ভোটের ‘কলঙ্ক’ থেকে মুক্তি চাই
২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫৬
বাংলাদেশের শাসনক্ষমতার ইতিহাসে নির্বাচন-ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে সর্বাধিক ‘অবদান’ রেখে গেছে আওয়ামী লীগ। এমনকি ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও তারা দুষ্কর্মের আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ আছে। অতঃপর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেন শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর এ প্রক্রিয়ার খানিকটা অনুশীলন করেন জেনারেল এইচএম এরশাদ। এ বিষয়গুলো বিচ্ছিন্নভাবে থাকলেও গবেষণার আলোকে উপস্থাপন না করায় এর সুসংঘবদ্ধ বিবরণী আজো অনুপস্থিত। এখন ভোটের ‘কলঙ্ক’ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা সুযোগ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে ফিরে এসেছে বলে আশা করা যায়।
দূরের বিষয় রেখে যদি গত দেড় দশকের মধ্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোর অভ্যন্তরভাগে দৃষ্টি দেয়া যায়, তাতে কেবলই কুৎসিত দৃশ্য চোখে পড়ে। নির্বাচনকালে ক্ষমতাবান রাজনীতিকগণ সরকারি ও প্রশাসনিক কী কী সুবিধা নিজেদের অনুকূলে ব্যবহার করতে পারে ও বিরোধীদের সেগুলো থেকে বঞ্চিত করতে পারে, তা অনুধাবন ও চিহ্নিত করা জরুরি। যেগুলো পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে। এরশাদের জাতীয় পার্টি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ কীভাবে এ নির্বাচন-ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে, তার সারমর্ম বিশ্লেষকরা নিম্নরূপে তালিকাভুক্ত করেছেন:
নির্বাচনপূর্ব তৎপরতা
ক্নির্বাচনে কারচুপি করার জন্য পূর্ব থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। কারচুপির পরিকল্পনা সফল করতে দলীয় অনুগত অথবা সুবিধাভোগী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়ার জন্য সবরকম কলাকৌশল অবলম্বন করা হয়। কেননা এরা হলেন ভোট নিয়ন্ত্রণ ও গণনার মূল ব্যক্তি। এরাই হতে পারেন নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিপরীতে কারচুপিরও প্রধান ক্রীড়নক।
ক্নির্বাচন কমিশনে দলীয় লোকদের প্রাধান্য বজায় রাখা হয়। যাতে ক্ষমতাসীনদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটনো যায় এবং তাদের চাহিদা মোতাবেক নীতিনির্ধারণ ও কর্মকৌশল প্রণীত হতে পারে।
ক্জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে পছন্দের লোকদের দিয়ে সজ্জিত করা হয়। যাতে নির্বাচনের দিন ভোটের ফল পক্ষে নিতে এ জনশক্তিকে পক্ষে ব্যবহার করা যায়।
আরপিওর বিধি লঙ্ঘন করে দলীয় লোকদের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করা হয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের নামে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব সৃষ্টির সুযোগ দেয়া হয়।
চাপে রাখার কৌশল হিসেবে ইসির কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংযোগ খুঁজতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হয়।
নির্বাচনী এলাকায় আধিপত্য
নির্বাচনী এলাকায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা ও ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। যাতে প্রতিপক্ষ ভীতসন্ত্রস্ত ও হতাশ হয়ে ভোটের মাঠ ছেড়ে দূরত্বে অবস্থান করে।
ক্ষমতাসীন পক্ষ মামলা ও গ্রেফতারমূলক তৎপরতা চালিয়ে প্রতিপক্ষকে ভোটের ময়দান থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করে।
ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়া হয়। প্রতিপক্ষের ভোটার যাতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারেন, সেজন্য অনেক সময় পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়া হয়।
‘১০টা হোন্ডা ২০টা গুণ্ডা, ইলেকশন ঠাণ্ডা’- এ ফর্মুলার প্রয়োগ হয়। সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে পাড়া-মহল্লায় মহড়া দেয়া হয়। ভোটকেন্দ্রের চারপাশেও এরকম মহড়া চলে- যাতে ভোটারদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়।
কথিত ‘প্রতিপক্ষ’র নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো বা জেলে ঢোকানোর ভয় দেখানো হয়। এদের ভয় দেখিয়ে বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে ভোট সংগ্রহ করতে বাধ্য করা হয়, নয়তো তাদের ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকতে হুমকি দেয়া হয়। এর ফলে ‘প্রতিপক্ষ’র ভোট বৃদ্ধির হার কমে যায়।
নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোট কেনা-বেচা করা হয়। এই অপকৌশল বাংলাদেশে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। যেসব এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বেশি সাধারণত সেসব এলাকায় ভোটের আগের রাতে চলে ‘টাকার খেলা’। দরিদ্রদের মধ্যে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেও ভোট কেনা-বেচা চলে। এজন্য ‘দালাল’ নিয়োগ করা হয়।
মনোনয়নপত্র দাখিল
সম্ভাব্য বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র উত্তোলন বা দাখিলে বাধা প্রদান করা।
প্রয়োজনে হুমকি, টাকা দিয়ে বা অন্য প্রলোভন দিয়ে ‘বসিয়ে’ দেয়া।
মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন শক্তির মহড়া প্রদর্শন করা এবং আইন-বিধির পরোয়া না করে আগাম সম্ভাব্য প্রতীক প্রদর্শন করা।
প্রচার-প্রচারণায় বাধা
বিরোধীদের প্রচার-প্রচারণায় অব্যাহত বাধা প্রদান করা হয়। প্রচার মাইক ছিনিয়ে নেয়া, প্রচারকর্মীকে মারধর করা, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়া।
বিরোধীপক্ষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়, প্রচার মাইক কেড়ে নেয়া হয়, সভা-সমাবেশ ও প্রচার মিছিল পণ্ড করে দেয়া হয়। পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ‘বিরোধী’ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুঁশিয়ারি-হুমকি দেয়া হয়।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর চাপ-প্রভাব সৃষ্টি
নির্বাচন কমিশনকে হুকুমের দাস করে রাখা হয়।
নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মীদের ভীতি ও চাপের মধ্যে রাখা হয়। বিভিন্নভাবে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মীসহ অন্যদের ভীতি ও চাপের মধ্যে রাখা হয়। চাকরিতে সমস্যা সৃষ্টি করা, চাকরি থেকে ছাঁটাই করা, পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি প্রদান, জানমালের ক্ষতির হুমকি প্রদানও চলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে পক্ষে ব্যবহার করা হয়। বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটালেও একটি মহলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয় এবং অন্য পক্ষকে অহেতুক হয়রানি করা হয়।
পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত
প্রতিপক্ষের এজেন্টদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়। তাদের প্রয়োজনে এলাকাছাড়া করা হয়। আইন প্রয়োগকারীদের ব্যবহার করে তাদের আটক করে ভোটগ্রহণের সময়কাল পর্যন্ত এলাকার বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
নিজেদের লোকদেরই প্রতিপক্ষের এজেন্ট নিয়োগ (ডামি এজেন্ট) করা হয়। এরা ভোটকেন্দ্রে নির্বিকার ভূমিকা পালন করে।
‘প্রতিপক্ষ’র পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষরও গ্রহণ করা হয়। যাতে তারা কোনো বৈধ এজেন্ট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে না পারে।
কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ফলাফল সিটও সরবরাহ করা হয় না। যাতে তারা প্রয়োজনে এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ করতে না পারেন।
ভোটকেন্দ্র দখল ও পাহারা
দলীয় পাণ্ডাদের যুদ্ধংদেহী অবস্থান গ্রহণ করিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য ভীতিকর অবস্থা তৈরি করা হয়।
বিরোধীপক্ষের ভোটারদের নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধা প্রদান করা হয়।
ডামি ভোটার দিয়ে লাইন দখল করা হয়। ভোটে কারচুপি করার লক্ষ্যে বিশেষ দল বা পক্ষের ‘ডামি’ এজেন্ট ও ভোটার ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া যায়। বুথে হয়তো দেখা যাবে সব প্রার্থীরই এজেন্ট রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে বেশিরভাগই বিশেষ একটি পক্ষের লোক। এরা ভুয়া পরিচয় নিয়ে পোলিং এজেন্ট সেজে ভোট পাহারা দেয়।
বিরোধীপক্ষের ভোটারদের কেন্দ্রে আসতেই না দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকসহ গণমাধ্যমের লোকজন আসলে তাদের দেখে ‘নিজেদের’ লোকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং ভোটার উপস্থিতির পরিমাণ জানান দেয়া হয়।
কেন্দ্র্রে প্রতিপক্ষকে ভিড়তে দেয়া হয় না। ভোটের দিন ‘প্রতাপশালী’ প্রার্থীর ক্যাডাররা কেন্দ্রের আশপাশে সদর্পে মিছিল করে স্লোগান দেয়, অহেতুক ‘হুই’ তোলে। এর মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের ‘শক্তিমত্তা’ প্রদর্শন করে। এতে একদিকে সাধারণ ভোটাররা ভীতসন্ত্রস্ত হয়; অন্যদিকে নির্বাচনকর্মীরা আতঙ্কিত হয়।
ভোট দিতে বাধা ও ব্যালট ছিনতাই করে সিল মারা হয়। ভোট শুরুর প্রাক্কালে ব্যালট বই নিয়ে বিশেষ প্রার্থীর প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। কোনো কোনা স্থানে পুরো বইটাই একটি প্রতীকের সিলে ভরা থাকে। ভোটগ্রহণকারী ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় কিংবা ভীতির মুখে পড়ে একাজে সহযোগিতা করে থাকেন।
ভোটের দিন প্রথমেই নজর দেয়া হয় ভোটার তালিকার প্রতি। এতে নাম থাকা মৃত ব্যক্তি, বিবাহ হওয়ায় অন্য স্থানে গমনকারী মহিলাগণ, প্রবাসীগণ, অন্যত্র চাকরিরত ব্যক্তিগণ, ভোটকেন্দ্রে যেতে অক্ষম রোগী বা পঙ্গু ব্যক্তি প্রভৃতিদের চিহ্নিত করা হয়। ভোট শুরু হওয়ার সূচনা লগ্নেই কারচুপির জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব ভোট কাস্ট করা হয়।
নির্বাচনী এলাকার যেসকল স্থানে ‘প্রতিপক্ষ’ শক্তিশালী সেসব এলাকায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। এতে কখনো দলীয় ক্যাডার এবং ক্ষেত্রবিশেষে আইনপ্রয়োগে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাজে লাগানো হয়ে থাকে। এর ফলে সেসব স্থানের ভোটারগণ ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পায় না। ভোটের দিন কেন্দ্রে আসার পথেও ভীতি সৃষ্টি করা হয়।
মহল্লার ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়া হয়। বিশেষ প্রার্থীর ক্যাডাররা ভোটারদের বলে যায়, ‘তোমাদের ভোট পেয়ে গেছি, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই।’
এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। ভোটগণনা অবশ্যই প্রার্থী বা তার প্রতিনিধির সামনে হওয়ার বিধান আছে। কিন্তু কারচুপি করার সুবিধার জন্য এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়- যাতে প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত হতে বা থাকতে না পারে। প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেয়া অতি সাধারণ ঘটনা। এর ফলে বিশেষ প্রার্থীর লোকেরা ইচ্ছেমতো ভোট কাস্ট ও গণনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ভোট দিতে গিয়ে ব্যালট পেপার গ্রহণ করার জন্য একেকজন হাতের ১০টি আঙুলের টিপ দিয়ে একসঙ্গে ১০টি ব্যালট পেপার সংগ্রহ করতে পারে। ভোট গ্রহণকারী ব্যক্তি বিশেষ কোনো প্রার্থীর পক্ষের লোক হলে তিনি এতে সহায়তা দিয়ে থাকেন।
সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশের পর হাতে কালি লাগিয়ে দিয়ে বলা হয় তাদের ‘ভোট দেয়া হয়ে গেছে’। ফলে ভোট না দিয়েই ওই ভোটারদের কেন্দ্র থেকে ফিরে আসতে হয়। বিগত সময়ে দলের একেকজন কর্মী ১শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ পর্যন্ত ভোট দেবার ‘গৌরব’ অর্জনের রেকর্ড গড়তে সক্ষম হয়। কোনো কোনো স্থানে পুরো একটি পরিবারের ভোট অন্যরা দিয়ে দেয়।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র প্রদানেও নানা কারসাজির আশ্রয় নেয়া হয়। সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। জাল ভোটের দৃশ্য ধারণ করলে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয়। ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবি-ভিডিও নষ্ট করে ফেলা হয়।
ভোটকেন্দ্রে বিশেষ পক্ষ কোনো কোনো ক্ষেত্রে এতটাই প্রতাপ বিস্তার করে যে সেখানে পোলিং এজেন্টদের কোনো আপত্তিই আমলে নেয়া হয় না।
কোনো পোলিং এজেন্ট কথা বললে তাদের প্রশাসনের ভয় দেখানো হয়। ফলে তারা একপ্রকার অসহায় অবস্থায় পতিত হয়।
ব্যালট পেপারে কারচুপি
আগেই বিশেষ প্রতীকে সিল মেরে রাখা ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়। আগের রাতেই সিল মারা ব্যালটে বাক্স ভরে রাখার ঘটনা এখন সর্বজনবিদিত।
দলের একেকজন কর্মী ১শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ পর্যন্ত ভোট দেবার ‘গৌরব’ অর্জনে সক্ষম হওয়ার কথা প্রকাশ করতে দেখা যায়। অনেক স্থানে পুরো একটি পরিবারের ভোট অন্যরা দিয়ে দেয়।
ভোট শেষ হওয়ার পরেও বিশেষ প্রার্থীর চাপে কেন্দ্রে ভোটারের নামে দলীয় লোক দিয়ে ব্যালট নিয়ে সিল মারা হয়।
ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার ঘটনাও ঘটে থাকে। যে কেন্দ্রে কোনো প্রার্থীর বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেখানে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নির্বাচন বানচাল করে দেয়া হয়।
অবৈধভাবে কেন্দ্র দখল করে কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সেগুলো নিজের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারা হয়। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ভোটগণনায় কারচুপি
দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যবহার করে কাস্টিং ভোটের শতকরা হার বৃদ্ধি করে পছন্দের প্রার্থীর হিসাবে বেশি ভোট দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
কারচুপি করার লক্ষ্যে স্বাক্ষর গ্রহণ ছাড়াই রেজাল্ট শিট চূড়ান্ত করা হয়। এর ফলে ভোটের সংখ্যা পরিবর্তন করে একজনের পরিবর্তে আরেকজনকে বিজয়ী করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
পূর্বেই ছক কষে দেয়া হয় কোথায় কী মাত্রায় কারচুপি করা হবে। দায়িত্বশীল অফিসারকে ব্যবহার করে কাস্টিং ভোটের শতকরা হার বৃদ্ধি করে পছন্দের প্রার্থীর হিসাবে বেশি ভোট দেখিয়ে বিজয়ী করার ব্যবস্থাও করা হয়। এজন্য ‘সাজানো’ রেজাল্ট দ্রুত ঘোষণা করে দেয়ার আয়োজন করা হয়।
ভোটগ্রহণের সময় শেষ হওয়ার পরও বিশেষ প্রার্থীর চাপে কেন্দ্রে ভোটারের নামে দলীয় লোক ঢুকিয়ে ব্যালট গ্রহণ ও সিল মারার মহড়া চলে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা দৃঢ়তা প্রদর্শন করলেই তবে এই চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
শেষ কথা
উপরোক্ত বিবরণ থেকে বোঝা যায়, নির্বাচন ও ভোট ব্যবস্থাকে কী প্রকারে নিজেদের অনুকূলে নেয়া যায় তার সমস্ত কৌশল ও পদ্ধতি বদবুদ্ধি দিয়ে রপ্ত করা হয়। এসব উপসর্গ দূর করতে এখনই উদ্যোগ নেয়া জরুরি। এতে দেশে একটি প্রকৃত নির্বাচনী ব্যবস্থা ভিত্তি পাবে বলে আশা করা যায়। নচেৎ গণমানুষের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা সেই তিমিরেই থেকে যাবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।