ছড়া কবিতা
২ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:১১
শরতের মিষ্টি সকাল
শারমিন নাহার ঝর্ণা
সবুজ মাঠে সূর্য হাসে
শিশিরভেজা ধান,
মিষ্টি হাওয়া লাগে গায়ে
শীতল করে প্রাণ।
বিলের জলে শাপলাগুলো
হাসছে মিষ্টি করে,
শিউলি তলায় শিউলিগুলো
ভোর বেলাতে ঝরে।
মৃদু মৃদু শীতল হাওয়ায়
পাখিরা গান গায়,
শিশিরবিন্দু মিষ্টি করে
ঘাসের পানে চায়।
শরৎ এলো ফুলের ডালা নিয়ে
নার্গিস আক্তার
জুঁই চামেলি, বকুল বনে
ফুলের ছড়াছড়ি ,
মাটিতে খায় গড়াগড়ি
মন রয় না বাড়ি।
প্রহর শেষে প্রভাত এলো
সূর্য তো ওঠেনি
চলনা সখী বকুল তলে
ফুল কুড়ায়ে আনি।
ঝুড়ি ভরে কুড়াবো ফুল
হাতে ফুলের ডালা
পড়বো কানে দুল নাকে ফুল
গলায় ফুলের মালা।
নদীর দু’পাড়ে কাশবন
ফুলে ফুলে সাদা
মাঝি পাল তুলে নৌকা ধায়
নৌকায় ছিলেন দাদা।
ফরিদ আহমদ ফরাজীর তিনটি ছড়া
রাজনীতির মাঠ
রাজনীতির মাঠ-
আগের মতো চাষ নেই
শ্যামল-সবুজ ঘাস নেই
প্রতিহিংসার অনলে
বাধাগ্রস্ত ফলনে।
নেইকো পরিপাট ॥
রাজনীতির চাঁদে-
স্নিগ্ধতার আলো নেই
অমাবস্যার কালো নেই
চন্দ্র তারায় মিল নেই
স্বচ্ছ কারো দিল নেই
সবাই “র” এর ফাঁদে ॥
গিরগিটি স্পাই
“র” যেন রয় না ঘরে
“র” এর সাথে দোস্তি
রয় না যেন, খেয়াল রেখো
তবেই পাবে স্বস্তি।
“র” নিয়ে খেলছে তারা
ভাঙছে ঐক্য সুখ
হিংস্র ওরা, পিচাস ওরা
কালিমাখা মুখ।
“মীর জাফর” তার নামটি ভালো
কাজটি তাহার বেঈমানি
স্বার্থ যে তার নামটিকে আজ
করলো গালি সেই মানি।
সে যেই হোক
আর নয় কর্তন
চাই পরিবর্তন
যেই লাউ সেই কদু
খেলবো না যদু মধু
দেখবো কে স্বদেশ মাটি
জীবন দিয়ে বলছে খাঁটি
তাকেই দেবো ভোট
সে যেই হোক।
মদিনার পাখি
আবুল খায়ের বুলবুল
ও মদিনার পাখি আমি তোমায় ভালোবাসি
তুমি আমার ভালোবাসার স্বপ্ন রাশি রাশি
তোমার নামে দুরূদ পড়ে শান্তি খুঁজে পাই
সুখের পরশ পেয়ে আমরা দুঃখ ভুলে যাই
ভালোবাসার অর্ঘ্য দিয়ে তোমাকে ঢাকি
দিবস রাতি ঠোঁটে মুখে তোমায় ভালোবাসি ॥
এই পৃথিবীর আঁধার মাঝে তুমি আলোর ধারা
সেই আলোরই রৌশনীতে আমি পাগলপারা
তুমি আমার প্রিয়নবী প্রেমের ফোটা ফুল
কুল-মাখলুকাত তোমায় নিয়ে হয়েছে ব্যাকুল
তুমি আরবের আলআমিন বিশ্বের বিশ্বাসী
ও মদিনার পাখি আমি তোমায় ভালোবাসি ॥
তোমার নামে দুরূদ পড়ে মৌমাছি আর সব
কানে কানে সেই সুর যেন পাখির কলরব
হুরুল আয়নের সুর লহরী শুনে যতজন
তোমায় ভালোবাসলে তা শুনবে ততজন
তোমার প্রেমে পাগল আমি তোমায় ভালোবাসি
ও মদিনার পাখি আমি তোমায় ভালোবাসি ॥
ভোর বিহানে
সাদমান হাফিজ শুভ
ভোর বিহানে গাঁয়ের পানে
মিষ্টি হাওয়া,
শিশির নাওয়া,
দিগি¦দিকে স্নেহের পরশ-
পরম পাওয়া।
আঁকেবাঁকে পাখির ডাকে
ফুটলো কুঁড়ি,
নেইকো জুড়ি,
ঝিঁঝির গলে গান শোনা যায়-
সুর মাধুরী।
ঝলমলিয়ে টলমলিয়ে
উঠলো রবি,
ছুটলো কবি,
বৃক্ষ-নদী আঁকলো দারুণ-
হাসির ছবি।
মাঠে-ঘাটে পথে-পাঠে
জাগলো সাড়া,
কাজের তাড়া,
প্রাণের ছোঁয়ায় মন পাখিটা-
মাতোয়ারা।
ডাকছে কাঁচা বাঁশ
শাহীন খান
মৃত্যুর কথা ভাবলে আমার চোখে নামে জল
চিন্তায় মরি খুব যে আমি ফাটে বুকের তল!
মাটির ঘরে কী করে হায়, একলা আমি রইবো?
জাহান্নামের কঠিন শাস্তি কেমন করে সইবো?
কেমন করে সইবো আমি সাপ-বিচ্ছুর জ্বালা
সোনার শরীর বিষের জ্বালায় হয়েই যাবে কালা!
হেন কোনো পাপ করিনি-বলবো কী আর মুখে?
অন্যের ধন নিয়েছি কেড়ে থাকবো বলে সুখে।
গায়ের জোরে কব্জা করেছি দুর্বল লোকের ধন
শত কাঁদার পরেও আমার গলেনি রে মন!
করেছি তুচ্ছ মা-বাবাকে, করেছি জুলুম শুধু
আমার থেকে পাইনি রেহাই অন্যের ভগ্নি, বধূ।
অনুতপ্ত হয়নি আমি করেছি আরো ত্রাস
জমিজমা রাতবিরাতে করেছি “গোগ্রাস”।
ধীরে ধীরে হচ্ছি বৃদ্ধ মাথার চুল সব কাশ
মাটি আমায় ডাকছে পিছু, ডাকছে কাঁচা বাঁশ।
খোকার প্রশ্ন
শামসুন্নাহার সুমনা
ছোট্ট খোকন মাকে শুধায়
জানতে আমি চাই,
কার দয়াতে মাগো মোরা
আলো বাতাস পাই?
কেমন করে সৃষ্টি হলো
মোদের এই না ধরা?
চন্দ্র সূর্য আকাশ মাটি
কার হাতে সব গড়া?
কেমন করে মেঘের থেকে
ঝরে মাগো পানি?
জগৎজুড়ে কে করেছে
সৃষ্টি নানান প্রাণী?
বলো আমায় কোন সে মহান
যার তুলনা নাই,
তারই পরে মাগো আমি
সিজদা দিতে চাই।
শরৎ মানে
পি এম শরিফুল ইসলাম
শরৎ মানে কাশফুলেতে
ভরা নদীর পাড়,
মায়ের কথা গহিন মনে-
পড়া বার বার।
শরৎ মানে গহিন বনে
বৃক্ষরাজির প্রাণ,
সবুজ গায়ে নীলাভ ছায়ায়
নানান ফুলের ঘ্রাণ।
শরৎ মানে নীল আকাশে
শুভ্র মেঘের ঢেউ,
সন্ধ্যা হলে খেয়াঘাটে
থাকে না তো কেউ!
মাঝিমাল্লা ঘরে ফিরে
শরৎ সন্ধ্যা বেলা,
শিশুরাও ফিরে আসে
সাঙ্গ করে খেলা।
সতর্কতা
সাইদুল ইসলাম সাইদ
ডেঙ্গুজ্বরে গ্রাম শহরে
কত যে প্রাণ যাচ্ছে,
জীবন কাটে বিষণ্নতায়
ভয় জনগণ পাচ্ছে।
বাড়ির পাশে আবর্জনা
কিংবা গাছের ঝোপ
বাঁচতে হলে ছেঁটে ফেলে
মাটির করো খোপ।
দিনে যখন ঘুমাতে যাও
কিংবা ঘুমাও রাতে,
মশারিটা নাও টানিয়ে
তখন সাথে সাথে।
অলসতায় থাকলে ডুবে
জীবন হবে লাশ
প্রাণ পাখিটা যাবে চলে
দেখবে সে আকাশ।
সাদিক কায়েম
মাহমুদা সিদ্দিকা
আমাদের দেশে এলো
ফের তিতুমীর
চলাফেরা কাজ তার
খুব ধীর স্থির।
অমায়িক হাসি আর
বিপ্লবী কাজ
লেগে থাকে চোখে-মুখে
পবিত্র সাজ।
নাম-ডাক চায়নি সে
চেয়েছে বিজয়
জ্বালতে হেরার আলো
পায়নি তো ভয়।
সাদিক কায়িম শুধু
নয় তার নাম
দেশে ও বিদেশে তার
অনেক সুনাম।