মিলছে অস্ত্র তৈরির কারখানা
১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৩
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতার নানা ছক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেউই। কোনো গোষ্ঠী নাশকতা করতে চাইলে তা ঠেকানোর প্রস্তুতিও রয়েছে সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে এখন বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের আয়োজন এবং সত্যিকারার্থে একটি গণপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান। সরকার যাতে সঠিকভাবে কাজগুলো করতে না পারে, এজন্য নানা সময় নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশে গোলাগুলি ও খুন-খারাবি বেড়েছে। একটি মহল চাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে। আর এ ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অবৈধ অস্ত্র। ফলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে ব্যবহার হচ্ছে এসব অস্ত্র। তথ্যমতে, বিভিন্ন অপরাধীর হাতে এখনো হাজার হাজার অবৈধ অস্ত্র রয়েছে।
সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মাসখানেকের মধ্যে তফসিল ঘোষিত হতে পারে। বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য যেমন অপেক্ষায় আছে রাজনৈতিক দলগুলো, তেমনি অপেক্ষায় আছে দেশের মানুষ। কিন্তু এরই মধ্যে দেশব্যাপী সন্ত্রাসের বিস্তার জনমনে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সারা দেশেই বেড়েছে খুন, সন্ত্রাস, ডাকাতি, ছিনতাই, লুটতরাজ, অপহরণ, চাঁদাবাজির ঘটনা। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সাধারণ অপরাধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনা। এরই মধ্যে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বা রাজনৈতিক কারণে অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। তাই নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক হতে পারে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কাও কাজ করছে। জাতীয় বা স্থানীয় উভয় নির্বাচনেই সংঘাত-সহিংসতার অনেক ঘটনা ঘটে। যত দিন যাচ্ছে, সংঘাতের ঘটনা ব্যাপক হচ্ছে। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটবে- এমনটা ধরেই নেওয়া যায়। কিন্তু নিকট অতীতের কিছু তথ্য-উপাত্ত ও হিসাব-নিকাশ সেই শঙ্কাকে অনেক পরিমাণে বাড়িয়ে দেয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দিয়ে যায়। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অনেক অস্ত্র লুট হয়। এগুলোর একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে বলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। স্থানীয়ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
ঢাকার কাছে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা
মুন্সীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। গত সোমবার (১০ নভেম্বর) গভীর রাতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব শীলমন্দি এলাকায় সুমন লাল নামে এক ব্যক্তির গোডাউনে এ অভিযান চালিয়ে এ কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি টহল দলের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে মুন্সীগঞ্জ সদর আর্মি ক্যাম্প এ অভিযান পরিচালনা করে। যৌথবাহিনীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে পূর্ব শীলমন্দি এলাকার সুমন লালের গোডাউন ঘরে কিছু অপরিচিত ব্যক্তির সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। তল্লাশির সময় গোডাউন ঘরটি থেকে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র তৈরির ৩টি সিসা কার্তুজ, ৫টি লোহার বাট, ৭টি লোহার ব্যারেল, ৭টি রিকয়েল স্প্রিং, ১টি ওয়েল্ডিং মেশিন, ১টি ড্রিল মেশিন, ৬টি লোহার বোল্ট, লোহার তৈরি লেদ মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এতে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়া এ কারখানা থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সম্প্রতি মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে সংঘটিত সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্রের সরবরাহও এ স্থান থেকে করা হয়েছিল।
বাড়ছে হত্যাকাণ্ড ও লাশ
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) বলছে, গত অক্টোবর মাসে কমপক্ষে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ এবং আহত হয়েছেন ৫১৩ জন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার মাত্র দুদিনের মাথায় সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। একই রাতে চট্টগ্রামের রাউজানে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। চট্টগ্রামে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন অনেকে। এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে গত ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এদিকে ১০ নভেম্বর রাজধানীতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক উভয় ধরনের সংঘাত-সহিংসতার ঘটনাই দ্রুত বাড়ছে। বাড়ছে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনা। মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবর মাসে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে।
উদ্ধার হয়নি লুণ্ঠিত সাড়ে ১৩শ অস্ত্র, আড়াই লাখ গোলাবারুদ
এখনো উদ্ধার হয়নি পুলিশের লুণ্ঠিত এক হাজার ৩৬৩ অস্ত্র ও দুই লাখ ৫৭ হাজার ৭২০ গোলাবারুদ। এসব অস্ত্র-গোলাবারুদের বড় একটি অংশ চলে গেছে দাগি আসামী, শীর্ষ সন্ত্রাসী, উগ্রপন্থি, চরমপন্থি ও কিশোর গ্যাংয়ের হাতে। অস্ত্র উদ্ধারে কাজে আসেনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পুরস্কারের ঘোষণা। গত এক বছরে ডেভিল হান্টসহ বেশ কয়েকটি অভিযান চালিছে সরকার। বিশেষ অভিযান চলছে এখনো। কিন্তু বেহাত থেকেই যাচ্ছে লুণ্ঠন হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব অবৈধ অস্ত্রের সুবিধা পাবে প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নাশকতায় অংশ নেবে সন্ত্রাসীরা। সংঘাত-সহিংসতার মাধ্যমে নষ্ট করবে নির্বাচনের পরিবেশ। তাই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশকে আরও জোরালো অভিযান চালাতে হবে। পুলিশের সাবেক আইজি মোহাম্মদ নুরুল হুদা মনে করেন, ‘অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি থাকলে তা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। তাই নির্বাচনের আগেই লুণ্ঠিত সব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। এতে ব্যর্থ হলেÑ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। কাজেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিকল্প নেই।’
মিয়ানমার সীমান্তের সাত রুটে অস্ত্র ঢুকছে দেশে
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের সাতটি পথে অবৈধ অস্ত্রের চালান দেশে ঢুকছে। এ অস্ত্রের কারবারে জড়িত রয়েছে কমপক্ষে পাঁচটি চক্র। প্রত্যেক চক্রেই রয়েছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গারা। অস্ত্রের চালানের প্রধান গন্তব্য কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও তিন পার্বত্য জেলার সন্ত্রাসীদের আস্তানা। সীমান্ত, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে মায়ানমার থেকে দেশে অস্ত্র চালানের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার থেকে যেভাবে অস্ত্র ঢুকছে, এরকম পরিস্থিতি কয়েক বছর আগেও ছিল না। এখন মাদকের সঙ্গেও আনা হচ্ছে অস্ত্র। আবার মানবাপাচারকারী চক্রও জড়িয়েছে অস্ত্র কারবারে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ৫ অক্টোবর ভোররাতে উখিয়া সীমান্তের পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলায় উখিয়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুটি অগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি কার্তুজ ও দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে আটক করে। পাচারকারীরা এসব অস্ত্র ও মাদক মিয়ানমার সীমান্ত থেকে পাচার করে নিয়ে এসেছিল। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় মিয়ানমার থেকে সহজেই অস্ত্র পাচার করা সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের জন্য সহজ হয়ে উঠেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজারের রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, গত তিন মাসে ২২টির বেশি দেশি-বিদেশি অস্ত্রের চালান আটক করেছেন বিজিবি সদস্যরা। এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের সাতটি পথে পাচারকারীরা অস্ত্র আনছে। এসব পথের পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে-নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি, ঘুমধুম পয়েন্টের বালুখালী কাস্টমস ঘাট ও উখিয়ার পালংখালী এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নলবনিয়া।
সিলেট সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক
সিলেট বিভাগের ভূ-প্রকৃতি পাহাড়-টিলা-সমতল ও হাওর অধ্যুষিত। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এ জনপদের তিন দিকেই ভারত সীমান্ত। আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়- এ তিন রাজ্যেই উগ্রবাদীদের তৎপরতা বেশি। প্রতিটি উগ্রবাদী সংগঠনই অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হাতবদল হয়ে তাদের অস্ত্র-বিস্ফোরক অহরহ ঢুকছে সিলেট সীমান্ত দিয়ে। অতীতের সব অস্ত্র-বিস্ফোরক চালান আটক ও বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের জবানিতে এমন তথ্য বারবার উঠে এসেছে। এছাড়া বিগত সরকারের সশস্ত্র ক্যাডারদের অস্ত্রের মহড়া, জুলাই আন্দোলনে প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি ও থানাসহ পুলিশ প্রশাসনের অস্ত্র লুটের পর চরম ঝুঁকিতে সিলেট অঞ্চল। সর্বস্তরের রাজনীতিক, সচেতন মহল ছাড়াও খোদ প্রশাসনও নির্বাচন সামনে রেখে এ নিয়ে আছে সংশয়ে। দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পর মাঠের তৎপরতা বেড়েছে। এ প্রচারণার ভিড়ে মিশে যাচ্ছে অস্ত্রধারী, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও। তাদের দ্বারা যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটা অসম্ভব কিছু নয়। ফলে মনোনয়ন যুদ্ধ শেষে, ভোটযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া প্রার্থী, রাজনীতিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন ও পর্যবেক্ষক মহল। এদিকে বিভিন্ন সময়ে অপরাধীদের হস্তগত হয়ে পড়া অস্ত্র উদ্ধারের কথা বার বার শোনা গেলেও বাস্তবে এর তেমন কোনো প্রতিফলন নেই। নানা প্রতিবন্ধকতার কথা খোদ প্রশাসনের কর্তাদের মুখে। সিলেটের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, অস্ত্র উদ্ধারও অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অব্যাহত অভিযান আরও জোরদারের প্রস্তুতি রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে।
অবৈধ অস্ত্র রোধের সুপারিশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮ হাজার ৬৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে আট হাজার ২২৬টির অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২০ হাজার ৪৩৭টি। এ হিসাবে মোট ভোটকেন্দ্রের দুই-তৃতীয়াংশ তথা ৬৭ শতাংশই ঝুকিঁপূর্ণ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এখনই ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। নির্বাচনকালে অবৈধ অস্ত্রের জোগান আসতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রতি ইসিতে পাঠানো পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে আরও বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন সামনে রেখে গত অক্টোবর মাসের শেষ ভাগে ইসিতে অনুষ্ঠিত সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রাক-প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে এসবি এ প্রতিবেদন তুলে ধরে। এতে ঝুঁকি মোকাবিলায় কয়েকটি সুপারিশও করা হয়। একই বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) পক্ষ থেকেও জেলাভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা তৈরিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। পরে ৩০ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বাহিনী থেকে অবাধ নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।