জাকির নায়েকের ঢাকা সফরের খবরে উচ্ছ্বাস

অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ


৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২০

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
ভারতীয় ইসলামী চিন্তাবিদ, ধর্মপ্রচারক, বক্তা ও লেখক ডা. জাকির আব্দুল করিম নায়েক। ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে কাজ করা এই ইসলামিক স্কলারকে সবাই ‘জাকির নায়েক’ হিসেবে চেনেন। ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তিনি, যেটি পিস টিভি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে, যার মাধ্যমে তার বক্তৃতা প্রায় দশ কোটি দর্শকের নিকট পৌঁছে যায়। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের একজন বিশেষজ্ঞ ও সবচেয়ে প্রভাবশালী এ ধর্ম প্রচারকের চলতি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশে দুদিনের সফরে আসার কথা ছিল। তার সফর উপলক্ষে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলেও সূত্রে জানা গেছে। তিনি সিলেট, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর ও ঢাকায় বক্তৃতা করবেন বলে পরিকল্পনায় ছিল তাকে আমন্ত্রণকারী সংস্থা ‘স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’র।
আধুনিক ইসলাম প্রচারক হিসেবে পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় দাঈর আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল উচ্ছ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে অনেককেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। কিন্তু গত ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোর কমিটির বৈঠকে তার আগমনের অনুমতি প্রদান না করার সিদ্ধান্তে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। অনেকেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জাকির নায়েক বাংলাদেশে আসার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যের জেরে তার আগমনের পথবন্ধ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে তার সফরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ সবাই এখন নির্বাচনমুখী।
উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা ও ক্ষোভ
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক চিন্তাবিদ ও বক্তা ডা. জাকির নায়েকের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আলোচিত চিকিৎসক ডাক্তার নাবিল। তার ভাষ্য, ডা. জাকির নায়েক ২৮ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন। তার এ আগমনকে ঘিরে দেশের মুসলিম সমাজে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। ডা. নায়েক দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী দাওয়াত, যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা ও আধুনিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী জ্ঞানের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তার বক্তব্য ও দাওয়াতমূলক কার্যক্রম বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে। তার বাংলাদেশ সফরকে অনেকে দেখছেন ইসলামী চিন্তা, দাওয়াত ও জ্ঞানের জগতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে। বাংলাদেশে তার আগমন নিঃসন্দেহে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি গর্ব ও প্রেরণার উপলক্ষ হয়ে থাকবে।
তার মতো অনেকেই সামাজিকমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন। এদের মধ্যে কিছু উল্লেখ করা হলোÑ মলি নামে একজন লিখেছেন আলহামদুলিল্লাহ, গুড নিউজ। এসকে আরমান লিখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। ফাহিমা আক্তার লিখেছেন মাশাআল্লাহ। সায়লা বিনতে হোসাইন লিখেছেন, মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ সফল হওয়ার তৌফিক দান করুন আমীন। আরাফাত আলী লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। এসকে খান লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ… আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন। আরমান তাইয়েব আলহামদুলিল্লাহ। আরশাদ খান লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। মো. তাহাসিন, রেহানা, মাহমুদ হৃদয়, জিয়াবুর রহমান, মিজানুর রহমান, ইব্রাহিম মৃধা লিখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। এমন হাজার হাজার মানুষ তার আগমনের খবর শোনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছিলেন।
এদিকে এ ইসলামিক স্কলারকে আগমনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের খবর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারত যখন তাকে নিষিদ্ধ করেছে, তখন বুঝে নিতে হবে তিনি হকের পথে রয়েছেন। ইসলামের পথে রয়েছেন, তাকে আসতে দিতে হবে। আরো একজন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে গালাগাল করে লিখেছেন ভারতের ভয়ে পিছিয়ে গেল সরকার, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে মেরুদণ্ডহীন বলেও আখ্যা দেন তিনি। এখানে অনেকেই সামাজিকমাধ্যমগুলোয় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত
গত ৪ নভেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েককে আপাতত বাংলাদেশে আসার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ ওই সভায় গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় আলোচনা হয় একটি প্রতিষ্ঠান জাকির নায়েককে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দুদিনের জন্য ঢাকায় আনতে চায়। ঢাকার বাইরেও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে জাকির নায়েকের ঢাকায় আসা নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। জাকির নায়েক বাংলাদেশে এলে প্রচুর জনসমাগম হবে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্রচুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের প্রয়োজন হবে। জাকির নায়কের ঢাকায় আসাকে কেন্দ্র করে এ মুহূর্তে এত সদস্য সেখানে মোতায়েনের সুযোগ নেই। সবাই এখন নির্বাচনমুখী। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি ঢাকায় আসতে পারেন। তবে নির্বাচনের আগে নয়।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও যেসব পরিকল্পনায় ছিল
ঢাকা ও পিরোজপুরে জাকির নায়েকের সমাবেশ আয়োজনের জন্য পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য সূত্রে জানা গেছে। তার বাংলাদেশে তার ভক্তদের কাছে ছিল এটি একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’। কারণ এটি হবে তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা ও পিরোজপুর অঞ্চলে সুফিবাদ ও মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় অনুসারী তুলনামূলকভাবে কম, তাই জাকির নায়েকের মতাদর্শ নিয়ে সেখানে ধর্মতাত্ত্বিক সংঘাতের আশঙ্কা কম। সে কারণে প্রথমে তাকে ঢাকা ও পিরোজপুরে অনুষ্ঠান করা অনুমতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি আগেই দেওয়া হয়নি এসবি থেকে।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাকির নায়েকের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ৩০ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘জাকির নায়েক ভারতের পলাতক আসামি। আমরা আশা করি, তিনি যেখানে যাবেন সংশ্লিষ্ট দেশ আমাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনায় রাখবে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের এ মন্তব্যের জবাবে জানায়, তারা বিষয়টি নোট করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বিবৃতিটি লক্ষ করেছি।’ তবে তিনি পাল্টা মন্তব্যে ইঙ্গিত দেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভারতের আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভারতসহ কোনো দেশই অন্য কোনো দেশের পলাতক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।’ আগে পরিকল্পনায় ছিল, ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও পিস টিভির প্রতিষ্ঠাতা জাকির নায়েক ২৬ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেন। পরদিন তিনি ঢাকায় একটি ইনডোর ইসলামিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা আগারগাঁওয়ের কোনো কনভেনশন সেন্টারে হতে পারে। এরপর ২৮ নভেম্বর পিরোজপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি আউটডোর সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। আয়োজক সংস্থা স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, সরকারি অনুমতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে গত ৪ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির বৈঠকের পর সব ভেস্তে যায়।
যা বলছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা
খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও ইসলামী চিন্তাবিদ তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ঢাকার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী মনে করেন, ডা. জাকির নায়েকের বাংলাদেশের আগমনে সরকার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি একজন ইসলামিক স্কলার, দেশের এসে ইসলামের সুন্দর্য তুলে ধরবেন। আধুনিকতা যে ইসলাম বিরোধিতা নয় তিনি বিশ্বময় তা চমৎকারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি আসলে তার কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছাবো, এতে দেশ, সমাজসহ সবার জন্য উপকার হবে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এদের ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকারে রয়েছে। অথচ অতীতে ফ্যাসিস্টদের যেসব এজেন্ডা ছিল এরা সেইসবই বাস্তবায়ন করছে। এজন্য এদের তরুণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, এদেশে গানের অনুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই অথচ মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে নির্ভেজাল ক্লিন ইমেজের লোক জাকির নায়েককে আসতে না দেওয়ার অর্থই হলো যারা দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, তাদেরকে উসকে দেওয়া। তিনি সরকারতে অনুরোধ করে বলেন, আপনারা আপনাদের চিন্তাকে রিভিউ করে দ্রুত তাকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করুন। তিনি আসলে এদেশের এবং সমাজের মানুষেরই উপকার হবে।
দেশের অন্যতম ইসলামিক স্কলার ড. কারুল হাসান শাহীন মনে করেন নতজানু নীতির কারণেই সরকার ড. জাকির নায়েকের আসার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন সরকার বিশেষ একটি গোষ্ঠীর দালালীর নীতি অনুসরণ করেছে। আর এ কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামিক ব্যক্তিত্বে আসার পর বন্ধ করতে চায়।
কে এই জাকির নায়েক
তিনি হলেন একজন ভারতীয় ইসলামী চিন্তাবিদ, ধর্মপ্রচারক, বক্তা ও লেখক, যিনি ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ের একজন পণ্ডিত। বহু ইসলামী ধর্মপ্রচারকদের সাথে তার ভিন্নতা হলো, তার বক্তিতাগুলো পারস্পরিক আলাপচারিতা ও প্রশ্নোত্তরভিত্তিক, যা তিনি আরবি কিংবা উর্দুতে নয়, বরং ইংরেজি ভাষায় প্রদান করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ডাক্তার হলেও ১৯৯১ সাল থেকে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। ইসলাম এবং তুলনামূলক ধর্মের ওপর তিনি বক্তৃতা ও বহু পুস্তিকা সংস্করণ প্রকাশ করেছেন। জাকির আবদুল করিম নায়েক ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার্স হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। তিনি মেডিসিনের ওপর টোপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড নাইর হসপিটালে ভর্তি হন। অতঃপর তিনি ইউনিভার্সিটি অব মুম্বাই থেকে ব্যাচেলর অব মেডিসিন সার্জারি বা এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯১ সালে তিনি ইসলাম-ধর্ম প্রচারের কার্যক্রম শুরু করেন এবং আইআরএফ প্রতিষ্ঠা করেন। নায়েকের স্ত্রী, ফারহাত নায়েক, ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নারীদের শাখায় কাজ করেন। এছাড়া তিনি মুম্বাইয়ের ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ইউনাইটেড ইসলামিক এইডের প্রতিষ্ঠাতা, যা দরিদ্র ও অসহায় মুসলিম তরুণ-তরুণীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে। ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে তাকে ‘পিস টিভি নেটওয়ার্কের পৃষ্ঠপোষক ও আদর্শিক চালিকাশক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যে চ্যানেলটি ‘সমগ্র মানবতার জন্য সত্য, ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, সৌহার্দ্য ও জ্ঞানের’ প্রচারের লক্ষ্যে কাজ করে বলে এর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামের অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা তার অন্যতম কৌশল।
তার আলোচনার বিষয় হলো : ‘ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান’
জাকির নায়েকের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষিত মুসলমানরা যারা তাদের নিজ ধর্মকে ত্রুটিপূর্ণ, সেকেলে (প্রাচীন/পুরাতন) বলে মনে করেন তাদের মধ্যে ইসলাম সম্বন্ধে ভুল ধারণাগুলো ভেঙে দেওয়া এবং পশ্চিমা মিডিয়ার ইসলামের ওপর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এর আক্রমণ বা নাইন-ইলেভেন এর সাজানো নাটককে বোঝান। নায়েক আরও বলেন যে, তীব্র ইসলামবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ৩৪,০০০ মার্কিন নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করে। নায়েকের ভাষ্যানুযায়ী, ইসলাম একটি কার্যকারণ ও যুক্তির ধর্ম, এবং কুরআনে বিজ্ঞান সম্পর্কিত ১০০০ বাণী রয়েছে, যা তিনি পশ্চিমা ধর্মান্তরিত মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ঢাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে উসকানি ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ আনে ভারত সরকার। এরপর জাকির নায়েককে ভারত ছাড়তে বাধ্য করে দেশটি। পরে তিনি মালয়েশিয়ায় হিজরত করেন। দেশটির পুত্রজায়া শহরে তাকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয় মালয়েশিয়া সরকার।