গতিতে। এই চারটি ধাক্কার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দাঁড়ায় সংকটের এক চৌকাঠে।
সুড়ঙ্গের শেষে আলোর হাতছানি
আস্থার সংকট, ঋণ ও নীতির গোলকধাঁধায় যখন পুঁজিবাজার, তখন সুড়ঙ্গের শেষপ্রান্তে আলোর হাতছানি। চার ধাক্কায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হলেও ২৪ নভেম্বর সূচক ও দরে উত্থান হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন কেউ কেউ। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১০৯ পয়েন্ট বেড়ে সূচক আবার ছাড়িয়েছে ৫ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক। সূচকের উত্থানে লেনদেন হয়েছে ৬৩৫ কোটি টাকার শেয়ার। হাতবদল হওয়া মোট ৩৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ৩৫৯টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির প্রবণতায় বাজার ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে এমন আশায় বুক বাঁধছেন কেউ কেউ। তবে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবির পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা বলছেন, ২৪ নভেম্বর বাজারে যে বড় উত্থান তার মূল কারণ সরকারের কাছ থেকে আইসিবির নামে ইস্যু করা এক হাজার কোটি টাকার ঋণ ছাড় হওয়া। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ পুঁজিবাজারে আসছে, এ খবরে সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। তবে এ প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হয় সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। এক ব্রোকারেজ হাউজের ডেপুটি ম্যানেজার সামিয়া আখতার অবশ্য বলছেন, ‘বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের লেনদেনে অনেকটা তলানিতে ঠেকেছিল। এখন ব্যাক করতে শুরু করেছে’।
পুঁজিবাজারে ভোটের হাওয়া?
শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্যাক্টর নয়, পুঁজিবাজারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। এ কারণেই কী বাজারে উত্থান-পতনের খেলা? নাকি শেয়ারবাজারেও লাগতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া? বাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ জানিয়েছেন, ‘বাজার আর কত নিচে নামবে? দরপতনেরও একটা সীমা আছে। অর্থনৈতিক অবস্থান এবং ফান্ডামেন্টাল বিবেচনায় পুঁজিবাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। দেশে জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া লাগলে ইতিবাচক পরিবর্তন হবে এমন আশা তার। তবে এজন্য দরকার সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন। দেশে ভাল একটা নির্বাচন হয়ে গেলে ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীর আস্থা পুঁজিবাজারে ফিরবে বলে মনে করেন অধ্যাপক আবু আহমেদ।