পদ্মা-তীরবর্তী চার জেলার চরে অপারেশন ফার্স্ট লাইট

সোনার বাংলা অনলাইন
১০ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৩২

পদ্মা-তীরবর্তী চার জেলার চরে অপারেশন ফার্স্ট লাইট

রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দুই রেঞ্জের প্রায় ১ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ নামে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চার জেলার চরাঞ্চলে।
রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দুই রেঞ্জের প্রায় ১ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ নামে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চার জেলার চরাঞ্চলে। রাজশাহীর বাঘা, পাবনার বেড়া ও ঈশ্বরদী, নাটোরের লালপুর এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চালানো এ অভিযানে পুলিশ ড্রোন ব্যবহার করে চরের কাশবন, কলাবাগান ও জঙ্গলঘেরা চরাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে। ১০টি দলে বিভক্ত হয়ে ১৪টি নৌকায় করে এ অভিযান চালায় পুলিশ। তাদের সঙ্গে ছিল পুলিশের বিশেষ মোটরসাইকেল স্কোয়াড।
গত রোববার সকালে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ২১ জনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া এসব অভিযানে পাঁচটি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী রেঞ্জের অধীনে ১ হাজার ২০০ ও খুলনা রেঞ্জের অধীনে ৩০০ পুলিশ সদস্য এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযান সমন্বয় করা হয় রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব ঘটনায় জড়িত হিসেবে ‘কাকন বাহিনী’ নামে একদল সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে। এ বাহিনী নির্বিচারে গুলি, হত্যা, ফসল ও বালি লুট, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত। গত ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরে ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে কাকন বাহিনীর গুলিতে তিনজন কৃষক নিহত হন। ওইদিনই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় বাহিনীর প্রধান হাসিনুজ্জামান কাকনসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলায় অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযানে কাকন বাহিনীর ২১ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মার চরাঞ্চলের সন্ত্রাস দমনে নদী ও স্থলভাগে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। নাটোরের লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চর দিয়াড় বাহাদুরপুর, চর জাজিরা ও চর লালপুর এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে।’
খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ জয়নুদ্দীনের নেতৃত্বে এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের অংশগ্রহণে এ অভিযান পরিচালিত হয়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘চরাঞ্চলে কাকন বাহিনীসহ সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।’