সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫১

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ চীনের
চীন তার ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান জে-৩৬ প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশ প্রতিযোগিতায় নতুন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। সাম্প্রতিককালে নতুন প্রোটোটাইপ ফ্লাইট ও পরীক্ষামূলক প্রদর্শন চীনের দ্রুত অগ্রগতিকে প্রমাণ করছে। আধুনিক যুদ্ধবিমান নির্মাণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সাধারণত বছরের পর বছর সময় লাগে, কিন্তু চীনের এ প্রকল্পে এ ধীরগতি দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে স্টেলথ প্রযুক্তির শীর্ষে থাকলেও, চীনের দ্রুত অগ্রগতি এবং পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন বেইজিংকে এ দৌড়ে প্রাধান্য অর্জনের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। গত মাসে চীনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে, চীনের বৃহদাকৃতির তিন ইঞ্জিনবিশিষ্ট স্টেলথ যুদ্ধবিমান উড়ছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে এ বিমানের নাম প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা জে-৩৬ রেখেছেন। এটি বিমানটির দ্বিতীয় প্রোটোটাইপ, যা চেংদুর সামরিক-শিল্পাঞ্চলের কাছে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের মাত্র ১০ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় প্রোটোটাইপ তৈরি ও উড্ডয়ন করা হয়েছে। এর ফলে বোঝা যায়, চীন আধুনিক যুদ্ধবিমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সময়কে পেছনে রাখছে না। নতুন প্রোটোটাইপে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা যায়। এতে রয়েছে নতুন এয়ার ইনটেক ডিজাইন, পুনঃনকশাকৃত ল্যান্ডিং গিয়ার এবং নতুন এক্সহস্ট লেআউট। আগের ডেটা আকৃতির ডানা ও দুজন পাইলটের জন্য সাইড-বাই-সাইড ককপিট অক্ষুণ্ন রয়েছে। আগের সংস্করণে রিসেসড এক্সহস্ট ব্যবহার করা হয়েছিল ইঞ্জিন তাপপ্রবাহের ইনফ্রারেড সিগনেচার কমানোর জন্য, কিন্তু নতুন সংস্করণে যুক্ত হয়েছে ফ্ল্যাট, টু-ডাইমেনশনাল থ্রাস্ট-ভেক্টরিং নোজল, যা উচ্চ কোণে ম্যানুভারিবিলিটি বাড়ানোর লক্ষ্যে স্টেলথের কিছুটা ত্যাগ নির্দেশ করছে। ডাইভার্টারলেস সুপারসনিক ইনলেট ও সাইড-বাই-সাইড মেইন ল্যান্ডিং গিয়ার ইঙ্গিত দেয়, চীন অ্যারোডায়নামিক কার্যকারিতা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অভ্যন্তরীণ স্থান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
এ ধরনের দ্রুত পরিবর্তন আধুনিক যুদ্ধবিমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। সাধারণত একেকটি সংস্করণের পরিবর্তন আসতে বছরের পর বছর লাগে, কিন্তু চীন কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রোটোটাইপ উন্নত করছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘লিপফ্রগিং’ কৌশল বলছেন, অর্থাৎ ধাপে ধাপে নয়, এক লাফে অগ্রগতি অর্জনের প্রচেষ্টা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার হাতে রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে এগিয়ে গেছে। ভবিষ্যতের এসব বিমান ড্রোন বা মনুষ্যহীন বিমান নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে এবং কিছু ড্রোন নিজেও আক্রমণ সক্ষমতার অধিকারী হবে। জে-৩৬ও এ ধরনের সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে। চীনের দ্রুত অগ্রগতি দেখায় তারা ‘ডিসরাপটিভ টেকনোলজি’ বা বিপ্লবী প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। পুরনো পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন কনসেপ্টে বিনিয়োগ যুদ্ধের ধরন ও কৌশলগত সুবিধা বদলে দিতে পারে। যদি চীন দ্রুত ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার মাঠে নামাতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা সংখ্যায় নয়, প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দিতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই। এফ-২২ ও এফ-৩৫ ফাইটারগুলোর ধারাবাহিক আপগ্রেড হচ্ছে। এনজিএডি বা নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিন্যান্স প্রকল্পের আওতায় নতুন সেন্সর, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, এইম-২৬০ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সফটওয়্যার আপডেট যুক্ত হচ্ছে। এফ-৩৫কেও ‘পঞ্চম প্রজন্ম প্লাস’ সংস্করণে উন্নত করা হচ্ছে, যা ষষ্ঠ প্রজন্মের ৮০ শতাংশ সক্ষমতা প্রদান করবে।
বিশ্লেষকরা বলেন, চীনের উৎপাদন ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে চীনের হাতে ৩০০-এর বেশি জে-২০ আছে এবং প্রতি আট দিনে একটি নতুন বিমান তৈরি হচ্ছে। চীনের লক্ষ্য বছরে জে-৩৫-এর ৫০টি ইউনিট উৎপাদন। যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ উৎপাদন হার বছরে ১৪০টি হলেও, দু-তিন বছরের মধ্যে চীনের পেছনে পড়তে পারে। চীনের বিমানশক্তি দক্ষিণ চীন সাগরের ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব, যা আঞ্চলিকভাবে তাদের সংখ্যাগত আধিপত্য বজায় রাখতে সহায়ক। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি চীনের দ্রুত উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না। যদি যুক্তরাষ্ট্র ধীরগতি অবলম্বন করে এবং চীন তার নতুন প্রজন্মের বিমান প্রকল্পের গতি বাড়ায়, তবে আগামী প্রজন্মের আকাশ আধিপত্য হতে পারে এশীয় শক্তির, আমেরিকার নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই এ প্রতিযোগিতায় দুই পক্ষেরই পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এশিয়া টাইমস।

তুরস্ক থেকে সিরিয়ায় ফিরেছেন সাড়ে পাঁচ লাখ শরণার্থী
সিরিয়ার দীর্ঘ এক দশকের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে অঞ্চলের রাজনৈতিক ও মানবিক চিত্র। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে দেশটিতে ফেরার পথ খুলে গেছে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত সিরীয়ের জন্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করায় প্রতিবেশী তুরস্ক থেকেও বিপুল সংখ্যক শরণার্থী ফিরে যাচ্ছেন নিজের জন্মভূমিতে। গত শনিবার (১ নভেম্বর) ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার (৫.৫ লাখ) সিরীয় শরণার্থী তুরস্ক থেকে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি বেড়েছে। সেই কারণেই অনেকে স্বেচ্ছায় নিজ বাড়িতে ফিরছেন।’ তুর্কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তুরস্কে প্রায় ২৪ লাখ সিরীয় শরণার্থী অবস্থান করছেন। অথচ একসময় এ সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখেরও বেশি। অর্থাৎ গত এক বছরে দেশটিতে সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ইয়ারলিকায়া বলেন, ‘আমরা মানবিক দায়িত্বের জায়গা থেকে শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন তারা যখন নিজেরাই ফিরতে চাচ্ছেন, আমরা সহযোগিতা করছি।’ আল-আরাবিয়া।

আমেরিকা অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে : বারাক ওবামা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন হলো অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার প্রতীক। ট্রাম্পের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের সামনে রিপাবলিকানরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বারাক ওবামা ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের দুটি নির্বাচনী সমাবেশে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিন এবং ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিন। পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার এবং নিউ জার্সিতে মিকি শেরিল-এর সমর্থনে ভাষণ দিতে গিয়ে ওবামা বলেন, আমেরিকা এখন অন্ধকার যুগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং হোয়াইট হাউস থেকে প্রতিদিনই নতুন নতুন নিষ্ঠুরতা ও আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটছে।’ ওবামা ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘বিশৃঙ্খল’ ও দেশের বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনকে ‘ভয় ও অযৌক্তিকতার প্রতীক’ বলে আখ্যা দেন। তিনি আরো বলেন, ‘রিপাবলিকানরা জানে যে ট্রাম্প সীমালঙ্ঘন করছেন। তবু তারা চুপ থাকে। কিছু কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তার সামনে নতজানু হয়ে আছে।’ নিউ জার্সির নিউয়ার্ক শহরের আরেক সমাবেশে ওবামা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমেরিকায় এখন প্রতিদিনই হ্যালোইন- কেবল ফাঁদ আছে, মিষ্টি কিছু নেই!’ তিনি আরো ঠাট্টা করে বলেন, ‘ট্রাম্প এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত। যেমন রোজ গার্ডেনের রাস্তা পাকা করা এবং ৩০০ মিলিয়ন ডলারের একটি নাচের হল তৈরি করা!’ ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সি দুই অঙ্গরাজ্যেই গভর্নর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন বেশ জোরেশোরে চলছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলো দেখাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ওবামার সক্রিয় অংশগ্রহণ ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। পার্সটুডে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ‘হযরত আলীর মাজার’ খ্যাত আফগানিস্তানের নীল মসজিদ
উত্তর আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৩২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভয়াবহ ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরীফ বা নীল মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্যমতে, স্থানীয় সময় গত সোমবার (৩ নভেম্বর) রাত ১২টা ৫৯ মিনিটে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানে খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর কবর রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও ঐতিহাসিক দলিল বলে হযরত আলীকে ইরাকের নাজাফে কবরস্থ করা হয়েছে। আঁততায়ীর তলোয়ারের আঘাতে ইরাকের কুফায় মৃত্যু হওয়ার পর তাকে নাজাফে নিয়ে কবর দেওয়া হয়। তবে আফগানিস্তানের স্থানীয়রা দাবি করে থাকেন, শত্রুর হাত থেকে হযরত আলীর মরদেহকে রক্ষায় গোপনে সেটি খোরাসানে (আফগানিস্তান) আনা হয় এবং বর্তমান মাজার-ই-শরীফ নামে পরিচিত স্থানটিতে সমাহিত করা হয়। যদিও এ দাবির পক্ষে শক্তিশালী কোনো প্রমাণ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক মেয়ে শিশুকে টেনে বের করা হচ্ছে। জীবিত থাকলেও শিশুটি মারাত্মক আহত হয়েছে। মাজার-ই-শরীফের রাহিমা নামে এক নারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর আমার পরিবার ভয়ার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে ওঠে। আমার মেয়ে চিৎকার করতে করতে নিচে নামে। আমার জীবনে আমি এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভব করিনি। আমার বাড়ি কংক্রিটের, তাই কিছু হয়নি। কিন্তু যাদের বাড়ি মাটির, সেগুলো অক্ষত আছে কি না, আমি জানি না। দ্য গার্ডিয়ান।

ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম গড়তে মালদ্বীপে তামাকবিরোধী আইন কার্যকর
মালদ্বীপে সব প্রজন্মের জন্য ধূমপান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটি নতুন আইন অনুযায়ী, ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের পর জন্মগ্রহণ করা জেন জি প্রজন্ম এবং তার পরবর্তী সকল প্রজন্মকে ধূমপান থেকে রক্ষা করবে। তামাকজাত দ্রব্য, ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট সকল পণ্য নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। নিষেধাজ্ঞা গত ১ নভেম্বর শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, খুচরা বিক্রেতাদের বয়স যাচাই করে তামাক বিক্রি করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বিক্রি করা হলে প্রায় ৩,২০০ ডলার জরিমানা আরোপ হবে। এছাড়া ২১ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে তামাক সংক্রান্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। আইনটি তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতাও নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা মূলত জেনারেশন জেড প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে এবং পর্যটক হলেও আইনটি প্রযোজ্য। ফার্স্টলেডি সাজিদা মোহাম্মদ এ পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি সাহসী ও তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ যা মাদকচক্র ভাঙতে, রোগ প্রতিরোধ করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। মালদ্বীপের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটিতে অসুস্থতা ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। তাই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু গত বছর ধূমপানবিরোধী কর্মসূচি চালু করেন। এর মধ্যে ভ্যাপ ও ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয় এবং সিগারেটের ওপর আমদানি শুল্ক ও কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে, নতুন আইন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে উৎসাহ দেবে। দ্য গার্ডিয়ান।

ভয়াবহ খরায় বিপর্যস্ত তেহরান
ইরানের রাজধানী তেহরানে দেখা দিয়েছে মারাত্মক পানি সংকট। দীর্ঘমেয়াদি খরায় রাজধানীর প্রধান পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। বিশেষ করে শহরের অন্যতম প্রধান বাঁধ আমির কবির ড্যামে ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ পানি অবশিষ্ট রয়েছে। পানি সরবরাহের এ ভয়াবহ পরিস্থিতি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শহরের পানীয় জলের মজুদ সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। গত সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরান সরকার আশঙ্কা করছে তেহরানের প্রধান পানির উৎস দুই সপ্তাহের মধ্যেই শুকিয়ে যেতে পারে। দেশটি বর্তমানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে, যা শত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে রাজধানী ও আশপাশের প্রদেশগুলোয় পানির মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। গত রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, তেহরানের পানি সরবরাহের জন্য পাঁচটি প্রধান বাঁধ রয়েছেÑ এর মধ্যে আমির কবির ড্যাম বর্তমানে সবচেয়ে সংকটাপন্ন। ড্যামটিতে এখন মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পানি আছে, যা মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ। তেহরান পানি কর্তৃপক্ষের পরিচালক বেহজাদ পারসা জানিয়েছেন, এ সীমিত পরিমাণ পানির মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত রাজধানীতে সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব। এর পরই শহরজুড়ে পানীয় জলের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
গত মাসে এক স্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, তেহরান প্রদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এক শতাব্দীতে সবচেয়ে কম। শহরটি আলবোরজ পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত, আর এ পর্বতমালা থেকেই নদী বয়ে এসে রাজধানীর জলাধারগুলোয় পানি সরবরাহ করে। গত বছর এ আমির কবির ড্যামেই ছিল প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার পানি, কিন্তু এ বছর বৃষ্টিপাত কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ড্যামটি এখন প্রায় শুকিয়ে গেছে। তেহরানের দৈনিক পানি ব্যবহার প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার, যা বর্তমান মজুদের তুলনায় বিপজ্জনকভাবে বেশি। সরকার ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় পানি সরবরাহ আংশিক বন্ধ রেখেছে এবং নাগরিকদের পানি সাশ্রয়ে আহ্বান জানিয়েছে। গ্রীষ্মকালেও রাজধানীতে নিয়মিত পানি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গেছে। গত জুলাই ও আগস্টে, ভয়াবহ গরম ও পানি সংকটের কারণে সরকার দুদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল। সেই সময় তেহরানের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, কিছু অঞ্চলে তা ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তখন সতর্ক করেছিলেন, ‘পানি সংকট এখন যে পর্যায়ে আছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটের জন্য দায়ী ভূগর্ভস্থ পানির অতিব্যবহার, খারাপ পানি ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন। শুধু ইরানই নয়, প্রতিবেশী ইরাকও ১৯৯৩ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে। বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এবং উজানের পানি নিয়ন্ত্রণের কারণে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পানির স্তর ২৭ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গেছে। এর ফলে দক্ষিণ ইরাকে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। আল-জাজিরা।

ফের ডিগবাজি ট্রাম্পের
ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আপাতত ইউক্রেনকে কোনো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, আপাতত তিনি এমন কোনো চুক্তি বিবেচনা করছেন না, যা ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পেতে সহায়তা করবে। ন্যাটো দেশগুলোর কাছে টমাহক বিক্রির পরিকল্পনার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো এ অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে সহায়তা করবে। কিন্তু ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধ আরও তীব্র করতে চান না। গত রোববার (২ নভেম্বর) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের কাছে তার সর্বশেষ মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ইউক্রেনকে এ আধুনিক অস্ত্র দিতে ইচ্ছুক নন। ফ্লোরিডার পাম বিচ থেকে ওয়াশিংটনে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেন যে, ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির চুক্তির বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন কি না। এর উত্তরে তিনি বলেন, না, আসলে তা নয়। তবে তিনি বলেছেন যে, তিনি তার মন পরিবর্তন করতে পারেন। গত ২২ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সাক্ষাতের সময় তারা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনাধীন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। দীর্ঘপাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্র মস্কোসহ রাশিয়ার গভীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছেন। তবে ক্রেমলিন ইউক্রেনকে টমাহক সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। রয়টার্স।

ফের ডিগবাজি ট্রাম্পের
ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আপাতত ইউক্রেনকে কোনো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, আপাতত তিনি এমন কোনো চুক্তি বিবেচনা করছেন না, যা ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পেতে সহায়তা করবে। ন্যাটো দেশগুলোর কাছে টমাহক বিক্রির পরিকল্পনার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো এ অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে সহায়তা করবে। কিন্তু ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধ আরও তীব্র করতে চান না। গত রোববার (২ নভেম্বর) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের কাছে তার সর্বশেষ মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ইউক্রেনকে এ আধুনিক অস্ত্র দিতে ইচ্ছুক নন। ফ্লোরিডার পাম বিচ থেকে ওয়াশিংটনে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেন যে, ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির চুক্তির বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন কি না। এর উত্তরে তিনি বলেন, না, আসলে তা নয়। তবে তিনি বলেছেন যে, তিনি তার মন পরিবর্তন করতে পারেন। গত ২২ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সাক্ষাতের সময় তারা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনাধীন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। দীর্ঘপাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্র মস্কোসহ রাশিয়ার গভীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছেন। তবে ক্রেমলিন ইউক্রেনকে টমাহক সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। রয়টার্স।

গাজায় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারাশ জানিয়েছেন, ইসরাইল এখনো গাজায় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং ধীরগতিতে মানবিক সহায়তা দেয়ার নীতি প্রয়োগ করে হাজারো রোগীর জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইল জরুরি ওষুধ এবং শিশুদের অপুষ্টি দূর করার ওষুধ প্রবেশে বাধা দিয়ে কার্যত রোগীদের কার্যকর চিকিৎসাসেবাকে অচল করে দিয়েছে। আল-বারাশ বলেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত সাড়ে তিন লাখ রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। আর রোগী অন্যত্র স্থানান্তরের পথও বন্ধ রয়েছে। কারণ সীমান্তগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গাজার আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবু সালমিয়া এর আগে জানিয়েছিলেন, ওষুধের সংকটের কারণে অকালজাত শিশুদের মৃত্যুহার ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, দখলদার বাহিনী ওষুধবাহী ট্রাকগুলোর প্রবেশ ঠেকিয়ে দিচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। তার ভাষায়, গাজায় এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি অঙ্গচ্ছেদ করতে হয়েছে, যার মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে। কিন্তু কৃত্রিম অঙ্গের অভাবে তারা তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে। আবু সালমিয়া আরো জানান, দখলদার ইসরাইল আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো করছে। এ কারণে নবজাতকদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটি বাড়ছে এবং দীর্ঘ অবরোধের কারণে পুষ্টিহীনতার ভয়াবহ প্রভাব দেখা দিচ্ছে। এ মন্তব্যগুলো এমন একসময়ে এসেছে, যখন গত ৯ অক্টোবর ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ইসরাইল এখনো সে শান্তিচুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। পার্সটুডে।

নেপালে পানবাড়ি পর্বতে ২ পর্বতারোহী নিখোঁজ
নেপালে পানবাড়ি পর্বতশৃঙ্গ আরোহনের সময় দুই ইতালীয় পর্বতারোহী নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পর্যটন কর্মকর্তারা। সম্প্রতি সাইক্লোন মোন্থা অঞ্চলের আবহাওয়া বিপর্যস্ত করে তোলে। কাঠমান্ডু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। নিখোঁজ পর্বতারোহীরা হলেন স্তেফানো ফারোনাতো এবং আলেসান্দ্রো কাপুটো। তারা তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি দলের অংশ হিসেবে পশ্চিম নেপালের ৬ হাজার ৮৮৭ মিটার (২২,৫৯৫ ফুট) উচ্চতার পানবাড়ি পর্বতশৃঙ্গ জয় করার চেষ্টা করছিলেন। নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা হিমাল গৌতম জানান, নিখোঁজ পর্বতারোহীদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে। তিনি বলেন, ‘তীব্র তুষারপাতের কারণে তারা ক্যাম্প-১ এ আটকে পড়েন এবং গত ১ নভেম্বর শনিবার থেকে তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই।’ গৌতম আরো জানান, দলের নেতা যিনি বেস ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, তিনি নিরাপদে ছিলেন এবং রোববার হেলিকপ্টারে করে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ঘুর্নিঝড় মোন্থার প্রভাবে নেপালজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত হয়, যার ফলে জনপ্রিয় হিমালয়ান ট্রেকিং রুটে বহু পর্যটক ও পর্বতারোহী আটকা পড়েন। এএফপি।

ইউক্রেনে আটক উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দির দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের আবেদন
ইউক্রেনে আটক দুই উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধবন্দি দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের জন্য আবেদন করেছেন। একটি মানবাধিকার সংস্থা গত ২ নভেম্বর রোববার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে। গিওর-ইওল নেশন ইউনাইটেড সংগঠনটি একটি তথ্যচিত্রের এক সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় বন্দিরা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীকে এ অনুরোধ জানান। দক্ষিণ কোরিয়া ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানায়, ২০২৪ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের সাথে কাজ করা সংস্থার প্রধান জ্যাং সে-ইউল বলেন, ‘সাক্ষাৎকারের শেষে যুদ্ধবন্দি প্রযোজককে তাদের দক্ষিণে নিয়ে যেতে বলেছিল।’ সাক্ষাৎকারটি ২৮ অক্টোবর কিয়েভের একটি গোপনীয় স্থানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইউক্রেন কর্তৃক বন্দি হওয়ার পর দুই যুদ্ধবন্দিকে রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুসারে, উত্তর কোরিয়ার নাগরিকসহ তারা সকলেই কোরিয়ান নাগরিক হিসেবে বিবেচিত। সিউল বলেছে যে এ বিধানটি ইউক্রেনে বন্দি যেকোনো সৈন্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জ্যাং সে-ইউল জানিয়েছে, ভিডিওটি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহগুলোয় এটি প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্যাং-এর সংস্থার দেয়া ছবিতে দেখা গেছে যে একজন যুদ্ধবন্দি দক্ষিণে বসবাসকারী দেশত্যাগীদের চিঠি পড়ছে। জ্যাং আরো বলেন, ‘আমরা তাদের আশা জাগানোর জন্য ভিডিও বার্তা ও উত্তর কোরিয়ার দেশত্যাগীদের চিঠি দেখিয়েছি।’ ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা ইইউ ইওন এক বন্দীকে দেখতে এলে, তিনি তার কাছে সেখানে থাকার জন্য আবেদন করেন। ইইউ আরো বলেন, সৈন্যদের উত্তরে (উ. কোরিয়া) ফেরত পাঠানো হবে ‘মূলত মৃত্যুদণ্ডের’ শামিল। পিয়ংইয়ং এপ্রিল মাসে রাশিয়ার যুদ্ধের সমর্থনে সৈন্য মোতায়েনের কথা স্বীকার করেছে এবং স্বীকার করেছে যে সেখানে তাদের কিছু লোক নিহত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এরপর থেকে শোকাহত পরিবারগুলোর সাথে দেখা করেছেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সিউলের গোয়েন্দা সংস্থা সেপ্টেম্বরে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার প্রায় দুই হাজার সৈন্য যুদ্ধে নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপি।

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ২ জন নিহত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় দুজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছে। গত সোমবার (৩ নভেম্বর) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়, মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ প্রদেশের দৌইর শহরে ইসরাইলি হামলায় একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, একই প্রদেশের আইতা আল-শাব এলাকায় দ্বিতীয় হামলায় আরেকজন নিহত হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলি ড্রোনটি দৌইরে একটি গাড়িতে আঘাত হানে। এ সময় গাড়িতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএফপির একজন আলোকচিত্রী আঘাত হানা গাড়ি এবং আরো পাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িতে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের আগুন নেভাতে দেখেছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকান থেকে শ্রমিকদের ভাঙা কাচ সরাতেও দেখেছেন তিনি। এনএনএ জানিয়েছে, হামলায় স্থানীয় একটি শপিং সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এএফপি।

 

দারফুরে আরএসএফের নৃশংসতার বর্ণনা দিলেন পালিয়ে আসা মানুষ
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর শহরে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)-এর নৃশংসতা থেকে পালিয়ে আসা মানুষ এখন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের কাছে। এল-ফাশের শহরটি আরএসএফের দখলে যাওয়ার পর ধর্ষণ, মুক্তিপণ আদায় ও গণহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ, আর যারা পালাতে পেরেছেন, তাঁরা মানবিক সাহায্যের আশায় আশ্রয় নিয়েছেন তাবিলা এলাকায়। গত রোববার (২৬ অক্টোবর) উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের শহরটি সুদানি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দখল নেয় আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ। শহর দখলের পরপরই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ঘটনাটিকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আরএসএফের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এল-ফাশের দখলের পর যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছেন, তাঁদের বর্ণনায় উঠে আসছে রক্তাক্ত দৃশ্য। আলখেইর ইসমাইল, এক তরুণ, দারফুর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের তাবিলা শহরে পালিয়ে এসে জানান, ‘রোববার এল-ফাশের থেকে পালানোর সময় আরএসএফ প্রায় ৩০০ জনকে আটক করে। আমি সেই দলের অংশ ছিলাম। কিন্তু আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরিচিত ব্যক্তির অনুরোধে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য সবাইকে হত্যা করা হয়।’
অন্যদিকে তাহানি হাসান নামের এক নারী বলেন, “হঠাৎ করেই তারা হাজির হয়। আরএসএফের পোশাকে তিন তরুণ এসে আকাশে গুলি ছুড়ে বলে ‘থামো’। এরপর তারা আমাদের বেধড়ক মারধর করে এবং পোশাক ছুড়ে ফেলে দেয়। আমি নারী হয়েও তল্লাশির শিকার হই।” ফাতিমা আবদুলরহিম, যিনি তাঁর নাতি-নাতনিদের নিয়ে তাবিলায় পৌঁছেছেন, বলেন, ‘তারা ছেলেশিশুদের মারধর করে, সব সম্পদ লুটে নেয়। আমাদের কিছুই রাখেনি। শুনেছি, আমাদের পর যেসব মেয়ে এসেছে, তাদের ধর্ষণ করা হয়েছে।’ এক তরুণী রাওয়া আবদাল্লা জানান, তাঁর বাবা এখনো নিখোঁজ। অনেকের মতোই তিনিও জানেন না, তাঁর প্রিয়জনেরা বেঁচে আছেন কি না। চিকিৎসা সহায়তাবিষয়ক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, পালিয়ে আসা লোকজনের কাছ থেকে তাঁরা শুনেছেন আরএসএফ যোদ্ধারা নারী, পুরুষ ও শিশুদের আলাদা করে আটক করে, মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়ে, আর অনেককেই হত্যা করে। মুক্তিপণ আদায় করা হয় ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি সুদানি পাউন্ড (প্রায় ৮ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার)। একজন বেঁচে থাকা ব্যক্তি বলেছেন, ‘আরএসএফের সেনারা বন্দীদের গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করেছিল।’ অন্য একজন ২৬ বছর বয়সী নারী জানান, তাঁর স্বামী সন্তানদের বাঁচাতে মুক্তিপণ দেন, কিন্তু পরে তাঁর সামনেই তাঁকে হত্যা করা হয়। এক ১৯ বছর বয়সী তরুণী বলেন, ‘আমাকে ধর্ষণ করা হয়, তার আগে জানতে চাওয়া হয়েছিল আমি কুমারী কি না।’ রয়টার্স।

২ শহর থেকে সরে যাবে মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা
চুক্তির অধীনে তারা মান্দালয় অঞ্চলের রুবি খনির কেন্দ্র মোগোক ও শান রাজ্যের উত্তর অংশের পার্শ্ববর্তী শহর মোমেইক থেকে সরে আসবে। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি। মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে, দেশটির উত্তরে কয়েক মাস ধরে চলমান তীব্র সংঘর্ষ বন্ধ করতে তারা জান্তা সরকারের সাথে একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) ঘোষণা করেছে, তারা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে কুনমিংয়ে চীনের মধ্যস্থতায় কয়েকদিনের আলোচনার পর জান্তা সরকারের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। টিএনএলএ জানিয়েছে, চুক্তির অধীনে তারা মান্দালয় অঞ্চলের রুবি খনির কেন্দ্র মোগোক ও শান রাজ্যের উত্তর অংশের পার্শ্ববর্তী শহর মোমেইক থেকে সরে আসবে। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি। বিদ্রোহী বাহিনী ও জান্তা বাহিনী উভয়ই গত বুধবার থেকে অগ্রসর হওয়া বন্ধ রাখে। দলটি আরো জানিয়েছে, জান্তা বাহিনী বিমান হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। জান্তা বাহিনী এখনো চুক্তির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের একটি অংশ টিএনএলএ। জোটের অন্য সদস্যরা হলো মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি ও আরাকান আর্মি। তারা কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করে আসছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর গঠিত গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ আন্দোলনের সাথেও জড়িত তারা। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জোটটি উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম মিয়ানমারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল নিয়েছে ও নিয়ন্ত্রণ করছে। টিএনএলএ একাই ১২টি শহর দখল করেছে। চলতি বছরের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতির পর তাদের অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়। ফলে সেনাবাহিনী এপ্রিলে লাশিও শহর, জুলাইয়ে নওংঘকিও, অক্টোবরে কিয়াউকমে ও সিপাওসহ প্রধান শহরগুলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আল-জাজিরা।

ভারতে ‘গরুর গোশত খাবো’ বলায় সপরিবারে নৃশংস হামলার শিকার মুসলিম শিশু
ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ভাইরাল একটি ভিডিওর জেরে এক নাবালিকা মুসলিম মেয়ে এবং তার পরিবারের ওপর নৃশংসভাবে হামলা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠি বজরং দল এবং হিন্দু রক্ষা দলের সদস্যরা। ভাইরাল ভিডিওটিতে মেয়েটিকে গরুর গোশত খাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। আর এতেই ও সপরিবারে নৃশংস হামলার শিকার হতে হলো তাকে। গত সপ্তাহে হিন্দুত্ববাদী নেতা দক্ষ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রকাশ সিং, আন্নু, আক্কু, অমিত এবং অভিষেক সহ একদল লোক গ্রামীণ গাজিয়াবাদের তুলসি নিকেতন এলাকায় মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ঘৃণামূলক স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি অশ্লীল গালিগালাজ করে হিন্দু উগ্রবাদীরা। হামলাকারীরা ইসলামবিরোধী স্লোগান দেয় এবং জোর করে পরিবারটির বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। মেয়েটির মাকে এসময় সবচেয়ে জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করে তারা। মূল হামলাকারী দক্ষ চৌধুরী মেয়েটি এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন জেএনএসইউ নেতা কানহাইয়া কুমারকে চড় মারা, রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের মারধর করা এবং গাজিয়াবাদের একটি মসজিদের ভেতরে জুতো পরে আইনশৃঙ্খলা ব্যাহত করার চেষ্টা করা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিমবিরোধী প্রচারকারী এই উগ্র হিন্দুত্ববাদীর বিপুল সংখ্যক ফলোয়ার রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর থাকা সত্ত্বেও সে অবাধে কাজ করে চলেছে।পুলিশ আন্নু চৌধুরী, দক্ষ চৌধুরী, আক্কু পণ্ডিত, অমিত ঠাকুর এবং অন্যদের বিরুদ্ধে টিলা মোড় থানায় এফআইআর দায়ের করেছে। গাজিয়াবাদের শালিমার গার্ডেনের এসিপি অতুল কুমার সিং অনলাইন পোর্টাল মাকতুবকে জানান, আন্নু ও অমিতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আর মূল অভিযুক্ত দক্ষ ও অন্যরা পলাতক। তিনি আরও বলেন, পুলিশ দক্ষকে খুঁজছে। দক্ষ এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভিডিও পোস্ট করে বলছে, তার কোনো অনুশোচনা নেই এবং সে সনাতন ধর্মের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।
ঘটনার পরপরই মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার জন্য পরিচিত হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান পিঙ্কি চৌধুরীও এ ঘৃণা প্রচারে যোগ দেন। একাধিক ভিডিওতে তিনি মেয়েটিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান এবং এমনকি তার পরিবারের বাড়িতে বুলডোজার চালানোরও পরামর্শ দেন। তার একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে সনাতন ধর্মের জন্য লড়ছি। যা হওয়ার হবে। আমরা যে কোনো পর্যায়ে যেতে পারি।’ পরে দক্ষ চৌধুরী নিজেই অন্য একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে মেয়েটিকে মারধর করা হয়েছে এবং পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে বলে মনে হয়। এ পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় চৌধুরী অন্য একটি ভিডিওতে বলেন, ‘হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে কথা বললে, এটাই তোমার পরিণতি হবে।’ একজন পরিদর্শক মাকতুব মিডিয়াকে বলেন, ‘‘ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে মেয়েটির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যটি বজরং দল এবং হিন্দু রক্ষা দলের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে গালিগালাজ করার জন্য করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘‘মেয়েটি একজন সংখ্যালঘু নাবালিকা এবং তাকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।’’ পরিদর্শক মাকতুবকে জানান, ‘মেয়েটির পরিবারকে আক্রমণকারী পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে ২৭ অক্টোবর ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯১(২), ৩৫২, এবং ৭৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।’ তবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। সিয়াসত ডেইলি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান