সবুজ পাখির ঝাঁক


২ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:১৪

॥ ফিরোজ বিন রেজাউল ॥
স্নিগ্ধ সকাল, সাথে মৃদু বাতাস। সকালটা যেন মনমাতানো সাজে সেজেছে। পূব আকাশের নীলাভ মেঘ দেখতে কার না ভালো লাগে। জাহিদের মা ফজরের সালাত শেষে তাসবিহ জপতে জপতে বেলকুনিতে বসে সকালের মিষ্টি পরিবেশটা উপভোগ করছে। হঠাৎ দূর থেকে বাতাসের সাথে ভেসে এলো মাইকের আওয়াজ। হে সবুজ পাখির দল তোমাদের পড়ার সময় হয়ে এসেছে, দ্রুত পবিত্র কিতাব নিয়ে চলে এসো। জাহিদের মায়ের কানে যেন এক দারুণ আওয়াজ শুনতে পেল। ওদিকে জাহিদ ঘুমের দেশে যেন স্বপ্নবিলাসে ব্যস্ত। জাহিদ এবার ক্লাস ফাইবের ছাত্র। জাহিদের মা আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে ডাকছে, বাবা ওঠ, তোমার আরবি পড়ার সময় হয়ে এসেছে। ওঠ বাবা! জাহিদ নড়েচড়ে- উমমমম আম্মু! যাও, ঘুমাচ্ছি তো। আজ আর যাবো না পড়তে। জাহিদের মা বলছে, বাবা দেখ না সবুজ গাছের নিচ দিয়ে একঝাঁক সবুজ ছেলে-মেয়ে সবুজ লম্বা জামা, সাথে সবুজ রঙের কাপড়ে মাথা মোড়ানো। আহ! এ যেন সবুজ পাখির মতো দেখাচ্ছে, ওঠ বাবা। জাহিদ এবার বিরক্তির সুরে বলল, মা পারলে তুমি যাও, আমি এতো সকালে পড়তে যেতে পারবো না। পাশের বাড়ির নিয়ন, আনিসা, রিজভী তো পড়তে যায় না। ওরা বলে, এসব পড়ে কোনো লাভ নেই। ওদের মায়েরা তো পড়তে পাঠাই না। তুমি কেন এতো সকালে আমার ঘুমটা নষ্ট করে দিলে।
জাহিদের মা অনেক কষ্ট পেলো কথাগুলো শুনে। মন খারাপ করে বসে রইল জাহিদের পাশে। কিছুক্ষণ পর পাশের বাড়ির ছেলেটা নাম আদিব, সে এসে জাহিদকে ডাকলো। জাহিদ চলো আমরা পবিত্র কুরআন পড়া শিখে আসি।
জাহিদ বলছে, এসব পড়ে লাভ কী? আমাদের ক্লাসের বইয়ে তো এসব নেই। বাংলা, অংক, ইংরেজি, বিজ্ঞান এগুলোই অনেক আধুনিক শিক্ষা। আরবি না পুরনো শিক্ষা। আমাদের বিজ্ঞান স্যার বলেছে।
জাহিদের বাবা পাশের রুম থেকে জাহিদের দুষ্টুমিষ্টি কথাগুলো শুনে জাহিদের ঘরে এসে বলছে, বাবা জাহিদ, স্মার্টনেস যদি হয় সময়োপযোগী, স্মার্ট জ্ঞানে সজ্জিত হওয়া; তবে তা অবশ্যই আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বাড়ায়, তবে যদি স্মার্টনেস বলতে জ্ঞান-বুদ্ধির দরজা বন্ধ করে আধুনিক স্মার্ট পণ্য ব্যবহার শেখায়, তবে তা অবশ্যই আল্লাহর ভালোবাসা হৃদয় থেকে দূর করে দেয়।
পড়তে যাও বাবা। তুমি যে পাশের বাড়ির অলস পাখিদের কথা বলছো, ওরা তো জানে না অবুঝ। তুমি যে ধর্ম বইয়ে মহানবী (সা.)-এর জীবনি পড়েছিলে তাঁকে তোমার কেমন লাগলো পড়ে?
জি বাবা মহানবী (সা.) তো সত্যবাদী, বিশ্বাসি, ধার্মিক ছিলেন।
হ্যাঁ বাবা তুমি ঠিকই বলেছো। সেই আমাদের প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে ভালো যে কুরআন নিজে পড়ে এবং অন্যকে পড়তে বলে। (ইবনে মাজাহ)।
এছাড়া তিনি আরো বলেছেন, দীনের জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ। (ইবনে মাজাহ)।
বাবা ফরজটা কী?
ফরজ হলো যেটা অবশ্যই করতে হবে বাদ দেওয়া যাবে না।
সত্যি বাবা তাহলে অবশ্যই পড়তে হবে?
হ্যাঁ, বাবা।
জাহিদের বাবা বললো শুধু তাই না, আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কখনো সমান নয়। (সূরা জুমার)।
আচ্ছা বাবা আমাদের বিজ্ঞান স্যার তো বলেছেন, মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নয়। মানুষ নাকি বানর থেকে সৃষ্টি এটা কি সঠিক?
না বাবা, একদমই নয়। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থে সৃষ্টিকারী কে, তা তিনি বলেছেন। মানুষকে আমি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছি।
আচ্ছা বাবা তাহলে উঠি। আজ থেকে আর সকালে ঘুমিয়ে থাকবো না। আমিও সবচেয়ে ভালো মানুষ হতে চাই। মহানবী (সা.)-এর মতো একজন ভালো মানুষ, বিশ্বাসী হতে চাই।
জাহিদ বিছানা থেকে উঠে এক দৌড়ে ওয়াশরুম থেকে হাত-মুখ পরিষ্কার করে পবিত্র হয়ে বের হলো। এদিকে জাহিদের মা আমেনা বেগমও তোয়ালে, সবুজ রঙের লম্বা জামা আর সবুজ রঙের মাথা মোড়ানো কাপড়টাও এনে দিলেন।
জাহিদ দ্রুত সবুজ পাখির সাজে সেজে বাবা-মাকে সালাম দিয়ে আদিবকে নিয়ে বের হলো, সবুজ পাখি ঝাঁকের দলে মিশে যেতে। আর কিচিরমিচির সূরে বলতে লাগল, ‘বিসমিল্লাহি রাহমানির রাহিম’। আল্লাহর নামে শুরু করছি। পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনের সূরের সাথে তাল মিলিয়ে।