বঙ্গভঙ্গ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল
১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫১
সোনার বাংলা রিপোর্ট : বাংলাদেশ সৃষ্টি ইতিহাসের এক বিস্ময়। সৃষ্টির ইতিহাস আরো বিস্ময়কর। কেন? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে দৃষ্টিপাত করতে হবে ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ এবং বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনাপ্রবাহের দিকে। কারণ বঙ্গভঙ্গের ঘটনা নিয়ে বর্ণ হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিলো। তারা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল, ‘বঙ্গভঙ্গ করে কালী মাতার অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছে।’ অথচ ভারতের সেই বর্ণ হিন্দু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীই ১৯৪৭ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অজুহাত দেখিয়ে পশ্চিম বাংলা, আসাম ও ঊড়িষ্যা তাদের দখলে রাখে। বঙ্গভঙ্গকে পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা স্বাগত জানিয়েছিলেন।
ব্রিটিশ শাসন কলকাতাকেন্দ্রিক হওয়ায় পূর্ববঙ্গ ছিলো উন্নয়নের ছোঁয়াবঞ্চিত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ জনগণ মুসলিম ও নিম্নবর্ণের হিন্দু। কিন্তু মুসলিম শাসনামলে ঢাকাকেন্দ্রিক একটি সমৃদ্ধ সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের আগে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ছিলো একটি গ্রাম। কিন্তু বাংলা, বিহার ও ঊড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজ-উদ্দৌলার পরাজয়কে বর্ণ হিন্দুরা মুসলমানদের পরাজয় মনে করে, ইংরেজ বেনিয়াদের তাদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে।
বঙ্গভঙ্গ ইতিহাসে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের আদেশে ১ম বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়। বাংলা বিভক্ত করে ফেলার ধারণাটি অবশ্য কার্জন থেকে শুরু হয়নি। ১৭৬৫ সালের পর থেকেই বিহার ও ঊড়িষ্যা বাংলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে সরকারি প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে বাংলা অতিরিক্ত বড় হয়ে যায় এবং ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে এটির সুষ্ঠু শাসনক্রিয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। বঙ্গভঙ্গের সূত্রপাত এখান থেকেই। কিন্তু ১৯১১ সালে সাম্প্রদায়িক বর্ণ হিন্দুদের আন্দোলনে বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়। অথচ দ্বিতীয়বার বঙ্গভঙ্গ হয় ১৯৪৭ সালে যার নাটের গুরু বর্ণ হিন্দুরাই বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন। তাদের গোষ্ঠী স্বার্থের কারণে পুরো বঙ্গকে তারা পাকিস্তানের ভাগে না দিয়ে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানে এবং পশ্চিমবঙ্গ ভারতে থাকে এ পূর্ববঙ্গই আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বঙ্গভঙ্গ রদ করতে ‘স্বদেশি’ ও ‘বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী’ আন্দোলন এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অব্যাহত বিরোধিতা শুরু করে। ফলে ভাইসরয় ও গভর্নর-জেনারেল লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জের নেতৃত্বাধীন ভারতের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার তাই শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে তা রদ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বর্ণ হিন্দুরা মহাখুশী হয়। তারা ব্রিটিশদের নিজেদের প্রভু বলে স্বীকার করে নেয়। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। একে একে গোটা ভারতবর্ষ প্রথমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরে ব্রিটিশ সরকারের হাতে তুলে দিতে বর্ণ হিন্দুরা ইংরেজদের সাথে হাতে হাত রেখে ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!/পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ/বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ/তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিস মাগে, গাহে তব জয়গাথা।/জনগণমঙ্গলদায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!/জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে॥’ গানে গানে প্রাণ খুলে সহযোগিতা করে।