আলোকে তিমিরে

চব্বিশের অভ্যুত্থানকে অবশ্যই উচ্চকিত করতে হবে


৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৩০

॥ মাহবুবুল হক ॥
দুনিয়ায় আমরা সবকিছু পাব, একসাথে পাব, আমাদের চাহিদামতো পাব, আমাদের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পাব- এমন কোনো জ্ঞান আমরা প্রত্যাদিষ্ট জ্ঞানে বা তাবৎ দুনিয়ায় আহরিত শিক্ষা ও জ্ঞানে খুঁজে পাইনি।
শিক্ষিত ও অশিক্ষিত নির্বিশেষে দুনিয়ার সকল মানুষ বলবে, উপর্যুক্ত চিন্তাভাবনা তো বাস্তবসম্মত নয়। চরম জাগতিক, ইহলৌকিক ও পার্থিব চিন্তার মানুষও অর্থাৎ সোজাকথায় একজন সেক্যুলার মননের মানুষও এমন অবাস্তব ও কল্পনাবিলাসী চিন্তাভাবনা করেন না।
যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী, তাদের কাছে একটি মৌল জ্ঞান আছে, সেটা হলো- ‘কুন ফাইয়া কুন’। এ জ্ঞানটা হলো, আল্লাহ যখন যা চান, তখনই তা বাস্তব হতে পারে, উপস্থিত হতে পারে, সংঘটিত হতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আল্লাহ হুট করে কিছু করেন না। এর একটা অতীত বাস্তবতা থাকে, একটা লেগাসি থাকে, একটা পরম্পরা থাকে, একটা পর্যায়ে ক্রমিকতা থাকে। কাউকে বা কোনো জাতিকে মহান আল্লাহ তায়ালা হঠাৎ করে সবকিছু দান করেন না বা ধ্বংস করে দেন না। মহান আল্লাহ সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করার আগে দীর্ঘসময় ধরে মানুষকে হুঁশিয়ার করেন, সাবধান করেন এবং সতর্ক করেন। তারপরও যখন মানুষ আল্লাহর উপদেশ ও পরামর্শ গ্রহণ করেন না, বরং নিজেদের ইচ্ছামতো আল্লাহর বিধি-নিষেধকে উপেক্ষা করে বা অবহেলা করে যাপিত জীবন, ঘর-সংসার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করতেই থাকেন এবং অনবরত দ্বিধাহীন চিত্তে করতেই থাকেন, তখন মহান আল্লাহ ধ্বংসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ঠিক একইভাবে যখন মহান আল্লাহ কোনো জাতিকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তখন সে জাতির ওপর নেয়ামত, রহমত ও বরকত ক্রমাগতভাবে, বলতে গেলে কিস্তিতে কিস্তিতে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যান। এ উন্নতি পার্থিব অবস্থার কিংবা জাগতিক কোনো বিষয় নয়, এর সঙ্গে অবশ্যই জড়িয়ে থাকে মহান আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ঈমান, বিশ্বাস, আস্থা, নির্ভরতা সমর্পণ, জবাবদিহি এবং আখিরাতের পুরস্কার ও শাস্তির বিষয়।
মহান আল্লাহ কুরআনে নিজেই বলেছেন, আমি এ বিশ্বজগৎ বা নিখিল বিশ্ব ছয় দিনে বা ছয়কালে সৃষ্টি করেছি। কেন তিনি এত সময় নিয়েছিলেন? তার তো এত সময় নেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তিনি তো ইচ্ছা করলেই এক মুহূর্তেই সবকিছু সৃষ্টি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এটা মানুষের জন্য একটা বড় ধরনের দৃষ্টান্ত। একটা শাশ্বত ও চিরন্তন উদাহরণ। যে বিষয়টিকে কুরআনে আয়াত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদেশের লেখাপড়া জানা ও মুসলিম ও ইসলামপন্থীরা বড় যুক্ত বিষয়গুলো জানেন। সে কারণে বয়স্ক মানুষ সবকিছু একসাথে দাবি করেন না। ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পর এদেশের ইসলামপন্থীরা ইসলামের পক্ষে বহু কিছু চাননি। তারা চেয়েছিলেন গত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে যারা রাষ্ট্রের ও জনগণের ক্ষতি করেছে, লুটপাট করেছে, দুর্নীতি করেছে, খুন করেছে, হত্যা করেছে, গুম করেছে, জনগণের ওপর অত্যাচার-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন করেছে, দেশের সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, বিরোধীদলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার ধ্বংস করার অপচেষ্টা করেছে, তাদের বিচার করতে হবে।
২৪-এর জুলাইয়ে যে বিপ্লব বা অভ্যুত্থান সংঘটিত হলো, তাকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। দেশ পরিচালনার জন্য কিছু মৌলিক পরিবর্তন বা সংস্কার করতে হবে, দেশে গণতন্ত্র আনার জন্য নির্বাচন কমিশন ও সংবিধানে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে- যাতে দেশে একটা ফ্রি এন্ড ফেয়ার এবং গৌরবজনক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোটামুটিভাবে মৌলিক তিনটি বিষয় সামনে এনেছি- ১. বিচার, ২. ২৪-এর জুলাই-আগস্টে দেশব্যাপী অভ্যুত্থানকে আইনি ভিত্তি প্রদান এবং ৩. দেশকে গণতন্ত্রের দিকে ফেরানোর জন্য স্বচ্ছ-স্বাধীন-নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রদান। এর সাথে অভ্যুত্থানকারীদের বিশেষ কিছু দাবি-দাওয়া ছিল এবং এখনো আছে।
পেশাজীবীদের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল এবং এখনো আছে। শ্রমিকদের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল এবং এখনো আছে। সরকারি কর্মচারীদের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল এবং এখনো আছে। এভাবে সমাজের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ নানারকম দাবি-দাওয়া নিয়ে এগিয়ে এসেছিল, সরকার কিছু মেনেছে। কিছু মানতে পারেনি। এসব নিয়ে অনেক বড় বড় সমস্যা হয়নি।
সমস্যা হয়েছিল আনসারদের নিয়ে, সমস্যা হয়েছিল পুলিশদের নিয়ে, সমস্যা চলছিল সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে নানা বিষয় নিয়ে। এর সঙ্গে সবসময় জড়িত রয়েছে বড় বড় অগ্নিকাণ্ড ও নাশকতা। এসব নিয়ে জনগণ একটা স্থির বিশ্বাসে উপনীত হয়েছিল যে, এসব কোনো দুর্ঘটনা নয়, নয় কোনো দৈব ঘটনা। পরাজিত স্বৈরাচারী সরকারের লোকজন প্রতিবেশী দেশের উসকানিতেই এসব করছে। এসবে দেশে দারুণ ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে। সরকারের ভেতরেই দেশদ্রোহী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিই বিদ্যমান রয়েছে বলে দেশবাসী ধরে নিয়েছেন। এসব নিয়েই জনগণ রাজনৈতিক দল, সরকার ভালো-মন্দ মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় যেটা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দাবানলের মতো জ্বলছে। তা হলো- পরাজিত স্বৈরশাসকের বদলে যারা বড় রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী, তারা দ্বিধাহীনভাবে জনগণের ওপর অত্যাচার-অবিচার, লুটপাট-লুণ্ঠন, সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ ও জমিজমা দখল করে চলছে পরাজিত শক্তিগুলো গত ৫৪ বছরে যা করেছে অভ্যুত্থানের অব্যাহত পর থেকেই একই কাজ করছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে গেছে এখানে, এ একটি জায়গায়। খুবই দুঃখের বিষয় যে, এ দলের নেতা ও পাতি নেতারা বলছেন, আমরাই আমাদের কর্মীদের কিছু না কিছু আয় করতে বলেছি। কারণ তারা ১৬ বছর ধরে অভুক্ত ছিল। এ ধরনের একটা অন্যায় অবস্থা ও ব্যবস্থাকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল মেনে নিয়েছে। যেসব কারণে অভ্যুত্থান হলো- সে কারণগুলো সরকার ও একটি বড় রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখল, বিদ্যমান এবং অব্যাহত রাখলো।
দেশে রয়েছে একটি দুর্বল সরকার। নিঃসন্দেহে শুরুর দিকে তারা কিছু ভালো কাজ করেছে। কিন্তু তাদের দুর্বলতার কারণে তারা এখন জনগণের কাছে নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছে। তারা আছে, কিন্তু অনেকটা না থাকার মতো। তারা চুপচাপ কাজ করছেন, অনেকটা চিরাচরিত সরকারি কর্মচারীদের মতো। ইসলামপন্থী দলগুলো ছাড়া অন্যসব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, শ্রমিকশ্রেণি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল মহল এমন ধরনের আচার-আচরণ করছেন, তাতে মনে হচ্ছে সব গোষ্ঠীর ও দলের অনেক ক্ষমতা আছে। অনেক সামর্থ্য আছে। ইচ্ছে করলে এসব দল বা গোষ্ঠী দেশের ভালো করতে পারেন, আবার খারাপ ও মন্দসহ অন্য রাষ্ট্রের কাছে বর্গাও দিতে পারেন।
সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, ইসলামী দলগুলো ছাড়া অভ্যুত্থানকারীদের কেউ এখন আর মান-সম্মান, ইজ্জত দিচ্ছে না। তাদের অপরাধ, তারা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। সুতরাং তারা দস্যু হয়ে গেছে, বিরোধী হয়ে গেছে। তারা অল্পবয়স্ক। তারা ভুল করেছে বা করেনি, তাদের সাথে নিয়ে আন্দোলনকারীদের বা অভ্যুত্থানকারীদের এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
ইসলামী দলগুলোর উচিত ছিল সবাই মিলে সংঘবদ্ধ হওয়া, যেখানে কিছু মডারেট সেক্যুলার দলও থাকতে পারতো। কিন্তু বিশেষভাবে উচিত ছিল অভ্যুত্থানকারীদের সাথে নিয়ে অগ্রসর হওয়া।
কিন্তু আমরা যতটুকু উপলব্ধি করতে পারছি, সঠিকভাবে রাজনৈতিক পোলারাইজেশন হচ্ছে না। অবশ্য এখনো নিরাশ হওয়ার সময় আসেনি। এখনো সময় আছে। একটু উদারভাবে, একটু সহনশীলভাবে ডানপন্থী তথা মধ্যমপন্থীদের নিয়ে অগ্রসর হলেই দেশের অবস্থা এবং ব্যবস্থা মোটামুটি সুন্দর হবে বলে সিনিয়র সিটিজেনদের ধারণা।
যে বড় দলটি দেশময় যে শুধু লুটপাট করছে, তাই নয়। তারা সম্পূর্ণভাবে পরাজিত স্বৈরাচারী সরকারের মতো আচরণ করছে। প্রথম থেকেই তাদের যে ভাব-সাব প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে, যেহেতু তারাই ছিল দেশের বৃহত্তম বিরোধীদল এবং তারাই ছিল দেশের বিকল্প রাজনৈতিক দল। সুতরাং তারাই তো ক্ষমতায় আছে। নির্বাচন হোক বা না হোক, তাতে কী আসে যায়?
তারা অভ্যুত্থানকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেনি এবং স্বীকৃতি দেয়নি। মূল অভ্যুত্থানকারীদেরও মূল্যায়ন বা স্বীকৃতিও দেয়নি। বরং অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানকারীদের নিয়ে নানা হাসি-ঠাট্টা করেছে। এসব কারণে তাদের নির্বাচন বাজার এ মুহূর্তে মন্দাভাব ধারণ করেছে। কিন্তু তারা সীমাতিরিক্ত অহংকারের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। কোনো কিছুকে তারা পরোয়া করছে না। বাকি আল্লাহর মর্জি। মহান আল্লাহ জুলুমকারীদের ভালোবাসেন না।
চল্লিশের দশক থেকে যদি শুরু করি, তাহলে দেখা যাবে প্রথম দিকে মুসলিম, পূর্ব বাংলার মানুষ, মহামারি, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ বেনিয়া ও স্থানীয় বেনিয়া ও সনাতন ধর্মের সাম্প্রদায়িক শক্তির দ্বারা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও অত্যাচারিত হয়েছে।
ফলে মহান আল্লাহ মজলুম পূর্ব বাংলাবাসীকে কিছুকালের জন্য স্বস্তি ও শান্তি প্রদান করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলা পাকিস্তান নামক স্বাধীন দেশের অংশীদারিত্ব লাভ করে। এটা ছিল পূর্ব বাংলা তথা পূর্ব পাকিস্তানের জন্য মহান আল্লাহর অকুণ্ঠ নেয়ামত, রহমত ও বরকতের বিষয়।
ইন্ডিয়া শুরু থেকেই এ ভাগাভাগী মেনে নিতে পারেনি। তাদের সাম্প্রদায়িক হিংসা, পশ্চিম পাকিস্তানের তথা কেন্দ্রীয় সরকারের অবজ্ঞা ও অবহেলার সুযোগে পূর্ব পাকিস্তানে নানা ধরনের বিশ্বাসঘাতকের উন্মেষ ঘটে। ইন্ডিয়ার প্ররোচনায় বিচ্ছিন্নতাবাদের বীজ উপ্ত হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়। যা কিনা শুরু থেকেই ছিল পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার বৈষয়িক প্রণোদনা।
১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৭ দিনের যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে ইন্ডিয়া পরাজিত হয়। পাকিস্তান বিজয় লাভ করে, কিন্তু ইন্ডিয়া পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তানকে আক্রমণ করেনি। যদিও পূর্ব পাকিস্তান সরকার যুদ্ধের জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এ প্রসঙ্গটিও ছিল মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, নেয়ামত, বরকতময় বিষয়। ইন্ডিয়া পূর্ব পাকিস্তানবাসীকে লেশন দিল আমরা তোমাদের বন্ধু। আমরা তোমাদের শত্রু নই। আমরা পশ্চিম পাকিস্তানের শত্রু। ওরাও আমাদের সবসময় শত্রু ভাবে। ওরা আমাদের ধ্বংস করতে চায়। ওরা স্কুল-কলেজে শেখায় ‘ক্রাস ইন্ডিয়া।’
নিজেদের ও প্রতিবেশীদের বেঈমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের তিলে তিলে ধ্বংস করেছে। আমরা শুধু এক ধরনের পরাধীনতার মধ্যেই লালিতপালিত হয়ে আসছি। কিন্তু বাস্তবে প্রকৃত স্বাধীনতা আমরা কখনো সেভাবে পাইনি।
একইসঙ্গে আমরা স্বাধীনতা ও পরাধীনতার নিগঢ়ে আবদ্ধ হয়েছি। পাকিস্তান বাহিনী আমাদের সরকারের কাছে বা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজয়ের সূত্রে আত্মসমর্পণ করেনি। তারা আত্মসমর্পণ করেছে ভারতীয় বাহিনীর কাছে। এ বিষয়টিকে আমরা অ্যাপ্রুভ করেছি এবং এখনো অ্যাপ্রুভ করে আসছি।
এ ঐতিহাসিক বিষয়গুলো কি আল্লাহর শাস্তি না পুরস্কার? আমাদের প্রজন্মকে অবশ্যই ভাবতে হবে।
গত ৫৪ বছর ধরেই আমরা নানা অজুহাতে পরাধীনতার নিগঢ়ে দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা, জেল, জুলুম, অত্যাচার, অবিচার, খুন, গুম, ফাঁসি, আয়নাঘরসহ কত রকমের নির্যাতন যে ভোগ করে আসছি, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। ফলে গোটা জাতি এখন দুর্নীতির অকুণ্ঠ ঝর্ণার নিচে অবগাহন করছে।
মহান আল্লাহ আমাদের মজলুম জাতির ওপর রহমত, নেয়ামত ও বরকত নাজিল করেছেন ২৪-এর ৫ আগস্টে। অল্প কয়েকদিন আমরা স্বস্তির সাথে নিশ্বাস গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম।
আবার যে কপাল সে মাথা।
আজ এখনো হাজার হাজার আহত ও অসুস্থ নবতর মুক্তিযোদ্ধারা হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে অসহনীয় এবং দুঃসহ ও দুর্বহ জীবনযাপন করছেন। প্রায় দুই হাজার তরুণ শিক্ষার্থী শাহাদাতবরণ করেছেন। এদের পরিবার-পরিজনকে কে দেখবে এবং কে এদের উচ্চকিত করবে, সমুজ্জ্বল করবে, সেটাই মহান আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।