সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:০৬
রেকর্ডসংখ্যক ইসরাইলি অসন্তোষ ও হতাশায় দেশ ছাড়ছে
ইসরাইলি নাগরিক আব্রাহাম বিনেনফেল্ড দেশের রাজনীতি নিয়ে এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে, দুই বছর আগে তিনি রাজপথে জনসাধারণের বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন এবং সতর্ক করতেন যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকার ইসরাইলের নিরাপত্তাকে, এর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবং পরিচয়কে বিসর্জন দিচ্ছে। আব্রাহাম এমনকি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন হামাস দক্ষিণ ইসরাইল আক্রমণ করে, তখন তিনি তার দুই ভাইয়ের সাথে তৎক্ষণাৎ সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত কর্তব্যে যোগ দেন। এখন গাজা যুদ্ধে ইসরাইল এবং হামাস যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর পর, তিনি আবারও বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আব্রাহাম বলেছেন, তিনি সব সঙ্কট মোকাবিলা করে নিতেন, যদি তিনি বিশ্বাস করতেন যে নেতানিয়হুর সরকার ইসরাইলকে সঠিক পথে পরিচালিত করছে। আব্রাহাম বলেন, ‘আমার জানা দরকার যে এ সমস্ত দুর্ভোগ একটি ভালো উদ্দেশ্যেই ঘটছে।’ নেতানিয়াহুর সরকারের নীতির প্রতি ক্রমর্ধমান হতাশা ও অসন্তোষের কারণে হামাসের ইসরাইল আক্রমণ এবং পরবর্তীতে গাজায় ইসরাইলের আক্রমণের আগে থেকে, গত দুই বছরে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন কয়েক হাজার ইসরাইলি। প্রায় ২ লাখ ইসরাইলি এখন ইউরোপে বাস করেন। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের মতে, ২০২৪ সালে দেশটির ১ কোটি নাগরিকের মধ্যে ৮০ হাজারেরও বেশি বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন এবং এ বছরও একইসংখ্যক নাগরিক দেশত্যাগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরাইলি সমাজবিজ্ঞানী এবং জনসংখ্যাবিদরা বলছেন যে এ ক্রমবর্ধমান অভিবাসীদের বেশিরভাগই সুশিক্ষিত, উচ্চ-আয়কারী, ধর্মনিরপেক্ষ, বামপন্থী এবং নেতারা দেশকে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছেন, তার গভীর সমালোচক। এ প্রস্থানগুলো আগামী কয়েক দশক ধরে ইসরাইলে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। ইসরাইলিদের স্থানান্তরে সহায়তাকারী সংস্থা সেটেল্ড.ইন-এর প্রতিষ্ঠাতা দাফনা পাতিশি-প্রিলুক বলেছেন, তিার কাছে অভূতপূর্ব পরিমাণে অনুরোধ জমা পড়ছে, প্রায়শই আরও জরুরি ভিত্তিতে। তিনি বলেন, গাজা যুদ্ধের আগে, বেশিরভাগ ইসরাইলি পেশাদার সুযোগের জন্য বিদেশে চলে যেতেন, কিন্তু সম্প্রতি তার আতঙ্কিত মক্কেলরা ইসরাইলের ভয়াবহ যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বিরতি চাইছেন। দাফনা আরও বলেন, তার অনেক মক্কেল তাকে বলেছেন যে তাদের প্রত্যাবর্তনের তারিখ আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর বোস্টনে পাড়ি জামানো পাতিশি-প্রিলুক বলেছেন, ‘আমরা বিরতি নেব, নির্বাচনের ফলাফল দেখব এবং পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নেব।’ আরব নিউজ।
ভারতে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য করছে সরকার, অভিযোগ আরশাদ মাদানির
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সায়্যিদ আরশাদ মাদানি ভারতে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন। মাদানি দাবি করেছেন, ভারতে মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মুসলিম নেতারা বিদেশে উচ্চপদে পৌঁছেছেন। কিন্তু ভারতে যারা এ পদে পৌঁছেছেন, তাদের জেলে পাঠানো হয়। তিনি নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের কথা উল্লেখ করেন। মাওলানা মাদানি বলেন, ভারতে একজন মুসলিম কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হতে পারেন না। যদি কেউ তা করেন, তবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর এর উদাহরণ হলেন আজম খান। আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া তদন্তের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মাদানি অভিযোগ করেন, মুসলিমরা যাতে কখনো মাথা তুলতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কংগ্রেস পার্টির নেতা উদিত রাজ মাদানির বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ করেন। উদিত বলেন, তিনি মাদানির বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং কেন বুলডোজার দিয়ে মুসলিমদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস।
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ হচ্ছে মালয়েশিয়ায়
নতুন বছরে ১৬ বছরের কমবয়সী শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে মালয়েশিয়া সরকার। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। গত রোববার (২৩ নভেম্বর) দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাজদিল বলেছেন, সরকার দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশ অনলাইনে বয়সসীমা কীভাবে আরোপ করেছে। তিনি বলেছেন, ‘আশা করি, আগামী বছর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো সরকারের এ সিদ্ধান্ত মানবে। ১৬ বছরের নিচের কেউ সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার, সরকারি সংস্থা ও অভিভাবকরা নিজ দায়িত্ব পালন করলে মালয়েশিয়ায় ইন্টারনেট শুধু দ্রুতগতির নয়, শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে নিরাপদও হয়ে উঠবে।’ মালয়েশিয়া সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যমে কার্যক্রমের ওপর আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বাড়তে থাকা সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করাই এর লক্ষ্য। এএফপি জানিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যমান প্ল্যাটফর্ম ও মেসেজিং সার্ভিসগুলোর ৮০ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ নিয়ম চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হয়েছে। গত অক্টোবরে বেশ কয়েকজন এমপিও সরকারের নেয়া এ পরিকল্পনায় সমর্থন জানান। তারা বলেন, নিবন্ধনের সময় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করার সঠিক ব্যবস্থা থাকা উচিত। সেপ্টেম্বরে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইপসস মালয়েশিয়া এডুকেশন মনিটর ২০২৫-এর জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শিশুদের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করা উচিত। এএফপি।
পশ্চিমবঙ্গে ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির ঘোষণা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। আগামী ৬ ডিসেম্বর ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। গত রোববার (২৩ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যটির বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ মন্তব্যে তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছে বিজেপি। তবে পাল্টা প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস বলেছে, মসজিদ বানানোয় দোষের কী আছে? বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়ার দাবি করেছেন, ‘গোটা ভারত রামমন্দির তৈরির আনন্দে মাতোয়ারা। আর ঠিক সেই সময়েই নতুন বাবরি তৈরির ঘোষণা করা হচ্ছে।’ গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার নিদর্শন মাত্র। কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দিক্ষিত বলেন, ‘কেউ মসজিদ বানালে তার সাথে বাবরের কী সম্পর্ক? তারা যদি মসজিদ তৈরি করতে চায়, করতেই পারে।’ কংগ্রেস সংসদ সদস্য সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, ‘কেউ যদি মসজিদ, মন্দির, গুরুদ্বার বা চার্চ বানায়, এতে বিতর্কের কী আছে? কেন বিষয়টিকে অযথা বিতর্কিত করা হচ্ছে? প্রত্যেকেই তাদের উপাসনালয় নির্মাণের অধিকার রাখে।’ এ বিষয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের প্রধান মাওলানা সাজিদ রাশিদি বলেন, ‘সম্ভবত তারা বুঝতে পারছেন না যে একবার যেখানে মসজিদ তৈরি হয়, সেটি কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদ হিসেবেই থাকে। ভারতে বাবরি মসজিদের নামে শত শত মসজিদ তৈরি হলেও অযোধ্যার আসল বাবরি মসজিদের গুরুত্ব কখনোই মুছে যাবে না।’ এনডিটিভি।
ট্রাম্পের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছেন রিপাবলিকানরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ অমান্য করে দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী এবং একসময়ের ট্রাম্পের বন্ধু জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে আইন প্রণয়নের জন্য কংগ্রেসনাল রিপাবলিকানদের ইচ্ছাই স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, মার্কিন রিাপবলিকান দলের আইন প্রণেতারা ট্রাম্পের মেয়াদের বাইরে গিয়ে আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের আত্মরক্ষার দিকে নজর দিতে শুরু করেছেন। অনেক সিনেট রিপাবলিকানরা মার্কিন অর্থনীতি স্থবিরকারী ফিলিবাস্টার কৌশলের কাছে মাথা নত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিছু রাজ্যে রিপাবলিকান নিজেদের প্রভাবকে শক্তিশালী করতে এবং ট্রাম্পকে বিপদে ফেলতে পারে- এমন একটি ডেমোক্র্যাটিক আধিপত্য রোধ করার জন্য মার্কিন জেলাগুলোর নির্বাচনী মানচিত্র পুনর্নির্মাণের তার তীব্র প্রচেষ্টাকে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক জরিপগুলোয় ট্রাম্প এবং তার দলকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে দুর্বল দেখা গেছে, যা ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নির্ধারণ করবে। এর মধ্যে, আমেরিকানরা ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং অর্থনীতির প্রতি ট্রাম্পের অবহেলার দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করেছেন, যা ট্রাম্প তাদের সুবিধার জন্য সংশোধন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রিপাবলিকানরা স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্পের ক্ষমতার ইতিহাস এবং দ্রুততার সাথে এটি যে বিলীন হতে পারে, বিবেচনা করে একটি পরিবর্তন ঘটছে, যা সম্ভবত অনিবার্য ছিল।
কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি, যিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক হুমকি এবং কঠোর ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে এপস্টিইন ইস্যুকে ভোটে তুলতে বাধ্য করেছিলেন, তিনি তার সহকর্মীদের যেকোনো মূল্যে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানোর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং বারাক ওবামার সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা ডেভিড অ্যাক্সেলরড বলেছেন, ‘অর্থনীতি এবং তার সংখ্যাগুলো পুনরুদ্ধার না হলে, রিপাবলিকানরা তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে কম ইচ্ছুক বোধ করবে। এবং রাজ্যগুলোয় পৃথক নির্বাচনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে এবং তিনি তাদের মাথার ওপর যে সম্ভাব্য প্রাথমিক চ্যালেঞ্জগুলো রেখেছেন, তা থেকে মুক্ত হয়ে গেলে এ প্রবণতা ত্বরান্বিত হবে।’ আপাতত ট্রাম্পের দুর্বল অবস্থান এবং এ মাসের রিপাবলিকান পরাজয় কংগ্রেস এবং সিনেটের রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে ফাটল তৈরিতে সাহায্য করেছে, যারা অতীতে ট্রাম্পের দাবি দ্রুত সফল করতে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। কিছু রিপাবলিকান আইন প্রণেতা মাদক চোরাচালানের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অব্যাহত মারাত্মক নৌকা হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, যা সন্দেহজনক আইনি ভিত্তি এবং কংগ্রেসের পর্যালোচনা ছাড়াই করা হয়েছে। রিপাবলিকানরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার জন্য দ্বিদলীয় চাপেও যোগ দিয়েছেন। ট্রাম্পের ঘোষণা যে তিনি শুল্ক ছাড়ের চেক পাঠাতে চান, ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে দ্রুত প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। ফলে তার জন্য প্রশ্ন হবে যে, তিনি কতদিন ধরে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন, যোখনে রিপাবলিকানরা ২০২৬ সালের মুখে তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব রক্ষার দিকে এবং ট্রাম্প-পরবর্তী বিশ্বের দিকে ঝুঁকছেন।
ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের পথে জার্মানি
জার্মানি ২০৩৫ সালের মধ্যে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলার বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশটি ইতোমধ্যেই বড় ধরনের সামরিক পুনর্গঠন শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, জার্মানি এ পরিকল্পনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যারৎস এ বছর ঘোষণা দেন যে, তিনি ইউরোপের শক্তিশালীতম সেনাবাহিনী গড়তে চান। তবে দীর্ঘ বছর ধরে অবহেলার কারণে জার্মান সামরিক বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনীতে রূপান্তর করা সহজ কাজ নয়। এ কারণে নতুন আইন ও সংস্কারকেই পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে দেখছে সরকার। জার্মানি বলছে, রাশিয়ার বাড়তি আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তনের ফলে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষার চাপ নিজেদেরই নিতে হবে। তাই নতুন সামরিক সংস্কার দেশটির প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বর্তমান ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার করা হবে। পাশাপাশি আরও দুই লাখ সদস্যের একটি রিজার্ভ বাহিনী গঠনের লক্ষ্যও রয়েছে। শুরুতে নিয়োগ হবে স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে, আর যোগদানকারীদের জন্য দেওয়া হবে অতিরিক্ত আর্থিক প্রণোদনা। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মাসিক বেতন হবে ২৬০০ ইউরো, যা আগের তুলনায় ৪৫০ ইউরো বেশি। তবে লক্ষ্য পূরণ না হলে সরকার বাধ্যতামূলক ডাকে যাওয়ার অধিকার রাখবে। আগামী বছর থেকে সব ১৮ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীর কাছে সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ যাচাই করতে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে, যেখানে পুরুষদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক। ২০২৭ সাল থেকে ১৮ বছর বয়সী পুরুষদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষাও দিতে হবে। এ উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে বলছে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন যে ন্যাটো সদস্য কোনো দেশ ভবিষ্যতে রুশ হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। লন্ডনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের ইউরোপ প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো মিন্না অল্যান্ডার বলেন, ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানের কারণে জার্মানি মহাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি মুখ্য ভূমিকা নিতে পারে। তার মতে, ‘জার্মানির সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সার্বিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে, যদিও এর পূর্ণ প্রভাব দেখা যাবে ২০৩০-এর দশকের পর।’ এর আগেই জার্মানির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল কার্স্টেন ব্রয়ার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ন্যাটোকে আগামী চার বছরের মধ্যেই সম্ভাব্য রুশ হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এমনকি সেই হামলা ২০২৯ সালেও হতে পারে। তাই তিনি সদস্য দেশগুলোকে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানান। সিএনএন।
চীনের সাবমেরিনে আরও শক্তিশালী পাকিস্তান নৌবাহিনী
ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে চীনের পদক্ষেপ। পাকিস্তান নৌবাহিনীকে মোট ৮টি আধুনিক হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন সরবরাহ করছে বেইজিং। এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (এআইপি) প্রযুক্তিসম্পন্ন এ সাবমেরিনগুলো দীর্ঘসময় পানির নিচে গোপনে চলাচল করতে সক্ষম। প্রথম সাবমেরিনটি ২০২৬ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে আটটি সাবমেরিনই ডেলিভারি সম্পূর্ণ হবে। চুক্তির মূল্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার, যা পাকিস্তানের সামুদ্রিক শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং আরব সাগরে ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের প্রথম স্থানীয়ভাবে তৈরি সাবমেরিনবিরোধী জাহাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে একটি মাইলফলক অর্জন করেছে, তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের তুলনায় এখনো তাদের নৌ-ক্ষমতার ঘাটতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যারা চীনের তৈরি শক্তিশালী সাবমেরিন অর্জন করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল সমস্যা হলো নয়াদিল্লির দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রচলিত সাবমেরিন বহর আধুনিকীকরণে ব্যর্থতা। এর ফলে পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে চীনের তৈরি এআইপি প্রযুক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন যুক্ত হলে ঝুঁকিতে পড়বে ভারত। দিল্লির আত্মনির্ভর ভারত বা ‘স্বনির্ভর’ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও গত ২৪ নভেম্বর সোমবার কমিশন করা নতুন মাহে-শ্রেণির সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধজাহাজ শুধুমাত্র অগভীর সমুদ্রে কাজ করতে সক্ষম। এটি ভারতের উপকূলীয় এলাকায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করলেও, গভীর সমুদ্রে ভারত পাকিস্তানি সাবমেরিনের সামনে অসহায় হয়ে পড়বে। এসসিএমপি।
বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল রাজধানীর শীর্ষে জাকার্তা
বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা এখন শহরমুখী, আর সেই প্রবল নগরায়ণের মাঝেই সবচেয়ে জনবহুল রাজধানীর স্বীকৃতি পেল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক দপ্তর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস-২০২৫ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাকার্তার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ, যা তাকে বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল রাজধানীর স্থানে তুলে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী নগর জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বর্তমানে পৃথিবীর মোট ৮.২ বিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশই শহরে বসবাস করছে। অথচ ১৯৫০ সালে শহরে বসবাসকারী মানুষের হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। জাতিসংঘ ধারণা করছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী নতুন যে জনসংখ্যা যুক্ত হবে, তার দুই-তৃতীয়াংশই যোগ হবে নগর অঞ্চলে, বাকিটা ছোট শহর ও উপজেলা পর্যায়ে। আনাদোলু এজেন্সি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান