পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন, সয়াবিনের মূল্য বাড়ছে, সবজির মূল্যও বাড়তি

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা


১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৩

স্টাফ রিপোর্টার : হঠাৎ করেই বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। এ ঘটনায় সরকার কিছুটা বিব্রত। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার নীরব। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা বাড়লেও তা জানে না কেউ। ব্যবসায়ীদের গতানুগতিক বক্তব্য, ‘সরবরাহ কম।’ এদিকে সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে। যেকোনো সময় তা বাড়তে পারে। শীতের আগমন হলেও বাজারের সবজির মূল্য কমেনি। সব মিলিয়ে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন কেজি প্রতি ১১০ থেকে ১২০ টাকা। এক মাস আগেও ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হতো। প্রতি বছরই অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অক্টোবরে দাম বাড়তে শুরু করে এবং নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আবার প্রতি বছরই ভারত থেকে আমদানি করে দাম কমাতে হয়। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। সেখানেও এ চিত্র উঠে এসেছে। ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ৩ বছরে নভেম্বরে গড় দাম ছিল যথাক্রমে ২০২৩ সালে ১১৫ টাকা, ২০২৪ সালে ১৩০ টাকা ও চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ১০৫ টাকা। অক্টোবর-ডিসেম্বরে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির বেশকিছু কারণ আছে। প্রথমত, উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য; দ্বিতীয়ত, পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভাব; তৃতীয়ত, মৌসুমের শেষ পর্যায়; চতুর্থত, বৃষ্টিতে পেঁয়াজের ক্ষতি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছরই অক্টোবরের পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে কৃষকের হাতেও পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকে না। তাই দাম বাড়ে।
এদিকে আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। লিটারপ্রতি সয়াবিনের দাম ৯ টাকা ২৭ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। গড় এলসি মূল্য, ইনবন্ড, এক্সবন্ড ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর এ সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বছরের শেষ দিকে এসে আবারও বাড়তে পারে তেলের দাম। গত ১০ নভেম্বর সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন জানায়, গত ২৭ জুলাই তেলের মূল্য সমন্বয় সভায় ৩ আগস্ট থেকে প্রতি লিটার সয়াবিন ১৮৯ টাকা দরে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে নানা অসঙ্গতি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এলসিতে প্রভাব পড়তে শুরু করে। নভেম্বরে শুরুর দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিনে খরচ পড়ে ১ হাজার ৬২ ডলার, পাম তেলে যা ১ হাজার ৩৭। ফলে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করে সংস্থাটি। সুপারিশে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৬০ পয়সা ধরে পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম সুপার তেলের মূল্য সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। যেখানে লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকার বদলে ৯ টাকা ২৭ পয়সা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৯৮ টাকা ২৭ পয়সা এবং ৮ টাকা ৮৫ পয়সা বৃদ্ধি করে খোলা প্রতিলিটার সয়াবিন ১৭৭ টাকা ৮৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সবজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত সপ্তাহে বৃষ্টি ও সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। এখন সব ধরনের সবজি বাজারে উঠেছে। সবজির দাম কিছুদিনের মধ্যে আরও কমবে। তবে পাইকারি বাজার থেকে কিনে খুচরা বাজারে বিভিন্ন দোহাই দিয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। শীতকালীন সবজি শিম গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বাঁধাকপি গত সপ্তাহে ৩০-৩৫ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৫০ টাকা, ফুলকপি গত সপ্তাহে ৫০ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচ গত সপ্তাহে পাইকারি ৭০-৮০ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ১১০-১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পটোল গত সপ্তাহে ২০-২৫ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৪৫ টাকা, করলা গত সপ্তাহে ৩০-৩৫ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৫০ টাকা, শসা গত সপ্তাহে ২০-২৫ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৪০ টাকা, বরবটি গত সপ্তাহে ৪৫ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া গত সপ্তাহে ৩০ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৪০ টাকা, লাউ গত সপ্তাহে ২০ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৩০-৩৫ টাকা, কাঁচকলা হালি ১৫-২০ টাকা, লেবু হালি ১০-১২ টাকা, বেগুন গত সপ্তাহে ৪০ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৫৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকা দরে। গরুর গোশত ৭৫০ টাকা ও খাসির গোশত ১১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি প্রকারভেদে ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ৩০০-৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।