বগুড়ায় জামায়াতের শক্ত অবস্থানে নতুন নির্বাচনী সমীকরণ
২১ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪১
মিনাজুল ইসলাম মিজান, (বগুড়া) : উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত বগুড়ায় সংসদীয় আসন সাতটি। জেলাটি রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমিও বটে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় এখন চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। জেলার সাতটি সংসদীয় প্রতিটি আসনে এবার হবে ব্যাপক লড়াই। ইতোমধ্যে বিএনপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীদের নিয়ে সংসদীয় আসনগুলোয় সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে। দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠ থেকে দূরে থাকা অনেককেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর তীব্র জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও জনকল্যাণে কাজ করেছে নীরবে-নিভৃতে। তবে ৫ আগস্টের পর দলটি গণসংযোগ ও সামাজিক কাজের গতি বাড়িয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি জামায়াত অনেক আগেই আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এরপর থেকেই তারা নিয়মিত গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, পথসভাসহ নানাভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ওয়াজ মাহফিল, ক্রীড়া অনুষ্ঠানে নিজেদের প্রচার অব্যাহত রেখেছে। আসনগুলোয় বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় দলীয়ভাবে তাদের কোন্দল রয়েছে। তবে গত ৩ নভেম্বর দলটির হাইকমান্ড সারা দেশের মতো বগুড়ায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ সাতজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এমনি পরিস্থিতিতে জামায়াতের প্রার্থীরা জেলার সাতটি আসনে বাজিমাত দেখাতে চান।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) : বগুড়ার এ আসনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সাবেক বগুড়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। তিনি এ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া তিনি শিক্ষা ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা ও ভোটার-কর্মীদের মাঝে প্রতিনিয়ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
বর্তমানে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম। এদিকে দলের পক্ষ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ওই আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত রয়েছে।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বলেন, বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি বললে ভুল হবে। বর্তমানে তাদের যে রাজনীতি এতে মানুষ অতিষ্ঠ। এ আসনে ভোটারদের বিপুল সমর্থনে অবশ্যই জামায়াত বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, জনরায়ে নির্বাচিত হলে যমুনা ও বাঙালি নদী স্থায়ী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেব। চর সংরক্ষণ করে শিল্প কারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যা দূর করব।
বগুড়া-২ : বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দিনের নির্বাচনের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে পাঁচবার বিএনপির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান এখানে বিজয়ী হন। তারপর থেকে এ আসনটিতে জামায়াতের অবস্থান বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, শিবগঞ্জের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে অবস্থান করলেও বর্তমানে ভাটা পড়েছে। জামায়াতের শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক আমীর ও সংসদ সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদুজ্জামানকে ওই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি প্রতিদিন এলাকার সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার, গরিব-অসহায় পরিবারের মেয়ের বিবাহে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর মাওলানা শাহাদুজ্জামান নিরলসভাবে কাজ করে জনগণের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। অপরদিকে ওই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এসাইনমেন্ট অফিসার ডা. ফিরোজ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। এরমধ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন মীর শাহে আলম। এলাকা সূত্রে জানা যায় বা অনেকেই ধারণা করেছে এ আসনে বিএনপি জোট করে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আসন ছেড়ে দেবে।
মাওলানা শাহাদুজ্জামান বলেন, তিনি একটি মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ। এবারের নির্বাচনে তিনিই একমাত্র প্রার্থী, যিনি বিগত সময়ে সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালে শাহাদুজ্জামান এ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী শাসনামলে এ অঞ্চলের জামায়াতের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হেনস্তা করার কারণে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবেও এ প্রার্থী অত্যন্ত বিনয়ী। ধীরে ধীরে তার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। তিনি আরো বলেন, ভোটের মাঠে গেলে আমি নিজেই বুঝতে পারি আমার বিজয় সুনিশ্চিত। এ অবহেলিত অঞ্চলটিকে নতুন করে সাজাতে চাই এবং আমার শেষ জীবনে নির্বাচিত হয়ে মানুষের মনে ঠাঁই করে যেতে চাই।
বগুড়া-৩ : আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা নিয়ে বগুড়া-৩ আসন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৬ জন। স্বাধীনতার পর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ আসনে যে কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছে, তার প্রতিটি নির্বাচনেই জয়লাভ করেছে বিএনপি। ডামির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এর হিসাবে নেই। বরাবর বিএনপির জয়লাভ করে আসা এ আসনটি বিএনপির দুর্গ নামে খ্যাত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মহিত তালুকার। গত ৩ নভেম্বর বিএনপির হাইকমান্ড তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আসনটিতে বিএনপির ৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ১ জন। গত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতন ঘটলে একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে দেশের মানুষ। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির এ দুর্গে এবার জনমতের ভিত্তিতে আসনটিতে এবার নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চান জামায়াত। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রতিনিয়ত গণসংযোগ, জনসভা, সামাজিক কার্যক্রম, উঠান বৈঠকসহ নানারকম কর্মসূচি নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন এ আসনের প্রতিটি দলেরই সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুণাহার ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের। বর্তমানে এ আসনে জামায়াতের একটি শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। এলাকা সূত্রে জানা যায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ আসনে বিপুল ভোটে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করবে।
বগুড়া-৪ : কাহালু নন্দীগ্রাম নিয়ে বগুড়া-৪ আসন গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এ আসনে চলছে নতুন সমীকরণ। ফলে এবারের নির্বাচনে ওই আসনের ভোটররা দেখাতে চান নতুন এক চমক। কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলীকে ওই আসনে প্রার্থী ঘোষণে করেছিল জামায়াত। তার মৃত্যুতে ওই আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন সেক্রেটারি জেনারেল, খিরশেহির আহি এভরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এসিট্যান্ট প্রফেসর ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজকে প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত। পারভেজ প্রতিদিন সংসদীয় আসনে নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ওই আসনের সকল ভোটারদের মনে ইতোমধ্যে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। অপরদিকে ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি আলহাজ মোশারফ হোসেন চৌধুরী। দলের পক্ষ থেকে তাকে মনোনীত করা হয়েছে। তিনিও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
বগুড়া-৫ : শেরপুর-ধুনট নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৬ জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৯ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। পুরুষের চাইতে মহিলা ভোটার সংখ্যা এ আসনে বেশি। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে শেরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও শেরপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর আলহাজ মাওলানা দবিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, এ দেশে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো বিকল্প নাই। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ যদি আমাকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দান করেন, তাহলে শেরপুর-ধুনটের সকল রাস্তাঘাট অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেকারত্ব দূর করব। সকলের কর্মসস্থানের ব্যবস্থা করব। তিনি ওই আসনে গণসংযোগ, কর্মী সমাবেশ, উঠান বৈঠক, সামাজিক কাজে অংশগ্রহণসহ নানারকম প্রচারের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। অপরদিকে ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ। ভোটের মাঠে তারও জনপ্রিয়তা রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে তিনি জনসভা, গণসংযোগ ও নিয়মিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
বগুড়া-৬ সদর : এ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে উত্তাপ ও কৌতূহল। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর পাল্টে যাওয়া জাতীয় রাজনীতির প্রভাব পড়েছে এ আসনেও। ফলে এবারের নির্বাচনে নতুন এক সমীকরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এবার মাঠে সক্রিয় হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের পক্ষ থেকে ওই আসনে মনোনীত করা হয়েছে বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, বগুড়া শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য, বগুড়া শহর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেলকে। তিনি দীর্ঘদিন থেকে সংগঠন, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন জামায়াতের এ নেতা। শিক্ষা খাতে অবদান, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং দুর্যোগকালে মানবিক উদ্যোগের জন্য তার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। এছাড়া তিনি প্রতিদিন তার নির্বাচনী এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ভোটারদের সাথে গণসংযোগ, জনসভা ও উঠান বৈঠক করে যাচ্ছেন। তিনি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করছেন। উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল ২০১৪ সালে জেলে থাকা অবস্থায় বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন। অপরদিকে ওই আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে তার দল। গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নাম ঘোষণা করেন। এরপর থেকে ওই আসনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করাতে ব্যাপক প্রচারে নেমেছেন।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) : এ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দৃষ্টি পড়েছে দেশের সকল নাগরিকের। নতুন বাংলাদেশে কে হবেন এ আসনের কাণ্ডারি। বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এবার মাঠে সক্রিয় হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম রব্বানী। গোলাম রব্বানী বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি। বহু বছর ধরে সংগঠন, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এ নেতা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। শিক্ষা খাতে অবদান, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং দুর্যোগকালে মানবিক উদ্যোগের জন্য তার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাহজাহানপুর) আসনে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় নিজের দলের অবস্থান ও প্রত্যাশা নিয়ে জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রব্বানী বলেন, রাজনীতিকে আমি মানুষের কল্যাণের হাতিয়ার মনে করি। উন্নয়ন, শিক্ষা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনীতি করতে চাই। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতা কর্মীরা।
বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোরশেদ মিল্টন বলেন, বগুড়ার সার্বিক পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বগুড়ার উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি হবে। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বেকারত্ব, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে। সারা দেশে সাড়ে ৪ কোটি নতুন ভোটার বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে সহযোগিতা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদুন নবী ছালাম বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি বগুড়ায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। বগুড়ার সবগুলো আসনে আমরা নিয়মিত গণসংযোগ ও প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের সাথে সাক্ষাৎ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন বগুড়া উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে ছিল। আমরা ক্ষমতায় গেলে বেকারত্ব দূরীকরণে চাকরি প্রদান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, প্রত্যেক পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসহ বগুড়ার উন্নয়নে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করব। সোনাতলা-সারিয়াকান্দিতে একটু সমস্যা ছিল- তা আমরা সমাধান করেছি। বগুড়া শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা আলমগীর হোসাইন বলেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ময়দানে কাজ করতে পারেনি। কিন্তু আমরা সাংগঠনিকভাবে ভেতরে কাজ করেছি। বগুড়ায় ভালো কিছু করব আমরা। আমরা নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বগুড়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে এদেশের মানুষ স্পষ্ট করে বুঝতে পারছে যে দেশ জামায়াতের কাছে নিরাপদ। সাংগঠনিকভাবে আমরা নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। বগুড়ার সকল আসনে আমাদের অবস্থান ভালো। নতুন প্রজন্ম জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। আমরা আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বগুড়ার উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ।