আলোকে তিমিরে

ইন্ডিয়া লাগাতার ভুল করছে


২০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:১৮

॥ মাহবুবুল হক ॥
নির্ভরযোগ্য খবরে প্রকাশ, ইন্ডিয়া বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সেনা গ্যারিসন স্থাপন করে বাংলাদেশকে সিগন্যাল দিচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ সামুদ্রিক ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের সিগন্যালকে যতটা সমীহ করে মনুষ্যসৃষ্ট অন্য কোনো সিগন্যালকে ততটা সমীহ করে না।
মহান আল্লাহ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। তিনি ইচ্ছা করলে দোষ-ত্রুটির কারণে কোনো জনপদের মানুষকে অবশ্যই শাস্তি দিতে পা। যেমন তিনি ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরে খুলনা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত গোটা বঙ্গোপসাগরের উপকূলে যে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি করেছিলেন, তা এত দ্রুত সংঘটিত করার মতো শক্তি, রসদ ও সাহস মানুষের থাকার কথা নয়। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা এক রাতের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী জেলাগুলোয় যে তাণ্ডব সৃষ্টি করেছিলেন, তা ভুক্তভোগী মানুষমাত্রই ভুলবার কথা নয়। প্রাথমিক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছিল, ৫ লাখ বনি আদম মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। পরবর্তী পরিসংখ্যানে খুব দুঃখ ও পরিতাপের সাথে ঘোষণা করা হয়েছে, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিসংখ্যান ছিল সেটা। তখন পূর্ব পাকিস্তানের জেলা ছিল ১৯। এখন জেলা হলো ৬৪টি। তখনকার হিসাব ধরলে যশোরের কিছু অংশ, ফরিদপুরের বেশকিছু অংশ, খুলনা ও বরিশাল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর ফলে শুধু মানুষই মৃত্যুবরণ করেছিল অন্তত ১০ লাখ। ঐটা ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তারপরও বাংলার মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই টিকে আছে। দেশের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট দুভিক্ষ মোকাবিলা করেছে। বিশেষ করে বিগত ৫৪ বছর ধরে বন্ধু নয়Ñ এমন একটি প্রতিবেশী দেশের সাথে মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে গঙ্গা নদীসহ অধিকাংশ নদীর পানি আটকানো, সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশিদের হত্যা, বাণিজ্যে বিভিন্ন রকম শুল্ক বাধা ইত্যাদি।
এদিকে ঢাকা দিল্লিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমান্তের পাশে শিলিগুড়ি করিডোরে নতুন তিনটি সেনাঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যকে যুক্ত করেছে এ করিডোর যা ‘চিকেন নেক’ করিডোর নামেও পরিচিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে গত ৭ নভেম্বর শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চিকেন নেক করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে বামুনি (ধুবরির কাছে), কৃষাণগঞ্জ এবং চোপড়াতে এসব ঘাঁটি বানানো হয়েছে।
দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ যেসব গ্যাপ ছিল, সেগুলোয় নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এ সেনাঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।
চিকেন নেককে ভারত তাদের অন্যতম স্পর্শকাতর স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ যদি কোনোভাবে চিকেন নেক তাদের হাতছাড়া হয়, তাহলে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের সঙ্গে তাদের স্থল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
২২ কিলোমিটার বিস্তৃত চিকেন নেক করিডোরটিতে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চীনের সীমান্ত রয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল শাহির শামসেদ মির্জার ঢাকা সফর এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার বৈঠকের পর ভারত চিকেন নেকে তাদের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের অন্যতম এ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা বাংলাদেশের সঙ্গে কানেক্টিভিটি এবং সামারিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ভারতের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চিকেন নেক করিডোর তাদের সবচেয়ে ‘শক্তিশালী সামরিক করিডোর’। সেখানে তাদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। তিনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো আছে যে, প্রয়োজন হলে চিকেন নেক করিডোরে দ্রুত সময়ে তারা সেনা জড়ো করে ফেলতে পারবেন।
এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধানও একই সুরে বলেছিলেন, ‘চিকেন নেকের বিষয়টি আমি ভিন্নদিক থেকে দেখি। এটি আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অঞ্চল। কারণ পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন থাকা আমাদের সব সেনাকে এখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়ো করে ফেলা সম্ভব।’
যুদ্ধ লাগানো বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এ যুগে কোনো বিষয় নয়। খুব স্বাভাবিক ঘটনা। যেকোনো সময়, যেকোনো কারণে ইন্ডিয়া আমাদের সাথে যুদ্ধ লাগাতে পারে। যেমন এই তো কিছুদিন আগে তারা পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে পাকিস্তানও আফগানিস্তানের সাথে কারণে-অকারণে যুদ্ধ করেছিল।
যুদ্ধ তো এখন করা হয়। নানা কারণে বিশেষ করে যেসব শক্তিশালী দেশ অস্ত্র বানায়, প্রধানত তাদের কারণেই যুদ্ধ বাধে। যখন তারা অস্ত্র বিক্রি করে, তখন তারা বলে ওঃ রং ভড়ৎ ষরভব ষড়হম. কিন্তু পাঁচ বছর পর থেকেই তারা বলতে শুরু করে, এখন তো অন্যান্য দেশ উন্নতমানের অস্ত্র বানাচ্ছে, সে কারণে আমরাও বাধ্য হয়ে নতুন নতুন অস্ত্র বানিয়েছি বা বানাচ্ছি। প্রতিবেশীর সাথে বা প্রতিবেশীর সাথে যুদ্ধ বাধিয়ে পূর্বের অস্ত্রগুলো নিঃশেষ করুন, তারপর আমরা আপনাদের কম লাভে বা ঋণচুক্তির আবরণে অস্ত্র সরবরাহ করতে পারব। আপনাদের ঘরে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র মজুদ থাকলে আপনারা তো নতুন করে অস্ত্র ক্রয় করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক নানা চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তিকে বাইপাস করে অস্ত্র ক্রয় করা অত সহজ নয়। নানাভাবে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করতে হবে। শুধু এক পক্ষের আশঙ্কা তৈরি করলে হবে না। দুই পক্ষের আশঙ্কা বানাতে হবে। দেখা যাবে দুই পক্ষই দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে একই দেশের অস্ত্র কিনছে।
বর্তমান যুগে চায়নার অস্ত্র সস্তা এবং দ্রুতবেগে সরবরাহ পাওয়া যায়। অনেক দেশ আছেÑ তারা অস্ত্র তৈরি করে না, কিন্তু পুরনো এবং নতুন অস্ত্র সরবরাহের ব্যবসা করে। তারাও যুদ্ধ লাগানোর নানা ফন্দিফিকির তালাশ করে। ছোট ছোট দেশগুলো নানা আইনের ভাঁজে ভাঁজে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করে। তারা ডোনেশনের মাধ্যমেও অস্ত্র জোগাড় করে।
আজকাল তো যুদ্ধ করার জন্য ভাড়াটিয়া সৈন্য পাওয়া যায়। যাদের ‘মারসিনারি’ বলা হয়। তারাও তো নানা আইনের ফাঁকে অস্ত্রের ব্যবসা করে। সুতরাং দেখাই যাচ্ছে, শুধু যুদ্ধের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ বা ক্রয় করা হয় না। অস্ত্রের জন্যও যুদ্ধ প্রয়োজন হয়।
এখন ইন্ডিয়া কী কারণে বা কী প্রয়োজনে বাংলাদেশের বর্ডারে সৈন্য সমাবেশ করছে, তা কে জানে?
ইন্ডিয়া অস্ত্র তৈরি করে এবং কেনাবেচাও করে। এতে তাদের ‘পার ইউনিটে’ যে খরচ হয়, তার থেকে অনেক কম খরচ হয় চায়নার। কারণ তারা একসাথে অনেক অস্ত্র তৈরি করার সামর্থ্য রাখে। তাদের ক্রেতাও অনেক বেশি। কিন্তু ইন্ডিয়ার সে সুযোগ নেই। একে তো তাদের খরচ পড়ে বেশি। অন্যদিকে তাদের ক্রেতাও খুব বেশি নেই। পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো ইন্ডিয়া থেকে অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করতো। এখন অনেক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও চায়না থেকে অস্ত্র কিনছে। যদিও অনেক সময় মনে করা হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মিত্র নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, নানা স্বার্থের কারণে শত্রু মিত্র হয়ে আছে। আবার মিত্র শত্রু হয়ে আছে। এসব নিয়ে আলোচনার এখন আর তেমন কিছু নেই।
২০২৪-এর বিপ্লবের পর ইন্ডিয়া অযথাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা কর্মকাণ্ডে দারুণভাবে জড়িয়ে আছে। ইন্ডিয়া ভয়ানকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়ে আসছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন, চিকিৎসা, আমদানি-রপ্তানি, পানি, সীমান্ত, ব্যবসা-বাণিজ্য, ভূরাজনীতি, শিক্ষাসহ এমন কোনো বিষয়ে নেই, যেখানে ইন্ডিয়া নাক গলাচ্ছে না। পতিত সরকার ছিল ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী। শুধু স্বৈরাচারী হলে একরকম কথা ছিল। যেমন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ছিল স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী। তারপর দু-তিনটি সামরিক সরকার ও বিএনপি ছিল স্বৈরাচারী। তারা সে অর্থে ফ্যাসিবাদী ছিল না। আওয়ামী লীগ প্রথম টার্ম-এ শুধু স্বৈরাচারী ছিল। পরবর্তী গত ১৬ বছরে তারা চরম ফ্যাসিবাদী সরকারে পরিণত হয়। গত ১৬ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে তেমন কিছুই করতে পারেনি। স্বাধীনতার স্থপতি বিরোধী রাজনৈতিক দলের অন্তত ২৭ হাজার নেতা ও কর্মীকে হত্যা করেছেন বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যেই সেসব অভিযোগ করে আসছেন। রাজনীতিতে হোক, ধর্মীয় কারণে হোক, বিরোধী বা মাইনোরিটির ওপর অন্যায় করা, জুলুম করা, গুম, খুন, হত্যা করা, কারাগারে ঢুকিয়ে রাখা, মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে অত্যাচার-অবিচার করা, আইন ও বিচারের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা, সবই ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম।
একচ্ছত্রভাবে সবই করেছে আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী সরকারকে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে পরাভূত করা হয়। পরাভূত ও পতিত নিকৃষ্ট ফ্যাসিবাদী সরকারকে আশ্রয় দিয়ে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের মানুষের সাথে চরমভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সাধারণ মানুষের সামনে সবসময় বাংলাদেশের সব সরকার বলে আসছে যে, ইন্ডিয়া আমাদের বন্ধু। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে ইন্ডিয়া আমাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছে। তাদের সহযোগিতা না পেলে মাত্র ৯ মাসে আমরা দেশকে শত্রুমুক্ত করতে পারতাম না।
যদিও ইন্ডিয়া আমাদের দেশ ও দেশবাসীর বিরুদ্ধে সীমান্ত, সমুদ্রসীমা, ভূরাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও পানিসহ নানা অবিচার করেছে, তবুও বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই তাদের প্রতি সহনশীল ছিল। ২০২৪-এর বিপ্লব ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। জনসাধারণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। কোনো দেশ, জাতি বা সভ্যতার প্রণোদনায় এ অভূতপূর্ব মহান বিপ্লব সাধিত হয়নি। বরং ইন্ডিয়াসহ সকল সেক্যুলার দেশ ইসলামফোবিয়ার কথা বলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ বিপ্লবের বিরোধিতা করেছে।
অন্য দেশের কথা এখানে আনছি না। প্রেক্ষাপট বড় হয়ে যাবে। ইন্ডিয়ার বিষয়টি এখানে মুখ্য। ইন্ডিয়া প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের জনগণের সাথে বেইমানি করে বসলো। বাংলাদেশের মানুষের ভিসা বন্ধ করে দিল। হাসপাতাল ও চিকিৎসা বন্ধ করে দিল। পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিল। দেশকে বার বার পানি দিয়ে ভাসিয়ে দিল। এসব করে ইন্ডিয়া দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হলো।
সবাই জানে, বড়রা ভুল করলে শুধু তাদের ভুল হয় না, তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার ভুল হয়। বড়দের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি ছোটদেরও ক্ষতি হয়। কিন্তু ছোটদের ভুল হলে শুধু তাদেরই ভুল হয় বা ক্ষতি হয় অন্য অনেকের ক্ষতি হয় না। বাংলাদেশের বিষয়ে ইন্ডিয়ার সার্বিক ভুলের কারণে বাংলাদেশের চেয়ে ইন্ডিয়ার ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি।
ইন্ডিয়া সারা দুনিয়ার সামনে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত। সে পরিচয় এবার ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। যে দেশ একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে সমর্থন করে, সে দেশ কখনো গণতান্ত্রিক দেশ হতে পারে না। সে দেশ বড় হতে পারে না। সম্মান ও মর্যাদার দেশ হতে পারে না।
জার্মানি ও ইতালি আর বড় হতে পারেনি। বড় হতে পারেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। দুই সভ্যতার দুই দেশ নানা দেশ ধ্বংস করেছে। এখনো করছে। গণতন্ত্রের আড়ালে, ব্যক্তি স্বাধীনতার আড়ালে, মানবাধিকারের আড়ালে তারা দুনিয়াকে ধ্বংস করার নানা প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত। তারা চরম ফ্যাসিবাদী শক্তি জায়নবাদী ইসরাইলকে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করার লাইসেন্স দিচ্ছে। অন্য দেশ দখল করার সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে। এসব কারণে বর্তমান ও ভবিষ্যতে শক্তিধর দেশগুলো কি দুনিয়ার মানুষের কাছে সম্মান ও মর্যাদা ফিরে পাবে?
যুক্তরাষ্ট্র এখন সর্বোচ্চ শক্তিধর দেশ। তাকে হয়তো অনেক দেশ ভয় করে। কিন্তু দুনিয়ার মানুষ কি ভয় করে? নাকি দেশটির জন্য সম্মান ও মর্যাদা পোষণ করে?
ইন্ডিয়া কখনো গণতান্ত্রিক দেশ ছিল না। কিন্তু যে কোনোভাবেই হোক, এ বিষয়ে তারা একটা ইমেজ গড়ে তুলেছিল।
মিথ্যা সর্বকালে সর্বজনের মধ্যে বিদ্যমান থাকে না। ইন্ডিয়ার মিথ্যা ইমেজ বাংলাদেশিদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য ডুবতে বসেছে। এই ডোবাই তাদের শেষ ডোবা।
ধরে নিলাম ইন্ডিয়া বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ বাধাবে। বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের জনগণ কারো সাথে যুদ্ধ চায় না। তারা নিজেরটা নিয়ে স্বস্তির সাথে জীবনযাপন করতে চায়। একবেলা খেয়ে রাতে একটু ঘুমোতে চায়। কিন্তু সেই দেশের ওপর কেউ যদি আক্রমণ করে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ক্যান্টনমেন্টের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। বর্ডার গার্ডদের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। পুলিশ-আনসার কারো দিকে তাকিয়ে থাকবে না। রাজনৈতিক দলের দিকে তাকিয়ে থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। সবাই একজোট হয়ে যাবে। একাট্টা হয়ে যাবে।
ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, মতবাদ, নির্বিশেষে জনগণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জীবনবাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
ইন্ডিয়ার শুধু সেনাবাহিনী যুদ্ধ করবে। অন্যরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে।
বাংলাদেশের যত বাহিনী আছে, সব বাহিনী তো যার যার মতো যুদ্ধ করবেই, সাথে শুধু জীবনদানের জন্য যুক্ত হবে কোটি কোটি মজলুম আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা।
যুদ্ধে জয়ের কথা ভাবছি না। ভাবছি আমাদের একটা বড় লাভ হবে, আর তা হলো, পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ ও তৈরি করার লাইসেন্স আমরা পাব। যেটা অন্যদের মতো আমাদের জন্যও খুব জরুরি।